Mufti Anwar Hussain R. Foundation

Mufti Anwar Hussain R. Foundation

Share

06/03/2026

আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ আগে মাগরিবের নামাযের পর আমাদের ঘরে তাশরীফ আনেন আমার আত্মার আত্মীয়, হযরত মাওলানা মুফতী আনওয়ার হুসাইন আনহার সাহেব রাহিমাহুল্লাহ। তিনি আম্মাকে পরামর্শ দিলেন আমাকে উপশহরের একটি মানসম্পন্ন মাদরাসায় ভর্তি করানোর জন্য, যেখানে তিনি নিজে শিক্ষকতা করতেন। তৎকালীন নাম ছিল শাহজালাল ক্যাডেট মাদরাসা। আমি তখন ছোট, তাই আম্মা একটু চিন্তিত ছিলেন, আবার আশান্বিতও যে একটি ভরসায় আমাকে সেই মাদরাসায় পড়াতে পারবেন।

কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে আমি ভর্তি হয়ে গেলাম। আমি আম্মাকে ছাড়া কোথাও থাকতে পারতাম না। তখন আমার বয়স সাড়ে ১২ বছরের মতো। হোস্টেলে বিশেষ সুবিধায় আনহার হুযূর ও বাদেশ্বরী হুযূরের সাথে থাকতাম। পরবর্তীতে মেসেও হুযূরের সাথে থাকা হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে হুযূরের ফোন থেকে আম্মার সাথে কথা বলতাম। কিন্তু সেখানে আমার মন বসত না। হুযূর আমাকে বুঝিয়ে বলতেন, আগলে রাখতেন। প্রায় প্রতিদিন বিকেলে আমরা একসাথে বাইরে গিয়ে নাস্তা করতাম। বিল দিতে পারতাম না… দিতে চাইলে হুযূর রাগ করতেন।

জীবনের প্রথম শবীনা খতমে যাই মুহাম্মাদ আব্দুল আহাদ হুযূর, Md Masrur Ahmed ভাই সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। সম্ভবত শিবগঞ্জে। রাতে ফেরার পর হুযূরের চোখ-মুখে কী যে খুশি।

কিছুদিন পর তখনকার ভাইস প্রিন্সিপাল Muhammad Joynul Islam স্যার ও প্রিন্সিপাল Sunnatur Rahman স্যারের সাথে কথা বলে আমি অনাবাসিক হিসেবে পড়তে শুরু করি। হুযূরের অনুপ্রেরণা তো ছিলই, আমার আম্মা ও হিফযের উস্তাযগণের সাহায্যে প্রায় ছয় মাসেই শেষ ১৬ পারা মুখস্থ হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ। শবে বরাতের একদিন বা দুইদিন আগে সবক্ব শেষ হলো। হুযূর প্রথমে আমাকে নিয়ে ফুলতলী সাহেববাড়িতে গেলেন। শবে বরাতের রাতে হোস্টেলের সবাইকে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপ্যায়ন করা হলো। প্রিন্সিপাল স্যার সেদিন আমার আব্বার কথা জেনে খুব খুশি হলেন এবং বললেন আব্বার সাথে উনার পরিচয় ছিল।

সেখানে আমার হিফযের উস্তায বাদেশ্বরী হুযূর Hafiz Anwar, জগন্নাথপুরী হুযূর Muktar Ahmad, Muhammad Abdul Ahad হুযূর সহ অন্যান্য উস্তাযদের কাছে আমি ঋণী। আল্লাহ তা'আলা আপনাদের উত্তম জাযা দান করুন।

কয়েক মাস পর হুযূরও অনাবাসিক হয়ে গেলেন। কিছুদিন আমি হুযূরের সাথে যাওয়া-আসা করলাম। কেউ ভাবতো আমরা আপন ভাই, আবার অনেকে ভাবতো আপন চাচা-ভাতিজা।

