VIP SADHU
08/07/2026
ইসলাম নিয়ে যে কারো মন্দ কথায়". আমরা তৎপর থাকি দাতভাংগা জবাব দিতে, পাল্টা গালি দিতে, হুংকার দিয়ে প্রতিবাদ করতে, তাদের জন্য খারাপ দোয়া করতে।
আর আল্লাহ আমাদের বলেন সবসময় মন্দকে প্রতিহত করতে হবে ভালো দ্বারা। তো নবীজি কার আদেশ অনুসরণ করেছেন? আপনার পছন্দের হুজুরের না আল্লাহর?
(সূরাঃ হা-মীম-সেজদাহ ৪১, আয়াত ৩৩,৩৪)"কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা যে আল্লাহ্র প্রতি মানুষকে আহ্বান করে, সৎকাজ করে এবং বলে, ‘আমি তো অনুগতদের/মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। ভাল ও মন্দ সমান হইতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সঙ্গে যাহার শত্রুতা আছে, সে হইয়া যাইবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।"
যারা ধৈর্য ধরে, ভালোর দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করে, তারা দুবার পুরুষ্কার পাবে। এই কথা আমাদের লেবাসধারী ধর্ম বিক্রেতারা বলে না। তাই কুটুক্তিকারীদের মারা, গালি দেয়াকে আমরা ইসলাম কায়েম মনে করি।
(সূরাঃ আল-কাসাস ২৮, আয়াত ৫৪)"উহাদেরকে দুইবার পারিশ্রমিক প্রদান করা হইবে, যেহেতু উহারা ধৈর্যশীল এবং উহারা ভালর দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করে ও আমি উহাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে উহারা ব্যয় করে।"
এবার নিচের আয়াতগুলো বুঝে পড়ে দেখুন আল্লাহ আমাদের কি নির্দেশ দিয়েছেন, আর আমরা কি করি আর আমাদের হুজুররা কি বলে। খারাপ কথায় বলতে হবে ভালো কথা।
(সূরাঃ মুমিনূন ২৩, আয়াত ৯৬)"মন্দের মুকাবিলা কর যাহা উত্তম তাহা দ্বারা; উহারা যাহা বলে আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।"
(সূরাঃ রা'দ ১৩, আয়াত ২২)"এবং যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য ধৈর্য ধারণ করে, সালাত কায়েম করে (বিধানসমূহ নিরবিচ্ছিন্ন অনুসরণ করে), আমি তাহাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়াছি তাহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং যাহারা ভাল দ্বারা মন্দ দূরীভূত করে, ইহাদের জন্য শুভ পরিণাম।"
খারাপ কথার জবাবে, ভালো কথা বলা, নম্রভাবে কথা বলার নির্দেশ আল্লাহ বার বার দিয়েছেন।
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ২৮)"এবং যদি উহাদের হইতে তোমার মুখ ফিরাইতেই হয়, তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায়, তাহা হইলে উহাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলিও;।"
এমনকি যারা সীমালংঘন করেছে তার সাথেও আল্লাহ নম্রতার নির্দেশ দিয়েছেন।
(সূরাঃ ত্বোয়া-হা ২০, আয়াত ৪৩,৪৪)"তোমরা উভয়ে ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমা - লংঘন করিয়াছে। ‘তোমরা তাহার সঙ্গে নম্র কথা বলিবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করিবে অথবা ভয় করিবে।"
আল্লাহর বান্দা হতে হলে, আপনাকে নম্রভাবে চলতে হবে।
(সূরাঃ আল-ফুরকান ২৫, আয়াত ৬৩)"আর রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’।"
(সূরাঃ আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৯৯)"তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর,সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।"
