Dadar Classghar

Dadar Classghar

Share

17/11/2022

প্রশ্ন – ১ : ‘চাঁদমুখ’ - এর ব্যাসবাক্য হলো –
A. চাঁদ মুখের ন্যায়
• B. চাঁদের মত মুখ
• C. চাঁদ মুখ যার
• D. চাঁদ রূপ মুখ
ব্যাখ্যা : ‘চাঁদমুখ’ এই সমস্তপদটাই অনেক বিতর্কিত। একেকজন লেখক তাদের বইতে এই সমস্তপদ নিয়ে একেক রকম ব্যাসবাক্য উল্লেখ করেছেন, যদিও এর সমাস নির্ণয়ে আবার সকলে একই মতামত দিয়েছেন। সকল লেখকই এই সমস্তপদটিকে উপমিত কর্মধারয় বলেছেন। এবার আসি ব্যাসবাক্যে, ব্যাসবাক্যের ক্ষেত্রে উপমিত কর্মধারয়ের সবচেয়ে গহণযোগ্য ও বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে ‘ন্যায় / মতো’ শেষে বসানো। আর যার তুলনা করা হবে ব্যাসবাক্যে সে আগে বসবে এবং যার সাথে তুলনা করা হবে ব্যাসবাক্যে সে পরে বসবে। যেমন : ফুলকুমারী – এখানে কুমারীর তুলনা করা হয়েছে ফুলের সাথে। তার মানে ব্যাসবাক্য হবে ‘কুমারী ফুলের ন্যায়’।
এখন প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর প্রথমটিতেই কেবল ‘ন্যায়’ শেষে আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে চাঁদ মুখের ন্যায় কথাটি ভুল। কারণ ‘চাঁদমুখ’ সমস্তপদটি দ্বারা চাঁদের সাথে মুখের তুলনা করা বুঝাচ্ছে, তাই ব্যাসবাক্যে মুখ আগে বসবে, চাঁদ পরে বসবে। অর্থাৎ ‘মুখ চাঁদের ন্যায়’ এটা হবে সর্বোত্তম উত্তর। কিন্তু অপশনগুলোর কোনটিতেই এরকম দেওয়া নেই। তাই ‘মুখ চাঁদের ন্যায়’ এমন অর্থ প্রকাশকারী ব্যাসবাক্যই হবে সঠিক উত্তর যা অপশন B এর ‘চাঁদের মত মুখ’ দ্বারা প্রকাশিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর B.

প্রশ্ন – ২ : ‘গল্পপ্রেমিক’ শব্দটি কোন সমাস?
• A. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
• B. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
• C. কর্মধারয়
• D. উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা : অনেকেই মনে করেন এই সমস্তপদটির ব্যাসবাক্য ‘গল্পের প্রেমিক’ হবে অর্থাৎ ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ – এটা নিতান্তই ভুল। ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ নির্ণয়ের অনেকগুলো টেকনিক রয়েছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে সমস্তপদের দুটি অংশের মধ্যে Logical Combination থাকতে হবে। যেমন : রাজপুত্র – এখানে পুত্রটা রাজা থেকেই এসেছে; হংসডিম্ব – এখানে ডিম্বটা হংস থেকেই এসেছে; ছাগদুগ্ধ – এখানে দুগ্ধটা ছাগল থেকেই এসেছে। মোট কথা এই সমস্তপদগুলোর দুটি অংশের মধ্যে Logical Combination আছে। কিন্তু গল্পের সাথে প্রেমিকের কোনো Logical Combination নেই। তাই এটি ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ হবে না। ‘গল্পপ্রেমিক’ সমস্তপদটির পূর্বপদ ‘গল্প’ যা একটি বিশেষ্য এবং পরপদ ‘প্রেমিক’ যা একটি বিশেষণ এবং সমস্তপদটি পরপদ প্রধান অর্থাৎ গল্পপ্রেমিক শব্দটি দিয়ে এমন কোনো ব্যক্তিকে বুঝানো হচ্ছে যে গল্প ভালোবাসে। আর এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যই সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

