Home Lab
With HomeLab app, you can book Physics, Chemistry, Biology, IoT, Robotics & Drone lab classes right at home! Please download our app to book our services:
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.labkafe.homelab
29/09/2024
এই ২০২৪ সালের দূর্গাপূজো নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে চারিদিকে। একদল মানুষ বলছেন এবার পুজোয় আড়ম্বর কম হোক, আরেকদল বলছেন পুজো বন্ধ করা অসম্ভব, তাহলে গরীব মানুষ খেতে পাবে কী করে, ওরা তো সারা বছর এই একটা সময়েরই ভরসায় থাকে, ইত্যাদি।
এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীকে নিয়ে খিল্লিও কম হচ্ছে না, যা সঙ্গত একটা অন্যতম কারণে -- আমরা কেউই কিন্তু কোথাও শুনিনি পুজো একেবারে বন্ধ করে দেবার দাবি। যতদূর জানি শুধুমাত্র আড়ম্বর কম করা, বা ডেকোরেশন কালো দিয়ে করা , বা সেরকম কিছু প্রতিবাদের ছাপ রাখার কথাই বলছেন মানুষ।
যাইহোক, কোনো কিছুই একেবারে সাদাকালো নয় -- এ প্রসঙ্গে কিছু ভাবনা শেয়ার করছি।
১. গরীব মানুষ সারা বছর পুজোর দিকে চেয়ে থাকে -- এটা ঠিক ও ভুল , দুটোই। কিভাবে? প্রথমতঃ, পুজোয় প্রচুর এক্সট্রা কাজ পাওয়া যায়, যেগুলো সত্যিই কিছু বাড়তি ইনকামের সুযোগ দেয়। দোকানে ঢল নামে , পুজোর মণ্ডপ ও কর্মে প্রচুর ম্যানুয়াল লেবার ও উপকরণ দরকার হয় , আর এমনকি ফিরিওলারাও মণ্ডপ ঘিরে দুটো চা-ফুচকা বেচতে পারে। বাঙালির দুর্গাপুজো আজ একটা বিলিয়ন টাকার ব্যবসা। একদম সত্যি।
এই কোটি কোটি টাকার কতোটা গরীবের পেটে যায়? আমরা সবাই অ্যাডাল্ট , আমরা এ প্রশ্নের উত্তর জানি। কত সার্ভে-টার্বে হয়েছে জানি নে, কিন্তু শতাংশের ভগ্নাংশও যদি আসল গরীবরা পায়, সেটাই অনেক। মোটা মুনাফাটা শুরু হয় মাঝারি বিপণি ও কন্ট্রাক্টর দিয়ে, আর পিরামিডের ওপরের দিকেই টাকার গতি হয়, বড়ো ব্যবসায়ী, কাপড়ের ব্র্যান্ড মালিক, সার্ভিস প্রোভাইডার সংস্থা ইত্যাদিতে। কারণ সম্পত্তির পূঞ্জীভূতকরণই আমাদের ইকনমির লক্ষ্য, সেটাই সিস্টেম। সব পুজোরই থিম একটাই -- প্রফিট।
তো দেখা যাচ্ছে, এমনকি সরকারী হিসেবে অনুযায়ীও, যেকোনো উৎসবে স্বার্থ সবচাইতে বেশী ধনী দের, এবং তার সাথে ফড়ে-দালাল শ্রেণীর যারা প্যারাসাইটিক শোষণ চালায় সাইড থেকে -- যেমন কিনা পাড়ার কেলাবের কেলোর দল। আর আপনার হাউসিংয়ের পুজো কমিটির মেম্বারগণ। এরা কি গরীব? এগুলো সবই ফ্রী ইনকাম, যার জন্য এক্সট্রা মার্কেটিংএর দরকার পড়ে না, মানুষ এমনিই কুলো ভরে পয়সা ঢেলে দিয়ে যায়, নাহলে তো আবার ঠাকুর পাপ দেবেন! মাকে মায়ের মতো কবে দেখতে শিখবো আমরা?
