Explore With Ripon

Explore With Ripon

Share

Photos from Explore With Ripon's post 09/10/2025

সাতক্ষীরার একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা তেতুলিয়া শাহী মসজিদ। এটি খান বাহাদুর সালামাতুল্লাহ মসজিদ নামেও পরিচিত।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে এই মসজিদটি অবস্থিত। তেতুলিয়ার জমিদার পরিবারের বংশধর খান বাহাদুর মৌলভী কাজী সালামাতুল্লাহ খান এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একইসাথে “সালাম মঞ্জিল” নামের এক জমিদার প্রাসাদও নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত।

১৮৫৮–৫৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি মুঘল স্থাপত্যের অনুকরণে গড়ে তোলা হয়। এর নকশা ও শৈলীতে টিপু সুলতানের বংশধরদের আমলে নির্মিত স্থাপনাগুলোর সঙ্গে মিল লক্ষ্য করা যায়।

খান বাহাদুর সালামাতুল্লাহ খান উত্তরাধিকারসূত্রে তাঁর পিতা মৌলভী কাজী সানা’আতুল্লাহ খানের কাছ থেকে জমিদারি লাভ করেন। তিনি কাজী আমানাতুল্লাহ খানের পুত্র ছিলেন। তাঁদের পূর্বপুরুষ বাকুল্লাহ খান ছিলেন মুঘল সনদপ্রাপ্ত “কাজী-আল-কুজত” (প্রধান বিচারক) উপাধিধারী।

সালামাতুল্লাহ খানের উত্তরসূরি ছিলেন তাঁর পুত্র মৌলভী কাজী হামিদুল্লাহ খান, এবং পরবর্তী প্রজন্মে তাঁর নাতি মৌলভী কাজী মুহাম্মদ মিন্নাতুল্লাহ খান, যিনি তেতুলিয়ার কাজী পরিবারের এক সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

মিন্নাতুল্লাহ খানের দুই পুত্র — খান সাহিব কাজী রিজোয়ানুল্লাহ খান ও কাজী মুহাম্মদ শফীউল্লাহ খান — তাঁদের সময় থেকেই তেতুলিয়ার বিখ্যাত কাজী পরিবারের ঐশ্বর্য ক্রমে হ্রাস পেতে শুরু করে। বর্তমানে এই দুই বংশধরের কবর তেতুলিয়া জামে মসজিদের প্রাঙ্গণেই অবস্থিত, যা এই ঐতিহাসিক পরিবারের স্মৃতি ধারণ করে আছে।

ছবি ও লেখা © Ripon Ghosh

Photos from Explore With Ripon's post 06/10/2025

আমাদের এবারের ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল সুন্দরবন সফর। একদিনের এই ট্যুরে আমরা ঘুরে এসেছি সুন্দরবনের করমজল ইকো ট্যুরিজম সেন্টার থেকে।

বাগেরহাটের মোংলা থেকে করমজল পৌঁছানো বেশ সহজ। তবে প্রশাসনিকভাবে করমজল পড়েছে খুলনা জেলায়। মোংলা ফেরিঘাট থেকে নদীপথে করমজলের দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার।

মোংলা সমুদ্রবন্দরকে এক পাশে রেখে যখন নৌকা পশুর নদী ধরে এগোতে থাকে, তখনই ধীরে ধীরে চোখে পড়ে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন — সুন্দরবন।

করমজলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে হেঁটে ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে সুন্দর ওয়াকিং ট্রেইল, যা ভ্রমণকারীদের নিয়ে যায় বনের গভীরে, প্রকৃতির আরও কাছে।

তবে সত্যি বলতে, একদিনের এই সফরে মন পুরোপুরি ভরেনি। তাই শীঘ্রই সুন্দরবনে ফিরব ক্রুজ শিপে করে তিন দিনের পূর্ণাঙ্গ ট্যুরে — যাতে সুন্দরবনের প্রকৃত রূপটিকে আরও নিবিড়ভাবে দেখা যায়, অনুভব করা যায়।

আমাদের এবারের সুন্দরবন ভ্রমণের ভিডিও আসছে শীঘ্রই।

04/10/2025

খুলনায় একটা জিনিস আমাকে সত্যি অবাক করেছে — নিউ মার্কেটের কোন আইসক্রিম! ভাবতে পারেন, মাত্র ৩০ টাকায় যত খুশি ফ্লেভার — ভ্যানিলা, চকলেট, স্ট্রবেরি, এমনকি মিক্স করেও নিতে পারেন নিজের পছন্দমতো!

