RadioNum.Com
মা'কে প্রায়শই আমার একটা চিঠি লিখতে ইচ্ছা করে। কাগজি লেবুর মতো সবুজ থেকে ক্রমশই হলদে হয়ে যায় আমার সারাটা দুপুর চিঠিতে কী লিখবো তা ভাবতে ভাবতে।
আমি ভাবি মায়েরে জিজ্ঞেস করব, কোন দুঃখটা মায়ের নরম মনকে বেশি পোড়ায়? তারপরে মনে পড়ে, মায়ের সবচেয়ে বড় দুঃখ তো আমি নিজে।আমি ছাড়া তো আমার মায়ের দ্বিতীয় বড় আর কোন দুঃখ নাই।
আরও ভাবি জানতে চাইবো, মায়ের শরীরটা কেমন যাচ্ছে? এই আলাপের এক ফাঁকে লিখে ফেলব, মায়েরে নিয়া আমার একদিন পাহাড় দেখতে যাওয়া শখের কথা।
শরীর ব্যাথার কথা লিখে লাভ নাই— প্রতিবার এই প্রশ্নের উত্তরে মা হাসবেন। ওই হাসি অতি সাধারণ শুঁকনো হাসি। এমনভাবে মা হাসেন যেন প্রত্যেক মায়েরই শরীর ব্যাথা থাকাটা খোদার এক নিষ্ঠুরতম বিধান।
আমি তো জানি—অসুস্থতা নিয়া শুঁকনো পাতার বুক ভেঙে অজু বানাইতে পুকুর পাড়ের দিকে যাইতে যাইতে মায়ের জীবনও আগাইয়া যাইতেছে ধীরে ধীরে মাগরেবের কাছে।
আমার আরোও জানতে ইচ্ছে করে, মায়ের কোন কোন সেজদাহ লম্বা হয় জায়নামাজে— ওই লম্বা সেজদার মাঝে মায়ে খোদার দরবারে কী চায়? নিশ্চয়ই সুস্থ মৃত্যু চান! আর চান সহি সালামতে কবর দেশে যাইতে—মানে আমারে ছাইড়া যাইতে চান।
মা'য়েরে প্রায়শই একটা চিঠি লিখতে ইচ্ছে করে আমার—
ছোটবেলায় মায়ের আমারে দেয়া মিথ্যে শান্ত্বনার মতো আমারও মায়েরে শান্ত্বনা দিয়ে চিঠিতে লিখে ইচ্ছে করে, মা তুমি খোদার কাছে মৃত্যু চাইয়োও না আর; ছাইড়া যাইতে চাইয়োও না আমারেও কোনদিন।
যদি কিনতে পাওয়া যায়— আমার যেদিন অনেক টাকা হবে, সেদিন আমি তোমারে একটা ব্যাক্তিগত জীবন কিন্ন্যা দিব।
রাত। ছাদ। ভারি বৃষ্টি। নিকষ কালো অন্ধকার। আমার লিমিট চার, তৃতীয় নাম্বার প্যাগ শেষ।তবে এখন আর মদ খাইনা,কফি অথবা জুসকে প্যাগ বানিয়ে খাই।
আমার জীবন এত জটিল ছিল না। ভাবছি এত জটিল হলো কি করে? ছোটবোলায় যখন আব্বু মাইর দিত, আমি গিয়া লুকাইতাম আম্মুর পিছনে।
আম্মু আমারে মারতে পারতো না। রাগে গজগজ করতো আব্বু। আম্মু বলত, থাক না ,ছোট মানুষ একটু ভুল তো করেই বাচ্চারা।
আমি ভাবছি, আমি তো ছোট ছিলাম। বড় হলাম কী করে? বড় হওয়ার পর আমি কখনো ভুলটুল করতে চাই নাই। অথচ, সবাই আঙুল তুলে বলল তুমি ভুল।
আব্বা বলতো,ব্যাবসার টারে খাইছোস,আম্মু বলতো,পড়াশোনাটা শেষ কর।বোন বলল, তুই বিদেশ চলে যা এদেশে তোর কিছু হবে না। আর বন্ধু বলল, দেশকে ভালোবাসলে দেশে থাক এত দূরে থাকবি কী করে? প্রেমিকা বলল ,একটাকিছু করো।