হুযূরকে নিয়ে লিখতে গেলে লেখা অনেক লম্বা হয়ে যাবে। সম্ভবত ক্যাডেট মাদরাসায় ভাইস প্রিন্সিপাল থাকা অবস্থাতেই হুযূর লালাবাজার সিনিয়র ফাদ্বিল মাদরাসায় চাকরির সুবাদে চলে যান। আমাকে বললেন, সেখানকার হিফয্ শাখায় ফিরে গিয়ে কয়েকটা দাওরা দিতে। আমার হিফযের আসাতিযও তখন লন্ডনে চলে যাচ্ছিলেন, তাই আমি আবার লালাবাজার মাদরাসায় চলে গেলাম। হিফযের হুযূররাও আমাকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি হন।

আল্লাহ তা'আলা আমার উস্তায হাফিয জহুর উদ্দীন ও হাফিয মাওলানা Nazmul Islam Hasan, আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক মাওলানা নাযরুল ইসলাম সাহেব সহ সব উস্তাযকে ভালো রাখুন, দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। জাযাহুমুল্লাহু খাইরান ফিদ-দারাঈন।

আনহার হুযূর সবসময়ই আমার পড়ালেখার ব্যাপারে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি চাইতেন আমি ভবিষ্যতে আল-আযহার বা মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। আমার আম্মাকে বাড়িতে রেখে যাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ মনে না হওয়ায় দারুননাজাতে পড়ার সুযোগও হয়নি। তবুও হুযূর সবসময়ই আমাকে নিয়ে অনেক আশা করতেন। আমার প্রথম তারাবীহ পড়ানোর ব্যবস্থা হুযূরই করেছিলেন লালাবাজার মাদরাসায় এবং পুরো মাস আমার সাথে তারাবীহ পড়েছেন। আমাকে কখনও তিলাওয়াত করতে শুনলে আড়াল থেকে তিলাওয়াত শেষ হওয়া পর্যন্ত শুনে যেতেন। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি আশিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হুযূরের প্রায় প্রত্যেকটি বক্তৃতার শুরুতে আল্লাহ'র হাবীবের শানে বলতে শুনতাম… "ব্যথার ব্যথী, দুঃখীদের সাথী" এবং নবীপ্রেমের সুবাস ছড়ানো বহু শব্দমালা, যা অন্তরে গেঁথে যেত। তাঁর সিংহভাগ সময়ই কাটত মাদরাসা ও মসজিদে। হুযূরকে আমরা সবসময় ব্যথার ব্যথী ও দুঃখীদের সাথী হিসেবেই পেয়েছি। যেই প্রতিষ্ঠানেই পড়িয়েছেন, সেখানেই সবার প্রিয় শিক্ষক হয়ে আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা অর্জন করেছেন।

দারুল ক্বিরাতে সাদিসে ভর্তি হতে গিয়ে আমি বিপাকে পড়ি। অতিরিক্ত ছাত্র হওয়ায় সবাইকে ভর্তি করা যাচ্ছিল না। হুযূর আমার অসুবিধার কথা জানতে পেরে ফুলতলীতে চলে আসেন। মুহতারাম মুহাদ্দিস Mohammad Najmul Huda Khan হুযূর ও মাওলানা আজির উদ্দীন পাশা সাহেবদের মাধ্যমে আমাকে ভর্তি করিয়ে দেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল আমি প্রথম হয়েছি। হুযূরকে জানালাম এবং অত‍্যন্ত খুশি হলেন।

আমার জন্ম হয়েছিল ১৪ই রামাদ্বান। জানতাম না হুযূরও একই দিনে চলে যাবেন। হুযূরের ইনতিক্বালের রাতে তারাবীহ'র পর Imad Uddin Talukdar ভাই কল দিয়ে বললেন Abdur Razzak Shaju বলেছেন, হুযূর নাকি নেই। আমার হাতে থাকা লাচ্ছির গ্লাস প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম। এই তো কয়েক দিন আগেও আমরা একসাথে তারাবীহ পড়লাম, কত পরিকল্পনা করলাম। আমাকে অনেক পরামর্শ দিলেন। হুযূর যে হঠাৎ এত অসুস্থ হয়ে চলে যাবেন সেটা চিন্তার বাইরে।

Nadim Ahmed ও Md. Rahim Ahmed ভাই সাথে ছিলেন। মোটরবাইক চালানোর সাহস হচ্ছিল না। রাহিম ভাই ড্রাইভ করে আমাকে হুযূরের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। মনে হচ্ছিল আকাশ থেকেও অঝোরে বৃষ্টি নামছে কান্নার মতো।