(সূরাঃ নাহল ১৬, আয়াত ১২৬-১২৮)"যদি তোমরা শাস্তি দাওই, তবে ঠিক ততখানি শাস্তি দিবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হইয়াছে। তবে তোমরা ধৈর্য ধারণ করিলে ধৈর্যশীলদের জন্য উহাই তো উত্তম। তুমি ধৈর্য ধারণ কর, তোমার ধৈর্য তো আল্লাহ্রই সাহায্যে। উহাদের দরুন দুঃখ করিও না এবং উহাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনঃক্ষুণ্ন হইও না। আল্লাহ্ তাহাদেরই সঙ্গে আছে যাহারা সংযমের অবলম্বন করে এবং যাহারা সৎকর্মপরায়ণ।"
(সূরাঃ আশ-শুরা ৪২, আয়াত ৪০-৪৩)"মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ এবং যে ক্ষমা করিয়া দেয় ও আপোস - নিষ্পত্তি করে তাহার পুরস্কার আল্লাহ্র নিকট আছে। আল্লাহ্ জালিমদেরকে পছন্দ করেন না। তবে অত্যাচারিত হইবার পর যাহারা প্রতিবিধান করে তাহাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে না; কেবল তাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হইবে যাহারা মানুষের উপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহাচরণ করিয়া বেড়ায়, উহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি। অবশ্য যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করিয়া দেয়, উহা তো হইবে দৃঢ় সংকল্পেরই কাজ।"
ধর্মের নামে যারা জবরদস্তি করে, তারা আল্লাহ আদেশ অমান্য করে, এদের কুরআনের জ্ঞান নেই।
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৫৬)"দীন গ্রহণে জোর - জবরদস্তি নাই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ হইতে সুস্পষ্ট হইয়াছে। যে তাগূতকে অস্বীকার করিবে ও আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস করিবে সে এমন এক মযবূত হাতল ধরিবে যাহা কখনও ভাঙ্গিবে না। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।"
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৯৯,১০০)"তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিলে পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহারা সকলেই অবশ্যই বিশ্বাস আনিত; তবে কি তুমি বিশ্বাসী হইবার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করিবে ? আল্লাহ্র অনুমতি ব্যতীত বিশ্বাস আনয়ন কাহারও সাধ্য নয় এবং যাহারা অনুধাবন করে না আল্লাহ্ তাদেরকে কলুষলিপ্ত করেন।"
(সূরাঃ আল-কাসাস ২৮, আয়াত ৫৬)"তুমি যাহাকে ভালবাস, ইচ্ছা করিলেই তাহাকে সৎপথে আনিতে পারিবে না। তবে আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে।
07/07/2026
-"কুরআন ছাড়া অন্য কোন কিছুর দলিল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য না"....?!-"কুরআন ছাড়া অন্যকোন কিতাব দিয়ে আমল করলে, সে আমল আল্লাহর কাছে গৃহিত হবে না".? অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেস্তাগন, নবী-রাসুল, কুরআন-কিতাব বিশ্বাস করে, আল্লাহকে একমাত্র বিধানদাতা হিসাবে মেনে নেওয়ার পরও বিভিন্ন শেরেকযুক্ত ও বিভিন্ন মতবাদের বিধিবিধানমান্য করে।
তবে কুরআন বলছে, আল্লাহর রাসুল তাদের মতো এইরকম শেরেকযুক্ত বিধিবিধানমান্য করতেন না। কারণ, বর্তমানের বিধিবিধানমান্যে আল্লাহর কিতাবের বিধানে পুরোপুরি না থাকাতে তা হয় শেরেকযুক্ত বিধিবিধানমান্য। যার করাণে মানুষের বিধিবিধানমন্য ও কর্ম সবই নষ্ট হয়ে যায়। তবে প্রতিটি মানুষই মনে করে যে, তারা সঠিকভাবেই বিধিবিধানমান্য করছে।অথচ আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে বিধিবিধানমান্যের যে নিয়ম-পদ্ধতি দিয়েছেন তা মানুষ পড়েও দেখে না। আল্লাহ রাসুলকে বলেন...
