Drak Knowledge
13/04/2026
মানবদেহের অন্তর (কলব) সবকিছুর কেন্দ্রস্থল। অন্তর সুস্থ থাকলে পুরো মানুষ আধ্যাত্মিকভাবে সুস্থ থাকে। আর অন্তর নষ্ট হলে ঈমানের আলো নিভে যায়, ইবাদতের স্বাদ চলে যায় এবং সত্য গ্রহণের ক্ষমতা লোপ পায়। গুনাহ ও খারাপ অভ্যাস অন্তরে মরিচা ধরিয়ে ধীরে ধীরে তাকে আধ্যাত্মিক মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
ওলামায়ে কেরাম (বিশেষ করে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ.) এমন কিছু বিষয়কে অন্তরের বিষ বলে চিহ্নিত করেছেন, যা অন্তরকে কঠিন করে এবং ধ্বংস করে। এগুলো অন্তর ধ্বংসের প্রধান কারণ। নিচে সেগুলো রেফারেন্সসহ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. অপ্রয়োজনীয় মানুষের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা ও বেশি কথাবার্তা
প্রয়োজনের বাইরে অহেতুক আড্ডা, বেশি কথা বলা ও মেলামেশা অন্তরকে কঠোর করে দেয়। মেলামেশা খাবারের লবণের মতো পরিমিত হলে উপকারী, অতিরিক্ত হলে ক্ষতিকর।
রেফারেন্স: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, অন্তর কঠিন হওয়ার চারটি প্রধান কারণের একটি হলো বেশি কথা বলা ও মানুষের সাথে অতিরিক্ত সময় কাটানো। (আল-ফাওয়ায়িদ, ১/৯৭)
উলামায়ে কেরাম বলেন, এতে গাফলতি বাড়ে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
২. দীর্ঘ আশা (তুলূলুল আমাল)
দুনিয়ায় অনেকদিন বেঁচে থাকার অলীক স্বপ্ন, সীমাহীন পরিকল্পনা ও আখিরাত ভুলে দুনিয়ামুখী হয়ে পড়া অন্তরকে ধ্বংস করে। এতে মানুষ তওবা ও নেক আমল থেকে দূরে সরে যায়।
রেফারেন্স: ওলামায়ে কেরাম (ইবনুল কাইয়্যিম ও অন্যান্য) দীর্ঘ আশাকে অন্তর কঠিন হওয়ার অন্যতম বড় কারণ বলেছেন। এটি আখিরাতের চিন্তা থেকে বিমুখ করে এবং গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে, তাদের জন্য ধ্বংস (সূরা আয-যুমার: ২২)। দীর্ঘ আশা এই কঠোরতার অন্যতম কারণ।
৩. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি গভীর নির্ভরতা ও সম্পর্ক
আল্লাহকে ছেড়ে কোনো মানুষ, সম্পদ বা সৃষ্টির উপর অত্যধিক ভরসা করা ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা অন্তরের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। এতে অপমান ও ব্যর্থতা আসে।
রেফারেন্স: এটি অন্তরের রোগের অন্তর্ভুক্ত। কুরআনে বলা হয়েছে, যাদের অন্তরে রোগ আছে (সূরা আল-বাকারা: ১০)। শিরক ও সৃষ্টির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা অন্তরকে কঠিন করে। উলামায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপর নির্ভর করা অন্তরকে ধ্বংস করে।
৪. অতিরিক্ত আহার (পেটপূজা/অতিভোজন)
প্রয়োজনের বেশি খাওয়া শরীর ও অন্তর উভয়ের জন্য ভারী বোঝা। এতে আত্মনিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।
রেফারেন্স: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, অন্তর কঠিন হওয়ার চারটি কারণের একটি হলো অতিরিক্ত খাওয়া। (আল-ফাওয়ায়িদ)
হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন যে, অতিরিক্ত খাওয়ায় অন্তর মরে যায় (বিভিন্ন বর্ণনায়)। পেট নিয়ন্ত্রণ না করলে আত্মশুদ্ধি সম্ভব নয়।
৫. অতিরিক্ত ঘুম
ঘুম আল্লাহর নেয়ামত হলেও অতিরিক্ত ঘুম অন্তরকে গাফিল (অসতর্ক) করে দেয় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
রেফারেন্স: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, অন্তর কঠিন হওয়ার অন্যতম কারণ বেশি ঘুমানো। (আল-ফাওয়ায়িদ, ১/৯৭)
অতিরিক্ত ঘুম অলসতা বাড়ায়, ইবাদত থেকে বিরত রাখে এবং অন্তরকে কঠোর করে।
অতিরিক্ত কথা
উপরের পাঁচটির সাথে অনেক সময় অতিরিক্ত কথা বলাকেও অন্তরের বিষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) এটিকে অন্তর কঠিন হওয়ার চারটি কারণের একটি বলেছেন।
গুনাহ (পাপ) অন্তরে কালো দাগ ফেলে, যা বাড়তে বাড়তে অন্তরকে পুরোপুরি কালো করে দেয়। (হাদিস: সহীহ মুসলিম)
কুরআনে বলা হয়েছে: “ধ্বংস তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে। (সূরা আয-যুমার: ২২)
