Muhammad Habibullah

Muhammad Habibullah

Share

আমি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার পূর্বপুরুষগণ শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন; আমার বাবাও একজন শিক্ষক। একইভাবে পরিবার-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ব্যক্তি ও আমার মায়ের পরিবারের দিকের আত্মীয়েরা শিক্ষা পেশার সাথে জড়িত। আমি আমার এই পরিচয়টি দিতেই বেশি পছন্দ করি। বাবা, দুই ভাই, তিন বোন ও আমার স্ত্রীকে নিয়ে

05/01/2025

সুভাষণ: রুঢ়তার পরিবর্তে সৌন্দর্যের প্রকাশ

সম্প্রতি বাংলাদেশের খ্যাতিমান ইসলামি বক্তা Mizanur Rahman Azhari জনাব মিজানুর রহমান আজহারীর একটি বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে। তিনি তার (সাম্প্রতিক নাকি পুরানো সেটি আমার জানা নেই) একটি বক্তব্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘হজরত মোহাম্মদ (সা.) রাখাল / কাউ বয় ছিলেন।’ এই বক্তব্য শুনে অনেক ইসলামি গবেষক ও ওলামায়ে কেরাম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কাউ বয় শব্দটি মহানবী (সা.)-এঁর মর্যাদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এমন রুঢ় শব্দ চয়ন এড়িয়ে সুন্দর ও পরিশীলিত শব্দ ব্যবহার করা যেতো।

এই ঘটনাটি আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়—সুভাষণ বা ইউফেমিজমের গুরুত্ব। ইউফেমিজম (Euphemism) হলো এমন একটি ভাষাশৈলী, যেখানে রুঢ়, কঠোর বা আপত্তিকর শব্দের পরিবর্তে সমার্থক, মৃদু এবং শ্রুতিমধুর শব্দ ব্যবহার করা হয়। এটি কেবল বক্তব্যকে মধুর ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে না, বরং শ্রোতার মনে বার্তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ইতিবাচকতা তৈরি করে।

নিম্নে আমি কিছু সুভাষণের উদাহরণ পেশ করলাম, যাতে বিষয়টি আপনারা সহজে অনুধাবন করতে পারেন।

১. রুঢ় শব্দ: মৃত্যু
সুভাষণ: ইন্তেকাল, চিরবিদায়।
(মৃত্যু শব্দটি সরাসরি ও কঠোর শোনাতে পারে। এর পরিবর্তে ‘ইন্তেকাল’ বা ‘চিরবিদায়’ শব্দ ব্যবহার শ্রুতিমধুর ও সম্মানজনক।)

২. রুঢ় শব্দ: বুড়ো
সুভাষণ: প্রবীণ।
(বুড়ো শব্দটি তুচ্ছতাসূচক হতে পারে, যেখানে ‘প্রবীণ’ শব্দটি শ্রদ্ধাসূচক ও সৌন্দর্যময়।)

৩. রুঢ় শব্দ: গরিব
সুভাষণ: অসচ্ছল, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা।
(গরিব শব্দটি কাউকে খাটো করতে পারে, তবে ‘অসচ্ছল’ বা ‘অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা’ শব্দগুচ্ছ সম্মান বজায় রাখে।)

প্রসঙ্গে সুভাষণের প্রাসঙ্গিকতা:
বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর জীবন ও কর্ম বর্ণনা করতে গিয়ে আমাদের উচিত সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা। তাঁর মহান ব্যক্তিত্ব এবং ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় এমন শব্দ চয়ন করা প্রয়োজন, যা তাঁর মর্যাদা ও মহত্ব আরও উজ্জ্বল করে। বিশেষত আমরা যারা মুসলিম, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এঁর ব্যাপারে আমাদের শব্দ চয়ন অবশ্যই মার্জিত, সম্মানসূচক হওয়া উচিত সেই সাথে তাঁর ব্যাপারে আমাদের সকল ধারণা সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে হওয়া উচিত।

যেমন, যদি বক্তা ‘কাউ বয়’ বলার পরিবর্তে বলতেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর শৈশবে রাখাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন’—তাহলে এটি শ্রোতাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য এবং শ্রদ্ধাসূচক শোনাতো।

সুভাষণ আমাদের ভাষাশৈলীর অংশ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুভাষণের ব্যবহার শুধু ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং পারস্পরিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রুঢ় শব্দ মানুষকে আহত করে; কিন্তু সুভাষণ মানুষকে আপন করে। বিশেষত ধর্মীয় আলোচনায়, যেখানে সংবেদনশীল বিষয় উঠে আসে, সেখানে সুভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক শব্দ চয়ন আলোচনা মধুর করে তোলে এবং বিতর্ক এড়িয়ে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখে।

পরিশেষে বলতে চাই। আসুন, আমরা আমাদের ভাষায় সুভাষণের চর্চা করি। সুন্দর, পরিশীলিত ও গ্রহণযোগ্য শব্দচয়নের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করি। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর মহান ব্যক্তিত্ব বর্ণনায় সর্বদা এমন শব্দ ব্যবহার করি, যা তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে।

12/10/2024

By the Buriganga's gentle flow,
As boats drift softly to and fro,
City lights in twilight gleam,
A tranquil scene, a perfect dream.
In the heart of Dhaka, I stand still,
Capturing moments, the evening's thrill

10/10/2024

রাতের আলোয় আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন।

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Patuakhali?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Patuakhali
8621