Islam
27/03/2026
যালিম কওম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
রব্বি নাজ্জিনি মিনাল কাওমিজ্জালিমীন।
অর্থঃ
“হে আমার রব, আপনি আমাকে যালিম কওম থেকে রক্ষা করুন।”
(সূরা আল-কাসাস — ২৮:২১)
20/03/2026
বনি ইসরাইল, ইহুদি, ইতিহাসের শিক্ষা — Part-3
দাউদ (আ.)-এর সময় বনি ইসরাইল আবার শক্তিশালী হয়ে উঠল।
তার সময় তারা সংগঠিত রাষ্ট্র পেল, শাসন পেল, শক্তি পেল।
জেরুজালেম তাদের কেন্দ্র হয়ে গেল।
এরপর এলেন তার ছেলে
সুলাইমান (আ.)।
সুলাইমান (আ.)-এর সময় বনি ইসরাইল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছায়।
সুলাইমান (আ.) দোয়া করেছিলেন —
رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّن بَعْدِي
সূরা ص 38:35
অর্থ —
হে আমার রব, আমাকে এমন রাজত্ব দাও,
যা আমার পরে কাউকে দেবে না।
আল্লাহ তাকে এমন রাজত্ব দিয়েছিলেন,
যা আর কাউকে দেননি।
কোরআনে এসেছে —
وَمِنَ الْجِنِّ مَن يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ
সূরা سبأ 34:12
জিন তার জন্য কাজ করত।
জিনরা নির্মাণ কাজ করত,
পাথর কাটত,
গভীর পানিতে ডুব দিত,
মনিমুক্তা তুলত।
বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণের কাজেও জিন কাজ করেছিল বলে তাফসিরে উল্লেখ আছে।
আল্লাহ তাকে বাতাসের উপর ক্ষমতা দিয়েছিলেন।
এক মাসের পথ
এক দিনে চলে যেত।
পাখির ভাষা বুঝতেন,
পিপড়ার কথা বুঝতেন।
এমন রাজত্ব পৃথিবীতে খুব কম হয়েছে।
এই সময় বনি ইসরাইল ভালো ছিল,
আল্লাহর আনুগত্য করত,
তাই তারা শক্তিশালী ছিল।
কিন্তু আল্লাহ আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন —
لَتُفْسِدُنَّ فِي الْأَرْضِ مَرَّتَيْنِ
সূরা الإسراء 17:4
তোমরা দুইবার বড় ফাসাদ করবে।
আর বলেছিলেন —
فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولَاهُمَا
بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَّنَا
أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ
17:5
আমি তোমাদের উপর শক্তিশালী জাতি পাঠাব।
ধীরে ধীরে তারা বদলে গেল।
জিনা
সুদ
হত্যা
নবীদের হত্যা
অন্যায়
সব শুরু হলো।
তারপর ইতিহাসে আসে
বাবিলের রাজা
নেবুখাদনেজার (Nebuchadnezzar)
সে জেরুজালেম আক্রমণ করল।
শহর ধ্বংস করল
মসজিদ ধ্বংস করল
মানুষ হত্যা করল
অনেককে দাস বানাল
বনি ইসরাইল যারা এক সময় শাসক ছিল
তারা বন্দি হয়ে গেল।
জেরুজালেম থেকে
বাবিলে নিয়ে যাওয়া হলো।
এটাই ছিল বড় পতন।
আল্লাহর নিয়ম —
ভালো থাকলে ভালো
খারাপ হলে শাস্তি
এরপর তারা বসে বসে বলত —
একদিন আমাদের একজন মসিহ আসবে।
আমরা আবার ফিরে আসব।
তাদের কিতাবে লেখা ছিল
একজন উদ্ধারকর্তা আসবে।
আল্লাহ পাঠালেন
ঈসা (আ.)।
কিন্তু তারা চিনল না।
বরং অপবাদ দিল।
কোরআনে এসেছে —
وَقَوْلِهِمْ عَلَىٰ مَرْيَمَ بُهْتَانًا عَظِيمًا
4:156
তারা মরিয়মের বিরুদ্ধে বড় অপবাদ দিয়েছে।
আর বলেছে —
إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ
4:157
আমরা মসিহকে হত্যা করেছি।
আল্লাহ বললেন —
وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ
4:157
তারা তাকে হত্যা করেনি।
তারা মসিহকে চিনতে পারেনি।
ইতিহাস এখানেই শিক্ষা দেয়।
যে জাতি আল্লাহর আনুগত্য করে
সে উঠে
যে জাতি অবাধ্য হয়
সে নামে
আল্লাহ বলেন —
إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ
47:7
তোমরা আল্লাহর সাহায্য করলে
আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন।
আর বলেন —
وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ
إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
3:139
তোমরাই উপরে থাকবে
যদি তোমরা মুমিন হও।
ইতিহাসের নিয়ম বদলায় না।
বনি ইসরাইলের ইতিহাস
আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
20/03/2026