হাতেগোনা যে কয়েকজন অভিভাবক আমার জীবনে ছিলেন, আপনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। আপনার প্রিয় শিষ্যদের তালিকা করলে হয়তো আমিই প্রথমে থাকতাম। আপনি চলে যাওয়ার মাস খানেক আগেও তো আমার একটি অ্যাকাডেমিক বিষয়ে পেরেশানি করেছিলেন। আমার মোটরবাইকে চড়ে সিলেট আলিয়ায় গিয়েছিলেন। আমি তো এসব ভুলিনি, হুযূর।
আপনি কয়েকদিন বলেছিলেন… আমি লন্ডনে যাওয়ার আগে যেন আমার মোটরবাইক আপনাকে দিয়ে যাই। হয়তো মজা করেছিলেন। কিন্তু এটা আপনার কাছেই থাকত, হুযূর।

আপনাকে নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। কিছুই ঠিকঠাক লিখতে পারি না… সব এলোমেলো হয়ে যায়। কত শত স্মৃতি তাড়া করে। সব তো আর লেখা সম্ভব নয়। আপনার ইনতিক্বালে আপনার কোনো ক্ষতি হয়নি হুযূর। অনেক মানুষ তাঁর ভরসার জায়গাকে হারিয়ে ফেলেছে।

আল্লামা ফুলতলী সাহেব ক্বিবলাহ রাহিমাহুল্লাহ'র ইসালে সাওয়াব মাহফীল'র প্রথম কয়েক বছর আপনি সাথে করে নিয়ে যেতেন। ফিরে আসার পর আবার বাড়ির দিকে এগিয়ে দিতেন।
যেকোনো নাশীদ প্রতিযোগিতায় আমাকে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ দিতেন। দারুল ক্বিরাতের শেষ দিনে বিশেষ পুরস্কার দিতেন। যেন ভুল মানুষের সঙ্গী না হই, ভুল পথে পা না বাড়াই এজন্য প্রায়ই সচেতন করতেন।

আপনি আমাদের হৃদয়ের মনিকোটায় চিরদিন অম্লান থাকবেন। আপনার জীবদ্দশায় অনেকেই আপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারে নি। এটি তাদের দূর্ভাগ্য। আপনার জন্য ইসালে সাওয়াবের তাউফীক্ব আল্লাহ তা'আলা আমাকে সহ আপনার অন্যান্য ত্বুল্লাবকে সর্বদা দান করুন। আপনার মতো আখলাক্বে হাসানাহ দিয়ে আমাদেরকে ধন্য করুন।

অনেক মিস করি আপনাকে, হুযূর।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা আপনার উপর অনন্তকাল রহমত বর্ষণ করুন। আপনাকে আমার/আমাদের উপর আপনার ইহসানের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উল্লেখ্য, হুযূরের ইনতিক্বালের শোক তাঁর আম্মা সামলাতে পারেননি। এমন সন্তান হারিয়ে কোনো মা-ই নিজেকে সামলাতে পারার কথা না। হুযূরের চলে যাওয়ার পরের বছর তিনিও ইনতিক্বাল করেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের আ'লা মাক্বাম নসীব করুন। হুযূরের আব্বাকে সুস্থতার সহিত নেক হায়াত দান করুন। Md Fokor Uddin সহ সব আপনজনকে সাবরে জামীল ইনায়াত করুন।
ভোরবেলায় আমার আম্মা যেভাবে আমাকে এগিয়ে দিতেন, হুযূরের আম্মাকেও আমি ঠিক সেইভাবে এগিয়ে দিতে দেখতাম।

তাক্বাব্বালাল্লাহু আ'মালাহুমা ওয়া জা'আলাল জান্নাতাল ফিরদাউসা মা'ওয়াহুমা।

ছবিতে Mashhud Muhsin Uddin ভাইয়ের ওয়ালীমাহ অনুষ্ঠানে। আমি আর ইমাদ ভাই একসাথে যাবো। হুযূর কল করে বললেন, তুমি যাইরায়নি মাশহুদ'র ওয়ালীমা'ত?
বললাম জি হুযূর, প্লান করছিলাম মোটরবাইকে যাইমু। বললেন, আমি কারে যাইমু, আমার লগে তুমিতাইন যাইবায়গিনে। ভাগ‍্য ভালো ঐদিন হুযূরের গাড়িতে করে গিয়েছিলাম। নয়তো বৃষ্টির দিন ছিল।

