KM Habibullah

KM Habibullah

Share

Photos from KM Habibullah's post 28/05/2026

প্রযুক্তির আগামীর রূপ: কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও থ্রিডি ইন্টারনেটের জাদুকরী দুনিয়া:
​আমরা যারা বর্তমান যুগের প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত, তারা মনে করি মোবাইল বা কম্পিউটার বোধহয় এখন গতির চূড়ায় পৌঁছে গেছে। চোখের পলকে মেসেজ চলে যাচ্ছে, ক্লিক করলেই ভিডিও চালু হচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের এমন এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যার সামনে আমাদের আজকের এই আধুনিক মোবাইল-কম্পিউটারকে আদিম যুগের পাথরের যন্ত্রের মতো মনে হবে।
​বিজ্ঞানের এই নতুন জাদুর নাম ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটিং’ এবং এর সাথে যুক্ত হতে যাওয়া অতি-মানবীয় গতির ইন্টারনেট। কেমন হতে যাচ্ছে সেই দুনিয়া? চলুন কিছু সহজ উপমা দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।

​কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিস্ময়কর গতি: কিছু বাস্তব উপমা:
​আমাদের আজকের কম্পিউটারগুলো কাজ করে মূলত শূন্য (০) আর এক (১) দিয়ে। তারা একটা একটা করে হিসাব মেলায়। ধরুন, আপনাকে একটা বিশাল গোলকধাঁধায় ছেড়ে দেওয়া হলো আর বলা হলো বাইরে বের হওয়ার রাস্তাটি খুঁজে বের করতে। আমাদের আজকের সুপারকম্পিউটার কী করবে? সে একে একে প্রতিটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে দেখবে কোন রাস্তাটা খোলা। একটা ভুল হলে আবার ফিরে এসে অন্য রাস্তায় যাবে। এভাবে কোটি কোটি রাস্তা পরীক্ষা করতে তার বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

​আর আগামীর কোয়ান্টাম কম্পিউটার কী করবে জানেন? সে গোলকধাঁধার মুখে দাঁড়িয়ে একসাথে কোটি কোটি অবয়ব তৈরি করবে এবং এক সেকেন্ডে সব কটি রাস্তা দিয়ে একসাথে হেঁটে এক নিমেষে সঠিক পথটি বের করে ফেলবে! কারণ সে একই সময়ে শূন্য এবং এক—দুটি অবস্থাতেই থাকতে পারে।
​আরেকটি উপমা দেওয়া যাক। ধরুন, পৃথিবীর কোনো লাইব্রেরিতে একটি মাত্র বইয়ের কোনো একটা পাতায় একটা বিশেষ শব্দ লেখা আছে, যা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। আজকের কম্পিউটার করবে কি, প্রতিটি লাইব্রেরির প্রতিটি বইয়ের প্রতিটি পাতা একটা একটা করে উল্টে দেখবে। আর কোয়ান্টাম কম্পিউটার পৃথিবীর সব লাইব্রেরির সব বইয়ের সব পাতা এক সেকেন্ডে একসাথে খুলে ফেলবে এবং চোখের পলকে শব্দটা আপনার সামনে এনে হাজির করবে। আজকের সুপারকম্পিউটারের যে হিসাব মেলাতে দশ হাজার বছর লাগবে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার তা করবে মাত্র কয়েক মিনিটে!
​আগামীর দ্রুতগতির ইন্টারনেট কেমন হবে?

​এই বিশাল প্রসেসিং ক্ষমতার সাথে যখন যুক্ত হবে আগামীর ইন্টারনেট, তখন ডেটা ডাউনলোডের স্পিড বলে আলাদা কোনো শব্দই থাকবে না। আমরা এখন জিবি (GB) বা এমবি (MB) হিসাব করি। তখন আসবে ‘টেরাবিট’ বা তার চেয়েও বড় হিসাব।