বনি ইসরাইল, ইহুদি, ইতিহাসের শিক্ষা — Part-2
মুসা (আ.)-এর মৃত্যুর পরে বনি ইসরাইল আবার নতুনভাবে সংগঠিত হলো।
এই সময় নেতৃত্বে আসেন ইউশা ইবনে নূন (তাফসিরে উল্লেখ আছে)।
তখন তারা আবার সেই পবিত্র ভূমি ফিরে পাওয়ার কথা চিন্তা করল, যেটাতে ঢুকতে তারা আগে ভয় পেয়েছিল।
এই পবিত্র ভূমি ছিল জেরুজালেম অঞ্চল।
সে সময়কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর মধ্যে ছিল —
জেরুজালেম, মক্কা-মদিনা, এবং কনস্টান্টিনোপল (কুস্তান্তিনিয়া)।
ইতিহাসের অনেক বড় ঘটনা এই জায়গাগুলোকে কেন্দ্র করে হয়েছে।
বনি ইসরাইল তখন বলল —
আমরা আবার যুদ্ধ করব, আমরা আবার আমাদের জমি ফিরে নেব।
তখন তারা আল্লাহর কাছে নেতা চাইল।
কোরআনে এসেছে —
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ
إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا
সূরা বাকারা ২:২৪৭
অর্থ —
তাদের নবী বললেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য তালুতকে নেতা বানিয়েছেন।
কিন্তু তারা মানতে চাইল না।
তারা বলল —
ও নেতা হবে কেন?
ও তো ধনী না, বড় পরিবার না।
তখন আল্লাহ বললেন —
إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ
وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ
২:২৪৭
অর্থ —
আল্লাহ তাকে তোমাদের উপর নির্বাচিত করেছেন,
এবং তাকে জ্ঞান ও শক্তিতে বাড়তি দিয়েছেন।
এখান থেকে বড় শিক্ষা —
নেতৃত্বের মানদণ্ড
টাকা না
বংশ না
পদ না
জ্ঞান + শক্তি + যোগ্যতা
আজকের দুনিয়ায় অনেক সময় উল্টো হয়।
যোগ্য লোক নিচে থাকে,
অযোগ্য লোক উপরে থাকে।
কিন্তু আল্লাহর নিয়ম আলাদা।
এরপর যুদ্ধের আগে আরেকটা পরীক্ষা হলো।
إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ
সূরা বাকারা ২:২৪৯
আল্লাহ তোমাদের নদী দিয়ে পরীক্ষা করবেন।
শর্ত ছিল —
যে বেশি পানি খাবে
সে থাকবে না
যে খাবে না
সে থাকবে
এক অঞ্জলি অনুমতি ছিল।
অধিকাংশ ফেল করল।
অল্প কিছু রইল।
তারপর সামনে দেখা গেল বিশাল বাহিনী।
জালুতের বাহিনী।
তখন অনেকে বলল —
لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ
২:২৪৯
আজ আমাদের শক্তি নেই।
কিন্তু যারা ঈমানদার ছিল তারা বলল —
كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ
غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً
بِإِذْنِ اللَّهِ
২:২৪৯
ছোট দল বড় দলকে হারায় আল্লাহর সাহায্যে।
শেষে যুদ্ধ হলো।
وَقَتَلَ دَاوُودُ جَالُوتَ
২:২৫১
দাউদ (আ.) জালুতকে হত্যা করলেন।
দাউদ তখন তরুণ ছিলেন।
এরপর দাউদ (আ.)-এর সময় বনি ইসরাইল শক্তিশালী রাষ্ট্র হলো।
এই ঘটনা মনে করলে বদরের কথা মনে পড়ে।
বদরের সময় ৩১৩ জন ছিল।
রাসুল ﷺ সাহাবাদের জিজ্ঞেস করলেন।
তখন সাহাবিরা বললেন —
আমরা মুসার কওমের মত বলব না,
আমরা বলব না —
তুমি যাও, আমরা বসে থাকব।
বরং বললেন —
আপনি যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দেন
আমরাও ঝাঁপ দেব।
এই ঈমানের কারণেই বিজয় আসে।
শুধু সংখ্যা দিয়ে বিজয় আসে না।
এখান থেকেই বোঝা যায় —
যে জাতি আল্লাহর উপর ভরসা করে
সে জিতে
যে জাতি ভয় পায়
সে হারে
এরপর শুরু হলো বনি ইসরাইলের শক্তিশালী যুগ।
20/03/2026
বনি ইসরাইল, ইহুদি, ইতিহাসের শিক্ষা — উত্থান, পতন এবং সতর্কবার্তা
অনেকদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে পড়ছিলাম — ইহুদি কারা, বনি ইসরাইল কারা, আর কেন কোরআনে বারবার এই জাতির কথা এসেছে। যত পড়ছি তত মনে হচ্ছে, এটা শুধু ইতিহাস না, এটা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
প্রথমে একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার —
ইহুদি আর বনি ইসরাইল এক জিনিস না, যদিও অনেক সময় এক মনে করা হয়।
নবী ইবরাহিম (আ.)-এর দুই ছেলে ছিল।
একজন ইসমাইল (আ.)
