PUST Higher Study Association
থিসিস থেকে জার্নাল আর্টিকেল লেখার পদ্ধতি
থিসিস থেকে জার্নাল আর্টিকেল তৈরির জন্য Elsevier Researcher Academy-এর আটটি পরামর্শ:
১. সঠিক জার্নাল নির্বাচন
প্রথমেই তোমার গবেষণার বিষয়, ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং প্রাপ্ত ফলাফল কোন জার্নালের aims and scope এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা স্পষ্টভাবে বোঝার চেষ্টা করো। জার্নালের ওয়েবসাইটে গিয়ে aims and scope, article structure এবং reference style ভালোভাবে পড়ো। এতে অপ্রাসঙ্গিক জার্নালে সাবমিশনের ঝুঁকি কমে যাবে।
২. থিসিসের দৈর্ঘ্য সংক্ষিপ্ত করা
জার্নাল আর্টিকেল সাধারণত থিসিস, ডিসার্টেশন বা ক্যাপস্টোনের তুলনায় অনেক ছোট হয়। তাই পুরো থিসিসকে সংক্ষেপ করে নয়, বরং মূল বিষয়বস্তুকে নতুনভাবে compact রূপে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
থিসিসকে একটি আলাদা একাডেমিক কাজ হিসেবে বিবেচনা করো। একই ধারণা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুনভাবে প্যারাফ্রেজ করো। থিসিসের প্রয়োজনীয় অংশগুলো নতুন করে লিখো। গবেষণার মূল point গুলো স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করো।
৩. Abstract নতুনভাবে লেখা
বেশিরভাগ জার্নালে abstract এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ থেকে ২৫০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এখানে গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, প্রধান ফলাফল এবং গবেষণার গুরুত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে।
৪. Introduction অংশ পুনর্গঠন
থিসিসে সাধারণত একাধিক research question বা hypothesis অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু জার্নাল আর্টিকেলে সব অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন হয় না।
গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বা কয়েকটি research question নির্বাচন করো। Introduction অংশ সংক্ষিপ্ত ও ফোকাসড রাখো। Target জার্নালে ইতিমধ্যে প্রকাশিত অন্তত তিনটি আর্টিকেল দেখে তাদের কাঠামো অনুসরণ করো।
৫. Methods অংশ সংক্ষেপে উপস্থাপন
Methods অংশ অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ করা থেকে বিরত থাকো। গবেষণার approach বা তাত্ত্বিক পটভূমি নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা বাদ দাও। পদ্ধতির মূল বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করো। Target journal-এ ইতিমধ্যে প্রকাশিত অন্তত তিনটি paper দেখে তাদের format ও উপস্থাপনার ধরন অনুসরণ করো।
৬. Results অংশে মূল ফলাফল উপস্থাপন
Results অংশে কেবল research question এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রধান ফলাফলগুলো উপস্থাপন করবে। অতিরিক্ত বা exploratory বিশ্লেষণ থাকলে সেগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করাই যথেষ্ট।
৭. Discussion অংশ স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত রাখা
Discussion শুরু করবে ফলাফলের ব্যাখ্যা দিয়ে। এখানে results পুনরাবৃত্তি করবে না। Findings বিদ্যমান literature এর সঙ্গে যুক্ত করো। গবেষণাটি কীভাবে নতুন ধারণা যোগ করেছে, ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে তুলে ধরো।
৮. রেফারেন্স সীমিত রাখা
অধিকাংশ জার্নালে রেফারেন্সের সংখ্যা সীমিত থাকে। সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো নির্বাচন করো। Citation এবং reference format সঠিকভাবে অনুসরণ করো। Reference manager ব্যবহার করলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হবে।
অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্স বা পিএইচডি থিসিস সম্পন্ন করার পর বুঝতে পারেন না কীভাবে সেই কাজকে জার্নাল আর্টিকেলে রূপান্তর করবেন বা কোথা থেকে শুরু করবেন। এই বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে Elsevier Researcher Academy সম্প্রতি “How to turn your thesis into an article” শিরোনামে একটি বিনামূল্যের অনলাইন কোর্স চালু করেছে।
যে কেউ যেকোনো সময় বিনামূল্যে এই কোর্সটি করতে পারবে।
🔗 কোর্সের লিংক কমেন্টে দেওয়া আছে!
---------------
Azizul Haque
Dr. Md Ashiqur Rahman
ইরাসমুস নিয়ে শতসহস্র কৌতূহল আর অভিজ্ঞতার আলোকে আমার উত্তর (১)
একজন প্রশ্ন করেছেন: ইরাসমাসের স্কলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা আসলে কি চায়? ফ্রেশ গ্রাজুয়েট নাকি এক্সপার্ট?