২. তাহলে গরীব মানুষরা সারা বছর পুজোর দিকে তাকিয়ে থাকে কেন? সত্যিই থাকে কী? কতোটা চেনেন আপনি আসল গরীব মানুষদের? কতদিন বাস করেছেন বস্তিতে, গন্ডগ্রামে, কতবার খেয়েছেন বাজারের শেষে ফেলে দেওয়া পোকা আলু , পুকুরের জল? আসল গরীবদের -- টিভির গরীব না -- কতটুকু জানেন আপনি?
এক সেকেন্ড ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন যে, একটা মানুষ পুজোয় মণ্ডপে ম্যারাপ বেঁধে পাঁচ হাজার টাকা রোজগার করলে সেই টাকা দিয়েই সে সারা বছর সংসার চালাতে চাইবে, এটা কতখানি অলীক ধারণা। যার পেটে সবসময় ক্ষুধার আগুন, সে কখনো জানুয়ারি থেকে বসে বসে অক্টোবরের জন্য অপেক্ষা করে না।
একটা খুব সোজা উদাহরণ দিচ্ছি, আপনার খুবই কাছের। আপনার বাড়ির কাজের মাসিটির কথাই ধরুন না। পুজোয় তাঁর বাড়তি ইনকাম কি, না বোনাস যদি তার যজমানরা দেন, আর না হলে অন্ততঃ শাড়িটা-আসটা যা পাওয়া যায়। তার মানে কি এই যে তিনি সারা বছর আর কাজ করেন না, শুধু পুজোর স্পেশাল কাজের জন্যে বসে থাকেন? বিশ্বাস করুন , এমনকি আপনিও এতোটা ইস্টুপিড নন !
৩. প্রায় সমস্ত দুঃস্থ ব্যক্তিই মাল্টিট্যালেন্টেড, কারণ তারা বেশিরভাগই তিন বা তারও বেশি পেশার সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত। আমি এমন প্রচুর লোককে জানি যারা সিজনে ধান আলু উচ্ছে রোয় (বা তোলে), অফ সিজনে কাপড়ের, রঙ্গের, পাথরকুচির কারখানায় ঠিকা মজুরি দেয়, ফাঁকে ফাঁকে ইট সিমেন্ট নিয়ে খেলে, মেলাগুলা কিছু লাগলে টিপল পেতে বা কেটলি হাতে বসে যায়, আর হ্যাঁ -- পুজোর প্যান্ডেলও বাঁধে বৈকি। পুজো তো বাঙালির লেগেই আছে , না হলে বিয়েবাড়ি আছে , নেতাদের ভাষণ আছে , চল্লিশ রকমের জগঝম্প আছে। এর মাঝে কাছের গঞ্জে বা শহরে বড়লোকদের বাড়িতে প্রচুর ঠিকা কাজও পায় যায় -- আগাছা নিড়ানো থেকে পায়খানা পরিষ্কার অবধি সবকিছুই যা বাবুরা ননীর শরীর নিয়ে পেরে ওঠেন না। আর সেদিন যদি কিছুই না পাওয়া যায়, তবে পাশের খেত থেকে চুপিচুপি একঝুড়ি মূলা বা পুকুরে খেপলা ফেলে চুপড়ি ভরে এক কোঁচড় পুঁটি বা কাঁকড়া নিয়ে তাঁকে বাজারে দেখা যাবেই।
তো, এরকম একজন করিৎকর্মা মানুষ, যিনি রোদেজলে সবসময় কী লেভেলের খাটতে পারেন চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না, যিনি প্রায় জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সবই মাত্রাবিশেষে পারেন (যদি বামুনেরা করতে দিতো), শুধু এক্সেলটা জানেন না তাই আপনার চাকরিটা এখনো আছে (!!!) -- তিনি কোন দুঃখে অক্টবর মাসে চার আনা এক্সট্রা পাবেন কি পাবেন না তার ভরসায় বসে থাকবেন বলতে পারেন?
