Barua Simantha

Barua Simantha

Share

15/03/2026

মার বিজয়ী উপগুপ্ত মহাস্থবির'র জীবন কাহিনী

সম্রাট অশোক বুদ্ধের ধর্মকে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে মারের উপদ্রব হতে যিনি রক্ষা করেছেন এবং সর্বজ্ঞ বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের ২৩০ বছর পরও যিনি (সম্ভবতঃ একমাত্র) বুদ্ধকে (বুদ্ধরূপ) দর্শন করার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন তিনিই ‘পূজনীয় মার বিজয়ী অর্হৎ উপগুপ্ত মহাথেরো’। বর্তমানেও তিনি জীবিত আছেন এবং আমরা বৌদ্ধরা সেই মহান পূণ্যপুরুষ, মার বিজয়ী অর্হৎ উপগুপ্ত ভান্তের পূজা বন্দনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন উপদ্রব হতে পরিত্রাণ পাবার জন্য প্রার্থনা করে থাকি।

চলুন, আজকে আমরা সেই ঋদ্ধিবান, মার বিজয়ী অর্হৎ উপগুপ্ত মহাথেরো’র জীবনী নিয়ে আলোচনা করি।

→বুদ্ধের কায়িক রূপে উপগুপ্ত ভান্তে : জগতে বুদ্ধের কায়িক রূপের নিমিত্ত ধারণ করতে পারেন দুইজন। (১) মহাকাল নাগরাজ এবং (২) দেবপুত্র মার। অর্থাৎ, এই দুইজন তাদের নিজ শরীর দিয়ে বুদ্ধের ৩২ প্রকার লক্ষণ এবং ৮০ প্রকারের অনুব্যঞ্জন সমন্বিত অতুলনীয় দেহপ্রভা প্রদর্শন করতে পারেন। যায়হোক, সম্রাট অশোক যখন বুদ্ধের পরিনির্বাণের প্রায় ২৫০ বছরের ও অধিক সময় পর, শাসন সদ্ধর্মের স্থিতি ও উন্নয়নের জন্য ৮৪ ধর্মস্কন্ধ সম্বলিত ৮৪ হাজার ধর্মচৈত্য উত্‍সর্গ করছিলেন ঠিক সেই সময় যাতে ধর্মান্তরায় ও পূন্যান্তরায় না হয়, মারের উপদ্রব না হয় তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো উপগুপ্ত ভন্তেকে। উপগুপ্ত ভন্তে যথাসময়ে দেবপুত্র মারকে ঋদ্ধিশক্তি অধিষ্ঠান জনিত বন্ধন দিয়ে এক পর্বতের সাথে বেঁধে রাখলেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বন্ধন খুলে দিলেন। সেই সময়ে উপগুপ্ত ভান্তে মারকে বললেন আমি শাস্ত্রপাঠ দ্ধারা এবং বুদ্ধের ধর্মের চরম ও পরম সীমায় (অর্হৎ মার্গফল) পৌঁছে সুগতের ধর্মদেহ (ধর্মকায়) দর্শন করেছি। কিন্তু নয়ন রঞ্জন স্বরূপদেহ দেখিনি। এই বলে মারের নিকট বুদ্ধরূপ প্রদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। মার দেবতা উপগুপ্ত ভান্তের কথায় রাজী হলেন কিন্তু শর্ত একটা দিয়ে রাখলেন, যেন কিছুতেই পূজনীয় ভান্তে মারকে বুদ্ধরূপ ধারণের পর বন্দনা না করেন। উপগুপ্ত ভান্তে মারকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে আমি বন্দনা করব না। আজ মার স্বয়ং সর্ব অবয়ব ধরে বুদ্ধরূপ ধারণ করবেন এই কথা নগরের সর্বত্র প্রকাশ হওয়ার পর অগণিত নর নারী ও ভিক্ষু সংঘ ফুল, মালা, সুগন্ধি ও বিবিধ উত্‍কৃষ্টতর পূজোপকরণ নিয়ে উপস্থিত হলেন। পরবর্তীতে মার শ্রদ্ধেয় উপগুপ্ত ভান্তের অভিলাষ পূরণ করার জন্য স্বীয় মাররূপ পরিত্যাগ করে বুদ্ধের সর্ব অবয়ব, ৩২ মহাপুরুষ লক্ষণ ও ৮০ প্রকার অনুব্যঞ্জন এবং অপরুপ ৬ রশ্মি পরিপূর্ণ অচিন্তনীয় স্নিগ্ধ সমুজ্জ্বল প্রভাবশ্রী প্রকাশ করে ধ্যানে সমাসীন হলেন। এতে মনে হলো যেন বুদ্ধগয়ার বোধিদ্রুপ মূলে বজ্রাসনে বুদ্ধ ধ্যানে মগ্ন। বুদ্ধের ষড়রশ্মির আলোয় আলোকিত হলো চারদিক। আগত লোকজন বুদ্ধের অপরূপ দেহকান্তি দেখে যেমনি মোহিত হলেন তেমনি অগাধ শ্রদ্ধায় প্রাবল্যে ধূপ, দীপ, বিচিত্র পুষ্প মাল্য, সুগন্ধদ্রব্যাদি সহ বিবিধ পূজোপকরণ দিয়ে বুদ্ধরূপকে পূজা করলেন। অন্যদিকে পূজ্য উপগুপ্ত ভান্তে স্বয়ং মারের এরূপ দৃশ্য দেখে মনে মনে চিন্তা করলেন, অহো! লোভ, দ্ধেষ, মোহ পরায়ন মার বুদ্ধরূপ ধারণ করার পর কতই না শোভনীয়, অনুপম, অপরূপ ষড়রশ্মি দিব্য কান্তিময় দেহের প্রভায় জ্যোতির্ময় আলোয় জগৎ উদ্ভাসিত হলো। কি জানি, লোভহীন, দ্বেষহীন, মোহহীন তথাগত বুদ্ধ কতই না মহা বৈভব সম্পন্ন সমগ্র চক্রবাল উদ্ভাসিত করা আলোক প্রাপ্ত মহামানব ছিলেন! পূজ্য উপগুপ্ত ভান্তে মারের এরূপ দৃশ্য দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে বুদ্ধরূপ প্রীতিতে বন্দনা না করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না। উপগুপ্ত ভান্তে বন্দনা করার সাথে সাথে মার বুদ্ধরূপ পরিত্যাগ করলেন।