ধরুন যে ফ্রেশ গ্রাজুয়েট আর যে মাস্টার্স কমপ্লিট করছে দুইজনের ক্ষেত্রে রিভিউ প্রসেসে কাকে প্রাধান্য দেয় তারা?
মাস্টার্সের রেজাল্ট যদি অনার্সের চেয়ে খারাপ হয় সেক্ষেত্রে কি সেটা উল্লেখ করা ঠিক হবে? (এটা জিজ্ঞেস করার কারন হচ্ছে মেক্সিমাম প্রোগ্রামে একাডেমিক রেজাল্টের উপর বেশি প্রায়োরিটি দেয়, according to website)
আমার একটা জার্নাল, তিনটা কনফারেন্স আছে। মাস্টার্সের কাজটাও কনফারেন্স হয়েছে।
কাইন্ডলি একটু পরামর্শ দিবেন। কি করা উচিত?
Thank you
----_--------_--------
অভিজ্ঞতার আলোকে আমার উত্তর:
ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স স্কলারশিপ প্রোগ্রামে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ফ্যাক্টর বিবেচনা করা হয়, যেমন একাডেমিক পারফরম্যান্স, মোটিভেশন লেটার, গবেষণা প্রকাশনা, ওয়েল ব্যালেন্সড একাডেমিক সিভি যেখানে শিক্ষার্থীদের আবেদন করা প্রোগ্রামকে ফোকাস করে একাডেমিক বিষয়গুলোকে হাইলাইট করা, ২টি রিকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সাথে অ্যাপ্লিকেন্টের ফিটনেস, ইত্যাদি। কারও যদি প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স থাকে সেটা নিঃসন্দেহে এপ্লিকেশনটিকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করবে।
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর এবং অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:
১. ইরাসমাস স্কলারশিপে তারা আসলে কী চায়? ফ্রেশ গ্রাজুয়েট নাকি এক্সপার্ট?
- ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ প্রোগ্রামে উভয় ধরনের ক্যান্ডিডেটকেই (ফ্রেশ গ্রাজুয়েট এবং এক্সপার্ট) বিবেচনা করা হয়। তবে এটি নির্ভর করে প্রোগ্রামের ধরন এবং ইউনিভার্সিটির রিকোয়ারমেন্টের উপর। কিছু প্রোগ্রাম একাডেমিক এক্সেলেন্স এবং গবেষণার দক্ষতার উপর বেশি ফোকাস করে, আবার কিছু প্রোগ্রাম প্র্যাকটিক্যাল স্কিলসের উপর জোর দেয়, এবং এ ক্ষেত্রে প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফ্রেশ গ্রাজুয়েটদের ক্ষেত্রে: যদি আপনার একাডেমিক রেজাল্ট খুব ভালো হয়, গবেষণা বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে ভালো পারফরম্যান্স থাকে, তাহলে আপনি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন। গবেষণাতে ভালো পারফরম্যান্স বলতে মিনিমাম একটি পাবলিকেশনকে বুঝানো হচ্ছে।
- এক্সপার্টদের ক্ষেত্রে: যদি আপনার কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণা প্রকাশনা প্রোগ্রাম রিলেভ্যান্ট প্রফেশনাল অ্যাচিভমেন্টস থাকে, তাহলে সেটাও স্কলারশিপ কমিটি বিবেচনা করবে।
এ ক্ষেত্রে ২ ক্যাটেগরির ক্যান্ডিডেটদেরকেই বিবেচনা করা হয়। অনেক প্রোগ্রামই মিনিমাম ৩০% ফ্রেশ গ্রাজুয়েটদের সিলেক্ট করে থাকেন, এবং সেটা ইউরোপীয়ান কমিশনের ফান্ডিং গাইডলাইনের শর্ত অনুযায়ী হয়ে থাকে।
২. ফ্রেশ গ্রাজুয়েট এবং মাস্টার্স কমপ্লিট করা ক্যান্ডিডেটের মধ্যে কাকে প্রাধান্য দেয়?
