Satej Instructs

Satej Instructs

Share

11/06/2026

আর দুই ঘন্টাখানেক পর যেখানে গোটা পৃথিবীবাসী ফুটবল উন্মাদনায় সামিল হতে চলেছে, সেখানে আমার যতো ব্যস্ততা নিদ্রাদেবীর কোলে ঢলে পড়ার। সময়ের পরিক্রমায় এবারের ফুটবল বিশ্বকাপটা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারাটা বিলাসিতা ঠেকছে।

অফিস শেষে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার দুধারের অগণিত বাড়ির ছাদে পতাকার মিছিল দেখলাম। ফিরে গেলাম ২০০২ সালে! স্পষ্ট মনে পড়ে তখন ৫ম শ্রেণিতে পড়তাম, ৪র্থ শ্রেণি থেকে চিত্রাঙ্কন শেখার সুবাদে একটুআধটু আকঁতে শিখেছি। দুয়েকটা পুরস্কার এসেছে বাড়িতে! জলরঙ তখনো ধরিনি।মোমরঙে আঁকতাম। বাড়িতে টিভি না থাকায় প্রথম আলো পত্রিকার সুবাদে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার খবর জেনেছিলাম। যে পাড়াটায় থাকতাম সে পাড়াটার বেশ নামডাক ছিলো ফুটবলে। ফুটবল দুনিয়া বলতে শুধু পাড়ার ফুটবলে মজে থাকা ১০ বছরের এক কিশোরের কীভাবে যেন খেয়াল চেপে গিয়েছিলো ব্রাজিল দলটাকে সাপোর্ট করার! একটা বড় আর্ট পেপারের এক-চতুর্থাংশ কাগজে মোমরঙে ব্রাজিলের পতাকা এঁকেছিলাম। বাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছটা বেয়ে টিনের চালে একটা বাঁশের কাঠিতে টাঙিয়েছিলাম ব্রাজিলের পতাকা। তখন পতাকার কেনার সাধ্য ছিলোনা। এখন সাধ্য হয়েছে বটে, কিন্তু সেদিনকার আনন্দ কি আর এখন পাওয়া যাবে?

২০০২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অভেদ্য দেয়াল হয়ে থাকা গোলকিপার অলিভার কানের জার্মানির প্রতিপক্ষ রিভালদো-রোনালদো-রোনালদিনহো ত্রয়ীর অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল। যে বাড়িতে ফাইনাল ম্যাচটি দেখেছিলাম তার রুম ভর্তি দর্শকদের মধ্যে কেবল আমিই ব্রাজিল দলের সাপোর্টার হিসেবে শেষ হাসি হেসেছিলাম। তারপরের বিশ্বকাপে এলেন মেসি নামের এক তরুণ তুর্কি। সেই থেকে শুরু ২০০৬,২০১০,২০১৪,২০১৮, ২০২২ পেরিয়ে ২০২৬! সেই তরুণ তুর্কি এখন বয়সের ভারে হয়তো কিছুটা নিস্প্রভ, কিন্তু এখনও ঝলক দেখাতে ভুলেননা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম একজন হয়ে কীর্তি গড়েছেন সর্বশেষ আসরেই। তবু নির্দ্বিধায় বলা যায় বিশ্ববাসীর সবচেয়ে উংসুক দৃষ্টি নিবদ্ধ এখনো তাঁর দিকেই।

প্রিয় জাদুকর মেসি এবং তার দল আর্জেন্টিনার জন্য আন্তরিক শুভকামনা। শুভকামনা থাকলো এশিয়ার জায়ান্ট জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জন্যও।

রাজনৈতিক রোষানলে আশান্ত পৃথিবীর বুকে ফুটবল বিশ্বকাপ প্রশান্তির বৃষ্টি হয়ে ঝরুক।

26/05/2026

কাল মেসির ভাইরাল হওয়া ভিডিওটায় আমি মেসিকে নয়; দেখছিলাম পাশে বসা ছেলে থিয়াগোকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটায় সবাই বেশ মজা পেয়েছে, আমি পেয়েছি জীবনের দীক্ষা।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক ভক্ত মেসির গাড়ি থামিয়েছে। অটোগ্রাফ চায়। মেসি অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে দেখেন ভক্তের দেওয়া কলমে কালি নেই।

এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের মাঝারি মানের তারকা হলেও বিরক্ত হতেন। হয়তো খেপেও যেতেন। মেসি কী করলেন? 'ওহ দাঁড়াও, আমার কাছে কলম আছে।'

নিজের কলম খুঁজে অটোগ্রাফ দিয়ে কলমটাও ফেরত দিলেন। ভক্ত বলল, 'লিও এটা তোমার কলম।' মেসি বললেন, 'ওহ হ্যাঁ, তা-ই তো! ধন্যবাদ তোমাকে।'

মেসি থেকে লাফ দিয়ে টেন্ডুলকারে চলে যাই। শচীন টেন্ডুলকারের বাবা ছিলেন কবি মানুষ। ছেলের নামও রেখেছিলেন প্রিয় সুরকার শচীন দেব বর্মনের নামে। ছেলে কবিতা, গান কোনটার দিকেই যায়নি। তার ধ্যান-জ্ঞান ক্রিকেট।

ছোটবেলায় কবি রমেশ টেন্ডুলকার পুত্রের কানে শুনিয়েছিলেন জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা: মনে রাখবে, বড় মাপের ক্রিকেটার হওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বড় মাপের মানুষ হওয়া।

এই যে মেসি; আমি নিজে যার ফুটবল দেখছি ২০ বছর ধরে, আজও যার প্রতি মুগ্ধতা এতটুকু কমেনি...তাকে কেন মনে রাখব আমরা? বিশ্বকাপের ট্রফিটার জন্য? ফুটবল মাঠের শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়ে ওঠা সব ফ্রি কিক, ড্রিবলিং কিংবা নান্দনিক সব গোলের জন্য?

না। জীবনের প্রচ্ছদপট ৯০ মিনিটের চেয়ে অনেক বড়। মেসিকে আমি সব সময়ই মনে রাখব, খ্যাতি ও অর্জনের শীর্ষ চূড়ায় নিজেকে তুলে ধরেও মাটিতে পা রাখার জন্য। মাটির মানুষ হয়ে থাকার জন্য।

তিনি তো আর কবি নন। রমেশের মতো অত কাব্য করে কিছু বলতে পারবেন না। তবে পাশে বসা থিয়াগোকে যা বলার মেসি বুঝিয়েই দিলেন: বড় হয়ে তুমি কত বড় ফুটবলার হবে আমি জানি না। তবে যা-ই হও না কেন; জীবনে বড় মাপের মানুষ হয়ো।

এভারেস্ট কিংবা চাঁদে পা রেখেও নিজেকে অতিসাধারণ ভাবতে পারার মতো মানুষ!

23/04/2026

বিশ্বব্যাপী অনেক দিবসের ভিড়ে মা দিবস, বাবা দিবস, শিক্ষক দিবস, নারী দিবস, আদিবাসী দিবস, বন্ধু দিবস ও বই দিবস উদযাপন করতে আমার খুবই ভালো লাগে। যদিও কোন কিছুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ শুধু দিবস পালনের তথাকথিত আড়ম্বরে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে আমি নই।

তবে উপর্যুক্ত দিবসগুলোর মধ্যে আমার কাছে বই দিবসটি মনেপ্রাণে ধারণ করতে একটু বেশিই ভালো লাগে। কারণ আমি দেখেছি "মা কিংবা বাবা দিবসে" যারা বছরজুড়ে মা-বাবার মনোকষ্টের কারণ হয় তারাই বেশি সোস্যাল মিডিয়ায় সুবাধ্য সন্তান বনে যেতে চায়।