​এর গতি কেমন হবে? ধরুন, আজকের ইন্টারনেটে একটা হাই-কোয়ালিটি সিনেমা ডাউনলোড করতে কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। আর আগামীর ইন্টারনেটে আপনি ক্লিক করার আগেই, শুধু আঙুল ছোঁয়ানোর সাথে সাথে পৃথিবীর সমস্ত সিনেমা একসাথে আপনার ডিভাইসে চলে আসবে। ডেটা আদান-প্রদান হবে আলোর গতিতে, কোনো ধরনের ল্যাগ বা বাফারিং ছাড়াই।

​থ্রিডি এবং দূরের বিষয়কে বাস্তবের মতো ছোঁয়া:
​এই গতি আর কোয়ান্টাম ক্ষমতা মানুষের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে। আমরা এখন স্ক্রিনে বা ডিসপ্লেতে ছবি বা ভিডিও দেখি যা টু-ডাইমেনশনাল বা চ্যাপ্টা। কিন্তু আগামী দিনে মানুষ দূরের জিনিসকে একদম নিজের সামনে বাস্তবের মতো দেখতে ও অনুভব করতে পারবে।
​ধরুন, আপনি কাতার বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে আছেন, আর আপনার প্রিয় কোনো মানুষটি আছে বাংলাদেশে নিজের ঘরে। আগামীর থ্রিডি হোলোগ্রাম ইন্টারনেটের কল্যাণে আপনি যখন তার সাথে কথা বলবেন, তখন মনে হবে না যে আপনি মোবাইলের স্ক্রিনে তাকে দেখছেন। আপনার মনে হবে, সেই মানুষটি হুবহু রক্ত-মাংসের মানুষের মতো আপনার ঘরের সোফায় আপনার পাশে এসে বসে আছে। আপনি তার অবয়ব ত্রিমাত্রিক (3D) রূপে চারপাশ থেকে দেখতে পাবেন।
​শুধু মানুষ নয়, কোনো একটা ফুটবল ম্যাচ বা মহাকাশের কোনো গ্রহ-নক্ষত্রকে আপনি নিজের ঘরের ভেতর থ্রিডি আকারে ভাসতে দেখবেন। আপনি চাইলে সেই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হেঁটে বেড়াতে পারবেন, মনে হবে আপনি আসলেই সেই জায়গায় উপস্থিত আছেন। দূরের কোনো ডাক্তার হাজার মাইল দূরে বসে নিখুঁতভাবে থ্রিডি প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর অপারেশন করে ফেলবেন, মনে হবে তিনি রোগীর পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন।
​বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন আগামী দিনে মানুষের কল্পনাকে হার মানাতে চলেছে। আমরা এক অদ্ভূত কিন্তু রোমাঞ্চকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে দূরত্ব বা সময় আর কোনো বাধাই থাকবে না।

Photos from KM Habibullah's post 25/05/2026

মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর, তবে আয়তন ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ কেন?

​মহাকাশ নিয়ে যাদের সামান্যতম কৌতুহল আছে, তারা প্রায়ই একটি গোলকধাঁধায় পড়েন। বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। তাহলে যুক্তি অনুযায়ী, মহাবিশ্বের আয়তন বা এর দৃশ্যমান ব্যাসার্ধ তো ১৩.৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় আমরা কেন ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষের কথা শুনি? এই অঙ্কটা কেন মিলে না?

​আসলে মহাবিশ্ব আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতার বাইরের এক অদ্ভুত জায়গা। এর পেছনের কারণগুলো আমরা সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করি।
​মহাবিশ্ব স্থির কোনো মঞ্চ নয়
আমরা যখন বলি আলো ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ভ্রমণ করেছে, তখন আমরা ধরে নিই যে স্থান (Space) স্থির। কিন্তু বাস্তবে মহাবিশ্ব একটি স্থির মঞ্চ নয়; এটি প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। কল্পনা করুন, একটি বেলুনের গায়ে দুটি বিন্দু আঁকলেন। আপনি যদি বেলুনটি ফোলাতে থাকেন, তবে বিন্দু দুটির দূরত্ব বাড়তে থাকবে। মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। আলো যখন দূর কোনো গ্যালাক্সি থেকে আমাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল, সেই যাত্রা শুরুর মুহূর্ত থেকে মহাবিশ্ব ক্রমাগত বড় হয়েছে।

