GSDC
05/07/2026
কারা সেই সব সৌভাগ্যবান জান্নাতি মানুষ যাদের অন্তরগুলো হবে পাখির অন্তরের মতো!?
🔸এ মর্মে হাদিসটি হল নিম্নরূপ:
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَقْوَامٌ أَفْئِدَتُهُمْ مِثْلُ أَفْئِدَةِ الطَّيْرِ
"এমন কিছু মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে যাদের অন্তরগুলো পাখির অন্তরের মতো।"
[সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ৫৪/ জান্নাত, জান্নাতের নিয়ামত ও জান্নাতবাসীগণের বিবরণ, পরিচ্ছেদ:
১১. এমন কিছু মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে যাদের অন্তরগুলো পাখির অন্তরের মতো]
🔸এর ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন,
▪️১. তাদের অন্তরগুলো হবে খুব নরম। অর্থাৎ তারা কথাবার্তা ও আচার-আচরণে খুবই নম্র-ভদ্র, শান্তশিষ্ট, সহনশীল ও দয়ালু হবে। তাদের অন্তরে কোন ধরনের রুক্ষতা বা রূঢ়তা থাকবে না। অর্থাৎ তারা নিষ্ঠুর প্রকৃতির হবে না। প্রকৃতপক্ষে নিষ্ঠুর প্রকৃতির হওয়া জাহান্নামিদের আলামত।
▪️২. অথবা তাদের অন্তরগুলো হবে ভীত-ত্রস্ত। অর্থাৎ তারা আল্লাহর ভয়, জাহান্নামের শাস্তি, কবরের আজাব ইত্যাদির ব্যাপারে ভীত থাকবে। মানুষের অধিকারের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকবে। তারা হবে মানুষের সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিনয়ী এবং সত্যের প্রতি আনুগত্যশীল। আর এই সকল গুণ-বৈশিষ্ট্য জান্নাত বাসীদের আলামত। তাদের অন্তরগুলোকে পাখির অন্তরের সাথে তুলনা করা হয়েছে এজন্য যে, সকল জীবজন্তুর মধ্যে পাখিরা সবচেয়ে ভীত প্রকৃতির।
▪️৩. অথবা এর অর্থ হল, তারা আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল বা ভরসা কারী হবে যেভাবে পাখিরা আল্লাহর উপরে ভরসা করে রিজিকের সন্ধানে খুব ভোরে খালি পেটে বাসা ছেড়ে বের হয় আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে বাসায় ফিরে আসে।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি,
لو أنكم تتوكلون على الله حق توكله لرزقكم كما يرزق الطير ، تغدو خماصاً وتروح بطاناً
"যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থভাবে ভরসা রাখ, তবে তিনি তোমাদেরকে সেভাবে রিজিক দান করবেন যেভাবে পাখীদেরকে দান করে থাকেন। তারা খুব ভোরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় (বাসা থেকে) বের হয় এবং সন্ধ্যায় উদর পূর্ণ করে (বাসায়) ফিরে আসে।"
[তিরমিযী ২৩৪৪, ইবনে মাজাহ, হা/ ৪১৬৪, মুসনাদে আহমদ, হা/২০৫, ৩৭২, তিরমিযী, হাসান)]
▪️৪. অথবা উপরের সবগুলো অর্থই প্রযোজ্য।
[উৎস: আদ দুরারুস সানিয়াহ]
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
12/06/2026
🚻 পেশাব থেকে সতর্কতা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। মানুষের অনেকেই বড় বড় গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে, কিন্তু দৈনন্দিন 🚻 পেশাব থেকে সতর্কতা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। মানুষের অনেকেই বড় বড় গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের কিছু বিষয়কে তুচ্ছ মনে করে অবহেলা করে। অথচ সেই অবহেলাই আখিরাতে শাস্তির কারণ হতে পারে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলেছিলেন:
“এ দু'জনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো বড় বিষয়ের কারণে নয় (যা থেকে বাঁচা কঠিন ছিল)। তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না, আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত।” — সহীহ বুখারি ২১৬।
।
এ সম্পর্কে আরেক বর্ণনায় এসেছে:
“বেশিরভাগ কবরের আযাব পেশাব থেকে অসতর্কতার কারণে হয়ে থাকে।” — ইবনে মাজাহ, ৩৪৮।
❖ পেশাব থেকে অসতর্কতা বলতে আসলে কী বোঝায়?