হাফিজ আব্দুল্লাহ আল মাছুম।
ইউকে।

04/03/2026

কিছু মানুষকে ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না।
তাদের স্মৃতিগুলো অন্তরের গভীরে নীরবে গেঁথে থাকে। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে যায়, অনেক মুখ ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে; কিন্তু কিছু কণ্ঠস্বর, কিছু স্নেহমাখা আচরণ, কিছু নূরানী চেহারা কখনো মুছে যায় না।

আজ ১৩ই রমাদান। চার বছর আগে এই দিনেই আমার প্রিয় উস্তাদ, আনোয়ার হোসাইন সাহেব (মুহতারাম ভরাউটি হুজুর) রহ. ইন্তেকাল করেন। রহিমাহুল্লাহ রহমাতান ওয়াসিয়াহ।

আব্বুর চাকরির সুবাদে শৈশব কেটেছে লালাবাজার এলাকায়। ক্লাস ওয়ান থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু। তখন থেকেই হুজুরের স্নেহ পেয়েছি সবচেয়ে বেশি। আমাদের পরিবারের সঙ্গে তাঁর ছিল আন্তরিক সম্পর্ক। মাদ্রাসার যেকোনো প্রয়োজনে আব্বুর প্রথম ভরসা ছিলেন তিনি। আমরা ভাই-বোন সবাই তাঁর কাছেই পড়েছি—ইলমের ভিত্তিটা তাঁর হাতেই গড়ে উঠেছে।

হুজুর ছিলেন আল্লাহভীরু ও পরহেজগার একজন মানুষ। বিশেষ করে রমাদান মাস এলে তিনি ইবাদাত-বন্দেগি ও খেদমতে আরও বেশি মগ্ন হয়ে যেতেন। সারাদিন দারুল ক্বিরাতের খেদমতে ব্যস্ত থাকতেন। ইফতারের সময় বাড়িতে না করে মসজিদেই মানুষের সঙ্গে ইফতার করতেন এবং অন্যদের ইফতার করাতেন। মাদ্রাসাই যেন ছিল তাঁর দিনের বেশিরভাগ সময়ের ঠিকানা।

তাঁর আরেকটি বড় গুণ ছিল আখলাকে হাসানাহ। কথা বলতেন নিচু স্বরে, আচরণ ছিল কোমল ও শান্ত। খুব কমই তাঁকে রাগ করতে দেখেছি। এজন্য ছাত্রদের অন্তরে তাঁর প্রতি আলাদা ভালোবাসা ছিল—আজও আছে। সহকর্মীদের লেখাতেও দেখেছি, সবার কাছেই তিনি ছিলেন প্রিয়।

মুনাজাতে যখন উস্তাদদের জন্য দোয়া করি, মরহুমদের মধ্যে সবার আগে হুজুরের কথাই মনে পড়ে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাঁর নূরানী চেহারা, তাঁর নিস্তব্ধ কবর। মনে হয়, তাঁর ছাত্রদের দোয়ার মাঝে তিনি আজও বেঁচে আছেন। একজন শিক্ষকের জন্য এর চেয়ে বড় সফলতা আর কী হতে পারে!

আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতের আ‘লা মাকামে স্থান দিন। তাঁর কবরকে প্রশস্ত ও নূরানী করুন। তাঁর রুহের ফয়েজ আমাদের নসিব করুন। আমিন।

মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন মুহিত
অধ্যয়নরত, অনার্স ২য় বর্ষ,
আল-হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ
দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা।

05/10/2025

শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকার আমল | تفسير | Surah An-Nas Explanation | Protection from Shaytan

30/07/2025
24/07/2025

মাওলানা রেদওয়ান আহমেদ চৌধুরী ফুলতলী | সম্পাদক বাংলা জাতীয় মাসিক পরওয়ানা

25/06/2025

আম মশক || হাজী নওয়াব আলী জামে মসজিদ, সুবহানীঘাট সিলেট।

Want your organization to be the top-listed Non Profit Organization in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Lalabazar
Sylhet
3113