(সূরা: হুদ ১১, আয়াত ১০৯)"সুতরাং উহারা যাহাদের ‘বিধিবিধানমান্য করে তাহাদের সম্বন্ধে সংশয়ে থাকিও না, পূর্বে উহাদের পিতৃপুরুষেরা যাহাদের ‘বিধিবিধানমান্য করিত উহারা তাহাদেরই ‘বিধিবিধানমান্য করে। অবশ্যই আমি উহাদেরকে উহাদের প্রাপ্য পুরাপুরি দিব - কিছুমাত্র কম করিব না।"
মানুষ যে বিধিবিধানমান্য করে রাসুল সেভাবে বিধিবিধানমান্য তথা জীবন পরিচালনা করতেন না। রাসুলের আগে থেকে ও রাসুলের সময়ও মসজিদ ও ক্বিবলা ছিলো। সেই সময় কারো কারো নামাজ ছিলো শিষ বাজানো, কারো নামাজ ছিলো তালি বাজানো, কেউ কেউ সালাতে দাড়াতো শৈথিল্যের সহিত, কেউ কেউ রাসুলকে সালাতে দাড়ানো অবস্থায় রেখেই চলে যেতো ইত্যাদি। বর্তমানেও এক এক দেশে এক এক এলাকাতে এক এক রখম নামাজ ও বিধিবিধামান্যেও ভিন্ন ভিন্ন দেখা যায়। মানুষ শয়তানের ধোকায় পরে যে ক্বিবলার অনুসরণ করতো ও মজজিদে যেরকম বিভ্রান্তের বিধিবিধানমান্য করতো, আল্লাহ রাসুলকে সেই মসজিদে যেতেও নিষেধ করেছেন।
(সূরা: আত-তাওবা ৯, আয়াত ১০৭-১১০)"এবং যাহারা মসজিদ নির্মাণ করিয়াছে ক্ষতিসাধন, অশ্বীকারী ও বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি সংগ্রাম করিয়াছে তাহার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তাহারা অবশ্যই শপথ করিবে, ‘আমরা সদুদ্দেশ্যেই উহা করিয়াছি’; আল্লাহ্ সাক্ষী, তাহারা তো মিথ্যাবাদী। তুমি ইহাতে কখনও দাঁড়াইও না। যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন হইতেই স্থাপিত হইয়াছে তাক্ওয়ার উপর, উহাই তোমার সালাতের জন্য অধিক যোগ্য। সেখানে এমন লোক আছে যাহারা পবিত্রতা অর্জন ভালবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে আল্লাহ্ পছন্দকরেন। যে ব্যক্তি তাহার গৃহের ভিত্তি আল্লাহ্ভীতি ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করে সে উত্তম, না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তাহার গৃহের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের ধসোন্মূখ কিনারায়, ফলে যাহা উহাকেসহ জাহান্নামের অগ্নিতে পতিত হয় ? আল্লাহ্ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। উহাদের গৃহ যাহা উহারা নির্মাণ করিয়াছে তাহা উহাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হইয়া থাকিবে। যে পর্যন্ত না উহাদের অন্তর ছিন্ন - বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।"
এরা কারা? উত্তর: এরা সিমালংঘনকারী। এরা বর্তমানেও সবস্থানে তাদের ছুন্নত বা তাদের নিয়ম নিতি চালু রেখেছে।কুরআনের অর্থ না পড়ার কারণে মানুষ তা বুঝতে পারে না
(সূরা: আল-বাকারা ২, আয়াত ১৪৫)"যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তুমি যদি তাহাদের নিকট সমস্ত দলীল পেশ কর, তবুও তাহারা তোমার কিব্লার অনুসরণ করিবে না; এবং তুমিও তাহাদের কিব্লার অনুসারী নও, এবং তাহারাও পরস্পরের কিব্লার অনুসারী নয়। তোমার নিকট জ্ঞান আসিবার পর তুমি যদি তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ কর, নিশ্চয়ই তখন তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।"
(সূরা: আল-আনআম ৬, আয়াত ৭০)"যাহারা তাহাদের দীনকে/কুরআনে-আদর্শকে ক্রীড়া - কৌতুকরূপে গ্রহণ করে এবং পার্থিব জীবন যাহাদেরকে প্রতারিত করে তুমি তাহাদের সঙ্গ বর্জন কর এবং ইহা/কুরআন দ্বারা তাহাদেরকে উপদেশ দাও, যাহাতে কেহ নিজ কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস না হয়, যখন আল্লাহ্ ব্যতীত তাহার কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকিবে না এবং বিনিময়ে সব কিছু দিলেও তাহা গৃহীত হইবে না। ইহারাই নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস হইবে ; কুফরীহেতু ইহাদের জন্য রহিয়াছে অত্যুষ্ণ পানীয় ও মর্মন্তুদ শাস্তি।"
(সূরা: হজ্জ্ব ২২, আয়াত ৬৭)"আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত করিয়া দিয়াছি ‘বিধিবিধানমান্যের পদ্ধতি - যাহা উহারা অনুসরণ করে। সুতরাং উহারা যেন তোমার সঙ্গে বিতর্ক না করে এই ব্যাপারে। তুমি উহাদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর, তুমি তো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত।"
কুরআন পড়লেই এই নিয়মগুলো পাওয়া যাবে। যারা বলে কুরআনে সবকিছু নাই, তারা আল্লাহকে মিথ্যাবাদী ঘোষনা করলো। কারণ, আল্লাহ বলেছেন, কুরআনে সবকিছুই দেয়া হয়েছে। তবে মানুষের বানানো নিয়ম-নিতি আল্লাহর কুরআনে থাকবে কেনো?