পেশাব থেকে অসতর্কতা বলতে বোঝায়—
> পেশাবের ছিটা শরীর বা কাপড়ে লাগলেও গুরুত্ব না দেওয়া।
> পেশাবের পর যথাযথভাবে পরিষ্কার না হওয়া।
> ইস্তিঞ্জা না করা বা অসম্পূর্ণ রাখা।
> নাপাক অবস্থায় নামাজ আদায় করা।
> পবিত্রতার বিধানকে হালকাভাবে নেওয়া।
❖ কেন বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?
ইসলামে নামাজ কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো পবিত্রতা। যদি শরীর, কাপড় বা নামাজের স্থান নাপাক থাকে, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হয় না। তাই পেশাবের পর নিজেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, ইবাদতের জন্যও অপরিহার্য।
❖ আমাদের করণীয়
✅ পেশাব করার সময় ছিটা থেকে বাঁচার চেষ্টা করা।
✅ পেশাবের পর ভালোভাবে ইস্তিঞ্জা করা।
✅ কাপড়ে বা শরীরে নাপাকি লেগেছে কিনা খেয়াল রাখা।
✅ সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই তাহারাতের শিক্ষা দেওয়া।
✅ পবিত্রতার বিধানকে গুরুত্ব সহকারে পালন করা।
❖ শিক্ষা
আমরা অনেক সময় মনে করি বড় গুনাহই কেবল আযাবের কারণ। কিন্তু এই হাদিস আমাদের শেখায়, দৈনন্দিন জীবনের ছোট মনে হওয়া অবহেলাও আখিরাতে ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে। তাই একজন মুমিনের উচিত সর্বদা পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার ব্যাপারে সচেতন থাকা।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা অর্জন করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
সংগৃহীত পোস্ট ।
29/11/2025
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের ক্ষেত্রে ইমাম আওযাঈ’র দৃঢ়তা
আবদুল্লাহ ইবন আলি আল-‘আব্বাস—যিনি ছিলেন আস-সাফফাহ’র চাচা—যখন তাঁর সেই বড় অপরাধটি করলেন অর্থাৎ যাব নদীর তীরে অনুষ্ঠিত যুদ্ধে (১৩২ হিঃ) বিজয়ের পর বিপুল সংখ্যক উমাইয়াদের হত্যা করলেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু উমাইয়াদের রাষ্ট্র তার হাতেই বিলুপ্ত করলেন—
তখন তিনি তার এসব অপরাধের হালাল ঘোষণা করিয়ে নেওয়ার জন্য কাউকে খুঁজতে লাগলেন। সামনে পেলেন কেবল শামের ফকীহ ইমাম আল-আউযায়ী (রহ.)-কে। তাই তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন।
– ইমাম যখন ঢুকলেন, দেখলেন যে আস-সাফ্ফাহ’র চাচা সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসে আছেন, আর তার চারপাশে চার সারি সৈন্য—
এক সারিতে তরবারি-ধারীরা,
এক সারিতে কুঠারধারীরা,
এক সারিতে লোহার দণ্ডধারীরা,
আরেক সারিতে হাতুড়িধারীরা।
তারপর আবদুল্লাহ ইবন আলি তখন ইমাম আওযাঈর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল: “উমাইয়াদের রক্ত সম্পর্কে তোমার কী মত?!”
