Life Chapters & Lessons
মাত্র ৫ সেকেন্ডের একটা ভুল মোড়, আর তাতেই শুরু হয়ে গেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ!
ড্রাইভার যদি ওই গলি দিয়ে না যেত, তবে হয়তো আজ পৃথিবীর মানচিত্রটাই অন্যরকম হতো। বিশ্বাস হচ্ছে না?
আপনি হয়তো ভাবেন, ছোট ছোট ঘটনার কোনো ভ্যালু নেই। কিন্তু আজ আপনাকে এমন একটা থিওরির গল্প বলব, যেটা শোনার পর আপনি মশা মারার আগেও দশবার ভাববেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম- "দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট"।
গল্পটা শুরু করি একজন আবহাওয়া বিজ্ঞানীকে দিয়ে।
নাম এডওয়ার্ড লরেঞ্জ।
১৯৬০ সাল।
তিনি কম্পিউটারে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বের করার চেষ্টা করছিলেন। একটা বিশাল অঙ্ক করার সময় তিনি ভাবলেন, "এত বড় দশমিক সংখ্যা লেখার কী দরকার? সময় বাঁচাই।"
তাই তিনি .৫০৬১২৭ এর বদলে শুধু .৫০৬ লিখলেন। মাত্র ০.০০০১২৭ এর পার্থক্য। তিনি ভাবলেন, এতটুকু চেঞ্জ তো ধর্তব্যেই আসবে না।
তিনি কফি খেতে গেলেন।
ফিরে এসে দেখলেন এক ভুতুড়ে কাণ্ড!
কম্পিউটার সম্পূর্ণ উল্টো রেজাল্ট দিচ্ছে। ওই দশমিকের সামান্য পরিবর্তনের কারণে পুরো আবহাওয়া রিপোর্টটাই বদলে গেছে। রোদ হওয়ার কথা যেখানে, সেখানে দেখাচ্ছে প্রলয়ঙ্করী ঝড়! লরেঞ্জ শিউরে উঠলেন।
তিনি বললেন, "ব্রাজিলে যদি একটা প্রজাপতি ডানা ঝাপটায়, বাতাসের সেই সামান্য কম্পন কয়েক সপ্তাহ পর টেক্সাসে টর্নেডো তৈরি করতে পারে।"
জন্ম নিল 'কেওয়াস থিওরি' (Chaos Theory)।
কিন্তু দাঁড়ান, এটা তো ল্যাবের গল্প। রিয়েল লাইফের টুইস্টগুলো শুনলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে।
১৯১৪ সাল। অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফার্দিনান্দ গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। তার ড্রাইভার ভুল করে একটা ভুল রাস্তায় মোড় নিল। ড্রাইভার যখন বুঝতে পারল, সে গাড়িটা ব্যাক করার চেষ্টা করল।
ঠিক ওই মুহূর্তেই, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিল এক আততায়ী, যে এর আগে তাকে মারতে গিয়ে ফেইল করেছিল। কিন্তু ভাগ্য বা দুর্ভাগ্য—গাড়িটা ঠিক তার সামনে এসে থামল। সে গুলি করল। ফার্দিনান্দ মারা গেলেন।
আর রেজাল্ট?
শুরু হয়ে গেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। মারা গেল কোটি কোটি মানুষ। পতন হলো বড় বড় সাম্রাজ্যের।
চিন্তা করুন তো, ড্রাইভার যদি ওই ভুল মোড়টা না নিত? হয়তো আজকের পৃথিবীটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতো!