"শিক্ষক দিবস" এও বিষয়টা কিছুটা হলেও সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়েছে। তাছাড়া টানা ১৪ বছর ০৭ মাসের গৃহশিক্ষক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে ভালো বুঝি শিক্ষকের মর্যাদা আমাদের সমাজে ক্যামন। একটা উদাহরণ দেই। আমার এক ছাত্র গত বছর মার্কিন মুল্লুকে পড়তে গিয়েছে স্কলারশীপ নিয়ে। কিন্তু এই সুসংবাদ তার শিক্ষক হিসেবে আমার জানা হয় নি। কারণ সে কিংবা তার পরিবার হয়তো মনে করেছে আমার আর কি ভূমিকা ছিলো শিক্ষার্থীটির এই অর্জনের নেপথ্যে! তবে স্পষ্ট মনে পড়ে এই ছেলেটিকে ৭ম এবং ৮ম শ্রেণিতে দুটো বছর পড়িয়েছিলাম। ৭ম শ্রেণিতে পড়ানোর সময় ১ম ৩টা মাস আমাকে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। কারণ সে ছিলো বাংলায় সাংঘাতিক রকমের কাঁচা। বলতে গেলে বাংলা বইয়ের গদ্যের প্রতিটি অধ্যায় জুড়ে গড়ে ৩৫-৪০ টা শব্দের অর্থ তার কাছে অজানা একদম অজানা ঠেকতো। কারণ সে ইংরেজির ব্যাপারে যতোটা যত্নশীল ছিলো ঠিক সমান অবহেলার চোখে বাংলা বিষয়টাকে দেখতো। ৮ম শ্রেণিতে গিয়ে সে যথেষ্ট দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। যার প্রমাণ ৮ম শ্রেণিতে তার সাধারণ গ্রেডে জুনিয়র বৃত্তি প্রাপ্তি। ৮ম শ্রেণির সেই অর্জনের ধারাবাহিকতায় সে এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেতে সক্ষম হয়।

"নারী দিবস" এর বেলায় তো ব্যাপারটা আরও বেশি দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। বুঝেছি দুই বা ততোধিক নারীকে ওয়ান টাইম প্লেটের মতো ব্যবহারকারী প্লেবয়রাই বেশি নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল! আবার মিসগাইডেড নারীবাদীদের চরম বিব্রতকর বিড়ম্বনা তো আছেই।

"আদিবাসী দিবস" এর ক্ষেত্রেও দেখি আমাকে উপজাতি বলে অপমান করে মজা নেওয়া মানুষগুলো আদিবাসীবান্ধবতার মেকিপনা দেখায়। কিংবা কোন জাতির যে কখনো উপজাত থাকতে পারে না সে সরল বোধ বা সত্যকে কে মিথ্যা প্রমাণের নিরন্তর ও অনর্থক প্রচেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত ও মানসিকভাবে চরম দীনহীনে সয়লাব হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া।

"বন্ধু দিবস" এ বোধহয় সবচেয়ে বেশি শুভেচ্ছা বার্তা পাই। যারা পাঠায় তারা বেশিরভাগই ক্লাসমেইট অথবা ফ্লেইমেইট, সৌলমেইট নয়।

একমাত্র "বই দিবস" এ মনে হয়েছে - এই দিবস পালনকারীদের মধ্যে বাটপার নেই কিংবা থাকলেও খুবই কম।

কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি,

> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত মানুষকে তার চেহারা ও পোষাকের ঔজ্জ্বল্য দিয়ে মাপে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত বাপ-দাদার সম্পত্তি দিয়ে ফুটানি মারে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত ঘরে বাবা-মাকে অর্ধভুক্ত, অসুস্থ, দুঃখে নিমজ্জিত রেখে ফটিকচাঁদগিরি করে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত বয়সে,জ্ঞানে ও অবস্তুগত সম্পদে (জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা, শিক্ষা-দীক্ষা,স্বাস্থ্য, গান-বাজনার প্রতিভা) সমৃদ্ধশালীদের উপেক্ষা করে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত বিকৃত রুচির গান, ভিডিও, তথ্য নিজের ওয়ালে শেয়ার করে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত বাঁচার (ক্ষুৎনিবৃত্তি) জন্য খায়, খাওয়ার জন্য বাঁচে না (ইতর প্রাণীর মতো)।রেস্টুরেন্টে গিয়ে কি কি খেলো না খেলো না নিয়ে শো-অফ করে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত বাবার হোটেলে খেয়ে (পরিণত বয়সেও) খেটে খাওয়া মেরুদণ্ডধারীদের (মেধা কিংবা কায়িক শ্রমজীবী) হেয় করে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত মানুষকে বৈষয়িক সাফল্য (ভালো জব করা, নিজস্ব গাড়ি-বাড়ির মালিক হওয়া, আইফোন কিনতে পারা, ব্যাংক-ব্যালেন্সের অঙ্ক মোটা হওয়া) দিয়ে মাপে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত বাবার হোটেলে খেলেও বাবার দুঃখ বোঝে, অন্যের দুঃখ বোঝে। অন্যের সেন্টিমেন্টে আঘাত করে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত স্পেডকে স্পেড বলতে দ্বিধা করে না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত আবাল চিনতে সক্ষম। জুম্ম জাতির নব্য কিছু আবাল চেনার মানদণ্ড - কে কত টাকার পোশাক পড়ে সামাজিক উৎসবে সামিল হন, কি খেয়ে পেট ভরিয়েছে, সাদা চামড়াকে পুঁজি করে শুধু রঙ ঢঙের জীবন যাপনের ছবি প্রদর্শন, রাত-বিরাতে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় একা নারী হয়ে পুরুষ পালের সঙ্গে তথাকথিত নববর্ষ উদযাপন, শুধু খাওয়া দাওয়া আর ফূর্তি করা, সংস্কৃতি রক্ষার নামে অদ্ভুত ও ঠুনকো সব যুক্তি দেখিয়ে সংস্কৃতি রক্ষার উদ্যােগ গ্রহণ, অশ্লীল পোশাক পরিধান করে 'জীবন আমার, যা খুশি করার অধিকারও আমার' এর আড়ালে ঠীনএজডদের বিপথগামী করা, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর হেতু 'স্বীকার' বলতে গিয়ে 'শিকার' বলা তথাকথিত হিউজ শিক্ষিত ভিউ জীবি হওয়া, নাক টিপলে এখনও দুধ বের হয় অথচ পার্টনার নিয়ে অসভ্যতামি করে ভিউজীবী হওয়া, ধর্মীয় উপসনালয়কে পর্যটন মনে করে রীলস বানিয়ে জীবিকার সংস্থান করা, নিজের বিয়েতে কী কী উপহার পেয়েছে এমন ছ্যাচড়া বিষয়কে কন্টেন্ট মনে করা ইত্যাদি।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত জীবনযুদ্ধে হেরে যায় না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত ব্যক্তিত্বহীন হন না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত 'জীবন শুধু পুস্প শয্যা নয়' এটা বুঝতে বেগ পান না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত আত্মসম্মানবোধ বিকিয়ে দেন না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত স্বার্থপর হন না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত অসামাজিক হন না।
> যারা বই পড়ে তাঁরা সাধারণত সমাজের শ্রেণিবাদে বিশ্বাস করেন না।

যারা বই পড়ে তাঁদের যেমন গুণ বর্ণনা করে শেষ করা যায় না, তেমনি যারা বই পড়ে না তাদের দোষও বর্ণনা করে শেষ করা যায় না।