– ইমাম আল-আউযায়ী রহিমাহুল্লাহ সে দৃশ্য বর্ণনা করে নিজেই বলেন:
আমি তাঁর কাছে ঢুকলাম, দেখলাম তিনি এক সিংহাসনে বসে আছেন, হাতে একটি বাঁশের শক্ত লাঠি (খিজরান)। আর তাঁর ডান-বাম দিকে কালো পোশাকধারীরা—তাদের হাতে উন্মুক্ত তরবারি, আর লোহার দণ্ড।
আমি সালাম দিলাম, তিনি কোনো জবাব দিলেন না। তিনি তাঁর হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে মাটিতে খোঁচা দিতে লাগলেন, তারপর বললেন:
“হে আউযায়ী!
এই অত্যাচারীদের (উমাইয়াদের) হাত জনগণ ও দেশের ওপর থেকে সরিয়ে দেওয়া—এটা কি জিহাদ ও রিবাত হিসেবে গণ্য হবে?”
আমি বললাম: হে আমীর!
আমি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আত-তাইমীকে বলতে শুনেছেন, তিনি আলকামাহ ইবন ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছেন, তিনি উমর ইবন খত্তাবকে বলতে শুনেছেন—
তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি:
“নিশ্চয়ই আমলগুলো নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষের জন্য রয়েছে সে-ই, যা সে নিয়ত করেছে। যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে—তার হিজরত আল্লাহ ও রাসূলের জন্যই। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য—তার হিজরত সে-ই যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।”
এরপর তিনি (আবদুল্লাহ) বাঁশ দিয়ে আগের চেয়ে আরও জোরে মাটিতে খোঁচা দিতে লাগলেন, আর তাঁর চারপাশের লোকেরা তাঁদের তরবারির হাতলে আরও জোরে চেপে ধরল।
তারপর তিনি বললেন: “হে আউযায়ী!
উমাইয়াদের রক্ত সম্পর্কে তুমি কী বলো?”
আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“এক মুসলিমের রক্ত অপর মুসলিমের জন্য হালাল নয়, তিনটির একটির বাইরে: প্রাণের বদলে প্রাণ; বিবাহিত ব্যভিচারী; এবং দীন ত্যাগকারী যে জামা‘আত থেকে পৃথক হয়ে যায়।”
তিনি আরও জোরে মাটিতে খোঁচা দিলেন, তারপর বললেন:
“তাহলে তাদের সম্পদের ব্যাপারে কী বলো?!”
আমি বললাম:
“যদি ঐ সম্পদ তাদের হাতে হারাম ছিল—তা আপনার জন্যও হারাম। আর যদি তা তাদের জন্য হালাল ছিল—তাহলে আপনার জন্য তাও কেবল শরয়ী পথে হালাল হবে।”
তিনি আগের চেয়েও কঠিনভাবে খোঁচা দিতে লাগলেন, তারপর বললেন:
“আমরা কি তোমাকে কাজী হিসেবে নিযুক্ত করব?”
আমি বললাম:
“আপনার পুর্বসূরিরা এ বিষয়ে আমাকে কষ্ট দিতেন না; আর আমি চাই তাঁরা যেভাবে আমার প্রতি ইহসান করতে শুরু করেছিলেন—তা যেন সম্পন্ন হয়।”
তিনি বললেন: “মনে হচ্ছে, তুমি ফিরে যেতে চাও?”
আমি বললাম:
“আমার পেছনে পরিবার-পরিজন আছে। তাঁদের দেখাশোনার প্রয়োজন আছে এবং তারা আমার কারণে উদ্বিগ্ন।”
আউযায়ী বলেন:
আমি আমার মাথা ঝরে পড়ার অপেক্ষা করছিলাম।
কিন্তু তিনি আমাকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
উৎস: ইবন কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
লিখেছেন প্রিয় শাইখ ডঃ আবু বকর মোহাম্মাদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the school
Telephone
Website
Address
Darani Para, Gajesshary, Khaliajani, Mirzapur
Tangail
1940
Opening Hours
| Monday | 08:00 - 22:00 |
| Tuesday | 08:00 - 22:00 |
| Wednesday | 08:00 - 22:00 |
| Thursday | 08:00 - 22:00 |
| Friday | 17:15 - 22:00 |
| Saturday | 08:00 - 22:00 |
| Sunday | 08:00 - 22:00 |