Azad Miah
ইসরায়েলঃ মধ্যপ্রাচ্যের রক্তপিপাসু আগ্রাসনের নাম। বিস্তারিত কমেন্টে
06/07/2025
বিচ্ছেদের শহর
আগুন ঝরা এক বিকেল
আকাশটা রক্তরঙা হয়ে উঠেছিল সেদিন।
পশ্চিম দিক থেকে ঢুকে পড়া একটা যুদ্ধবিমান সূর্যকে ছায়ায় ঢেকে দিয়েছিল, যেন আলোটুকুও গিলে খেতে চায়।
বাড়ির উঠোনে পাথরের উপর বসে ছিল আয়াদ—রাহিমার সাত বছরের একমাত্র ছেলে।
এক হাতে একটা মলিন পুতুল, অন্য হাতে ছোট্ট একটা কুরআনের পৃষ্ঠা।
চোখে স্বপ্ন, কণ্ঠে মেলোডি—
“আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন…”
রাহিমা রান্নাঘর থেকে তাকিয়ে দেখছিল ছেলেটাকে।
তার হৃদয়ের ভিতর একটা অদ্ভুত ভয় হঠাৎ করেই চেপে বসেছিল—
যেন আজ আকাশ শুধু আগুন নয়, অশ্রুও নামাবে।
মায়ের দৃষ্টি, সন্তানের কথা
“আয়াদ…”
“জ্বি মা?”
“তুই আজ কি আয়াত মুখস্থ করলি?”
ছেলেটা হাসে। চোখ দুটি চকচকে।
“মা, আমি আজ ‘সূরা তাকাসুর’ মুখস্থ করেছি। তুমি জানো মা, যে কিয়ামতের দিন আমাদের কবর থেকে তুলে প্রশ্ন করা হবে—নিয়ামতগুলোর হিসাব দিতে হবে।”
রাহিমা তার বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথা টের পায়।
সে ধীরে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে।
“আল্লাহ তোকে জান্নাত দিক, আমার আয়াদ।”
ছেলেটা বলে—
“আমি শহীদ হব মা। আমি আব্বুর কাছে যাব। ওখানে আমার জন্য খেজুর থাকবে, নদী থাকবে, খেলাধুলা থাকবে।”
রাহিমার গলা কেঁপে ওঠে, কিন্তু সে কাঁদে না।
সে জানে, গাজায় কাঁদা মানে দুর্বলতা, আর একজন মা দুর্বল হতে পারে না।
সেই রাতের নৈঃশব্দ্য
রাত নেমেছে।
বাইরে একটা ভেঙে যাওয়া মসজিদ থেকে ভেসে আসে এক অসম্পূর্ণ আযান।
তারপরে—একটি বিষাদময় নীরবতা।
হঠাৎ করে সেই নীরবতা ছিঁড়ে গেল।
“ভু–উ–উম!!!”
একটা বিস্ফোরণ, তারপর ধ্বংসের গর্জন।
বাড়ি কেঁপে ওঠে।
কোথাও কিছু নেই, শুধু ধুলোর রাজত্ব।
একটি দেয়ালের নিচে রাহিমা অর্ধমৃত।
তার ঠোঁট ফাটছে, রক্তে ভেজা, কিন্তু সে শুধু বলছে—
“আয়াদ... আয়াদ... আয়াদ কোথায়?”
কেউ উত্তর দেয় না।
একটি পুতুল, একটি আয়াত
তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপে কাজ করছিল এক উদ্ধারকারী।
হঠাৎ সে থেমে গেল।
ধুলোয় ছাওয়া এক পুতুল।
তার পাশে—একটি ছিন্নভিন্ন, রক্তমাখা কুরআনের পৃষ্ঠা।
পৃষ্ঠার একপাশে লেখা ছিল—
“ثم لتسألن يومئذ عن النعيم”
(“সেদিন তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে সকল নিয়ামতের সম্পর্কে…”)
বিচ্ছেদের শহর
রাহিমা এখন কথা খুব কম বলে।
সে প্রতিদিন ভোরে সেই জায়গাটায় যায়, যেখানে তার ঘর ছিল।
একটি খোলা জায়গায় একটি ছোট্ট পাথরের টুকরো পুঁতে রেখেছে, সেখানে চুন দিয়ে লিখেছে—
“আয়াদ ইবনে রাহিমা – জান্নাতের অতিথি”
সেদিন এক সাংবাদিক আসে।
প্রশ্ন করে,
“আপনার অনুভূতি কী, ছেলে হারিয়ে?”