​আলো বনাম প্রসারণের লড়াই:
১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে আলো যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন সেই গ্যালাক্সিটি আমাদের থেকে খুব কাছে ছিল। আলো সেই পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের দিকে আসছে, আর এই দীর্ঘ সময় ধরে মহাকাশ নিজেই প্রসারিত হয়েছে। আলো যে পথটুকু পাড়ি দিয়েছে, মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে গন্তব্যস্থানটি আমাদের থেকে আরও দূরে সরে গেছে। আজকের দিনে সেই গ্যালাক্সিটি আমাদের থেকে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ, আলো ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ভ্রমণ করলেও গন্তব্যস্থলটি প্রসারণের কারণে আমাদের থেকে ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে সরে গেছে।

​৯৩ বিলিয়ন কেন?
আমরা যেহেতু মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আছি, (মানে কেন্দ্রে আছি বলে ধরে নিচ্ছি, কারণ এর কিনারা কোন দিকে কত তা আমরা জানি না) তাই আমাদের থেকে সব দিকেই এই একই ঘটনা ঘটছে। আমাদের চারপাশের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ব্যাসার্ধ যদি ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ হয়, তবে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দূরত্ব বা ব্যাস দাঁড়ায় প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। অর্থাৎ, ৯৩ বিলিয়ন কোনো আকাশকুসুম সংখ্যা নয়; এটি ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে চলা মহাবিশ্বের প্রসারণের হারের একটি গাণিতিক ফলাফল।

​কেন প্রসারণের হার সরল গুণিতক নয়?
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, প্রসারণ যদি চলতেই থাকে, তবে কেন ১৩.৮-এর ৪ বা ৬ গুণ হলো না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মহাবিশ্বের প্রসারণের ভিন্ন ভিন্ন গতির মাঝে। বিগ ব্যাং-এর শুরুতে মহাবিশ্ব অতি দ্রুত প্রসারিত হয়েছিল, মাঝের দিকে প্রসারণের গতি কিছুটা ধীর হয়েছিল, আবার গত ৫-৬ বিলিয়ন বছর ধরে 'ডার্ক এনার্জি'র প্রভাবে মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জটিল প্রক্রিয়ার যোগফলই হচ্ছে আজকের এই ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষের দৃশ্যমান সীমা।

​উপসংহার:
সহজ কথায়, ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ হলো আমাদের 'দৃশ্যমান' মহাবিশ্বের ব্যাস। মহাবিশ্ব হয়তো এর চেয়েও অনেক অনেক বেশি বিশাল, যা আমাদের কল্পনারও অতীত। কিন্তু আলোর গতির সীমাবদ্ধতা এবং মহাবিশ্বের ক্রমাগত প্রসারণের কারণে এর বাইরের আলো আর কখনোই আমাদের কাছে পৌঁছাবে না। মহাবিশ্বের এই রহস্যময় প্রসারণই আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, প্রকৃতি এবং মহাকাশ আমাদের গাণিতিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়।

আল্লাহ সর্বশক্তিমান।

23/05/2026

ধর্ষণের মতো অপরাধ রুখতে ইসলামী ইনসাফ ও বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা:

বর্তমান সময়ে সমাজে জঘন্য অপরাধগুলো যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের মনে কোনো ভয় তৈরি করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলছেন। তবে তথাকথিত প্রগতিশীল বা ইসলামবিদ্বেষী একটি গোষ্ঠী যখনই ইসলামের কঠোর বিচার ব্যবস্থার কথা শুনে, তখনই তাকে 'মধ্যযুগীয় বর্বরতা' বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, ইসলামের সেই সোনালী যুগের শাসনব্যবস্থা বর্বরতা ছিল না, বরং তা ছিল ইনসাফ ও মানবতার স্বর্ণযুগ।