আজ বিশ্ব বই দিবস।

প্রিয় বাবা-মা,
আপনার সন্তানের হাতে বই তুলে দিন ছোটবেলা থেকেই। বিশ্বাস করুন শুধু পাঠ্যবই পড়ে পড়ে পিইসি,জেএসসি,এসএসসি ও এইচএসসিতে সর্বোচ্চ জিপিএ প্রাপ্ত, বৃত্তি প্রাপ্ত সন্তানের জনক-জননী হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি পাঠ্যক্রম বহির্ভূত বই পড়ে গড় মানের জিপিএ প্রাপ্ত সন্তানের জনক-জননী হওয়া বেশী সৌভাগ্যের। আপনি যে মোবাইল আপনার কলিজার টুকরোকে তুলে দিচ্ছেন, পৃথিবীর আলো দেখতে না দেখতেই ফেসবুক পড়াচ্ছেন/চেনাচ্ছেন, সেইইইইইই রকম পোজ মেরে ছবি উঠানো পাট দিচ্ছেন তা তার মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে মেধা,মনন ও অবিকশিত শরীরের সব বিকাশকে বাঁধাগ্রস্থ করছে (আপনার অবচেতনে কিন্তু ক্রমান্বয়ে)। আর জেগে জেগে ঘুমায়েন না। আড়মোড়া ভাঙুন। সক্রিয় হোন। আপনার সন্তানের হাতে বই তুলে দিতে মনস্থ হোন। পৃথিবীতে বিরাজিত কতিপয় স্বর্গের মধ্যে বই একটি - এ খেয়াল প্রথমে আপনি ধারণ করুন। তারপর আপনার উত্তর প্রজন্মে বাহিত হতে দিন। এই বইই তার কায়,মন, বাক্য ও ভাগ্য গড়বে।

পরিশেষে কবির ভাষায় বলতে চাই,

"আমি বরং আমৃত্যু সইব প্রাক্তনকে না পাওয়ার শোক!
বিনিময়ে চাইব শুধু তবু এই পৃথিবী বইয়ের হোক।

সবাইকে বিশ্ব বই দিবসের শুভেচ্ছা 💝।

সতেজ চাকমা
#অধমেরচোখে
মূল- ২৩/০৪/২৩ (রাঙামাটি)
পরিমার্জিত- ২৫/০৪/২৬ (চট্টগ্রাম)

#অধমের চোখে - ২৬ (২)

Photos from Satej Instructs's post 22/04/2026

১৪ বছর ০৭ মাসের গৃহশিক্ষকতার জীবনে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়িয়েছি। তন্মধ্যে সার্বিকভাবে সবচেয়ে চৌকস মনে হয়েছে যাকে সে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। যদিও সে ঢাকা কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে। সংগত কারণেই তা হয় নি। তথাপি তার এই প্রত্যাশিত অর্জনের জন্য তাকে বই উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানানোর প্রয়াসে পূর্ব নির্ধারিত একটি বই কিনতে গিয়েছিলাম চকবাজারের একটি বইয়ের দোকানে। কিন্তু যে দোকান থেকে আমি প্রায়সময় বই কিনি সে দোকানে গিয়ে জানলাম বইটি ফুরিয়ে গেছে। একটু ভগ্ন হৃদয়ে বই দেখতে লাগলাম। দেখতে দেখতে ১৩ টি বই কিনেছি। তবুও মনঃক্ষুণ্ন ভাবটা কাটছে না দেখে চকবাজারস্থ কেয়ারী মার্কেটে যাই। সেখানে গিয়ে উপহার দেওয়ার জন্য মনস্থির কৃত আরাধ্য বইটির সাথে আরেকটি বই কিনেছি। নিজের জন্যও একটি কিনেছি। মোট ৩৩৪০ টাকার ১৬ টি বই কিনেছি। প্রায় সবগুলো বই ইংরেজি ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য সংশ্লিষ্ট।