রাহিমা চেয়ে থাকে, অনেকক্ষণ।
তার ঠোঁট কাঁপে।
সে ফিসফিস করে বলে—
“তুমি বুঝবে না।
তোমাদের শহরে কেউ মরলে দাফন হয়।
আমাদের শহরে বাঁচার চেষ্টায় সবাই কবর হয়ে যায়…”
শোকের নীরবতা
এক সন্ধ্যায়, এক শিশুর গলায় ভেসে আসে:
“আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন…”
রাহিমা কেঁপে ওঠে।
সে ছুটে যায়—কিন্তু আয়াদ নয়, অন্য একটি শিশু।
শিশুটির চোখে ভয়। মুখে ধুলো।
রাহিমা তাকে কোলে তুলে নেয়।
ধুলো মুছে দেয়।
বলতে চায়—“তুই আয়াদ না”—
কিন্তু বলে না।
সে কেবল বলে—
“আজ থেকে আমি তোর মা। আয়াদ হারিয়ে গেছে।
তুই যেন আর কখনও হারিয়ে না যাস।”
গাজার মাটিতে প্রতিদিনই জন্ম নেয় একটি নতুন কবর।
তবে কিছু কবর মাটির নিচে নয়—
কোনো মায়ের বুকে চিরস্থায়ী হয়ে যায়।
এই শহর যুদ্ধের নয়, এই শহর প্রেমের,
এই শহর স্মৃতির,
এই শহর…
"বিচ্ছেদের শহর।"
"যে শহরে কাঁদতে নেই, সেখানে কান্না জমে ওঠে বাতাসে। আর যে মায়ের সন্তান শহীদ হয়, সে মা আর কখনো সম্পূর্ণ থাকে না।"
---
ইসরাইল কি ‘ইহুদি জঙ্গি রাষ্ট্র’ নয়? — বৈশ্বিক ভাষা রাজনীতির এক নির্মম বাস্তবতা
✍️ মোঃ আজাদ মিয়া
কার পাপ "সন্ত্রাস", কারটা "আত্মরক্ষা"?
ইসলাম ধর্মের নামে সহিংসতা ঘটলে বিশ্ব মিডিয়া এক কণ্ঠে বলে— “ইসলামি জঙ্গি হামলা”। অথচ যখন ইসরাইল হাজারো শিশু, নারী, ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে, তখন তার নাম হয়— “self-defense”।
প্রশ্ন ওঠে—
> 🔥 যখন একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র গাজায় বোমা ফেলে শিশুর হাড়গোড় চূর্ণ করে, তখন কি সেটাকে ‘ইহুদি জঙ্গি রাষ্ট্র’ বলা উচিত নয়?
