Library Hour
If you will come to Library you enriched your knowledge to future life.
30/05/2026
এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি (Managing Committee) / গভর্নিং বডি (Governing Body) এর দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ সুন্দর, পরিপাটি ও ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো—
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য
বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য ম্যানেজিং কমিটি (Managing Committee) বা গভর্নিং বডি (Governing Body) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, আর্থিক, অবকাঠামোগত ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মূল দায়িত্ব এই কমিটির ওপর ন্যস্ত থাকে। একটি দক্ষ, সৎ ও দূরদর্শী ম্যানেজিং কমিটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পারে।
---
✦ ম্যানেজিং কমিটির প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ
১। প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী দায়িত্ব
প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
➤ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ
◆ বর্তমানে মূল শিক্ষক নিয়োগ NTRCA-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও বিধি অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, খণ্ডকালীন (Guest) শিক্ষক অথবা অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব কমিটি পালন করে।
◆ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা কমিটির দায়িত্ব।
উদাহরণ:
প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় একজন খণ্ডকালীন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক বা ল্যাব সহকারী প্রয়োজন হলে, কমিটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করবে।
➤ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক তদারকি
◆ শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা।
◆ অনিয়ম, দুর্নীতি বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করা।
◆ প্রয়োজন অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause) প্রদান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
উদাহরণ:
কোনো শিক্ষক দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে প্রধান শিক্ষকের রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিটি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
---
২। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও তহবিল নিয়ন্ত্রণ
প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি অনুদান (MPO) ও শিক্ষার্থীদের বেতনসহ অন্যান্য তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
➤ বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন
◆ প্রতি অর্থ বছরের শুরুতে সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বাজেট প্রস্তুত ও অনুমোদন করা।
◆ শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পৃথক বাজেট নির্ধারণ করা।
➤ তহবিল রক্ষণাবেক্ষণ
◆ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, সেশন ফি ও অন্যান্য আয় ব্যাংকে যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা।
◆ সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা।
◆ হিসাব সংরক্ষণ ও নিরীক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা।
উদাহরণ:
বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কারের জন্য ৫০,০০০ টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হলে কমিটির সভায় রেজুলেশন পাস করে সেই অর্থ বরাদ্দ করা হবে।
➤ আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
◆ দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করা।
◆ আয়ের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা।
◆ প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আর্থিক প্রতিবেদন প্রদান করা।
---
৩। একাডেমিক মানোন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। তাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কমিটির সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
➤ ফলাফল মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা
◆ পাবলিক পরীক্ষা (SSC/HSC) ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করা।
◆ দুর্বল ফলাফলের কারণ অনুসন্ধান করা।
◆ শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস বা কোচিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
উদাহরণ:
কোনো বছর এসএসসি পরীক্ষায় গণিতে পাসের হার কমে গেলে কমিটি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
➤ পাঠদান তদারকি
◆ শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা।
◆ শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ শিক্ষাবান্ধব রাখা।
◆ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
➤ সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা
◆ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা।
◆ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা।
◆ বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা ও স্কাউট কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা।
---
৪। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
➤ ভবন ও শ্রেণিকক্ষ উন্নয়ন
◆ বিদ্যালয় ভবন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
◆ শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা।
◆ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
➤ ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরি উন্নয়ন
◆ বিজ্ঞানাগার আধুনিকায়ন করা।
◆ কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও সচল রাখা।
◆ লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই সরবরাহ করা।
উদাহরণ:
আইটি ল্যাবের কম্পিউটার অকেজো হয়ে গেলে অথবা শ্রেণিকক্ষের ফ্যান নষ্ট থাকলে কমিটি জরুরি ভিত্তিতে তা মেরামতের ব্যবস্থা করবে।
➤ শিক্ষা উপকরণ ক্রয়
◆ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ক্রয় করা।
◆ বেঞ্চ, হোয়াইটবোর্ড ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করা।
◆ শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা।
---
৫। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সাথে সমন্বয়
ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
➤ অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন
◆ বছরে এক বা একাধিকবার অভিভাবক সভা আয়োজন করা।
◆ শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা।
◆ অভিভাবকদের মতামত গ্রহণ করা।
➤ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
◆ কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
◆ স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে সমন্বয় করা।
উদাহরণ:
এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা বৃদ্ধি পেলে কমিটি অভিভাবক ও প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সচেতনতার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।
---
৬। প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা
বর্তমান যুগে ডিজিটাল শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কমিটিকে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
➤ ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম
◆ মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু করা।
◆ অনলাইন ক্লাস ও ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা।
◆ বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ পরিচালনা করা।
➤ শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ
◆ শিক্ষকদের কম্পিউটার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা।
◆ আইসিটি প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা।
---
৭। শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন
শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানোও গুরুত্বপূর্ণ।
➤ নৈতিক শিক্ষা প্রদান
◆ শিক্ষার্থীদের সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা।
◆ ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
➤ নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতা বিকাশ
◆ বিতর্ক, কুইজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
◆ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়তা করা।
---
✦ বিশেষ দ্রষ্টব্য
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে—
◆ তারা একক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবেন না।
◆ শিক্ষা বোর্ড ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
◆ প্রধান শিক্ষক (সদস্য সচিব)-এর সাথে সমন্বয় করে রেজুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
◆ কমিটির কোনো সিদ্ধান্তই সরকারি আইন ও শিক্ষা নীতিমালার ঊর্ধ্বে নয়।
◆ সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
---
✦ উপসংহার
একটি দক্ষ, সৎ, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল ম্যানেজিং কমিটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষক-অভিভাবক-সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, আদর্শ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।
゚
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Telephone
Address
Rangamati, Chittagong Hill Tract, Bangaladesh
Rangamati
4500