→সম্রাট অশোককে নিয়ে বুদ্ধের ভবিষ্যত্‍বাণী এবং উপগুপ্ত ভান্তের ভূমিকা : ভগবান বুদ্ধ একসময় রাজগৃহে ছিলেন, সেই সময়ে কোন একদিন ভিক্ষুসংঘ সহ পিন্ডাচারণের জন্য এক গ্রামে গমণ করলেন। তখন একদল বালক ধুলাবালি নিয়ে খেলছিল। সেখানে প্রিয়দর্শী নামক শ্রেষ্টীর এক সন্তান ছিল। সে বুদ্ধের তেজোদীপ্ত, শান্ত সুসংযত পদবিক্ষেপ অবলোকন করে এতই শ্রদ্ধান্বিত হলো যে, বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্রেই তার মুষ্টিভরা ধুলি ভরে দিতে আগ্রহী হয়ে উঠল। দিব্যদর্শী করুণাময় বুদ্ধ বালকের এ ধরনের শ্রদ্ধার ভবিষ্যৎ বিষয় দিব্যজ্ঞানে অবহিত হয়ে ভিক্ষাপাত্রটি বাড়িয়ে দিলেন। আর ধুলিপূর্ণ ভিক্ষাপাত্র নিয়ে দিব্যদর্শী বুদ্ধের প্রসন্নোজ্জ্বল আনন সুষ্মিতহাস্যে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো। বুদ্ধের প্রধান সেবক আনন্দ, বুদ্ধের হাসির কারণ জানতে চাইলেন। সর্বজ্ঞাতা বুদ্ধ তখন বালকের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রসন্নকন্ঠে কৌতুহলী ভবিষ্যৎ বাণী উচ্চারণ করে বললেন এই বালক আমার পরিনির্বাণের ২১৮ বত্‍সর পরে এই জম্বুদ্বীপে সম্রাট আশোক নামে একচ্ছত্র রাজা হয়ে এই ভূমন্ডল শাসন পূর্বক ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করবে। শ্রদ্ধার প্রাবল্যহেতু তার ঐকান্তিক চেষ্টায় এই জম্বুদ্বীপে বুদ্ধের শাসন সুরক্ষার জন্য ৮৪ হাজার ধর্মচৈত্য (ধাতুচৈত্য) নির্মাণ করে বিপুল উৎসব অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বুদ্ধশাসনে উত্‍সর্গ করবে। এই মহাপুণ্যানুষ্ঠানে মহা অশুভ শক্তিমান পাপমতি মার তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রকারে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। আর তখন উপগুপ্ত থেরোই মারের অন্তরায় পরাস্ত করে অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করবে।