আর সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়? আইসক্রিম শেষ হয়ে গেলে তারা ফ্রি রিফিল দেয় — একদম হাসিমুখে!

মনে মনে ভাবলাম, যদি কখনও সুযোগ পাই, সিলেটে বসাবো এমন একটা আইসক্রিম মেশিন।

Photos from Explore With Ripon's post 04/10/2025

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রবাজপুর গ্রামে পৌঁছালে চোখে পড়ে প্রবাজপুর শাহী জামে মসজিদ।
মুঘল স্থাপত্যের সেই গম্ভীর সৌন্দর্য আজও দাঁড়িয়ে আছে সময়ের সাক্ষী হয়ে। কালিগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে এই মসজিদের অবস্থান।

কথিত আছে, ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেবের আদেশে নির্মিত হয়েছিল এই মসজিদ। স্থানীয়দের মধ্যে এমনও কথা প্রচলিত আছে— জিনেরাই নাকি একরাতে তৈরি করেছিল এই অপূর্ব স্থাপনা!

তবে ঐতিহাসিক তথ্য বলে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের ফৌজদার নবাব নুরুল্লাহ খাঁ মসজিদের জন্য ৫০ বিঘা জমি দান করেছিলেন, আর নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন সুবেদার পরবাজ খাঁ। তাঁর নামেই গ্রামের নাম হয় প্রবাজপুর।

এক গম্বুজ, মোটা দেয়াল, তিনটি শৈল্পিক মেহরাব— প্রতিটি অংশেই মুঘল কারুকাজের ছাপ। একসময় ছিল ১০টি দরজা আর ৬ ফুট প্রশস্ত বারান্দা, যা এখন নেই।

১৯৬৫ সালে আলহাজ সোহরাব আলী নামের স্থানীয় একজন ব্যক্তি মসজিদটি সংস্কার করেন।

03/10/2025

খুলনার বিএল কলেজ ক্যাম্পাসে মন্দির!

03/10/2025

টানা সাত দিনের ভ্রমণ শেষে আজ সকালে বাড়ি ফিরেছি। এবারের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা যশোর দিয়ে। এরপর একে একে ঘুরেছি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট এবং সবশেষে নড়াইল।

এর আগে আমি ভ্রমণ করেছি দেশের ১৯টি জেলা। এবারের সফরে আমরা গিয়েছিলাম আরও ৫টি জেলায়—যার মধ্যে যশোরে আগেই যাওয়া হয়েছিল। তাই নতুন দেখা জেলার সংখ্যা দাঁড়ালো ৪টি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আমার ভ্রমণ তালিকায় যুক্ত হলো ২৩টি জেলা।

Mission 64 সিরিজের আগের ভ্রমণের মতো এবারের সফরও ছিল ভীষণ আনন্দময় ও কৌতূহল জাগানো। এই ক’দিন শুধু দর্শনীয় স্থানই নয়, পথের মানুষের সাথেও মিশেছি; পেয়েছি অগণিত মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা।

যে সব জায়গার কথা এতদিন বইয়ের পাতায় পড়েছি, এবার সেগুলোকে সরাসরি চোখে দেখার সৌভাগ্য হলো। বিশেষ আনন্দের বিষয়, এই সফরেই প্রথমবার ব্যবহার করেছি DJI Osmo Action 5 Pro একশন ক্যামেরা। পুরো ভ্রমণ জুড়ে ধারণ করেছি প্রায় ৪০০ গিগাবাইটের 4K ভিডিও ফুটেজ।

খুব শিগগিরই এই ভ্রমণের গল্প—ছবি ও ভিডিওসহ—ধাপে ধাপে প্রকাশ করবো আমার ফেসবুক প্রোফাইল, পেজ Explore With Ripon এবং ইউটিউব চ্যানেলে।

