V R O M O N
পিয়ালী
নাম শুনেই প্রেম।তারপর মিতালি।পিয়ালী সুন্দরবনের খুব কাছাকাছি একটি দ্বীপ। দুদিনের জন্য মনটাকে জুড়িয়ে নেওয়ার পক্ষে দারুন জায়গা। পিয়ালীকে সুন্দরবনের দরজাও বলা হয়। এই দ্বীপের পশ্চিমদিকে পিয়ালী ও পুর্বদিকে মাতলা নদী। সবসময় যে অনেককিছু দেখার থাকবে তবেই কোথাও যাওয়া, পিয়ালী কিন্তু তা নয়। পিয়ালী মনে শান্তি আনার জন্য, পিয়ালী শহরের ঘেরাটোপ থেকে একটু দুরে বুকভরে নির্মল নিশ্বাস নেওয়ার জন্য। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মানে এপ্রিল থেকে আগষ্ট, এই পাঁচ মাস বাদ দিয়ে যেকোনো সময়েই যাওয়া যেতে পারে, তবে শীতকালে যাওয়াই বেশী ভাল। শীতকালে এখানে নানারকম পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। প্রকৃতি এখানে উদার। জনকোলাহল এখানে নেই, আছে শুধু পাখির কলতান, মৌমাছির গান আর বাতাসের সাথে নদীর ঢেউয়ের লহরা।দক্ষিন চব্বিশ পরগনার অন্তর্ভুক্ত একটি দ্বীপ এইটি। নৌকা ভাড়া করে পিয়ালী নদীতে ঘোরা যায়। কৈখালী ঘাট থেকে নৌকায় ঝড়খালি ঘুরে আসা যায়। যাতায়াত ও ঝড়খালি ব্যাঘ্র প্রকল্প, পার্ক, ম্যানগ্রোভ ইকো গার্ডেন দেখে ফিরতে মোটামুটি 3/4-ঘন্টা লাগবে।নৌকা ভাড়া যথেষ্ট দামাদামি হয়। লোকাল কৈখালী-ঝড়খালি ফেরীতে যাতায়াত করলে মাথাপিছু 80.00টাকা লাগবে।
পিয়ালী যাওয়ার উপায় :
শিয়ালদহ থেকে প্রথম লক্ষীকান্তপুর/নামখানা লোকাল ছাড়ে ভোর 4-টে। এরপর আধঘন্টা পয়তাল্লিশ মিনিট অন্তর ট্রেন আছে। এই ট্রেন ধরে নামতে হবে ‘জয়নগর-মজিলপুর’ ষ্টেশন। সময় লাগবে প্রায় এক্ ঘন্টা পাঁচ মিনিট।ভাড়া 15.00টাকা। সেখান থেকে ট্রেকার বা ভ্যানো বা ম্যাক্সিতে করে পৌছান যায় পিয়ালী, ভাড়া 75.00টাকা। জয়নগর-মজিলপুর থেকে দূরত্ব প্রায় 32-km, সময় লাগে এক ঘন্টা।কিন্তু এই যাত্রাপথ গ্রামীন মাধুর্যে ভরপুর।
শিয়ালদহ থেকে প্রথম লক্ষীকান্তপুর/নামখানা লোকাল ছাড়ে ভোর 4-টে। এরপর আধঘন্টা পয়তাল্লিশ মিনিট অন্তর ট্রেন আছে।এই ট্রেন ধরে নামতে হবে ‘দক্ষিণ বারাসাত’ ষ্টেশন। সময় লাগবে প্রায় এক্ ঘন্টা পাঁচ মিনিট।ভাড়া 15.00টাকা। সেখান থেকে ট্রেকার বা ভ্যানো বা ম্যাক্সিতে করে পৌছান যায় পিয়ালী, ভাড়া 75.00টাকা, দূরত্ব প্রায় 38-km । যাওয়ার পথে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ষ্টেশন পড়বে সেগুলি হল বালিগঞ্জ, যাদবপুর, গড়িয়া, সোনারপুর, বারুইপুর, ইত্যাদি।
