PostBardhaman
গলসিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবাহিত মহিলার সঙ্গে সহবাস, ধৃত ১
নিজস্ব সংবাদদাতা: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবাহিত মহিলার সঙ্গে সহবাসের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গলসি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম শেখ আসরাফউদ্দিন। গলসি থানার রামপুর গ্রামে তার বাড়ি। শনিবার রাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে পাঁচদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের দু’দিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান থানার বাজেপ্রতাপপুর মালিরবাগান এলাকায় ওই মহিলার শ্বশুরবাড়ি। বছর ১৪ আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁর দু’টি ছেলে–মেয়ে আছে। বছর তিনেক আগে তাঁর সঙ্গে আসরাফউদ্দিনের পরিচয় হয়। দু’জনের মধ্যে ফোনে হামেশাই কথাবার্তা হতো। পরে দু’জনের মধ্যে ভাব–ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসরাফউদ্দিন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় মহিলাকে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে আসরাফউদ্দিনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার সহবাস করেন মহিলা। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে আসরাফউদ্দিনকে জানান মহিলা। মহিলাকে বিয়ে করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে অভিযুক্ত। শেষমেশ দুই সন্তানকে রেখে দিয়ে মহিলাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রেমিক আসরাফউদ্দিনকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করান মহিলা। এরপরই স্বরূপ বেরিয়ে আসে আসরাফউদ্দিনের। মহিলাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে সে। মহিলা বার বার তাকে বিয়ে করার কথা বলেন। প্রেমিকের সাড়া না পেয়ে শেষমেশ শনিবার সন্ধ্যায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে থানা। ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার।
বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জ এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে আবগারি দপ্তর। ধৃতেরন নাম সুশোভন অধিকারী। তেজগঞ্জ এলাকাতেই তার বাড়ি। মদ উদ্ধার হওয়ার দিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এক্সাইজ অ্যাক্টের ১৫, ১৬, ১৮(১) ও ৪৬(সি) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতকে বৃহস্পতিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। আইনজীবী কমল দত্ত জামিনের সওয়ালে বলেন, ধৃতকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ১৮ এপ্রিল সে ঘরের চাবি স্বরাজ ঘোষকে ১০দিনের জন্য ব্যবহার করতে দেয়। সেখানে সংসদ সদস্য থাকবেন বলে তাঁকে জানানো হয়। তিনি প্রথমে ঘরের চাবি দিতে অস্বীকার করেন। পরে চাপের মুখে তিনি ঘরের চাবি দিতে বাধ্য হন। তাঁর ঘরে যে মদ মজুত করা হয়েছে তা ধৃতের জানা ছিল না। তদন্তকারী সংস্থা এব্যাপারে স্বরাজকে অভিযুক্ত করেনি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। ধৃতকে দু’টি ভিন্ন ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়। একটিতে তাঁকে সাক্ষী করা হয়েছে। অপরটিতে অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পেয়ে অভিযুক্ত তদন্তকারী সংস্থার কাছে হাজির হন। তারপরও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোের্টর নিের্দশিকা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতার পরও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। দু’পক্ষের সওয়াল শোনার পর ১ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা ও আগাম অনুমতি ছাড়া রাজ্য না ছাড়ার শের্ত ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেছেন সিজেএম বিনোদ মাহাত। পাশাপাশি আবগারি দপ্তরের তদন্তকারী অফিসারকে গ্রেফতারির ক্ষেত্রে নিের্দশিকা না মানা এবং দু’টি পৃথক ধারায় নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছেন বিচারক। দু’দিনের মধ্যে তাঁকে কেন তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে না, সেব্যাপারে তাঁর বক্তব্য লিখিতভাবে জানানোর জন্য নিের্দশ দিয়েছেন সিজেএম। ঘটনায় সংসদ সদস্যের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের মুখে সংসদ সদস্যের থাকার কথা বলে নেওয়া ঘরে কী উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মদ মজুত করা হয়েছিল তা নিয়েও নানা চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটের জন্য আবগারি দপ্তর মদ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্বাভাবিকভাবেই লাইসেন্সবিহীন একটি ঘরে মদ মজুতের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তেজগঞ্জের একটি ঘরে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে আবগারি দপ্তর। উদ্ধার হওয়া মদের মূল্য আনুমানিক ২৭ লক্ষ টাকা বলে আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। মদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি নোটিশ পেয়ে হাজির হওয়ার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Burdwan
713104