কেয়ারী মার্কেটের যে বইয়ের দোকানে গিয়েছি সেখানে ২০২০ সালের শেষান্তে শেষ বার গিয়েছিলাম। তখন স্নাতকোত্তর পড়াকালীন প্রায় সময় একাডেমিক বই কেনার জন্য যাওয়া লাগতো। গিয়ে দেখলাম একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী বই ফেরত দিতে এসেছে। মানে যে বিষয়ে সে পড়ছে তার জন্য সেমিস্টার ওয়াইজ বই ভাড়া নিয়ে পরীক্ষা শেষে ফেরত দিতে এসেছে। এ দৃশ্য দেখে হঠাৎ আমার স্নাতকোত্তর পড়াকালীন কিছু সহপাঠীর কথা মনে পড়লো। তারাও একইভাবে বই ভাড়া করে পড়তো, পরীক্ষা দিতো, পরীক্ষা শেষে আবার বইগুলো দোকানে ফেরত দিতো। এটা করে তাদের মধ্যে বেশ সন্তুষ্টির রেখাপাত প্রত্যক্ষ করতাম। নিজের ক্ষেত্রে দেশীয় পেরিয়ে দক্ষিণ এশীয় (বিশেষত ভারতীয়), আবার কখনো কখনো নেইঠিভ ভার্সন কিনতে গিয়ে পকেটের অবস্থা প্রায়সময় সঙিন হয়ে যেতো বলে নিজেকে মাঝেমধ্যে বেকুব মনে হতো। কিন্তু এখন ভালোমতোই বুঝি আমার সেই সহপাঠীরা তাদের অর্জিত ডিগ্রির ব্যাপারে সমাজে পরিচয় দিতে মোটেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। আত্মবিশ্বাসহীনতা তাদের সবসময়ই কুঁকড়িয়ে রাখে। তারা ভালোই টের পায় যে তারা আদতে শঠই।

৫/৬ টি বছর পর আজ বুঝি সে সময়ে নিজের শিখনফলকে ঠুনকো করে শুধু মাত্র কোনমতে সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রবণতার মিছিলে নিজেকে সামিল না করে সাময়িক আর্থিকভাবে দুর্ভোগ স্বীকার করতে হলেও দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে স্নাতকোত্তরকালীন সীমিত সময়ের পরিক্রমায় কিছু বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের যে সুযোগ পেয়েছি সে জ্ঞানকে গভীরতর করার পথটা বিস্তীর্ণ। এবং সে বিস্তীর্ণ পথের পরিব্রাজক না হলে প্রাথমিক পরিব্রাজনার আদৌ কোন সুফল মেলে না। কিন্তু যারা সেটা বুঝতে পারে নি তাদের আদৌ কি খুব একটা লাভ হয়েছে?

শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন মাত্রই কর্তিত তথা অপরিপূর্ণ ফলাফলে পর্যবসিত হতে বাধ্য।

10/04/2026

৩৪ বজর আগর ইজসির তারিখকুত (১০ এপ্রিল) পানছুড়িত লোগাং গণহত্যাত যারা পরাণ দুন তারারে মর্ ১০ বজর আগর ইজসির তারিখকুত রোজেইয়ি "বিজু তুই" হবিতেবু উৎসর্গ গুরিলুঙ।

Photos from Satej Instructs's post 10/03/2026

১ম এবং ২য় ছবির ছেরাম জনপ্রিয় স্যারের (পড়ুন ভণ্ডের) গতকাল লাইক আর ফলোয়ার সংখ্যা ছিলো যথাক্রমে ২৪৯০০০ ও ২৭৮০০০। আর আজ ২৫৪০০০ ও ২৮৩০০০। মাত্র একদিনের ব্যবধানে লাইক ও ফলোয়ার ৫০০০ করে বৃদ্ধি পেয়েছে (১ম ছবি দ্রষ্টব্য)। আবার আমার সাথে ফেসবুকে সংযুক্তদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত উনাকে লাইক দিয়েছেন ১৬ জন। ২ জন বেড়ে আজকে সংখ্যাটা ১৮ তে দাঁড়িয়েছে।

মজার বিষয় হচ্ছে আমি নিজেও আগে এনার পেইজে লাইক দিয়েছি, কিন্তু গতকাল লাইকটা উইথড্র করেছি! বেশি বুঝি বোধহয় তাইনা? কেউ কেউ সেটা মনে করতেই পারেন। তবে অধমের অবস্থানটা আগে সম্যক অবগত হোন। তারপর নাহয় রায় দিয়েন!

