Be SMART
01/03/2024
হযরত ইব্রাহীম (আ) ও বিভিন্ন জাতির রোযা:
নূহ (আ)-এর পর নামকরা নবী ছিলেন ইবরাহীম (আ)। তাঁর যুগে ক'টা রোযা ছিল তার কোন বর্ণনা আমরা পাইনি। ইব্রাহীম (আ) এর যুগে ৩০টি সিয়াম ছিল বলে কেউ কেউ লিখেছেন, কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ দেননি। সে জন্য আমরা ঐসব লেখকদের উপরে আস্থা রাখতে পারিনি। ইব্রাহীম (আ)-এর কিছু পরের যুগ বৈদিক যুগ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, বেদের অনুসারী ভারতের হিন্দুদের মধ্যেও ব্রত অর্থাৎ উপবাস ছিল। প্রত্যেক হিন্দী মাসের ১১ তারিখে ব্রাহ্মণদের ওপর 'একাদশীর' উপবাস রয়েছে। এ হিসেবে তাদের উপবাস ২৪টি হয়। কোনো কোনো ব্রাহ্মণ কার্তিক মাসে প্রত্যেক সোমবারে উপবাস করেন। কখনো কখনো হিন্দু যোগীরা ৪০ দিন পানাহার ছেড়ে চল্লিশে ব্রত পালন করেন। হিন্দুদের মত জৈনরাও উপবাস রাখেন। তাদের মতে সুদীর্ঘ ৪০ দিন ধরে একটি করে উপবাস হয়। গুজরাট ও দাক্ষিণাত্যের জৈনরা কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি বছরে একটি করে উপবাস রাখেন। প্রাচীন মিসরীয়রাও উপবাস করতো। গ্রীস দেশে কেবল মেয়েরা থিমসোফিয়ার ৩রা তারিখে উপবাস করতো। ফার্সীদের ধর্মগ্রন্থের একটি শ্লোক দ্বারা বোঝা যায় যে, তাদের ধর্মেও উপবাস ছিল। বিশেষ করে তাদের ধর্মগুরুদের জন্য পাঁচ সালা উপবাস আবশ্যক ছিল।
(ইনসাইক্লোপেডিয়া অফ ব্রিটানিকা ১০ম খন্ড ১৯৩ পৃষ্ঠা, সীরাতুন নাবী ৫ম খণ্ড ২৮৬ পৃষ্ঠা)
ইব্রাহীম (আ)-এর পর কিতাবধারী প্রসিদ্ধ নবী মুসা(আ) তাঁর যুগেও সিয়াম ছিল। আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীমন মদীনায় (হিজরত করে) এসে ইয়াহুদীদেরকে আশুরার দিনে (মুহাররম চাঁদের ১০ তারিখ) রোযা অবস্থায় পেলেন। তাই তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আজকে তোমরা কিসের রোযা করছো? তারা বলল, এটা সেই মহান দিন যেদিনে মহান আল্লাহ মুসা (আ)-ও তাঁর কওমকে যুক্ত করেছিলেন এবং ফিরআউন ও তার জাতিকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। ফলে শুকরিয়াস্বরূপ মূসা (আ) ঐদিনে রোযা রেখেছিলেন। তাই আমরা আজকে ঐ রোযা করছি। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১৮০ পৃষ্ঠা)
ব্যাবিলনে বন্দী যুগে শোক ও মাতম প্রকাশের জন্য ইয়াহুদীরা রোযা রাখতো। কেউ বিপদের সম্ভাবনা থাকলে কিংবা কোনো গণকের ইলহাম ও নবুওয়াত প্রাপ্তিয় প্রস্তুতিকল্পেও রোযা রাখতো। যখন তারা মনে করত যে, আল্লাহ তাদের প্রতি নারায হয়ে গেছেন তখন ও তারা রোযা রাখতো। দেশের প্রতি যখন কোন মহামারী ও বিপদ আসতো কিংবা দুর্ভিক্ষ দেখা দিত অথবা বাদশাহ কোন বড় অভিযানে বের হতেন তখনও রোযা রাখতো। এ সব সিয়ামের সংখ্যা ছিল পঁচিশ। বছরের ১লা তারিখে অনেক ইয়াহুদীদের মধ্যে রোযার প্রচলন আছে। ইয়াহুদীদের রোযা সূর্যোদয়ের সময় থেকে আরম্ভ করে রাতে প্রথম তারকা উদয় পর্যন্ত চলতো। কাফফারা বা শরয়ী জরিমানার রোযার নিয়ম অবশ্য আলাদা। যে মাসের ৯ম তারিখে ইয়াহুদীরা রোযা রাখে। এ রোযা সন্ধ্যা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। সাধারণ রোযার জন্য তাদের বিশেষ কোনো বিধি-বিধান নেই। অর্থাৎ এদিনে গোশত ও মদ পান নিষিদ্ধ। (জিউশ ইনসাইক্লোপেডিয়া দ্রষ্টব্য)।
উপরের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হল যে, মুসা (আ)-এর যুগে এবং তার আগে ও পরে ইয়াহুদীদের মধ্যে রোযার প্রচলন ছিল।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Uttara