→মাছের পেটে জীবিত মানব কন্যা ও উপগুপ্ত ভান্তের জন্ম : সে বহুকাল আগের কথা। একদা একদল জেলে সাগরে জাল ফেলে মাছ ধরার জন্য। সে জালে একটি সুন্দর মাছ ধরা পরল যা দেখে জেলেরা খুব খুশি হল। কিন্তু তারা দেখল মাছের পেটে কি যেন নড়া চড়া করছে। তা দেখে সকলে চিন্তিত হয়ে গেল। অবশেষে মাছটি বিক্রি করার জন্য রাজার কাছে নিয়ে গেল। সব শুনে রাজা জেলেদের প্রাপ্য টাকা দিয়ে মাছটি কিনে নিলেন। তারপর জেলেদের বললেন খুব সাবধানে মাছটির পেট কেটে দেখ, সেখানে কি পাওয়া যায়। রাজার আদেশ পেয়ে জেলেরা আস্তে আস্তে মাছের পেট কাটল। তাতে জীবিত একটি মানব কন্যা শিশু দেখা গেল। তা দেখে সকলে অবাক হয়ে রইল। রাজার আদেশে তাঁকে স্নান করিয়ে ঘরে নিয়ে আসল। সেই শিশু কন্যাটি রাজ বাড়ীতে লালিত-পালিত হতে লাগল। মেয়েটি যতই বড় হতে লাগল ততই তার গা থেকে মাছের গন্ধ বের হতে লাগল যা রাজাকে ভাবিয়ে তুলল। একদিন রাজা এক কাঠের মিস্ত্রি ডেকে একটা বড় নৌকা তৈরী করালেন। সে নৌকায় নানা রকম খাদ্য পানীয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে মেয়েটিকে নৌকায় তুলে সাগরে ভাসিয়ে দিলেন। নৌকাটি ভাসতে ভাসতে সাগরের তীরে পৌঁছল। সে জায়গায় এক বৌদ্ধ ভিক্ষু ধ্যান করতেন। নৌকাটি ভান্তের চোখে পরল। ভান্তে মেয়েটিকে দেখে করুণা বশতঃ উদ্ধার করলেন এবং নিজ আশ্রমে নিয়ে গিয়ে লালন পালন করতে লাগলেন। এভাবে মেয়েটির যখন ১৮ বছর হল তখন একদিন সে স্বপ্নযোগে অন্তঃসত্ত্বা হল। সে সবকিছু ভান্তেকে খুলে বলল এবং এরূপে অনুতাপ করতে লাগল, ‘আমি তো কোন পুরুষ সংসর্গ লাভ করি নি তাহলে কেন আমার এ দশা হল?’ ভান্তে, তাকে আশ্বস্ত করে বললেন 'ভয় পেও না। তোমার উদর হতে এক মহাপুরুষের জন্ম হবে' এ বলে ভান্তে তাকে আশীর্বাদ করলেন। ভান্তের অভয় বাণী শুনে মেয়েটি আশ্বস্ত হল। ভান্তের কাছে নানা ধর্ম কথা শুনে তার দিন যেতে লাগল। ভান্তে তাকে সর্বদা সৎ উপদেশ দিতেন। এক বছর পর এক উষালগ্নে মেয়েটির এক সোনার বরণ পুত্র ভুমিষ্ঠ হল। ছেলেটিকে দেখে ভিক্ষুও আনন্দিত হলেন। কর্মের বিপাক, কর্মের বন্ধন, কর্মের ফল, কর্মের গুরুত্ব রহস্য একমাত্র ভগবান সম্যক সম্বুদ্ধ ছাড়া কেউ জানেন না।

