Enroot Rasapunja Abacus
01/08/2024
১৯১১ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইস্ট ইর্য়কশায়ারকে হারিয়ে প্রথম কোন ভারতীয় দল হিসেবে শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান।
১১ জন বাঙালি খালি পায়ে অনবদ্য খেলে প্রবল পরাক্রমশালী ইস্ট ইওর্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়েআছে। ইডেন গার্ডেন্সে উপস্থিত ৮০ হাজার দর্শক সাক্ষী থেকেছিলেন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের৷ পরাধীন ভারতে ঐ সময় সাহেবদের হারিয়ে মোহনবাগানের এই শিল্ড জয়ের ঘটনায় সমগ্র দেশ আলোড়িত হয়। খেলার মাঠে সাহেবদের মুখোমুখি লড়াইয়ে খালি পায়েও যে হারানো সম্ভব সেটাই অবলীলাক্রমে দেখিয়ে দেয় মোহনবাগান৷
সেদিনের সেই হার না মানা অসমসাহসী বাঙালি খেলোয়াড় দের পরিচয়।
হীরালাল মুখার্জ্জী (গোলকিপার)..
উত্তর কলকাতার বাগবাজার অঞ্চলে জন্ম। অবশ্য কিশোর বয়স থেকে বেড়ে ওঠা হাওড়ায়। ফুটবলে হাতেখড়ি "হাওড়া স্পোর্টিং ক্লাব" এ। ১৯০৬ এ মোহনবাগানে যোগদান এবং ক্লাব সচিব "শৈলেন বসু" র নির্দেশে প্রথম গোলকিপার হিসাবে খেলা শুরু।
সুধীর চ্যাটার্জ্জী (রাইট ব্যাক)..
স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্র ছিলেন। ঐ দলের একমাত্র "বুট পরিহিত" দেশীয় প্লেয়ার। জীবনের প্রারম্ভে ডায়না স্পোর্টিং ও ডোরিয়ান ক্লাবে খেলতেন। ১৯০৪ সালে যে বছর মোহনবাগান "কুচবিহার কাপ" জয়লাভ করে, সে'বছরই তিনি ক্লাবে যোগদান করেন। সেটিই ছিল দলের প্রথম কোনো বড় প্রতিযোগিতা জয়।
এ ভূতি সুকুল (লেফট ব্যাক)..
১৮৮৯ সালে মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পূর্বপুরুষরা ছিলেন উত্তরপ্রদেশ এর বাসিন্দা। ক্রিকেট ও হকি খেলাতেও যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন। জোরালো হেড ও কড়া ট্যাকল এ বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।
রাজেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (স্টপার)..
দলটির "কনিষ্ঠতম" খেলোয়াড়। ঐ সময় স্কটিশ চার্চ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বয়স মাত্র ২১ বছর।
মনমোহন মুখার্জ্জী (রাইট হাফ)..
মোহনবাগানের রক্ষন ও আক্রমণের অন্যতম সংযোগকারী। দেখতে খানিক দুর্বল হলেও অসীম দম ও ক্ষিপ্রতার অধিকারী ছিলেন।
নীলমাধব মুখার্জ্জী (লেফট হাফ)..
স্কুল ও শ্রীরামপুর কলেজে পড়বার সময় থেকে ফুটবলে আসক্তি। পাসিং ফুটবলের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
শিবদাস ভাদুড়ী (রাইট আউট)..
মোহনবাগানের শিল্ড জয়ের অন্যতম রূপকার। দলের অধিনায়ক ও মাঝমাঠের মূল সংগঠক। ১ গোলে দল পিছিয়ে থাকা অবস্থায় প্রথম গোল শোধ করেন তিনি ও জয়সূচক গোলেরও আসল কারিগর তিনিই।
কানু রায় (লেফট আউট)..
ঢাকায় জন্ম। স্কুল সেখানে হলেও কলেজ কলকাতার "হিন্দু কলেজ"। ক্ষিপ্র গতি, মাপা সেন্টার ও রামধনু শটের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
বিজয়দাস ভাদুড়ী (রাইট ইন)..
উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর অঞ্চলে বিখ্যাত ভাদুড়ী পরিবারে জন্ম। মোহনবাগান ক্লাবের জন্ম ও বিকাশে এই পরিবারের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। ১৯০৮ সালে "ট্রেডস্ কাপ" জয়ী মোহনবাগান দলের সদস্য।
হাবুল সরকার (লেফট ইন)..
পোশাকি নাম "শ্রীশচন্দ্র সরকার"। যদিও "হাবুল" নামেই অধিক পরিচিত। কলকাতা কর্পোরেশন এর কর্মী ছিলেন ইনি। মানিকতলা অঞ্চলে জন্ম ও বসবাস।
অভিলাষ ঘোষ (স্ট্রাইকার)..
জয়সূচক গোলের নায়ক। ঢাকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ১৯১১ তেই মোহনবাগানে যোগদান। সেমিফাইনালে এঁনার সাথে সংঘর্ষেই "মিডলসেক্স" এর গোলরক্ষক "পিগট" কে আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
অধিনায়ক শিবদাস ভাদুড়ি ও অভিলাষ ঘোষের গোলেই ইংরেজদের হারিয়েছিল বাগান৷ সেদিন ময়দান থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত ব্রিটিশদের হারিয়ে গৌরব ফেরানো ফুটবলারদের মাথায় তুলে নিয়ে যান হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী৷ পরে শিবদাস ভাদুড়িকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘ব্রিটিশরা কবে দেশছাড়া হবে?’ গর্বিত মোহনবাগান অধিনায়ক উত্তরে তখন জানিয়েছিলেন, "মোহনবাগান যেদিন ফের শিল্ড জিতবে সেদিন হয়ত ভারতের মাটিতে ব্রিটিশরাজ অতীতের পাতায় নাম লেখাবে"৷ কাকতালীয় হলেও মোহনবাগান দ্বিতীয়বার শিল্ড জিতেছিল ১৯৪৭ সালে৷ এবং সেটা ছিল ভারতের স্বাধীনতার বছর।
১৯৮৯ সালে মোহনবাগান ক্লাবের জন্ম শতবার্ষিকীতে ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক জয়ের স্মরণে ভারত সরকার এক বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশ করে ভারতের জাতীয় ক্লাবকে সম্মান জানায়।
লেখা ও ছবি নেট থেকে সংগৃহীত।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Rasapunja
Kolkata
700104
Opening Hours
| Monday | 9am - 12:15pm |
| 6pm - 8pm | |
| Tuesday | 9am - 12:15pm |
| 6pm - 8pm | |
| Wednesday | 9am - 12:15pm |
| 6pm - 8pm | |
| Thursday | 9am - 12:29pm |
| 6pm - 8pm | |
| Friday | 9am - 12:29pm |
| 6pm - 8:29pm | |
| Saturday | 9am - 12:30pm |
| 4pm - 8pm | |
| Sunday | 9am - 12:30pm |
| 6pm - 8pm |