---
📚 ধর্মীয় ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন, কিন্তু মুখোশ ‘গণতন্ত্র’
১৯৪৮ সালে যখন ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই এর ভিত্তি ছিল একটিই:
> “ইহুদি জনগণের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র”।
এই ঘোষণার পর থেকেই ইসরাইল নিজেকে ইহুদি জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে, যা ২০১৮ সালের “Jewish Nation-State Law” দ্বারা আরও বৈধতা পায়।
এটি একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র যেখানে ইহুদিদের ছাড়া অন্য কেউ রাষ্ট্রীয় নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার পায় না।
সেখানে আরব মুসলিমরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক, যাদের জমি দখল, বসতি উচ্ছেদ, এবং নাগরিক অধিকার হরণ বৈধভাবে চলছে।
👉 অথচ এই ধর্মভিত্তিক বর্ণবাদী রাষ্ট্রকেও পশ্চিমা মিডিয়া ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ বলে পরিচিত করে।
---
📰 মিডিয়া ভাষা: একের খুনি "জিহাদি", অন্যের খুনি "সোলজার"
বিশ্ব মিডিয়ার সিংহভাগ এখনো পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় করপোরেটদের মালিকানায়। তাই ভাষার মাধ্যমে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রোপাগান্ডা তৈরি হয়—
ঘটনা মুসলমান করলে ইহুদি করলে
আত্মঘাতী হামলা Islamist terrorist Radical individual
শিশু হত্যা Jihadist Massacre Security Operation
ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রীয় দমন Sharia Dictatorship Jewish Homeland
প্রতিরোধ Terrorism Self-defense
👉 অর্থাৎ ভাষা ব্যবহারের মধ্যেই এক ভয়ংকর বৈষম্য ও পক্ষপাত কাজ করছে, যা জঙ্গিবাদকে ইসলামি বলে চিহ্নিত করে, কিন্তু ইহুদি সন্ত্রাসবাদকে ধামাচাপা দেয়।
---
💣 ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়: ইসরাইলই মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সহিংস রাষ্ট্র
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এবং চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা গত ৭০ বছর ধরে যা করেছে, তা একে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ বলার জন্য যথেষ্ট:
দেইর ইয়াসিন গণহত্যা (১৯৪৮)
সাবরা ও শাতিলা (১৯৮২): ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর বর্বর গণহত্যা
গাজায় প্রতি বছরকার বোমাবর্ষণ
২০২3-2025 পর্যন্ত গাজায় হাজার হাজার শিশু হত্যা
👉 এমনকি যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ইসরাইল ফিলিস্তিনে হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ বোমা মেরে ধ্বংস করেছে — যেটা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যুদ্ধাপরাধ।
তবুও কেউ বলে না:
> “Jewish Terrorist State”, বরং বলে:
“ইসরাইল তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।”
---
🕵️ কে এদের পৃষ্ঠপোষক?
ইসরাইল প্রতি বছর ৩৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
জাতিসংঘে যখনই ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব আসে, যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়।
পশ্চিমা মিডিয়া বরাবরই ফিলিস্তিনের প্রতিরোধকে সন্ত্রাস বলে তুলে ধরে, কিন্তু ইসরাইলের বর্বরতাকে প্রতিরক্ষা কৌশল বলে বৈধতা দেয়।
👉 এটি স্রেফ রাজনৈতিক কূটচাল নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক দখলদার-সমর্থিত ফ্যাসিস্ট কাঠামো।
---
🤔 তাহলে প্রশ্ন— ইসরাইলকে কেন ‘ইহুদি জঙ্গি রাষ্ট্র’ বলা হয় না?
উত্তরঃ
কারণ ইহুদি রাষ্ট্রবাদ (Zionism) আজ বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে সুরক্ষিত মতবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর সমালোচনা মানেই Anti-Semitism (ইহুদি বিদ্বেষ) বলে বদনাম দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়।
অথচ বাস্তবতা হলো: সমালোচনা হচ্ছে ইসরাইলি রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের, ধর্ম নয়।
ভয়াবহ দ্বিচারিতা ও ধর্মীয় পক্ষপাতের চরমতম উদাহরণ
আজ মুসলিম বিশ্বকে যারা “ইসলামি জঙ্গি” বলে চিত্রিত করছে, তারাই সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জঙ্গিবাদ চালাচ্ছে ফিলিস্তিনে।
> ইসরাইল আসলে একটি ধর্মীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র, যার প্রতিটি নীতি ও কর্মকাণ্ড জঙ্গিবাদের সংজ্ঞার সঙ্গে মিলে যায়।
📌 তাই প্রশ্ন করাই এখন ইতিহাসের দাবি:
> 🔥 “একটি মুসলিম রাষ্ট্র শিশু হত্যা করলে যদি তা ‘ইসলামি জঙ্গি রাষ্ট্র’ হয়, তবে ইসরাইলের মতো রাষ্ট্র কি ‘ইহুদি জঙ্গি রাষ্ট্র’ নয়?”