Photos from Explore With Ripon's post 03/10/2025

খুলনায় এসে যদি চুকনগরের আব্বাস হোটেলে না যান, তবে ভ্রমণটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ খুলনার নাম উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে একটাই নাম— চুইঝালের খাসির মাংস।

চুইঝাল শুধু ঝাল নয়, এটা একরকম আবেগ। ধোঁয়া ওঠা ভাত, সাথে টগবগে ঝাল খাসির মাংস— প্রথমবার একটুখানি মুখে দিলেই বোঝা যায় কেন এত মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে আব্বাস হোটেলে।

আব্বাস হোটেলের শুরুটা ১৯৫০ সালে। গোলপাতার ছাউনির ছোট্ট ঘরে বসানো কিছু বেঞ্চি, আর মেন্যুতে মাত্র দুই পদ— ভাত আর চুইঝালের খাসির মাংস। দাম ছিল প্লেটপ্রতি ১ টাকা। আজও সেই রান্নাই মানুষকে টেনে আনে। বর্তমানে প্রতি পিসের দাম ২৩০ টাকা।

চুইঝাল আসলে লতা জাতীয় গাছ। দেখতে সাধারণ হলেও এর গুণাগুণ অসাধারণ। কাণ্ড থেকে শিকড় পর্যন্ত ভরপুর ঔষধি গুণে। ঝালটা ভিন্নধরনের— মরিচের মতো তীব্র ঝাল নেই, বরং আছে এক অনন্য স্বাদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে এসে এই চুইঝালের স্বাদ পেয়েছিলেন।

আব্বাস হোটেলে ভিড় লেগে থাকে রাতদিন। বসার জায়গা পাওয়া দায়, তবু মানুষের উচ্ছ্বাস কমে না। কারণ একবার যে এই মাংসের স্বাদ নিয়েছে, সে জানে— খুলনা মানেই আব্বাস হোটেল।

01/10/2025

আমার পেছনে যে ভবনটি দেখতে পাচ্ছেন সেটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শশুরবাড়ি। এটি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে অবস্থিত।

রবি ঠাকুরের শশুরবাড়ি দেখে আজ সন্ধ্যায় এসে পৌছেছি এসএম সুলতান ও মাশরাফির শহর নড়াইলে। নড়াইল আমার ভ্রমণ সম্পন্ন ২৩তম জেলা। আগামীকাল বিকেলে নড়াইল থেকে ঢাকা হয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবো।

গত কয়েকদিন টানা জার্নিতে আছি। এই ক'দিনে অনেক গল্প জমেছে। বাড়ি ফিরে একেক করে সব গল্প আপনাদের শুনাবো।

Photos from Explore With Ripon's post 30/09/2025

মোংলা থেকে পশুর নদী দিয়ে সুন্দরবনের পথে রওয়ানা দিলাম! শৈশব থেকে লালিত আরেকটি স্বপ্নপূরণ!

Photos from Explore With Ripon's post 29/09/2025

কপোতাক্ষ! যার ঢেউয়ের সঙ্গে মধুসূদনের কাব্যিক প্রেম মিশে আছে। সময়ের স্রোত আর মানুষের অবহেলায় আজ সে সৌন্দর্য অনেকটাই মলিন।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের পৈত্রিক ভিটার পাশ ঘেঁষে এখনও নীরবে বয়ে চলেছে এই কপোতাক্ষ নদ।

Photos from Explore With Ripon's post 29/09/2025

মধুদার কাছে আক্ষেপ করে বললাম— “তোমার মতো দুঃসাহসী, চঞ্চল আর ক্ষ্যাপাটে হতে পারিনি বলেই জীবনে আজও তেমন কিছু করা হলো না।”

সাগরদাঁড়ি, কেশবপুর, যশোর।

Photos from Explore With Ripon's post 29/09/2025

মহাসপ্তমীর সকালে মাইকেল মধুসুদন দত্তের পৈত্রিক বাড়ির কয়েক শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপূজাতে।

Want your business to be the top-listed Media Company in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Sylhet
3100