প্রশ্ন হচ্ছে হাজার হাজার লোকে লাইক দিলে ও ফলো করলেই কি কোন ব্যক্তির মান ভালো হয়?
উত্তরটা দিচ্ছি। তার আগে একটু কষ্ট করে ২ নং ছবিটার দিকে তাকান। তারপর অধমের বক্তব্য হাছা না মিছা মিলানোর জন্য এই তথাকথিত পপুলার জব কোচিং টীচারের ভিডিওটা (৩নং ছবির) নিজে দেখে নিন।

এই পপুলার স্যারের ভিডিওর আলোচ্য ০২ নং Appropriate Preposition টার সঠিক উচ্চারণ 'ফ্রায়(র)/ফ্রায়র ঠু' কিন্তু তিনি উচ্চারণ করছেন 'প্রিয়র টু'!
০৩ নং টার সঠিক উচ্চারণ 'ফ্রেফারেবল/ফ্রেফআরএবল' কিন্তু তিনি উচ্চারণ করছেন 'প্রিপারেবল'!
০৭ নং টার সঠিক উচ্চারণ 'ইনডেঠইড/ইনডেঠিড ঠু' কিন্তু তিনি উচ্চারণ করছেন 'ইনডেবটেড টু'! এখানে 'b' টা Silent letter এটাই যার জানা নেই অথচ তিনি কিনা বিসিএস এবং ব্যাংক এর কোচিংও করান +৪ নং ছবি দ্রষ্টব্য) 🤭!
০৯ নংটার বনানাটাই ভুল! সঠিক বানান 'Yield to' কিন্তু তার কন্টেন্ট এ বানাটি 'Yeild to'!
১৩ নং টার সঠিক উচ্চারণ 'এজেইশেন্ঠ/আজেইশান্ঠ ঠু' কিন্তু তিনি উচ্চারণ করছেন 'এডজেকেন্ট টু'! এই Word এর ক্ষেত্রে D/d যে Silent Letter এটাও জানেন না কিন্তু তিনি অতি জনপ্রিয় ইংরেজির ঠীচার!
১৪ নং টার সঠিক উচ্চারণ 'ফেইঠাল/ফেইদাল ঠু' কিন্তু তিনি উচ্চারণ করছেন 'পেটাল টু'!

ভয়াবহ ব্যাপারটা হচ্ছে এমন অল্প জেনে কিংবা কম জেনে বেশি জানার ভানকারী শিক্ষকের সংখ্যা এদেশে নেহাৎ কম নয়। এদের শাস্তি হওয়া উচিত।

আমার সাথে ফেসবুকে সংযুক্ত যারা এনার ফলোয়ার তাদের সবিনয়ে আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই 'চকচক করলেই সোনা হয় না'। তদুপরি 'ভালো জিনিসের খুব একটা বিজ্ঞাপন লাগে না'।

#অধমের চোখে
১০/০৩/২৬

08/03/2026

বেজভাগ চাঙমায় মুয়েদি,মনেদি লেদা অয়সঙ আভিল্যেজ হানদে অত্তে জাদতুর রজাত্তলে যেবার পোইদেনে দুজ অত্তে পাটিউনুর এগঝধা ওই নআরানাআন! হধাআন সবায় নয়দি নয়, অয়। মাত্তর সিয়ান বাদ দিলিয়ু আর যে হয়েক্কান হারন আগে জাদতুর রজাত্তলে জানার পোইদেনে তার এগ্গান অত্তে চাঙমা জাদতুত "নাঙেসাঙে শিক্ষিত" বেজ বারদন্দে, "গিজসিক শিক্ষিত" নবাড়দন। সেত্তায়-