অন্তর ধ্বংসের মূল কারণ হলো গাফলতি ও দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি।
এগুলো থেকে বাঁচতে নিয়মিত জিকির, কুরআন তিলাওয়াত, ইস্তিগফার, তাহাজ্জুদ, পরিমিত খাওয়া-ঘুম ও ভালো সঙ্গ অবলম্বন করুন। অন্তর শুদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে বেশি দোয়া করুন।
আল্লাহ আমাদের সবার অন্তরকে শুদ্ধ ও জীবিত রাখুন। আমীন।
© MD Azaharul Hoque
বান্দা যতবার বলে- "আল্লাহুম্মাগফিরলি" আল্লাহ ততবার বলেন "মাফ করে দিলাম"
সুবহানআল্লাহ্।🤲
ঈদে মিলাদুন্নবী, এই দিনটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এঁর দুনিয়াতে আগমণের আনন্দ ও তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। যিনি মানবজাতিকে পরিশোধন করেন এবং তাদের সর্বশেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআন ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা মানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এঁর আগমণ দিবস মর্যাদাবান, গুরুত্ববহ এবং আনন্দের। আল্লাহ’র প্রতি ঈমান ও মানবতার পথপ্রদর্শনকারী মহানবীর ধরাপৃষ্ঠে আবির্ভাবের দিন আজ। তিনি সারা বিশ্বের জন্য রহমতস্বরুপ, আমাদের জন্য আল্লাহ’র পক্ষ থেকে সবথেকে বড় উপহার বা এহসান। আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দিয়েছেন মহিমান্বিত মর্যাদা। পৃথিবীতে মানুষ ইহজগত ও পরজগতের মুক্তির সন্ধান পায় এই দিনে। হযরত মুহম্মদ (সঃ) এঁর আবির্ভাব ছিল একটি আলোকিত বিস্ময়। মানবজাতি তাঁর আগমণে নিজেদের কল্যাণ ও শান্তির নিশ্চয়তা লাভসহ জগতের সমস্ত অন্যায়-অবিচার, কুসংস্কার, নিপীড়ণ-নির্যাতন এবং বৈষম্যের ঘোর অন্ধকার যুগ থেকে নিস্কৃতি লাভের সন্ধান পায়। সেজন্যই তিনি হয়েছেন মানবতার মুক্তির দিশারী।
মানুষ ন্যায় ও সৎ পথে চলার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লাভ করে রাসুলের (সঃ) দেখানো পথে। নিজ যোগ্যতা, সততা, মহানুভবতা, সহনশীলতা, কঠোর পরিশ্রম, আত্মপ্রত্যয়, অসীম সাহস, ধৈর্য্য, সৃৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও অপরিসীম দুঃখ যন্ত্রনা ভোগ করে তিনি তাঁর উপর অবতীর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বাণী তথা তওহীদ প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করেন। অন্ধকারের যুগ তথা আইয়ামে জাহেলিয়াতের আমলে আইন, বিচার ও প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যভিচার-অনাচারের অরাজকতা বিরাজমান ছিল। এই সময় যাঁর আগমণ হয়েছিল তিনি হলেন রহমাতুল্লিল আলামীন। তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগ দূরীভূত করে ইসলাম কায়েমের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত ও দু:খী মানুষের সেবা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শণ, পরমতসহিষ্ণুতা, দয়া ও ক্ষমা গুন, শিশুদের প্রতি দায়িত্ব এবং নারী জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সঃ) এঁর আদর্শ অতুলনীয় এবং তাই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে স্বীকৃত।
আমি আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের নিকট প্রার্থনা করি মহানবী (সঃ) এঁর শিক্ষা, আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা আমরা সবাই যেন নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি। আমি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আমি শেষ নবী সাইয়েদুল মুরছালিন হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্য অসংখ্য দরুদ ও তাঁর প্রতি সালাম জানাই।
আল্লাহ হাফেজ।
"নিজেকে সময় দিন, কারণ আপনি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার জন্ম নেবেন না।"
এই কথার মধ্যে অনেক গভীরতা আছে। আমরা এত ব্যস্ত থাকি কাজ, দুশ্চিন্তা, দায়-দায়িত্বে, যে নিজের কথা ভুলে যাই।
কিন্তু জীবন একটাই।
আবার সুযোগ আসবে না বলে, মাঝে মাঝে থেমে নিজের মনের কথা শোনা দরকার।
নিজেকে ভালোবাসা দরকার।
নিজের ইচ্ছেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
Savar