→সাত বৎসর বয়সে লাভ করলেন অরহত্ব মার্গফল : এ ঘটনাটি ঘটে বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের প্রায় ২৩০ বছর পর। তখন সম্রাট আশোকের রাজত্ব ছিল। ভন্তে এবং তার মায়ের লালন পালনে ছেলেটি রাজপুত্রের ন্যায় সৌন্দর্যে বিকশিত হয়ে বড় হতে লাগল। ছেলেটি যতই বড় হতে লাগল ভন্তে তাকে ধর্ম শিক্ষা দিতে লাগলেন। বৌদ্ধ ধর্মের গ্রহণীয় আদর্শগুলো গ্রহণ করা এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো বর্জন করা সমস্তই ছেলেটিকে শিক্ষা দিতে লাগলেন। ভন্তের কথা মত ছেলেটিও শিক্ষা গ্রহণ করতে লাগল। এভাবে ছেলেটি বড় হতে লাগল। ছেলেটির বয়স যখন ৭ বৎসর হয়, এমনি এক সময় শুভ লগ্নে ছেলেটি ধ্যান করতে করতে সকল তৃষ্ণা ক্ষয় করে অরহত্ত্ব ফল লাভ করলেন এবং আকাশ মার্গে উপনীত হলেন। অর্হৎলাভীরা জানেন তৃষ্ণা ক্ষয় হলেও প্রবজ্যা গ্রহণ করতে হয় অথবা নির্বাণ লাভ করতে হয়। বিবেচনা করে তিনি প্রব্রজ্যায় গ্রহণ করলেন। কিছুদিন পর একদিন তিনি ভন্তে এবং মাতা থেকে বিদায় নিয়ে অন্য একটি বিহারে চলে গেলেন।

→নাগরাজের নিমন্ত্রণে নাগলোকে গমণ এবং অধ্যাবধি অবস্থান : সে বিহারে কয়েকদিন থাকার পর অন্যান্য ভিক্ষুরা বলাবলি করতে লাগলেন 'এই শ্রমণের শরীর থেকে মাছের গন্ধ বের হচ্ছে কেন?' এভাবে সবাই বলাবলি করে আর থু থু ফেলতে থাকে। শ্রমণ এ কথা জানতে পেরে একদিন চিন্তা করলেন কি করা যায়। কোথায় যাওয়া যায়? পরের দিন ভ্রমণ করতে করতে এক সাগরের পাড়ে গেলেন এবং চিন্তা করতে লাগলেন। সেই সমুদ্রের তলদেশে বাস করতেন এক নাগরাজ। সেই নাগরাজ শ্রমণের চিন্তিত বিষয় জ্ঞানবলে ধরতে পারলেন এবং সাথে সাথে মানবের বেশ ধরে তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। শ্রমণও তাঁকে চিনতে পারলেন কারণ তিনি তো অর্হৎ। তাঁদের দুজনের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনার পর নাগরাজ তাঁকে যাবজ্জীবন নাগভবনে থাকার জন্য প্রার্থনা করলেন। তখন সেই শ্রমণ তাঁর নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে নাগরাজের সাথে নাগলোকে চলে গেলেন। অধ্যাবধি তিনি সেখানে অবস্থান করছেন, তথাগত গৌতম বুদ্ধের শাসনকাল পর্যন্ত জীবিত থাকবেন এবং তিনি সর্বদা মহাসমুদ্রে নাগলোকে অষ্ট সমাপত্তি ধ্যানে নিরত রয়েছেন। আসুন আমরা সেই মহান মারবিজয়ী, অর্হৎ উপগুপ্ত ভান্তের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত স্তোত্র আবৃত্তির মধ্যদিয়ে বন্দনা-পূজা ও প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ত্রিরত্ন পূজায় নিরত হই এবং জগতের সকল প্রাণীর সুখ প্রার্থনায় পূণ্যদান করি।