১) বাপ জেদা চৌদ্দ পুরুজেই নগুজসি "গায়ে হলুদ/হলুদ সন্ধ্যা" আয়োজন চাঙমা সমাজত বাড়েত্তে নহমের।
২) উগুরি উগুরি বানা নম নম, নিত্য রাজবন বিহারত যান হালিক নেইয়ি মানজোরে মানুজ বিলি মনে নগোজসি মানুজ চাঙমা সমাজত বাড়দনদে নহমদন।
৩) মানজোরে চেঙারালোয়, উরোন-পিরোনদোয় মাবিয়ি মানুজ বাড়দন্দে নহমদন।
৪) মদ হেইয়ি বাড়দনদে নহমদন।
৫) বেজাত লোইয়ি বাড়দন্দে নহমদন।
৬) নিজে হিজসু গুরিবার সেদাম নেই, হালিক বড় চাগুজ্জিবলা নেক পেনেই খাও দাও ফূর্তি করো বাবদর জিংহানি হাদেবার স্ববন দিগিয়ি বাড়দন্দে নহমদন।
৭) মন্টু বিকাশ (চাঙমা জাদর হিরো আলম হলে সোই, লাজ শরম সবায় যাত্তুন নেই), মামিয়া তালুকদার (জাদর ইজ্জোত হেয় দেনা আন যার একমাত্র হাম আর অর্জন), মুনমুন মুন (খাও দাও, ফূর্তি করো যার জীবন দর্শন, হন্না হয় টিক্কি সিলুম উড়ে পিনে অলদে তার গবেষণার চ্যাঁচড়া বিষয়বস্তু), আর্য্য ব্রো ( গম শিগিবার কন্টেন্ট বানেবার ন্যুনতম চেদন, গরজ, ঘিলু হোনোক্কানই যিবিত্তুন নেই), বৃষ্টি/রেইন (যিবি নুও বজর পালাইদি পাবলিকলি রেদ সম্বাগ অয় সঙ মরদলোয় লুদুপুদু ওইনে মদ হেই হেই) ইদিক্কি চাপড়ি কন্টেন্ট ক্রিয়েটরউনুর হারোজসি বয়জর পোসাবা ফলোআর বাড়দন্দে নহমদন।
৮) ইংরেজি দহ দূরো হধা, ঠিকমত মিনিমাম দোলে বাংলা হোয় নজান্নি, লিগি নজান্নি, ইন্দি চেলে বিএ, এমএ পাস বাড়দন্দে নহমদন।
৯। হধায় হধাঢ মা---দা নহলে হধা হোয় নআরন্দে, পেদ ভাত হয় নেজে নআরন্দে উঠতি বয়জসি পো-সা বাড়দন্দে নহমদন।
১০। টেক্সট বুক, আউটবুক নপুড়িনেই বানা ফেসবুক পুড়ি পুড়ি আলতুফালতু জিনিস চেই চেই সময় হাদেইয়ি বাড়দন্দে নহমদন।
১১। বোয় বোয় বাপ-মার হোটেলত হেইয়ি বাড়দন্দে নহমদন।

ইয়ানির দায় হার? ধর্মগুরু,নেতা, দল, সমাজ বেগর। মাত্তর আগে নিজোর গরত্তুন ইয়ানি শিগি পা পড়েদে। নিজো ঘরর মাস্টরবু গম নঅলে নঅয়। আমার মাউন বেজনভাগ চেদন/ উজ আরা অই যাদন হেনেত্তেয় জাদতুর এই অবস্থা। চিগোনোত্তুন ধুরি পো-সারে বেজ আদর গরদে গরদে বান্দর বানে পুড়েইয়ি মাউনিই বেগ পোইল্লে দায়ী জাদতুর রজাত্তলে যেবার পোইদেনে।

"মরে উগ্গু শিক্ষিত মা দে, মুই শিক্ষিত জাদ দিম" - এই হধাআন নেপোলিয়ন দাগী এনে এনে নহন!

আমা জাদত গম প্রকৃত স্বশিক্ষিত আহ্ সুশিক্ষিত মা বাড়োদোক। জাদতু ঠিগি থোক পিত্তীমি বুগোত মান বলা ওইনে।

internationalwomensday

Want your school to be the top-listed School/college in Rangamati?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Tabalchari
Rangamati