(সূরা: নাহল ১৬, আয়াত ৮৯)"সেই দিন আমি উত্থিত করিব প্রত্যেক সম্প্রদায়ে তাহাদেরই মধ্য হইতে তাহাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকে আমি আনিব সাক্ষীরূপে ইহাদের বিষয়ে। আমি আত্মাসমপর্ণকারীদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিলাম।"
(সূরা: কাহফ ১৮, আয়াত ১০৪)"উহারাই তাহারা, ‘পার্থিব জীবনে যাহাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তাহারা মনে করে যে, তাহারা সৎকর্মই করিতেছে।"
(সূরা: হজ্জ্ব ২২, আয়াত ১১)" মানুষের মধ্যে কেহ কেহ আল্লাহ্র ‘বিধিবিধানমান্য করে দ্বিধার সঙ্গে; তাহার মঙ্গল হইলে তাহাতে তাহার চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং কোন বিপর্যয় ঘটিলে সে তাহার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া যায়। সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুনিয়াতে ও আখিরাতে ; ইহাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।"
(সূরা: হজ্জ্ব ২২, আয়াত ৭১)"এবং উহারা ‘বিধিবিধানমান্য করে আল্লাহ্র পরিবর্তে এমন কিছুর যাহার সম্পর্কে তিনি কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই এবং যাহার সম্বন্ধে তাহাদের কোন জ্ঞান নাই। আর জালিমদের কোন সাহায্যকারী নাই।"
এই আয়াতে আরবীতে "ইয়া'বুদু" শব্দ রয়েছে,যার অর্থ এবাদত/বিধিবিধানমান্য। বর্তমানেও মানুষ যে বিধিবিধানমান্য করে তাদের সেই বিধিবিধানমান্যের পুরোপুরি কোনো দলিল-প্রমাণ মানুষ কুরআন থেকে দেখাতে পারে না এবং তারা দেখতেও চায় না। তাদেরকে কুরআন খুলে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার পরেও আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করাতে তাদের আমল বা কর্ম সবই নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন....
(সূরা: কাহফ ১৮, আয়াত ১০৫)"উহারাই তাহারা, যাহারা অস্বীকার করে উহাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ ও তাঁহার সঙ্গে উহাদের সাক্ষাতের বিষয়। ফলে উহাদের কর্ম নিষ্ফল হইয়া যায়; সুতরাং কিয়ামতের দিন উহাদের জন্য ওজনের কোন ব্যবস্থা রাখিব না।"
(সূরা: মরিইয়াম ১৯, আয়াত ৮১,৮২)"তাহারা আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য বিধানদাতা গ্রহন করে এইজন্য, যাহাতে উহারা তাদের সহায় হয় ; কখনই নহে; উহারা তো তাহাদের ‘বিধিবিধানমান্যে অস্বীকার করিবে এবং তাহাদের বিরোধী হইয়া যাইবে।"
বিপক্ষে চলে যাবে অর্থাৎ যাদের তৈরি করা নিয়ম-নিতি মানা হয়েছিলো তারা বিপক্ষে চলে যাবে। কোনো মানুষ যদি বিধিবিধানমান্যের জন্য নিয়ম-নিতি বা বিধান রচনা করে, আর সাধারণ মানুষকে যদি সেই বিধানের মতো চালায় তাহলে বিধান রচনাকারী নিজেই ইলাহা বা বিধানদাতা হয়ে যায়, আইনদাতা হয়ে যায়। তখন আর তা পুরোপুরি এক আল্লাহর এবাদাত বা বিধিবিধানমান্য থাকে না। আল্লাহর বিধিবিধানমান্যের পরিবর্তে তা দুই ইলাহের বা বিধানদাতা এবাদাত বা বিধিবিধানমান্য হয়ে যায়। যাকে বলা হয় দুই ইলাহার বিধিবিধানমান্য অর্থাৎ আল্লাহর শরীক হয়ে যায়।
(সূরা: নাহল ১৬, আয়াত ৫১)"আল্লাহ্ বলিলেন, ‘তোমরা দুই বিধানদাতা গ্রহণ করিও না; তিনিই তো একমাত্র বিধানদাতা। সুতরাং আমাকেই ভয় কর।"
কিছু নিয়ম আল্লাহর এবং কিছু নিয়ম মানুষের মিলে দুই বিধানদাতক অনুসরণ। কাজেই সেই শরীক বা শিরকযুক্ত বিধিবিধানমান্য হয়ে যায়, কাজেই নিষ্ঠাপূর্ণ বিধিবিধানমান্য একমাত্র এক বিধানদাতার অর্থাৎ আল্লাহর জন্য। আল্লাহ বলেন....