তথাকথিত মধ্যযুগ বনাম ইসলামের স্বর্ণযুগ:
পাশ্চাত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগকে অন্ধকারের যুগ বলা হলেও, ইসলামের ইতিহাসে এই সময়টি ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক নিরাপত্তার শ্রেষ্ঠ সময়। যাকে আজ 'মধ্যযুগীয়' বলে অবহেলা বা কটাক্ষ করা হয়, সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই একসময় আরবের মরুভূমি থেকে শুরু করে বিশাল সাম্রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসলামের সেই স্বর্ণযুগে অপরাধের বিচার হতো অত্যন্ত কঠোরভাবে এবং তা কার্যকর করা হতো প্রকাশ্যে। ফলশ্রুতিতে, সমাজে অন্যায়ের হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। আজ সমাজে শান্তি ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের সেই আপসহীন ইনসাফ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

কুরআনের চিরন্তন নির্দেশনা ও প্রকাশ্যে বিচার:
ইসলামে সমাজের শান্তি বিনষ্টকারী এবং চারিত্রিক অবক্ষয় ছড়ানো অপরাধগুলোর জন্য কঠোর ও প্রকাশ্য শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমন সূরা আন-নূরের ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ
অনুবাদ: "ব্য-ভি-চা-রী নারী ও ব্য-ভি-চা-রী পুরুষ—তাদের প্রত্যেককে একশত করে বে-ত্রা-ঘা-ত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে কোনো দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শা-স্তি প্রত্যক্ষ করে।" (সূরা আন-নূর, আয়াত: ২)

মুফাসসেরীনদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জনসমক্ষে এই ধরনের বিধান কার্যকর করার মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীর জন্য সামাজিক তিরস্কার এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। যখন মানুষ নিজের চোখে এই ভয়াবহ পরিণতি দেখবে, তখন অপরাধ করার চিন্তা করার আগেও তাদের বুক কেঁপে উঠবে।

এই বিচার ব্যবস্থার মূল হেকমত ও সামাজিক প্রভাব:
ইসলামের বিচার পদ্ধতি নিষ্ঠুরতা দেখানোর জন্য নয়, বরং সমাজকে নিরাপদ রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে:

১. অপরাধ প্রবণতা রোধে মনস্তাত্ত্বিক বাধা:
মানুষ স্বভাবগতভাবেই লোকলজ্জা এবং সামাজিক মর্যাদাহানিকে চরম ভয় পায়। যখন কেউ দেখে যে অন্যায়ের কারণে সমাজের সবার সামনে তাকে অপমানিত ও কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষ সেই অপরাধের দিকে পা বাড়ানোর সাহস হারিয়ে ফেলে। এটি সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল তৈরি করে।

২. দয়া প্রদর্শনের নেতিবাচক দিক:
পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে গিয়ে যেন অপরাধীর প্রতি অতিরিক্ত দয়া বা অনাকাঙ্ক্ষিত সহানুভূতি দেখানো না হয়। বর্তমান মানব রচিত আইনে অপরাধীদের মানবাধিকারের নামে যে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়, তা মূলত সমাজে অপরাধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। অপরাধীর প্রতি অযাচিত নরম মনোভাব প্রকাশ করা প্রকারান্তরে ভুক্তভোগীর প্রতি অন্যায় করার শামিল।

৩. বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা:
প্রকাশ্যে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যায়। মানুষ দেখতে পায় যে আইন সবার জন্য সমান এবং প্রভাবশালী বা সাধারণ—সব অপরাধীই তার উপযুক্ত প্রতিফল পাচ্ছে। এতে আইনের শাসন মজবুত হয় এবং গোপনে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।

৪. সমাজ কলুষমুক্ত করার একমাত্র উপায়:
ইসলামে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য প্রতিশোধ নেওয়া নয়, বরং সমাজকে নিরাপদ ও কলুষমুক্ত রাখা। অপরাধীকে আড়ালে রেখে বছরের পর বছর মামলা চালানো আর শেষ পর্যন্ত কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে।
তাই আজ নারীদের সম্মান রক্ষা করতে এবং ধ-র্ষ-ণে-র মতো জঘন্য অপরাধ সমাজ থেকে চিরতরে দূর করতে হলে তথাকথিত আধুনিকতার ফাঁকা বুলি বাদ দিতে হবে। ইসলামের স্বর্ণযুগের সেই ইনসাফ, ন্যায়-নীতি এবং কঠোর বিচার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Doha?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


418
Doha