গরীব মানুষ অপরচুনিটির জন্যে বসে থাকে না, নিজের সুযোগ নিজে তৈরী করে নেয়, এটাই হার্ডকোর শিক্ষা যা তারা ছোটবেলার থেকে জেনে এসেছে। কালকে যদি পুজো না হয়, বিশ্বাস করুন তাদের এমন কিছু ক্ষতি হবে না -- যতটা ক্ষতি হবে একটা কাপড়ের দোকানের মালিকের। আপনি কি ওনাকেই গরীব মানুষ বলে ভুল করছেন?
৪. এবার সরাসরি বলি, যাদের আজ পুজোয় একটু কাঁটা পড়েছে বলে গরীবের দুঃখে বুক ভেসে যাচ্ছে -- বলি হে, সারা বচ্ছর কোথায় থাকেন আপনারা? যখন বন্যায় খরায় মহামারীতে আর্সেনিকে দাঙ্গায় গ্রামকে গ্রাম উজাড় হয়ে যায়, কোথায় থাকেন আপনারা?
আপনার ঘরে যে লোকটা পায়খানা পরিষ্কার করে দিয়ে যায়, তার সঙ্গে দরাদরি করেন, রিক্সা ওলাকে এক টাকা বেশি দিতে আপনার জান কয়লা হয়ে যায়, সবজি বাজার আগুন বলে আপনারই দুঃখের সীমা নেই, আবার সেই আপনিই তো প্যান্টালুনসের প্যান্ট কিনতে প্যান্টি খুলে পে করেন।
আপনি তো জোমাটোতে কাটলেট বিরিয়ানী মুরগীমটনের মোচ্ছব অর্ডার করার সময় তিন টাকা ফিডিং ইন্ডিয়ার ডোনেশনটাও দিতে পারেন না। লজ্জা করে না দুঃস্থ সর্বহারার পিছনে লুকিয়ে নিজের স্বার্থ কায়েম রাখবার জন্য কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করতে?
একচুয়াল গরীব মানুষরা না, জানেন তো, আপনার ওকালতির ভরসায় বসে নেই। বায়োলোজিক্যাল দাদু বা চটিলজিক্যাল পিসি বা ঝাণ্ডালজিক্যাল মাকু -- কেউ তাদের দেখবে না, সবাই তাদের নিংড়ে নিয়ে এসেছে ও নিংড়েই নেবে চিরকাল। তাই তারা নিজেরটা নিজে দেখতে শিখেছে। আপনার ফেক পোদ্দারি না মারলেও সুন্দর চলে যাবে তাদের।
৫. ফুল ডিসক্লোজার -- আমি নিজেও গরীব মানুষের জন্য সাধারণ অর্থে কিছু করিনি কখনো। কিন্তু তাই বলে "ওমাগো ওদের কী হবে গো" বলে মড়াকান্না জুড়তেও আমাকে কোনো দিন শোনা যায় না। চটি বা খড়ম বা চাইনিজ চপ্পল, আমি কোনো দলেরই ধামাধারী নয়। তথাকথিত ভদ্দরলোকদের মেকি শিক্ষিতপনায় গা জ্বলে তাই কাজকর্ম ফেলে রেখে পোস্টাতে বসলাম, এই নাদানের অপরাধ নেবেন না। আমার ঘাড়ে একটাই মুণ্ডু।
28/08/2024
Find me a mommy who loves dinosaurs and I'll start believing in rebirth.
Maladaptive Daydreaming: যা সম্ভৰ নয় বা কখনোই হবে না , সেরকম সিচুয়েশন মনের মধ্যে বানিয়ে কি কি বলবো রিহার্সাল দেওয়া।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
PS Aviator, Chinar Park
Kolkata
700157