(সূরা: আল-যুমার ৩৯, আয়াত ২,৩)"আমি তোমার নিকট এই কিতাব সত্যসহ অবতীর্ণ করিয়াছি। সুতরাং আল্লাহ্র ‘বিধিবিধানমান্য কর তাঁহার আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া। জানিয়া রাখ, অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহ্রই প্রাপ্য। যাহারা আল্লাহ্র পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তাহারা বলে, ‘আমরা তো ইহাদের আনুগত্য এইজন্যই করি যে, ইহারা আমাদেরকে আল্লাহ্র সানিধ্যে আনিয়া দিবে।’ উহারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করিতেছে আল্লাহ্ তাহার ফয়সালা করিয়া দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও অবিশ্বাসী, আল্লাহ্ তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।"
লক্ষ্য করুন! বিধিবিধানমান্য আগে আল্লাহ কিতাবের কথা বলেছেন, যথার্থ কিতাবের মাধ্যমে যেনো নিষ্ঠার সাথে বিধিবিধানমান্য করা যায়। রবের বিধিবিধানমান্যে কাউকে শরিক না করি। আল্লাহ রাসুলকে বলতে বলেছেন....
(সূরা: কাহফ ১৮, আয়াত ১১০)"বলুন, ‘আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের বিধানদাতা একমাত্র বিধানদাতা। সুতরাং যে তাহার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও তাহার প্রতিপালকের ‘বিধিবিধানমান্যে কাহাকেও শরীক না করে।"
(সূরা: আন-নিসা ৪, আয়াত ৩৬)"তোমরা আল্লাহর ‘বিধিবিধানমান্য করিবে ও কোন কিছুকে তাঁহার শরীক করিবে না; এবং পিতা - মাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট - প্রতিবেশী, দূর - প্রতিবেশী, সঙ্গী - সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পসন্দ করেন না দাম্ভিক, অহংকারীকে।"
(সূরা: ইউছুফ ১২, আয়াত ১০৬)"তাহাদের অধিকাংশ আল্লাহে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁহার শরীক করে।"
(সূরা: আল-ফুরকান ২৫, আয়াত ১৭)"এবং যেদিন তিনি একত্র করিবেন উহাদেরকে এবং উহারা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাহাদের ‘বিধিবিধানমান্য করিত তাহাদেরকে, সেদিন তিনি জিজ্ঞাসা করিবেন, ‘তোমরাই কি আমার এই বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করিয়াছিলে, না উহারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হইয়াছিল?"
(সূরা: ইয়াসীন ৩৬, আয়াত ৬০,৬১)"হে বনী আদম! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দিই নাই যে, তোমরা শয়তানের দাসত্ব করিও না, কারণ সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? আর আমারই ‘বিধিবিধানমান্য কর, ইহাই (কুরআনই) সরল পথ।"
আল্লাহর বিধিবিধানমান্য মানুষের তৈরি করা বিধিবিধান যোগ করলে তা দুই বিধানদাতার তথা শয়তানের বিধিবিধানমান্য হয়ে যায় কারণ, শয়তানই মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রনা দিয়ে ঐ বিধিবিধানম্য শিখিয়ে দেয়।
(সূরা: ইয়াসীন ৩৬, আয়াত ৬২)"শয়তান তো তোমাদের বহু দলকে বিভ্রান্ত করিয়াছিল, তবুও কি তোমরা বুঝ নাই?"
(সূরা: আন-নূর ২৪, আয়াত ৫৫)"তোমাদের মধ্যে যাহারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাহাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিতেছেন যে, তিনি অবশ্যই তাহাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করিবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করিয়াছিলেন তাহাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাহাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করিবেন তাহাদের দীনকে (কুরআনের আদর্শকে) যাহা তিনি তাহাদের জন্য পসন্দ করিয়াছেন এবং তাহাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাহাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করিবেন। তাহারা আমার ‘বিধিবিধানমান্য করিবে, আমার কোন শরীক করিবে না, অতঃপর যাহারা অকৃতজ্ঞ হইবে তাহারা তো সত্যত্যাগী।"
04/07/2026
আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং ঘোষণা করেছেন যে, কুরআনই পূর্ণাঙ্গ, বিস্তারিত, স্পষ্ট এবং একমাত্র হেদায়েতের উৎস।
সূরা আন-নাহল (১৬:৮৯)
“আর আমি আপনার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছি, যা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।”
সূরা আল-আন'আম (৬:৩৮)
“আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি...”