সবার চাওয়ার মাঝে আমি কী চাইলাম সেইটাই হারায় গেল। আমি আসলে কী চাই? আমি মনে হয় ছবি তুলতে চাই। পাখির ডানার ছবি, ফুলের পাপড়ির ছবি, মাছের চোখের ছবি, আকাশের মেঘের ছবি।আমি মনে হয় ঘুরতে চাই।পাহাড়ের দেশ সাজেক,নিরিবিলি ঢেউে সমুদ্র।
কোন ইউটিউবার একদিন বলেছিলো-তুমি যতদিন ভাববে সমাজ কী বলছে, মানুষ কী বলছে—ততদিন তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। যেদিন তুমি অন্যের কথা ভাবা ছেড়ে নিজের লক্ষ্যের দিকে মন দেবে, সেদিন থেকেই তোমার সফলতার গল্প শুরু হবে।
তাইলে আমি করতেছিটা কী ছবি না তুলে?আমি কেন বিদেশে পড়ে আছি? আমার ছবি কই? এত অন্ধকার কেন? জীবনের পথে পথে এত মাইর খাইতেছি। কোথায় লুকাবো? আম্মু কই?
আম্মুর সাথে দুরুত্ব বেদে গেছে কবেই।আম্মু আমার বৃষ্টি বড়োই পছন্দ করতো। বৃষ্টি নামলেই বলত, নকিব যাহ বৃষ্টিতে ভিজে আয়।
মা, মা কোথায়? মার খুব জ্বর। আমার জ্বর হলে বিড়বিড় করে আমি মা'কে ডাকতাম। আচ্ছা, মা ও কী জ্বরের ঘোরে আমায় ডাকেন? কতদিন যে মায়ের হাতের রান্না খাই না, আহারে। ইদানীং খুব দেখতে ইচ্ছে করে মা'কে; এ শহরে আমার কেউ নেই। মা'র পাশে নিশ্চয়ই বাবা আছেন। অপেক্ষা করছেন, কবে নকিব ফিরবে।
নুসরাত কোথায়? নুসরাত কে? নুসরাত আমার প্রেমিকা। নুসরাত কি করে এখন? সম্ভবত ঘুমাচ্ছে। পাশে বর। নুসরাত আমাকে খুব চাইতো এখনো চায়।সম্ভবত, কারো ছেড়ে যাওয়া মেনে নেওয়া এতবেশী কষ্টের না ; কিন্তু অন্য কারো জন্য ছেড়ে যাচ্ছে এইটা মানা ভীষণ কষ্টের। না চাইতেও এক ভয়ানক যন্ত্রণা গলা চেপে ধরে।
আখেরি প্যাগ গলায় পড়েছে। কফির তিতায় মাথাটা ভনভন করছে। বৃষ্টি বেড়েছে আরও ঘন। শরীরটা যেন দুলতেছে পলিথিনের মত।নানুকে দেখা যাচ্ছে ছাদের নিচে রাস্তায় বৃষ্টির মাঝে দাড়িয়ে আছে। আমায় দু'হাতে ডাকতেছে, আয় নানু ভাই, আয় বৃষ্টিতে ভিজি।
আমি লাফ দেই জানালা থেকে। চোখটা বুজে আসে তীব্র ব্যাথায়।নানুর মুখটা ঝাপসা লাগে।
দেখতে দেখতে জিবনের সকল স্বপ্ন পুরন হয়েছে।
গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আসে দু চোখের পাতা। অনন্তকালের দিকের যাত্রাটা বোধহয় এমন ই হয়...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Al Shahafa
Riyadh
Opening Hours
| Monday | 12am - 1am |
| Tuesday | 12am - 1am |
| Wednesday | 12am - 1am |
| Thursday | 12am - 1am |
| Sunday | 12am - 1am |