এখন আসেন সিনেমার মতো একটা গল্পে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়। আমেরিকা জাপানে পরমাণু বোমা ফেলবে। টার্গেট ফিক্স করা হলো 'কোকুরা' শহর।
বোমারু বিমান আকাশে উড়ল। পাইলট রেডি। কিন্তু কোকুরা শহরের আকাশে সেদিন ছিল প্রচুর মেঘ। পাইলট কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না।
তিনি তিনবার চক্কর দিলেন, কিন্তু মেঘের জন্য টার্গেট লক করতে পারলেন না। ফুয়েল শেষ হয়ে আসছিল।
বাধ্য হয়ে পাইলট প্লেন ঘোরালেন সেকেন্ডারি টার্গেটের দিকে।
সেই শহরটার নাম ছিল—নাগাসাকি।
মাত্র একটুখানি মেঘের জন্য একটা পুরো শহর (কোকুরা) বেঁচে গেল, আর আরেকটা শহর (নাগাসাকি) মাটির সাথে মিশে গেল।
কোকুরার মানুষ জানলও না যে, শুধু প্রকৃতির একটা খেয়ালে তারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। একেই বলে বাটারফ্লাই ইফেক্ট।
আরেকটা টুইস্ট শুনবেন?
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এক তরুণ ভিয়েনার আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে গিয়েছিল। তার স্বপ্ন ছিল পেইন্টার হওয়া। কিন্তু স্কুলের প্রফেসররা তার ছবি দেখে বললেন, "তোমার মধ্যে কোনো ট্যালেন্ট নেই। তুমি বরং অন্য কিছু করো।" দুইবার তাকে রিজেক্ট করা হলো।
মন ভেঙে সেই তরুণ রাজনীতিতে যোগ দিল। তার নাম—অ্যাডলফ হিটলার।
যদি ওই আর্ট স্কুল তাকে একসেপ্ট করত? হয়তো আমরা একজন সাধারণ পেইন্টার হিটলারকে পেতাম, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর হলোকাস্টের মতো বিভীষিকা হয়তো ঘটত না। একজন প্রফেসরের একটা ছোট সিদ্ধান্ত কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিল।
সায়েন্স ফিকশন রাইটার রে ব্র্যাডবেরি একটা গল্প লিখেছিলেন—"A Sound of Thunder"।
সেখানে এক লোক টাইম ট্রাভেল করে ডাইনোসরের যুগে যায়। তাকে বলা হয়েছিল কিচ্ছু না ছুঁতে। কিন্তু ভুল করে সে একটা প্রজাপতি মাড়িয়ে ফেলে। যখন সে বর্তমান সময়ে ফিরে আসে, দেখে পুরো পৃথিবী বদলে গেছে। ভাষা আলাদা, স্বৈরাচারী সরকার দেশ চালাচ্ছে। ওই একটা মৃত প্রজাপতি পুরো বিবর্তনের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল।
অ্যাস্টন কুচারের 'দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট' সিনেমাটাও তো দেখেছেন হয়তো। যতবার সে অতীতে গিয়ে ছোট একটা ভুল ঠিক করতে যায়, বর্তমানে ফিরে দেখে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে গেছে।
সো ব্রাদার, এই গল্পগুলো থেকে আপনার জন্য লেসন কী?
আপনি ভাবছেন, "আজকে রাতে না পড়ে ফেসবুকে সময় নষ্ট করলে কী আর হবে?" বা "আজকে ফাস্ট ফুড খেলে কী এমন ক্ষতি?"
মনে রাখবেন, আপনার আজকের এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোই ১০ বছর পর আপনার লাইফের 'টর্নেডো' বা 'সুনামি' হয়ে ফিরে আসবে।
আপনি আজ কার সাথে মিশছেন, কোন স্কিলটা শিখছেন, বা কোন সময়টা নষ্ট করছেন—এগুলোই ঠিক করে দেবে আপনি ভবিষ্যতে সফল হবেন, নাকি আফসোস করবেন।
জীবন কোনো রিওয়াইন্ড বাটনওয়ালা মুভি না। এখানে প্রতিটা সেকেন্ড কাউন্ট হয়।
ওই ড্রাইভারের ভুল মোড় বা কোকুরার আকাশের মেঘের মতো, আপনার জীবনের মোড়ও যেকোনো সময় ঘুরে যেতে পারে।
চয়েস কিন্তু আপনার হাতেই!
(Copied)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the university
Telephone
Website
Address
Natore
6260