এসপ্লানেড বা হাওড়া থেকে বাসে বারুইপুর এবং বাস পাল্টে বারুইপুর থেকে দক্ষিণ বারাসাত বা জয়নগর-মজিলপুর। মোট ভাড়া প্রায় 50.00টাকা এবং সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘন্টা।এরপর সেখান থেকে ট্রেকার বা ভ্যানো বা ম্যাক্সিতে করে পৌছান যায় পিয়ালী।
সরাসরি গাড়ীতেও যাওয়া যায়। এসপ্লানেড থেকে সড়কপথে পিয়ালীর দুরত্ব 75-km।
**তবে ফেরার পথে জয়নগর-মজিলপুর হয়ে ফেরাই ভাল।ফেরার প্রথম ট্রেন ভোর 3.28এ ও শেষ ট্রেন রাত 10.50এ যেটি শিয়ালদহ পৌছায় রাত 12টায়।
পিয়ালীতে থাকার দুটি জায়গা আছে।
পিয়ালী আইল্যান্ড ট্যুরিষ্ট লজ। মেট্রোপলিটান ইন্জিনিয়ার্স কোঅপরেটিভ সোসাইটি দ্বারা পরিচালিত।ফোন-9433435181-শ্রী প্রদীপ সাহা। ফ্যামিলি রুম ভাড়া 900.00টাকা।
কৈখালি পর্যটক আবাস পরিচালনায় রামকৃষ্ণ আশ্রম, নিমপীঠ, দক্ষিন 24-পরগনা।ফোন 03218226001 / +91 9933064466. এখানে নামমাত্র দানের মাধ্যমে ঘর পাওয়া যায়। আগে থেকে ফোনে বুক করে যাওয়ার দিন নিমপীঠ থেকে বুকিং রিসিপ্ট নিতে হবে।
**দক্ষিণ-বারাসাত বা জয়নগর-মজিলপুর এই দুটি ষ্টেশনের নাম লেখার বিশেষ কারন আছে। যারা পিয়ালী আইল্যান্ড ট্যুরিষ্ট লজে থাকবেন তারা দক্ষিণ-বারাসাত ষ্টেশন নেমে গাড়ি ধরলে সহজ হবে। কিন্তু যারা কৈখালি পর্যটক আবাসে থাকবেন তাদের অবশ্যই জয়নগর-মজিলপুর ষ্টেশনে নামতে হবে।সেখান থেকে 3.5-km অটোতে করে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম যেতে হবে বুকিং রিসিপ্ট নেওয়ার জন্য। ..
অযোধ্যা পাহাড়
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত এই পাহাড় পৌরানিক ঘটনার সাথেও জড়িত, কথিত আছে বনবাসকালে রাম ও সীতা এই পাহড়ে আসেন এবং সীতার পিপাসা নিবারনের জন্য এক কুন্ড খনন করেন । যা বর্তমানে সীতাকুন্ড নামে খ্যাত। প্রত্যেক বৈশাখ মাসের পূর্ণিমার দিন এই এলাকার আদিবাসীরা শিকার উৎসব পালন করেন।
অযোধ্যা পাহাড় আসলে ছোটনাগপুর মালভুমি অঞ্চলের অন্তর্গত পূর্বঘাট দলমা পাহাড়ের অংশ। সর্বোচ্চ উচ্চতা হল 677 মিটার/2221 ফুট {গোর্গাবুরু}। সেপটেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত যেকোনো সময়ে এখানে ছুটি কাটাতে আসা যেতে পারে, তবে সর্বোৎকৃষ্ট সময় হল ফেব্রুয়ারীর শেষ ও মার্চের প্রথম এই দুই তিন সপ্তাহ। এই সময় পলাশ ফুলে এলাকা পুরো ছেয়ে যায়, সে এক অপূর্ব দৃশ্য না দেখলে বোঝান দায়। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি "বুরু" মানে স্থানীয় ভাষায় পাহাড়। অযোধ্যা পাহাড়কে কেন্দ্র করে অনেক জায়গা দেখে নেওয়া যায় তবে তার জন্য কম করে তিন-চারদিন থাকার প্রয়োজন।