আরেকজন ইসহাক (আ.)।
ইসমাইল (আ.) মক্কায় ছিলেন,
তার বংশ থেকে আরব জাতি,
এবং সেই বংশেই শেষ নবী
হযরত মুহাম্মদ ﷺ জন্মগ্রহণ করেন।
অন্যদিকে ইসহাক (আ.) শাম অঞ্চলে ছিলেন,
যেখানে ফিলিস্তিন, জেরুজালেম, সিরিয়া — এই এলাকা।
ইসহাক (আ.)-এর ছেলে ছিলেন ইয়াকুব (আ.)
আর ইয়াকুব (আ.)-এর আরেক নাম ছিল
ইসরাইল।
তাই ইয়াকুব (আ.)-এর সন্তানদের বলা হয়
বনি ইসরাইল।
এই বংশের মধ্যেই এসেছে অনেক নবী —
মুসা (আ.)
দাউদ (আ.)
সুলাইমান (আ.)
ইউনুস (আ.)
যাকারিয়া (আ.)
ইয়াহইয়া (আ.)
ঈসা (আ.)
এমনকি বলা হয় বহু নবী এই বংশ থেকে এসেছে।
এক সময় তারা খুব ভালো ছিল,
আল্লাহর অনুগত ছিল,
তখন তারা সম্মানিত ছিল।
কোরআনে আছে —
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ
সূরা বাকারা ২:৪০
অর্থ — হে বনি ইসরাইল, আমার নিয়ামত স্মরণ কর।
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন তারা অবাধ্য হতে শুরু করে।
তারা নবীদের কষ্ট দিতে শুরু করে,
অনেক নবীকে হত্যা করে।
যাকারিয়া (আ.)
ইয়াহইয়া (আ.)
ইতিহাসে আছে এক দিনে একাধিক নবী হত্যা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে মুসা (আ.)-এর সময়।
আল্লাহ তাদেরকে বললেন পবিত্র ভূমিতে ঢুকতে।
কিন্তু তারা বলল —
فَاذْهَبْ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا
إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ
সূরা মায়িদা ৫:২৪
তুমি আর তোমার রব যাও যুদ্ধ করো,
আমরা বসে থাকব।
এই জাতি সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হতে দেখেছে,
ফেরাউন ডুবে যেতে দেখেছে,
তবুও বিশ্বাসে দুর্বল ছিল।
মুসা (আ.) পাহাড়ে গেলে
তারা বাছুর পূজা শুরু করল।
আল্লাহ আসমান থেকে খাবার দিলেন,
তবুও অভিযোগ করল।
তারা বলল —
আমরা আল্লাহকে সামনে না দেখলে বিশ্বাস করব না।
এই অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাদের শাস্তি দিলেন।
চল্লিশ বছর তারা মরুভূমিতে ঘুরেছে।
কোরআনে আছে —
فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً
সূরা মায়িদা ৫:২৬
চল্লিশ বছর তারা ঘুরবে।
বলা হয় সকালে এক জায়গায় উঠত,
সন্ধ্যায় আবার সেই জায়গায় ফিরে আসত।
এটাই ছিল অবাধ্যতার শাস্তি।
মুসা (আ.)-এর জীবন শেষ হয়ে গেল,
এরপর নতুন যুগ শুরু হলো।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dublin