সূরা আল-আন'আম (৬:১১৪-১১৫)
“তবে কি আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো বিচারক খুঁজব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত কিতাব নাযিল করেছেন...
তোমার রবের বাণী পূর্ণ সত্য ও ন্যায় দিয়ে সম্পূর্ণ। তাঁর বাণীর কোনো পরিবর্তনকারী নেই।”
সূরা আল-ক্বমর (৫৪:১৭, ২২, ৩২, ৪০)
চারবার আল্লাহ বলেছেন:
“আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্য। অতএব, কোনো চিন্তাশীল আছে কি?”
সূরা আয-যুমার (৩৯:২৩)
“আল্লাহ উত্তম বাণী নাযিল করেছেন—একটি কিতাব যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বারবার পঠিত... এটাই আল্লাহর হেদায়েত।”
সূরা আয-যুমার (৩৯:২৭-২৮)
“আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরনের দৃষ্টান্ত দিয়েছি, যাতে তারা অনুধাবন করে। এটি আরবি ভাষায়, বক্রতামুক্ত, যাতে তারা সাবধান হয়।”
সূরা আল-মায়িদাহ (৫:৩)
“...আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।
যিনি কুরআনকে হেদায়েত হিসেবে গ্রহণ করেন, তাঁর আর কোনো সন্দেহ থাকে না।
“ফাবি আয়্যি হাদীসিন বা’দাহু ইউ’মিনুন?”
— এরপর আর কোন কথায় তারা ঈমান আনবে?
যারা চিন্তা করে, তাদের জন্য কুরআনই যথেষ্ট। 💚
04/07/2026
মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সামরিক দিক থেকে তুরস্ক সবচেয়ে শক্তিশালী। শুধু মুসলিম বিশ্ব না, ন্যাটোর মধ্যেও আমেরিকার পরেই তুরস্কের সেনাবাহিনী সবচেয়ে বড়।
অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্র যে আমেরিকা-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কিছু করে না, তাদের ক্ষেত্রে তাও একটা অজুহাত আছে যে, তাদের সেই সক্ষমতাই নাই। কিন্তু তুরস্কের আসলেই অনেক কিছু করার সক্ষমতা আছে।
সরাসরি যুদ্ধ না করেও চাপ সৃষ্টি করে অনেক কিছু আদায় করার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তারপরেও গাযার গণহত্যার দীর্ঘ দুই বছরে সুন্দর সুন্দর কিছু বক্তব্য-বিবৃতির বাইরে তুরস্ক বলতে গেলে কিছুই করেনি।
তুরস্কের এই ভূমিকা অনেককেই হতাশ করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে। সেটাই প্রকাশ পেয়েছে তুরস্কের ডেলিগেশনের সামনে ইরানি ক্বারীর তিলাওয়াত করা কুরআন শরিফের আয়াতের মধ্য দিয়ে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা উপলক্ষ্যে উপস্থিত প্রতিটা দেশের প্রতিনিধিদের সামনে ইরান ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করেছে। প্রতিটাই ঠিক সেই দেশের জন্য উপযোগী।
তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া প্রতিনিধি দলের সামনে তারা তিলাওয়াত করেছে সূরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত:
মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে, আর যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদেরকে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন; তাদের প্রত্যেকের জন্য আল্লাহ জান্নাতের ওয়াদা করেছেন...
"অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে..." তুরস্কের জন্য এর চেয়ে চমৎকার উপমা আর কী হতে পারত?
এর আগে লেগো মুভি দিয়ে, হিউমারাস টুইট দিয়ে, ইরান ন্যারেটিভ ওয়ারে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। এবার প্রতিটা দেশের প্রতিনিধিদের সামনে ঠিক সেই দেশের উপযোগী কুরআনের আয়াত সিলেক্ট করার মধ্য দিয়ে তারা আবারও নিজেদের সফিস্টিকেশনের প্রমাণ দিলো। জাস্ট ব্রিলিয়ান্ট!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Nawga Ullapara
Pabna
707