→উপগুপ্ত ভান্তে বন্দনা
ইদ্ধিমন্তো জ্যোতিমন্তো মহামারং পমদ্দনো‚
সাসনো রকখিতো সন্তো কপ্পকালো অধিটঠিতো;
লোকলযং বজ্জিতা মহাসমুদ্দে বসিতো মুণি;
তং উপগুপ্তং পূজিতা অহং বন্দামি সব্বদা।
ইদং পূজং অনুমোদিতা থেরো মহাকারুণিকো‚
সব্ব মারং অন্তরাযং পমাদন্তো।

→প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১ : উপগুপ্ত ভান্তে যথাসময়ে দেবপুত্র মারকে ঋদ্ধিশক্তি অধিষ্ঠান জনিত বন্ধন দিয়ে এক পর্বতের সাথে বেঁধে রাখলেন। বন্ধনটা কিসের?

উত্তর : প্রথমে বন্ধনটা ছিল কুকুর পঁচার। অর্থাৎ, উপগুপ্ত ভান্তের সাথে মারের যুদ্ধ হয়ছিলো সেখানে মার পরাজিত হয়। এরপর প্রথমে কুকুর পঁচা গলায় লাগিয়ে দিয়েছিল, মার এই পঁচার গন্ধে থাকতে না পেরে অনেকের কাছে যেমন বিভিন্ন দেবরাজ দের কাছে গিয়েছিলেন বন্ধন খুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁরা সবাই অপারগতা জানিয়েছিলেন। পরে উপগুপ্ত ভান্তের কাছে এসে ক্ষমা চাওয়ার পরে ভান্তে নিজেই খুলে দেন। পরবর্তীতে উপগুপ্ত ভান্তে মারকে ঋদ্ধিযুক্ত বন্ধনী দিয়ে বেঁধে রাখেন পাহাড়ে যাতে অনুষ্ঠানে বাধা দিতে না পারে কারণ মারের বিশ্বাস নেই।

প্রশ্ন ২ : বুদ্ধরূপ মারকে উপগুপ্ত ভান্তে বন্দনা করাতে, মার ভান্তেকে বললেন- প্রভু, কেন আমাকে অপরাধী করলেন? আমি কি গুণে আপনার বন্দনার পাত্র হতে পারি? আমাকে বন্দনা করা কি উচিত হয়েছে? কেন আপনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলেন?

উত্তর : উপগুপ্ত ভান্তে মারের এই কথা শুনে বললেন দেখ মারপতি, আমি বুদ্ধরূপ দর্শনে এতই অভিভূত হয়েছিলাম যে মনে হয়েছে শ্রীবুদ্ধের দিব্যজ্ঞানের জ্যোতিঃ যেন পুনরায় পৃথিবীতে উদিত হলো। তাই বুদ্ধরূপ ভিত্তি করে বন্দনা করেছি তোমাকে বন্দনা করিনি। এতে প্রতিজ্ঞাও ভঙ্গ হয় নি।

#বুদ্ধ #বৌদ্ধ

08/03/2026

যেভাবে এবং যার কৌশলে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ভিডিও রিল রক্ষা পেয়েছিল

❐ বিশেষ প্রতিবেদক
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অমূল্য দলিল। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এক ব্যক্তির কৌশল ও সাহসিকতার কারণেই ভাষণের ধারণকৃত দৃশ্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা মহিবুর রহমান খায়ের, যিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবুল খায়ের নামে পরিচিত। বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাটক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিনয়ের মাধ্যমে আবুল খায়ের দর্শকদের কাছে সুপরিচিত ছিলেন।বাংলাদেশ ইতিহাস

তবে অভিনয়ের বাইরেও তিনি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন— জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ধারণকৃত চলচ্চিত্র সংরক্ষণে উদ্যোগী হন।

আবুল খায়ের তখন সরকারের ফিল্ম ডিভিশনের ডিএফপি কর্মকর্তার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ সচল ক্যামেরা বিশেষজ্ঞও ছিলেন।

