Affixea
Stay informed, stay healthy!
#Health #Wellness #Medicine #Diseases #Cures #Remedies #Fitness #Affixea A physician, Health and Mind Trainer
Learn to keep yourself tense to optimum health.
#health #healthylifestyle #mentalhealth #healthylife
29/03/2025
বন্ধুদের মধ্যে প্লীহা (spleen) নিয়ে কথোপকথন:-
ঋদ্ধি: বন্ধু, তুমি কি জানো, প্রাচীন কালে এরকম মনে করা হতো—এই যে আমরা হাসি, কোনো মজার কথায় বা পছন্দের কাউকে দেখলে, এই হাসিটা নাকি আমাদের পেটের মধ্যের একটি অঙ্গ থেকে উঠে আসে। সেটা কোন অঙ্গ বলো তো? জানা আছে তোমার?
দ্বীপ্ত: বাহ্, বেশ মজাদার তো! না, আমার জানা নেই, তুমিই বলে দাও।
ঋদ্ধি: সেটা হলো প্লীহা, যেটাকে spleen বলে।
দ্বীপ্ত: আচ্ছা, প্লীহা জিনিসটা কী? এটা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ?
ঋদ্ধি: হ্যাঁ, প্লীহা আমাদের শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এটা পেটের বাঁ দিকে, পাঁজরের খাঁচার নিচে থাকে। দেখতে অনেকটা মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো।
দ্বীপ্ত: ওহ! দেখতে কেমন সেটা তো বুঝলাম, কিন্তু এর কাজটা কী?
ঋদ্ধি: এর কাজ অনেক। এটা আমাদের শরীরের রক্ত পরিস্রাবণ করে, মানে রক্ত থেকে খারাপ জিনিসগুলো সরিয়ে দেয়। আর আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে, কারণ এটা শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করে। এছাড়াও, এটা রক্তের একটা ছোট অংশ জমিয়ে রাখে, যা দরকার পড়লে কাজে লাগে।
দ্বীপ্ত: ওয়াও! এত কাজ করে! তাহলে এটা খারাপ হলে তো খুব সমস্যা হবে, তাই না?
ঋদ্ধি: একদম ঠিক বলেছো! প্লীহা খারাপ হলে অনেক সমস্যা হতে পারে। ক্লান্তি, সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, রক্তাল্পতা, পেটে ব্যথা—এরকম অনেক সমস্যা হতে পারে।
দ্বীপ্ত: খারাপ হওয়ার কারণগুলো কী?
ঋদ্ধি: অনেক কারণ আছে। ম্যালেরিয়া, মনোনিউক্লিওসিসের মতো সংক্রমণ, থ্যালাসেমিয়া, সিকেল সেল অ্যানিমিয়ার মতো রক্তের রোগ, লিভারের রোগ আর পেটে আঘাত লাগলেও প্লীহা খারাপ হতে পারে।
দ্বীপ্ত: তাহলে প্লীহাকে সুস্থ রাখার উপায় কী?
ঋদ্ধি: প্লীহাকে সুস্থ রাখতে হলে আমাদের কিছু জিনিস মেনে চলতে হবে। যেমন—
সুষম খাবার খেতে হবে, ফল, শাকসবজি আর গোটা শস্য বেশি করে খেতে হবে।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা দরকার।
পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে।
মদ্যপান আর ধূমপান থেকে দূরে থাকতে হবে।
আর অবশ্যই, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
ঋদ্ধি: তবে কী জানো, দ্বীপ্ত? গল ব্লাডারের মতো প্লীহাও একটি অঙ্গ যাকে ছাড়াও মানুষ অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে।
দ্বীপ্ত: প্লীহা সম্পর্কে বেশ কিছু জানলাম! এবার থেকে হার্ট, কিডনি, লিভারের সাথে সাথে এর কথাও মাথায় রাখতে হবে।
ঋদ্ধি: হ্যাঁ, প্লীহা আমাদের শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ, তাই এর যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।
দ্বীপ্ত: সবই বুঝলাম, কিন্তু ওই প্রথমে অদ্ভুত একটা কথা বললে যে আমাদের হাসি নাকি প্লীহা থেকে উঠে আসে, এরকমটা মনে করার কারণ কী?
ঋদ্ধি: মাফ করো, বন্ধু। সে উত্তর আমার জানা নেই।
তথ্য সূত্র: Dr. Bireswar Roy
25/03/2025
✔️✔️যকৃৎ: এক নীরব সৈনিক, যে তোমার যত্নের অপেক্ষায়
তুমি যখন কাজের চাপে ভুলে যাও খাবার খেতে, যখন রাত জাগার অভ্যাস করে ফেলো, কিংবা যখন একটু আনন্দের নামে অস্বাস্থ্যকর খাবার কিংবা অ্যালকোহল গ্রহণ করো—তোমার শরীরের ভেতরে থাকা একটি নীরব সৈনিক চুপচাপ সেই সব ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সৈনিকের নাম যকৃৎ।
তুমি হয়তো কখনো আলাদা করে অনুভব করো না, কিন্তু তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি শক্তির উৎস, আর শরীরের প্রতিটি কার্যক্রমই যকৃতের নিরলস পরিশ্রমের ফল। এটি ক্লান্ত হয় না, বিরক্ত হয় না, বরং প্রতিদিন তোমার শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছো, তুমি যদি তার প্রতি অবিচার করো, তাহলে সে কতদিন লড়তে পারবে?
আজ আমরা জানব এই নীরব রক্ষক সম্পর্কে, তার কাজ, তার অসীম ধৈর্য, তার স্বনিরাময় ক্ষমতা, আর তাকে ভালো রাখার উপায়।
---
✔️✔️যকৃৎ কোথায় থাকে, কেমন দেখতে?