অযোধ্যা পাহাড়কে কেন্দ্র করে যা যা দেখে নেওয়া যায় ::
1.তুর্গা ফলস্ 2.বামনী ফলস্ 3.ঘাঘেশ্বরী ফলস্ 4.দুর্গাবেড়া বা তারাপানীয়া লেক 5.তুর্গা লেক 6.বাঘমুন্ডী 7.কুকুবুরু 8.মাঠাবুরু 9.কাঁচাবুরু 10.গোর্গাবুরু 11.জোড়াবুরু 12.পাখি পাহাড় 13.ময়ুর পাহাড় 14.সোনকুপি 15.সানরাইস্ পয়েন্ট 16.আপার ও লোয়ার ড্যাম 17.কংসাবতীর উৎসস্থল 18.কুদনা হরি মন্দির 19.রাম মন্দির 20.লোহোরিয়া শিব মন্দির 21.হনুমান মন্দির 22.দুর্গা মন্দির 23.খয়রা বেড়া বাঁধ 24.মুরগুমা বাঁধ 25.চড়িদা গ্রাম (ছৌ মুখোশের জন্য বিখ্যাত)
অযোধ্যা পাহাড় যাওয়ার উপায় :: {যদি অযোধ্যা পাহাড়ের উত্তরে থাকা হয়}
হাওড়া দিয়ে গেলে অযোধ্যা পাহাড়ের নিকটতম ষ্টেশন উরমা । হাওড়া থেকে চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার{58011} রাত 11.05এ ছেড়ে পরদিন সকাল 6.51এ উরমা পৌছায়, উরমা থেকে গাড়িতে 21 kms. প্রায় এক ঘন্টা।
ভাড়া 3AC @605/- ও SL @150/- উরমা থেকে @50/- গাড়িতে।
অযোধ্যা পাহাড়ের উত্তরে থাকার জায়গা :: কুশল পল্লী, গোভ হোটেল, পশ্চিমবঙ্গ যুব আবাস, আকাশ হিল টপ রিসর্ট, অযোধ্যা পরিদর্শন আবাস, বিভাবরী লজ, নিহারীকা লজ, হিলটপ টুরিষ্ট লজ, দীপশিখা লজ ।
অযোধ্যা পাহাড় যাওয়ার উপায় :: {যদি অযোধ্যা পাহাড়ের দক্ষিণে থাকা হয়}
হাওড়া দিয়ে গেলে অযোধ্যা পাহাড়ের নিকটতম ষ্টেশন বরাভুম।হাওড়া থেকে চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার{58011} রাত 11.05এ ছেড়ে পরদিন সকাল 6.33এ বরাভুম পৌছায়, বরাভুম থেকে বাঘমুন্ডি 25 kms.গাড়িতে ।
চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার{58011} রোজ ছাড়ে। এছাড়া মঙ্গল ও শনিবার হাওড়া থেকে লালমাটি এক্সপ্রেস{12865} সকাল 8.30এ ছেড়ে দুপুর 11.33এ বরাভুম পৌছায় আর বুধ, বৃহস্পতি ও শনিবার হাওড়া রাঁচী ইন্টার সিটি এক্সপ্রেস{22891} সকাল 12.50এ ছেড়ে সন্ধ্যা 6.00টায় বরাভুম পৌছায়।
অযোধ্যা পাহাড়ের দক্ষিনে থাকার জায়গা ::
আরন্যক হোম স্টে, মানভুম লজ, শুভম্ লজ, আকাশ হোটেল, পি.পি.এস.পি গেস্ট হাউস, অযোধ্যা অতিথি নিবাস, বনবিতান, অভয়া হিল ভিউ, হোটেল বিকাশ, হিল কুইন, বনসুন্দরী, মাঠা ইকো ক্যাম্প, ইত্যাদি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Konnagar