Last Page
🍌🍌
18/06/2025
হেলো ফ্রেন্ডস৷ মাইন্ড ব্যাড।
মাঝে একটু মজা করতে নেশা শুরু করেছিলাম। সকাল আর সন্ধ্যায় কিঞ্চিৎ ক্যাটফুড খেতাম। তারপর ধীরে ধীরে ভাত খাওয়া ছেড়ে দেই।
ক্যাটফুড না দিলে সবার কানের পর্দা ফাটিয়ে চিল্লানোর পাশাপাশি গৃহবাসীকে আর জীবনেও কোনো বিড়াল না পালার সিদ্ধান্ত নিইয়ে ছাড়তাম। পর্দায় ঝুলে উড়াউড়ি করতাম।
শাস্তিস্বরুপ তিনদিন থেকে ক্যাটফুড খাওয়া বন্ধ।
যাইহোক, এখন ঘুমাবো। মধ্যরাতে উঠে ঘরের ভেতর চরকির মতো ঘুরে তান্ডব চালাবো। তাই কিঞ্চিৎ শক্তি সঞ্চয় করছি।
গতকাল দুইটা এক্সপেন্সিভ ল্যাম্প ভেঙ্গেছি। আজ কী ভাঙ্গা যায়?
কাল সকালে বৃষ্টি না হলে পাশের বিল্ডিং এ সেক্স করতে যাবো৷
ভাবতেই ভালো লাগছে৷
16/06/2025
১.
তখন আমার বয়স চব্বিশ। পত্রিকার অফিসে সামান্য একটা কাজ করি। এর মাঝে আবার সাহস করে বিয়েও করে ফেলেছি। আব্বার কাছে টাকা চাইতে লজ্জা লাগে। তাই ঘুরে ঘুরে নানান জায়গায় ইন্টারভিউ দিই; আর রাতে বাড়ি ফিরে বই লিখি, বই পড়ি। নতুন বৌ একটু পরপর চা বানিয়ে দেয়। আমি টাইপরাইটারের সামনে বসে ভোস ভোস করে সিগারেট টানি। আর কয়েকপাতা লিখে একটু পর পর ওকে পড়তে দিই। ফারজানা বলে, একদিন আপনি অনেক বড় লেখক হবেন। আমি বলি, বাল হবো। ও রাগ করে বলে, আরেকবার এসব বললে থাপ্পড় খাবি শাউয়ার নাতি।
একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই ফোন করে বললেন, সেজেগুজে আমার অফিসে চলে আয়। আর শোন, ফকিন্নির মতো আসবি না। টাই পরবি।
আমি সেলুনে গিয়ে বহু সাধনা করে বড় করা লম্বা চুল-দাড়ি বিসর্জন দিয়ে বেবিটেক্সিতে করে অফিসে যাই। সে এক দীর্ঘ ইন্টারভিউ। প্রথমে স্ক্রিনিং। তারপর লিখিত। তারপর আবার প্রেজেন্টেশন। সব মিলিয়ে মাথা নষ্ট অবস্থা। পনেরোদিন পর বাসায় চিঠি আসে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। একটা ব্রির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে যোগদান করতে বলা হলো আমাকে।
তখন বাজারে আমার বই আছে দু’টা। কেউ বাল দিয়েও গোনেনি। পত্রিকায় কাজ করি, তারপরও কবিতা ছাপাতে পারি না। রাগে ক্ষোভে সব পুড়িয়ে আমি শ্রমিক হিসেবেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। শুরু হয় কর্মজীবন। দশটায় অফিসে ঢুকি। ছয়টায় বের হই। কিছুই ভালো লাগে না। জীবনটাকে মনেহয় এক শাউয়ার বাল। সন্ধ্যার পর জহির মামুর দোকানে গিয়ে আড্ডা মারি। বাড়ি ফিরতে ফিরতে নয়টা। আমি আর ফারজানা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে গল্প করি। ও বলে, ভালো না লাগলে চাকরি করার দরকার নাই।
আমি মনে সাহস পাই। বলি, আচ্ছা।
পরদিন অফিসে গিয়ে ঝিমাই। আশে-পাশে কেউ না থাকলে খুব সাবধানে মিনিট পনেরো ঘুমিয়ে নিই। ভাবি, আর রাত জাগবো না।
কিন্তু লেখালিখি আর বইয়ের নেশায় ঘুমানো হয় না।
একদিন বস ডেকে কঠিন ঝাড়ি দিলেন। মনে মনে খুশি হলাম। ভাবলাম, বের করে দিলে হাপ ছেড়ে বাঁচি আমি।
পরের মাসের দুই তারিখে বেতন হলো।
আমার হাতে বত্রিশ হাজার টাকা। পাঁচশ টাকার কচকচে নোট।
১৯৯৯ সাল। সে সময়ের ম্যালা টাকা।
বেতন পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে হুশ হারালাম। ছুটির পর বের হয়ে ইচ্ছেমতো খরচ করলাম। বাড়ি ফিরলাম একগাদা হাবিজাবি নিয়ে।
সেদিন বাড়ি ফিরে বই পড়া হলো না। ফারজানা আর আমি ঠিক করলাম, মাস ছয়েক টাকা জমিয়ে ভূটান যাবো।
তারপর ধীরে ধীরে রাত জাগা বন্ধ হলো। কবিতারা দূরে গেলো। উড়ে গেলো লেখক হবার স্বপ্ন।
অথচ রাত নিয়ে একবার কবিতা লিখেছিলাম আমি।
---
আজকেও রাত জাগবে? জানতে চাইলো সে।
হ্যাঁ, জেগে থাকবো। রাতের আলগোছে ফেলে দেওয়া চুলের প্রেমে পড়েছি আমি।
আমি রাতের প্রেমিক, রাতের পূজারি। রাত আমাকে গিলে খায়। প্রচন্ডভাবে জড়িয়ে আমার দম বন্ধ করে দেয়। কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলে, ঘুমিয়ে পড়বি?