---
✒️ লেখক পরিচিতি: মোঃ আজাদ মিয়া একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মতামতধর্মী কলাম লেখক। তিনি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং ইসলামিক বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব নিয়ে নিয়মিত লিখে থাকেন।
📌 AI টুলসের রাজ্য! এখন সময় কাজে লাগানোর!
আপনি যদি পড়ালেখা, ডিজাইন, ভিডিও এডিট, মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং কিংবা শুধু সময় বাঁচাতে চান – তাহলে এই ৩৮টি AI টুল আপনার জন্য 🔥
🔎 জেনে নিন কোন টুল কী কাজে লাগবে:
✅ লেখা ও চ্যাটিং
1. ChatGPT – প্রশ্নের উত্তর বা লেখা তৈরি করে
2. Quillbot – রি-রাইট ও প্যারাফ্রেজ
3. Grammarly – ইংরেজি লেখার ভুল ঠিক করে
4. Notion AI – নোট নেয়া, টাস্ক লেখা
5. Jasper AI / Copy.ai / Writesonic – কনটেন্ট ও মার্কেটিং লেখা
6. Replika – AI ভার্চুয়াল বন্ধু
7. ChatPDF – PDF থেকে তথ্য খুঁজে দেয়
🖼️ ডিজাইন ও ছবি এডিটিং 8. Canva AI – ডিজাইন তৈরি
9. Leonardo AI – কল্পনার ছবি আঁকে
10. Midjourney – প্রম্পট থেকে ছবি
11. AutoDraw – হ্যান্ড ড্রইংকে পারফেক্ট বানায়
12. Magic Eraser / Cleanup.pictures – ছবি থেকে অবাঞ্চিত বস্তু মুছে
13. Remove.bg – ব্যাকগ্রাউন্ড সরায়
14. Designs.ai – সব ধরনের ডিজাইন
🎞️ ভিডিও ও অ্যানিমেশন 15. Pictory / Lumen5 – লেখাকে ভিডিও করে
16. Kaiber / Runway ML – অ্যানিমেশন ও এডিট
17. Descript – ভিডিও এডিট টেক্সট দিয়ে
18. Heygen / Synthesia – AI মুখ ও ভয়েসে ভিডিও বানায়
19. Papercup – ভিডিওতে অন্য ভাষায় ভয়েস
20. SlidesAI / Tome – লেখা থেকে প্রেজেন্টেশন
🎧 ভয়েস ও মিউজিক 21. ElevenLabs / TTSMaker – লেখাকে স্পিচে রূপান্তর
22. Play.ht – ব্লগকে ভয়েস বানায়
23. Voicemod – ভয়েস ইফেক্ট
24. Krisp – কলের ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কাটে
25. Soundraw / Beatoven – AI মিউজিক তৈরি
🌐 ওয়েব ও লোগো টুলস 26. Durable – কয়েক সেকেন্ডে ওয়েবসাইট
27. Looka – লোগো ও ব্র্যান্ড ডিজাইন
28. TinyWow – ফ্রি ডকুমেন্ট/ভিডিও টুল
🎮 গল্প ও মজা 29. AI Dungeon – ইন্টার্যাকটিভ গল্প বানায়
---
📢 এই টুলগুলো ব্যবহার করে আপনার কাজ ১০ গুণ সহজ হবে!
✅ শিক্ষার্থী, ✅ ফ্রিল্যান্সার, ✅ ডিজাইনার, ✅ ইউটিউবার, ✅ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর – সবার জন্য দরকারি!
🔁 শেয়ার করে রাখুন, কাজে লাগবেই!
(তথ্য: সংগৃহীত)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Sylhet
3123