Daily Need Life

Daily Need Life

Share

28/01/2026

ব্রেকআপের পর যে আসলেই মাথা খুলে, এর উদাহরণ স্বয়ং আমিই।

বড়লোক বাপের একমাত্র ছেলে আমি। যা চাইছি, সেটা না পাওয়া পর্যন্ত এক লোকমাও মুখে তুলি নি কখনো। বাপেরও ছিল অঢেল সম্পদ। তাই চাওয়ার সাথে সাথেই পেয়ে গেছি সব। যখন আমি নিউ টেনে পড়ি, তখন এক সিনিয়র আপু প্রপোজ করে। আমার তো পুরাই মাথা খারাপ। কোনো মেয়ে নিজে থেকে আমাকে প্রপোজ করেছে, তাও আবার সে আমার সিনিয়র, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।

কয়েক মাস পর আমরা আলাদা হয়ে যাই। সে কলেজে ভর্তি হয়। আর আমি তখনও স্কুলে। সম্পর্কটা ঠিকমতো এগোচ্ছিল না। সে সুন্দরী হওয়ায়, যেকোনো ছেলেই তার প্রতি আগ্রহী হয়ে যেত। সেও ছেলেদের সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলত। এগুলো আমার একদমই ভালো লাগত না। অপেক্ষা করছিলাম, কবে এসএসসি শেষ হবে, আর তার কলেজে ভর্তি হব। এসএসসি পরীক্ষা রীতিমতো শেষ হল।

কিন্তু তাকদীর! তার কলেজে আমি ভর্তি হতে পারলাম না। কিন্তু তবুও আমাদের মাঝে সবসময় যোগাযোগ হত। আমি তাকে অন্য ছেলেদের থেকে দূরত্বে থাকতে সবসময় বলতাম। কিন্তু সে বলত, সে জাস্ট ক্লাসমেট হিসেবে কথা বলে। আমি মানুষ হিসেবে খারাপ হলেও এই বিষয়টা মেনে নিতে পারতাম না। সে আমার অনূভুতি বুঝতে পারত না বলে, অনেক কাঁদতামও। তার পিছনে অনেক টাকাও ঢালতাম। লাখের উপরে হবারও সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সে আমার ছিল না। আল্লাহ তাকদিরে আমার জন্য তাকে লিখেন নি। তাই আমাদের মাঝে ব্রেকআপ হল।

ব্রেকআপের পর পরিবারকে ওয়ার্নিং দিলাম, যদি না মেয়েটিকে এনে দাও তবে আমি আত্মহ-ত্যা করব। আমি যা বলি তাই, করি। তাই পরিবারের লোকেরা ভয় পেয়ে যায়। আম্মু নিজে গিয়ে মেয়েকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আম্মুকে ও অপমান করে ফিরিয়ে দেয়। আমি সেদিন আম্মুকে অসহায় হয়ে কাঁদতে দেখেছিলাম। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নেই, যত কষ্টই হোক, সব আমি সহ্য করব। আমার জন্য অন্যরা কেন কষ্ট পাবে? সেদিনই জীবনের সেরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই। এরপর এক ভাইয়ের পরামর্শে এক চিল্লার জন্য তাবলীগে যাই। কিন্তু এক চিল্লার জায়গায় আমি তিন চিল্লা লাগাই। নিজেকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে নেই।

এখন বুঝতে পারি, আগে কত অবুঝ ছিলাম। আগের কথাগুলো এখন মনে পড়লে অনেক হাসি পায়। কত পাগলামীই না করেছি। আফসোসও হয় অনেক। নিজের জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অনূভুতি আমি হারামে নষ্ট করেছি। মেয়েটির প্রতি আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। যদি না সে আমার জীবন থেকে চলে যেত, তবে হয়তো আমি তাকে পেয়ে যেতাম, কিন্তু আমি আমার রবকে কখনোই পেতাম না। সে আমার জন্য 'ফিতনা' ছিল, 'রহমত' না।

এই বছর বাবা থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের জন্য বিশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আর আম্মু প্ল্যান করলাম, সব টাকা গরীবদের মাঝে বণ্টন করব। আমি খোঁজে খোঁজে রাস্তায় যারা ঘুমায়, তাদের কয়েকজনকে কম্বল এবং আরও কিছু প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনে দিলাম। আমার চোখে এখনো সেই হাসিমাখা মুখগুলো ভাসছে। ওয়াল্লাহি, আমি তখন আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলাম। আর তখন মনে হচ্ছিল, ইশ! আগের বছরগুলো যদি আবার ফিরিয়ে আনতে পারতাম. এর আগের বছরগুলোতে কত হাজার হাজার টাকা নষ্ট করেছি এসবে। সবই করতাম আনন্দের জন্য। অথচ ওসবে তো ছিল পৈশাচিক আনন্দ। আর এসব কাজে আছে নির্মল আনন্দ সাথে রবের সন্তুষ্টি। এই আনন্দ যে একবার পেয়ে যাবে, আমার বিশ্বাস, সে কখনোই আর ওসব পৈশাচিক আনন্দে ফিরে যেতে পারবে না।

— [ঘটনাঃ- এক ভাইয়ের জীবন থেকে নেয়া ]

Engr Masud Parvez

27/01/2026
Want your business to be the top-listed Media Company in Satkhira?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Brobila Patkelghta Tala Satkhira
Satkhira
9421