ভাষণটি তৎকালীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ক্যামেরায় ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মহিবুর রহমান খানের ওরফে অভিনেতা আবুল খায়েরের নির্দেশে ক্যামেরাম্যান জেড এম এ মবিন, ক্যামেরাম্যান এম এ রউফ, ক্যামেরা সহকারী আমজাদ আলী খন্দকার, ক্যামেরা সহকারী এস এম তৌহিদ, ক্যামেরা সহকারী সৈয়দ মইনুল আহসানসহ আরও দুই লাইটবয় সেসময়ের রেসকোর্স ময়দানে পৌঁছান।

ভাষণ ধারণ করতে দুটি ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়। মূল ভাষণ রেকর্ড করতে একটি এবং অন্যান্য ফুটেজ নিতে আরেকটি ক্যামেরা কাজ করে। মূল ভাষণের শব্দ রেকর্ড করার কাজে ছিলেন সৈয়দ মইনুল।

মঞ্চের কাছে দুটো নাগরা (শব্দ ধারণ যন্ত্র) স্থাপন করা হয়। যাতে বঙ্গবন্ধুর একটি কথাও বাদ না পড়ে। তবে একটিই যন্ত্রতেই পুরো ভাষণ রেকর্ড হয়ে যায়।

ভাষণ শেষে শব্দ ধারণ যন্ত্র ও ভিডিও ক্যামেরা খুব সবাধানে সচিবালয়ের ফটক দিয়ে বের করার সময় এক পাকিস্তানি সেনা টেকনিশিয়ানদের ধরেন। তখন তাদের কাছে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখিয়ে পাহার থেকে কৌশলে বেরিয়ে যান।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতের পর চলচ্চিত্র বিভাগের তৎকালীন পরিচালক/কম্পট্রলার মহিবুর রহমান খায়ের আশঙ্কা করেন যে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ৭ই মার্চের ভাষণটির কপি নষ্ট করে ফেলতে পারে। তাই তিনি ভাষণের মূলকপি ও অডিও রেকর্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেন। এ সময়ে ফিল্ম ডিভিশনের অফিস ছিল সচিবালয়ের ভেতরের টিন শেডে।

এপ্রিল মাসের শুরুতে এসব গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ ও অন্যান্য ডকুমেন্ট ৪২ইঞ্চি মাপের একটি স্টিলের ট্রাংকে নিয়ে তিনি সহকারি চিত্রগ্রাহক আমজাদ আলী খন্দকারকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

তার নির্দেশে জনাব আমজাদ আলী খন্দকার ১৯৭১ সালের ৯ই এপ্রিল ভাষণের অডিও-ভিডিও ফুটেজসহ স্টিলের ট্রাংকটি বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পাড়ে নেওয়ার উদ্দেশে বেবিট্যাক্সিতে করে সোয়ারিঘাটে যান। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কড়া টহলের মধ্যেও জনাব আমজাদ আলী খন্দকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জিঞ্জিরা হয়ে মুন্সিগঞ্জের জয়পাড়ায় মজিদ দারোগা বাড়িতে ট্রাংকটি নিয়ে যান।

পেছন পেছন যান মহিবুর রহমান খায়েরও সেখানে যান। তারা ভাষণের রিল ও অন্যান্য ডকুমেন্ট ভর্তি ট্রাংকটি অত্যন্ত সাবধানে সেখানে মাটি খুঁড়ে গর্তে লুকিয়ে রাখেন। তারপর বিয়ের বরযাত্রার ছদ্মবেশে একটি নৌকা বা লঞ্চ সাজানো হয়। সেই লঞ্চে করে রেকর্ডগুলো আগরতলায় পৌঁছে দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেখান থেকে ট্রাংকটি এনে আবারও মূল অফিসের স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর জন্মদিনে এ ধারণকৃত অডিও-ভিডিও তাঁকে উপহার দেওয়া হয়েছিল।