- ইরাসমাস স্কলারশিপ সিলেকশন কমিটি সাধারণত প্রোগ্রামের রিকোয়ারমেন্ট এবং ক্যান্ডিডেটের প্রোফাইলের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়।
- ফ্রেশ গ্রাজুয়েটদের ক্ষেত্রে: যদি আপনার অনার্সের রেজাল্ট খুব ভালো হয়, গবেষণা বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে ভালো পারফরম্যান্স থাকে, তাহলে আপনি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন।
- মাস্টার্স কমপ্লিট করা ক্যান্ডিডেটদের ক্ষেত্রে: যদি আপনার মাস্টার্সের থিসিস বা গবেষণা কাজ খুব ভালো হয়, এবং তা প্রোগ্রামের সাথে রিলেভেন্ট হয়, তাহলে আপনার প্রোফাইল শক্তিশালী হবে। তবে এক্ষেত্রে আপনার ব্যাচেলর আর মাস্টার্স রেজাল্ট উভয়কেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। রেজাল্ট খুব ভালো না থাকলে অবশ্য গবেষণা পাবলিকেশনের উপর গুরুত্ব দিন।
প্রাধান্য নির্ভর করে: প্রোগ্রামের ধরন এবং ক্যান্ডিডেটের সামগ্রিক প্রোফাইলের উপর। যদি মাস্টার্সের কাজটি প্রোগ্রামের সাথে বেশি রিলেভেন্ট হয় এবং আপনার গবেষণা প্রকাশনা থাকে, তাহলে মাস্টার্স কমপ্লিট করা ক্যান্ডিডেটকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।
৩. মাস্টার্সের রেজাল্ট যদি অনার্সের চেয়ে খারাপ হয়, সেক্ষেত্রে কি সেটা উল্লেখ করা ঠিক হবে?
ইরাসমাস স্কলারশিপ কমিটি সাধারণত সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। যদি আপনার মাস্টার্সের রেজাল্ট অনার্সের চেয়ে খারাপ হয়, তাহলে নিচের পয়েন্টগুলো বিবেচনা করুন:
- সিভি - মোটিভেশন লেটারে স্ট্রং পয়েন্টস হাইলাইট করুন: যদি আপনার অনার্সের রেজাল্ট ভালো হয়, গবেষণা প্রকাশনা, কনফারেন্স পার্টিসিপেশন বা অন্য কোনো এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ থাকে, তাহলে সেগুলো জোর দিয়ে উল্লেখ করুন।
- রেজাল্টের পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করুন: যদি মাস্টার্সের রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ থাকে (যেমন: গবেষণায় ব্যস্ততা, পার্সোনাল ইস্যু ইত্যাদি), তাহলে সেটা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারেন। তবে এটি খুব সংক্ষেপে এবং পজিটিভভাবে উপস্থাপন করুন।
- ফোকাস রাখুন গবেষণা এবং এক্সপেরিয়েন্সে: আপনার জার্নাল, কনফারেন্স এবং মাস্টার্সের গবেষণা কাজের উপর বেশি ফোকাস করুন। এটি আপনার একাডেমিক রেজাল্টের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে।
৪. আপনার প্রোফাইল
আপনার প্রোফাইল বেশ ভালো, কারণ:
- আপনার একটি জার্নাল এবং তিনটি কনফারেন্স পার্টিসিপেশন আছে।
- মাস্টার্সের কাজটিও কনফারেন্সে উপস্থাপিত হয়েছে।
পরামর্শ:
1. মোটিভেশন লেটারে ফোকাস করুন: আপনার মোটিভেশন লেটারে আপনার গবেষণা, কনফারেন্স এবং একাডেমিক অ্যাচিভমেন্টসের উপর জোর দিন। প্রোগ্রামের সাথে আপনার গবেষণার রিলেভেন্সি ক্লিয়ারভাবে ব্যাখ্যা করুন।
2. রিকমেন্ডেশন লেটার: শক্তিশালী রিকমেন্ডেশন লেটার নিন, বিশেষ করে যারা আপনার গবেষণা এবং একাডেমিক পারফরম্যান্স সম্পর্কে জানেন।
3. রেজাল্টের পার্থক্য নিয়ে চিন্তা না করা: যদি মাস্টার্সের রেজাল্ট অনার্সের চেয়ে খারাপও হয়, আপনার গবেষণা এবং প্রকাশনা সেই ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে।
4. প্রোগ্রামের সাথে ফিটনেস: প্রোগ্রামের রিকোয়ারমেন্ট এবং আপনার গবেষণার মধ্যে কানেকশন ক্লিয়ারভাবে দেখান। এটি আপনার অ্যাপ্লিকেশনকে শক্তিশালী করবে। #
সর্বশেষ, ইরাসমাস স্কলারশিপ প্রতিযোগিতামূলক, কিন্তু আপনার প্রোফাইল যথেষ্ট শক্তিশালী। সঠিকভাবে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করলে আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। শুভকামনা! 😊
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Address
Rajapur, Dhaka/Pabna Highway
Pabna
6600