প্রশ্ন – ৩ : ‘উদ্বাস্তু’ কোন সমাসের উদাহরণ?
• A. নিত্য
• B. বহ্রব্রীহি
• C. অব্যয়ীভাব
• D. প্রাদি
ব্যাখ্যা : আমরা জানি, উপসর্গ দিয়ে সমস্তপদের গঠন হলে সাধারণত তা অব্যয়ীভাব বা ক্ষেত্রবিশেষে প্রাদি সমাস হয়। ‘উদ্বাস্তু’ সমস্তপদের আদিতে ‘উৎ’ উপসর্গ থাকায় অনেকেই এটাকে অব্যয়ীভাব বা প্রাদি সমাস বলে মনে করতে পারেন। যেমন : উদ্বেল = বেলাকে অতিক্রান্ত (অব্যয়ীভাব), উচ্ছৃঙ্খল = শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত (অব্যয়ীভাব), উন্নিদ্র = নিদ্রাকে উদ্গত (প্রাদি) ইত্যাদি।
‘উদ্বাস্তু’ এর ব্যাসবাক্য বাস্তু থেকে উৎখাত হয়েছে যে। এখানে ‘উদ্বাস্তু’ দ্বারা বাস্তু বা উৎখাত কোনোটিকে না বুঝিয়ে কোনো ব্যক্তিকে বুঝানো হচ্ছে অর্থাৎ অন্যপদ প্রধান। তার মানে এটা বহুব্রীহি সমাস।
প্রশ্ন – ৪ : ‘শিশিরসিক্ত’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
• A. করণ তৎপুরুষ
• B. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
• C. কর্ম তৎপুরুষ
• D. অপাদান তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা : এই প্রশ্নের অপশনগুলোই অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দ্বিধান্বিত করার জন্য প্রশ্নকর্তা সাধারণ প্রশ্নটাকেও একটু ঘুরিয়ে করেন। তৎপুরুষ সমাস বিভক্তির সাথে সম্পৃক্ত অর্থাৎ ব্যাসবাক্যের পূর্বপদের বিভক্তি লোপে যে সমাস হয় তাই তৎপুরুষ সমাস। এদিকে বিভক্তির প্রয়োগের উপর কারকও অনেকাংশে (সম্পূর্ণ নয়) নির্ভর করে। যেমন : দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক – ৩য়া বিভক্তির এই শব্দগুলোর ব্যবহার আমরা সাধারণত করণ কারকে বেশি দেখি। একইভাবে হতে, থেকে, চেয়ে – ৫মী বিভক্তির এই শব্দগুলোর ব্যবহার আমরা বেশি দেখি অপাদান কারকে। এই প্রশ্নের অপশন নির্বাচনে তাই ৩য়া তৎপুরুষের স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে করণ তৎপুরুষ, ৫মী তৎপুরুষের স্থলে অপাদান তৎপুরুষ। তার মানে বুঝাই যাচ্ছে প্রশ্নের অপশন C এর কর্ম তৎপুরুষের মানে হচ্ছে ২য়া তৎপুরুষ।
এখন আমাদের এটা নির্ণয় করতে হবে যে ‘শিশিরসিক্ত’ কোন সমাস? মনে রাখতে হবে, সমস্তপদের প্রথমাংশের দ্বারা যদি দ্বিতীয়াংশের কাজ হয় তাহলে তা ৩য়া তৎপুরুষ সমাস হয়। তার মানে সঠিক উত্তর করণ তৎপুরুষ।

প্রশ্ন – ৫ : তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
• A. শতবার্ষিকী
• B. রাঙামাটি
• C. শ্রমলব্ধ
• D. তাল-তমাল
ব্যাখ্যা : এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপশন B ও অপশন C নিয়ে দ্বিধার সৃষ্টি হতে পারে। অপশন A বা D হবে না এটা নিশ্চিত। কারণ অপশন A এর শুরুতে একটা সংখ্যার উল্লেখ আছে যা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বা দ্বিগু সমাসের বৈশিষ্ট্য আর অপশন D এর তাল-তমাল উভয়পদ প্রধান অর্থাৎ দ্বন্দ্ব। এখন অপশন C এর শ্রমলব্ধ শব্দে লব্ধ অর্থ পাওয়া। এখানে শ্রমের দ্বারা পাওয়া বুঝাচ্ছে আর আমরা জানি, সমস্তপদের প্রথমাংশের দ্বারা যদি দ্বিতীয়াংশের কাজ হয় তাহলে তা ৩য়া তৎপুরুষ সমাস হয়। অর্থাৎ শ্রমলব্ধ ৩য়া তৎপুরুষ। আর অপশন B এর রাঙামাটি সমস্তপদের ব্যাসবাক্য হচ্ছে রাঙা যে মাটি। প্রথম দেখায় এটাকে অনেকেই উপপদ তৎপুরুষ মনে করতে পারেন। কিন্তু ভালো করে লক্ষ করলে দেখবেন, রাঙামাটি দ্বারা কিন্তু রাঙা বা মাটি কোনোটাকেই না বুঝিয়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে বুঝাচ্ছে অর্থাৎ অন্যপদ প্রধান। এটা সমানাধিকরণ বহুব্রীহি।

প্রশ্ন – ৬ : ‘সেতার’ শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
• A. কর্মধারয়
• B. দ্বিগু
• C. নিত্য
• D. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা : অনেক প্রচলিত বইয়ে ‘সেতার’ শব্দের ব্যাসবাক্য করা হয়েছে তিন তারের সমাহার এবং শব্দটিকে দ্বিগু সমাস বলা হয়েছে কারণ দ্বিগু সমাসের পরপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়। এখানে তার শব্দটি বিশেষ্য এটা ঠিক, কিন্তু ‘সেতার’ তো পরপদ প্রধান না; এটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। ‘সেতার’ দ্বারা যে কোনো তিনটি তারকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে। এটা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। সংখ্যাবাচক বহুব্রীহির সমস্তপদের পরপদ সাধারণত বিশেষণ পদ হয়ে থাকে। তবে মাঝে মাঝে তা বিশেষ্যও হয়ে থাকে। যেমন : চৌবাচ্চা = চার বাচ্চা আছে যার (পানি ধরার পাত্র), চৌকাঠ = চার কাঠ আছে যার (কাঠের চারকোণা দরজার ফ্রেম যাতে কপাটের পাল্লা লাগানো হয়), দশানন = দশ আনন আছে যার (রাবণ)। এই উদাহরণগুলোর প্রত্যেকটিই বিশেষ্য পদ। সূত্রানুসারে এগুলো দ্বিগু সমাস কিন্তু এদের প্রত্যেকটিই পূর্বপদ / পরপদের অর্থকে প্রাধান্য না দিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে অর্থাৎ এগুলো সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস। ‘সেতার’ শব্দটিও এরকমই একটি শব্দ।

02/10/2022

দেখি কে কে উত্তর দিতে পারে......

01/10/2022

#প্রাইমারীটেট

Want your school to be the top-listed School/college in Krishnagar?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


GHURNI GODOWN MORE, KRISHNAGAR, NADIA
Krishnagar
741103