Indian Secular Front
*নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি*
এবারের নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট তীব্র নিন্দা করছে। চলতি মাসের ৩ তারিখে এই পরীক্ষা হয়েছিল। এই ফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজনে বার বার কেন ‘ত্রুটি’ হচ্ছে? ২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনায় ছাত্রছাত্রীরা অহেতুক মানসিক চাপের শিকার হচ্ছে, একথা বলা বাহুল্য। দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। কেন্দ্রীয় সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে (NTA) পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পর বারংবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। অবিলম্বে এনটিএ (NTA)-কে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। উপরন্তু এই সংস্থাকে ভেঙে আগের মতোই পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দিয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। আইএসএফ এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি, দল কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া সহ অবিলম্বে ত্রুটিহীন পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছে। সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না।
১২/৫/২৬
*মে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি*
আজ ১লা মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হেমার্কেট স্কোয়ারে শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। ঐ সময় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অনেকে। সেই রক্তাক্ত লড়াইয়ের স্মরণেই বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
তৎকালীন সময়ে মূল দাবিগুলো ছিল — আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম, আট ঘণ্টা নিজের জন্য সময়। সেই দাবি কিন্তু আজও সম্পূর্ণ পূরণ হয়নি।
বর্তমান ভারতের পরিস্থিতির দিকে তাকালে সেটি সহজেই মালুম হয়। এখানে শ্রম আইনের পরিবর্তন আনা হয়েছে পুরোপুরি কর্পোরেটদের স্বার্থ মাথায় রেখে। কেন্দ্রীয় সরকার ৪৪টি পুরনো শ্রম আইন একত্রিত করে ৪টি মাত্র লেবার কোড তৈরি করেছে। এতে মালিকপক্ষের সুবিধা বেড়েছে, শ্রমিকের দর-কষাকষির ক্ষমতা কমেছে।
ভারতের প্রায় ৯০% শ্রমিক অসংগঠিত। তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই, ন্যূনতম মজুরিও নিশ্চিত নয়।
এর উপর যুক্ত হয়েছে গিগ ইকোনমি। এর সাথে যুক্ত কর্মীরা "কর্মচারী" হিসেবে স্বীকৃত নন, ফলে কোনো সামাজিক সুরক্ষা তারা পাচ্ছেন না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্বের হার এখন উদ্বেগজনক, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায়। ফলে তারা এই গিগ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে চলেছেন। আমাদের রাজ্যেও কাজের সুযোগ সঙ্কুচিত। গত ১৫ বছর ধরে কোন বড়, মাঝারি শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন জেলার মানুষ আজ বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এখানে ন্যূনতম মজুরি বাইরের রাজ্যের তুলনায় বেশ কম। এই বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের পার্টিও লেবার কোড বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। আগামীদিনে এই আন্দোলন আরো বৃহত্তর আকারে সংগঠিত করতে হবে।
তাই মে দিবসের প্রাসঙ্গিকতা আজও একটুও কমেনি — বরং নতুন রূপে শ্রমিক-মজুরদের অধিকারের প্রশ্ন ফিরে আসছে।
০১/০৫/২৬
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the organization
Telephone
Website
Address
Kolkata