যকৃৎ মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ এবং এটি তোমার পাঁজরের নিচে, শরীরের ডানদিকে অবস্থান করে। দেখতে এটি গাঢ় লালচে-বাদামি, মসৃণ ও নরম। এর ওজন প্রায় ১.৩ থেকে ১.৫ কেজি এবং এটি শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২%।
তবে আকার বা ওজনের চেয়ে এর ক্ষমতা অনেক বেশি বিস্ময়কর। এটি প্রতি মিনিটে ১.৫ লিটার পর্যন্ত রক্ত পরিশোধন করতে পারে এবং প্রতিনিয়ত হাজারো জটিল কাজ করে চলেছে—যা তোমার শরীরকে সুস্থ রাখতে অপরিহার্য।
---
✔️✔️যকৃতের প্রধান কাজ: তোমার শরীরকে সুস্থ রাখার নিরলস প্রচেষ্টা
যকৃৎ একাধারে একটি রাসায়নিক কারখানা, একটি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র, একটি শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, এবং রোগ প্রতিরোধের প্রধান সৈনিক।
১. শক্তি উৎপাদন: তুমি ক্লান্ত হলে, যকৃৎ তোমার পাশে থাকে
যকৃৎ গ্লুকোজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে। যখন তুমি অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকো, তখন যকৃৎ সংরক্ষিত শক্তি (গ্লাইকোজেন) থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং রক্তে সরবরাহ করে, যাতে তুমি দুর্বল না হয়ে পড়ো।
২. হজমে সহায়তা: খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ নিশ্চিত করা
যকৃৎ পিত্তরস (Bile) তৈরি করে, যা চর্বি হজম করতে সাহায্য করে। এটি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি ভেঙে শরীরের কাজে লাগায় এবং অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের করে দেয়।
৩. বিষাক্ত পদার্থ পরিশোধন: তোমার প্রতিটি ভুলের বোঝা নিয়ে নেয়
তুমি যখন অ্যালকোহল পান করো, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করো, কিংবা দূষিত খাবার খাও, তখন এই বিষাক্ত পদার্থ শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যকৃৎ এগুলো পরিশোধন করে শরীর থেকে বের করে দেয়।
৪. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: তোমার নিরব সুরক্ষা
যকৃৎ এমন কিছু প্রোটিন ও এনজাইম তৈরি করে, যা শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংসে সহায়তা করে, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
---
✔️✔️যকৃতের আশ্চর্যজনক স্ব-নিরাময় (Self-Healing) ক্ষমতা: তোমার দ্বিতীয় সুযোগ!
যকৃৎ মানুষের শরীরের একমাত্র অঙ্গ যা নিজেই নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে।
🛑যকৃৎ কিভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়?
৭০% পর্যন্ত যকৃৎ নষ্ট হলেও এটি নতুন কোষ তৈরি করে সুস্থ হতে পারে!
এটি অন্য কোনো অঙ্গের চেয়ে বেশি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে।
যদি তুমি সুস্থ জীবনযাপন শুরু করো, তাহলে যকৃৎ নিজেই তার অনেক ক্ষতি পূরণ করতে পারবে।
সুস্থ খাবার ও পর্যাপ্ত জল গ্রহণ যকৃৎ পুনর্গঠনের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
🛑কিন্তু এরও সীমা আছে...
🔴🔴যদি ক্ষতি অনেক বেশি হয়ে যায়, তাহলে আর পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
🔴🔴সিরোসিস হলে যকৃৎ আর ঠিকমতো পুনর্গঠন করতে পারে না।
🔴🔴ধূমপান ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার স্বনিরাময় ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।
🔴🔴যকৃতের কোষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনরুজ্জীবনের গতি কমে যায়, একসময় এটি স্থায়ীভাবে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
এই ক্ষমতা যেন তোমার জন্য একটি দ্বিতীয় সুযোগ। তুমি যদি আজ থেকেই যকৃতের যত্ন নেওয়া শুরু করো, তাহলে এটি ধীরে ধীরে ফিরে আসতে পারবে। কিন্তু যদি সময় বেশি চলে যায়, তখন কিছুই করার থাকবে না।
---
✔️✔️তোমার যকৃৎকে ভালোবাসার উপায়
১. স্বাস্থ্যকর খাবার খাও
শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাও
কম চর্বিযুক্ত ও প্রাকৃতিক খাবার খাও
ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলো
২. বেশি জল পান করো
যত বেশি জল পান করবে, যকৃৎ তত সহজে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে পারবে।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম করো
ব্যায়াম করলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে, ফলে যকৃৎ সুস্থ থাকে।
৪. অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকো
অ্যালকোহল ধীরে ধীরে যকৃৎ ধ্বংস করে।
৫. হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করো
হেপাটাইটিস বি ও সি-এর টিকা নাও
নিরাপদ ও বিশুদ্ধ জল পান করো
---
❤️✔️শেষ কথা: তোমার যকৃৎকে একটু ভালোবাসা দাও!
যকৃৎ কখনো অভিযোগ করে না। কিন্তু তুমি যদি তার যত্ন না নাও, তাহলে একদিন সে আর পারবে না। আর তখন তোমাকে তার অভাব অনুভব করতে হবে—একটা অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তাই আজ থেকেই নিজের যকৃৎকে ভালোবাসতে শুরু করো। কারণ, সে তোমার জন্য প্রতিদিন লড়ছে—অসংখ্য ক্ষতিকর বস্তু থেকে তোমাকে রক্ষা করছে।
তুমি কি তার জন্য কিছু করবে?
তথ্য সূত্র- Dr. Bireswar Roy
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Kolkata
700011