যুদ্ধ চলাকালীন সময় যেসব রেকর্ডেড কপি ভারতে পাঠানো হয়, সেখান থেকে বিশ্বখ্যাত রেকর্ড কোম্পানি এইচএমভির উদ্যোগে এ ভাষণের ৩ হাজার কপি বিনামূল্যে বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করা হয়’।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ষড়যন্ত্রকারীরা ৭ই মার্চের ভাষণের রিল নষ্ট করতে চলচ্চিত্র বিভাগে তল্লাশি চালায়। চলচ্চিত্র শাখার কর্মীরা সে সময় আবারও আবুল খায়েরের কৌশলে ভাষণের মূল পিকচার নেগেটিভ ও সাউন্ড নেগেটিভসহ অন্যান্য ফুটেজ ভিন্ন একটি ছবির ক্যানে ঢুকিয়ে ফিল্ম লাইব্রেরিতে লুকিয়ে রাখেন।

স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ষড়যন্ত্রকারীরা ৭ই মার্চের ভাষণ মনে করে ভুলে অন্য রিল পুড়িয়ে ফেলে এবং ৭ই মার্চের ভাষণের আসল রিল অক্ষত থাকে। পরবর্তীতে তার যত্ন ও সংরক্ষণেই বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণের দৃশ্য টিকে থাকে।

আর এভাবেই রক্ষা পায় ঐতিহাসিক এই ভাষণের দলিল। এছাড়া ৭ই মার্চের ভাষণ ধারণের স্মৃতিবাহী শব্দধারণ যন্ত্র বা নাগ্রা মেশিন এবং টু-সি ক্যামেরাটি এখনো চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে সংরক্ষিত ছিল ২০২৪-এর জুলা্ দাঙ্গার আগ পর্যন্ত। সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়নি।

আবুল খায়েরের কারণেই আজকের প্রজন্ম দেখতে ও শুনতে পাচ্ছে স্বাধীনতার সেই অমর আহ্বান— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

৭ মার্চের ভাষণ, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণসহ বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য যে সব ভাষণের ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়, তার প্রায় সবগুলোই চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের চলচ্চিত্র শাখার কলাকুশলিদের ধারণ করা। যার নেতৃত্বে ছিলেন আবুল খায়ের।

অনেকেই আবুল খায়েরকে শুধুমাত্র অভিনেতা হিসেবেই জানেন, তাদের কাছে হয়তো এই ঐতিহাসিক তথ্যটি বেশ চমকপ্রদ।

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নাটকের মাধ্যমেই অভিনয় জগতে জনপ্রিয়তা লাভ করেন আবুল খায়ের। তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋতিক কুমার ঘটকের পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।

এছাড়া, চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ই মার্চের ভাষণ যেমন এক অবিস্মরণীয় দলিল, তেমনি সেই দলিল রক্ষায় আবুল খায়েরের অবদান ইতিহাসের নেপথ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এখন বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য। ইউনাইটেড নেশান্স এডুকেশন, সাইন্স অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন-ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর এ ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। ৭ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য গৌরব ও আনন্দের। এ স্বীকৃতির ফলে কালোত্তীর্ণ ভাষণটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায় এবং মুক্তির পথে এগিয়ে চলতে উজ্জীবিত করবে।

সরকারের সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালনকালে ৭ই মার্চের ভাষণ ও এর ইতিহাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। তিনি এর ওপর একটি প্রামাণ্য পুস্তিকাও প্রকাশ করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক হিসেবে বদলি হন।বাংলাদেশ ইতিহাস

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ২০১৫ সালে ইউনেস্কোতে প্রস্তাব পাঠান। একই সময়ে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খানও ইউনেস্কোতে আলাদা প্রস্তাব পাঠান। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, তথ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তৎকালীন পররাষ্টমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোর স্থায়ী প্রতিনিধি শহীদুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরপর তথ্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সঙ্গে পরামর্শ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের অন্যতম দালিলিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউনেস্কোতে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রস্তাব পাঠায়। এসব প্রস্তাব দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

এই ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণা যোগাবে। বিশ্ববাসী যুগের পর যুগ বাঙালী জাতির গৌরবোজ্জল ইতিহাস জানতে আগ্রহী হবে।


#মুক্তিযুদ্ধেরইতিহাস
#রেসকোর্স
#যুদ্ধ১৯৭১

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Patenga?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Jalsha Market, Jubilee Road
Patenga

Opening Hours

09:00 - 17:00