Math and English Point
16/06/2026
" চমকের শিক্ষা বনাম বাস্তবতার ক্লাসরুম "
যখনই নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় আসে, তখনই হঠাৎ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা উথলে ওঠে। শুরু হয় একের পর এক “চমকপ্রদ” পরিকল্পনার বন্যা। কেউ মোবাইলে টাকা ঢালে, কেউ উপবৃত্তির টাকা দ্বিগুণ-তিনগুণ করার আশ্বাস দেয়, কেউ আবার মিড-ডে মিল চালু করে শিশুদের পেট ভরানোর মহান দায়িত্ব নেয়। আহা, কী দারুণ যত্ন!
এরপর আসে আরও অভিনব চিন্তা—নাচ, গান, ছবি আঁকা, খেলাধুলা দিয়ে একেকজনকে ভবিষ্যতের নায়ক-নায়িকা, গায়ক গায়িকা, খেলোয়াড়, চিত্রশিল্পী কিংবা মডেল বানানোর স্বপ্ন। কেউ কেউ তো সরাসরি আমেরিকার মানের শিক্ষার্থী তৈরির ঘোষণা দিয়ে বসেন!
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—এই বিশাল স্বপ্নের ভিড়ে সবচেয়ে সহজ এবং জরুরি কথাটাই যেন কেউ বলতে চান না। সেটা হলো—স্কুলের সময়টা একটু মানবিক করা।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫—এই দীর্ঘ সময় ধরে ছোট্ট শিশুদের ক্লাসে বসিয়ে রাখার পরিকল্পনা যে কতোটা বাস্তবসম্মত, তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন? একজন সচেতন অভিভাবক কি সত্যিই তার ছোট শিশুকে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য স্কুলে পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?
এক শিফট হোক বা দুই শিফট—বাস্তবতা খুব সোজা: দুপুর ২টার পর আর কোনো শিক্ষার্থীর মন ক্লাসে থাকে না। বই খোলা থাকে, খাতা খোলা থাকে, কিন্তু মন? সেটা অনেক আগেই ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যায়!
আর শিক্ষকরা? তারা তো কোনো যন্ত্র না। সকাল ৯টায় স্কুলে এসে বিকেল ৪টা ১৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর মধ্যে যাতায়াতের ক্লান্তি তো আছেই। এত দীর্ঘ সময় ধরে একই মনোযোগ, একই ধৈর্য ধরে রাখা কি আদৌ সম্ভব?
সারাটা দিন স্কুলে কাটে—না ঠিকমতো বিশ্রাম, না পর্যাপ্ত খাবার। যদি দুই শিফট থাকে, তাহলে দুপুরের পর তো মনোযোগ এমনিতেই উধাও! পড়াশোনা তখন হয়ে দাঁড়ায় শুধু উপস্থিতি বজায় রাখার একটা আনুষ্ঠানিকতা।
এর সাথে যোগ হয় পুরনো সমস্যাগুলো—শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষকের স্বল্পতা, অফিস সহকারী ও পিয়নের সংকট। হাজারো সমস্যার বোঝা বয়ে নিয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো কোনোভাবে টিকে আছে।
তাই প্রশ্নটা খুব সহজ—এত পরিকল্পনা, এত প্রতিশ্রুতি, এত স্বপ্ন—সব ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে, শিশুদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো কি আমরা সত্যিই গুরুত্ব দিচ্ছি?
না কি আমরা এখনো “চমক” নিয়েই বেশি ব্যস্ত, সমাধান নিয়ে নয়?
সময় এসেছে স্বপ্নের আকাশ থেকে নেমে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়ানোর। কারণ শিক্ষার্থীরা রোবট না, আর শিক্ষকরা কোনো ব্যাটারিচালিত যন্ত্রও না।
ঝড়ের আগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মজা ছলে বন্ধুত্ব সৃষ্টির খেলা।
#প্রাথমিকবিদ্যালয় #খেলা
Sound of A.
ঝড় এলো এলো ঝড়, আম পড় আম পড়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Nagra, Netrakona
Mymensingh
2400