বিশ্বাস করো, ঘুমাতে আমার খারাপ লাগে না। এই পৃথিবীর পথে প্রান্তে উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্তি আমার পা দু'টোকে শেকড়ের মতো জড়িয়ে নিয়েছে। সে আমাকে বলছে, থাম। আমরা গাছ হবো। আমরা ডাল মেলে দেবো অনন্ত নক্ষত্রবীথিতে। ছায়াপথে গড়বো বাসা।
কিন্তু বাসা মানে ঠিকানা। একটা চিঠি লেখার জায়গা। একটা টেলিফোন, অন্তর্জালের তার, ইলেক্ট্রিসিটি আর পানির সম্মিলিত সম্মোহনী লাইন। যে প্রতিনিয়ত বলে, এইতো ঠিকানা। কিন্তু আমি জানি - অক্লান্ত এই ধরিত্রীতে মানুষের বাচ্চার কোনো ঠিকানা থাকতে নেই। জোর করে বানানো এই অপূর্ব কম্ফোর্টজোন ভালো থাকার সুডো-ফিলোসফি'র আড়ালে থকথকে দলা পাকানো কালো মাংস ছাড়া আর কিছুই নেই।
তাই আমাকে জেগে থাকতে হয়, নির্বিকারে, সন্তপর্ণে, খুব সাবধানে শ্বাস ফেলে।
আমি জানি, ঘুমালে ক্ষতি নেই। এই বিস্তৃত আকাশগংগার অরিয়ন বেল্টের এক নিভৃত হন্টন পীর তাতে কিছুটা বিশ্রাম পায়।
কিন্তু আমি রাতের প্রেমিক, রাতের পুজারী।
রাতের রাত্রি'র ভালোবাসায় দম আটকে মরে যাওয়া একজন শহীদ।
তাই আমি জেগে থাকবো অনন্তকাল।
আমি রাতে ঘুমাবো না।
তুমি ঘুমিয়ে পড়ো, বালিশে কাত হয়ে আমি বরং -
আখেরী রাতের কথা ভাবতে থাকি।
---
অথচ আমি এখনও রাত জাগি।
কিন্তু এই জাগা মানে শুধুই না ঘুমানো।
এ জেগে থাকায় স্বপ্নেরা ভীড় করে না।
কারণ যে স্বপ্নের জন্য আমরা জীবনকে যাপন করি,
শেষ নিঃশ্বাসে এসে সে স্বপ্নের আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
২.
রাত দেড়টার নিস্তব্ধতা।
আমি নিচে নামলাম। মহল্লার অলি-গলিতে গুমোট বাতাস পালাবার পথ খুঁজছে। এর মাঝে আকাশে ঝুলে আছে ডিপ্রেসড, অলীক, ঘোলাটে এক চাঁদ।
যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে - একদিন সব শেষ হয়।
রাস্তার মোড়টা পার হয়ে আমি কিছুক্ষণ ঘুরলাম। এলোমেলো। মনে মনে কালাম নামের এক বৃদ্ধকে খুঁজছি। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে ফ্লাক্স আর সিগারেট নিয়ে বসে থাকেন। তাকে পাওয়া গেলো বেশ খানিকটা পথ হাঁটার পর। আজ হাসপাতাল না, বসে আছেন শাটার নামানো সুপার শপের সিঁড়ির উপর। তাকে ঘিরে বসে আছে চারটা কুকুর। একটা ঝিমোচ্ছে। বাকিগুলো চঞ্চল। আমি গিয়ে বললাম, সিগারেট দেন।
প্যাকেট বাড়িয়ে দিলেন তিনি। প্রশ্ন করলাম, কতক্ষণ আছেন?
বললেন, আস্তা রাইত।
বড় কাব্যিক কথা!
আমি আরও খানিকটা হেঁটে এসে দাঁড়ালাম জননী লজের সামনে। এলাকার প্রাচীনতম বাড়ির একটা। এককালে বড় জানালাওয়ালা লাল ইটের খানদানি বাড়ি ছিলো। এখন রেনোভেশন করে পরিণত হয়েছে অত্যাধুনিক বস্তিতে। ম্যাচ বাক্সের মত অগনিত ফ্ল্যাট ঠেসে ভরা হয়েছে বিল্ডিংজুড়ে। ভাড়া বেশি আসে। পয়সাই মূলত এ পৃথিবীর ঈশ্বর।
আমি ঠোঁটে সিগারেট ঝুলিয়ে ছাদের দিকে তাকালাম। ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না।
৯৯ সালের ২৬ জুনের বিকেলে এই ছাদের রেলিং-এ দাঁড়িয়েছিলো আমার বন্ধু ফারশেদ। তারপর আলিঙ্গন করেছিলো রাজপথকে। শরীর থেবড়ে গিয়েছিলো। চেহারা চেনা যায় না এমন বাজে অবস্থা। খবর পেয়ে আমরা হতভম্ব হয়ে বসে ছিলাম সপ্তাখানেক। তারপর জীবনকে যাপন করতে একদিন ভুলে গেলাম সব। শালা কেন এমন করলো, আমরা কেউ জানতাম না।
ও মারা যাবার প্রায় চার বছর পর খালাম্মা ওর বইগুলো আমার লাইব্রেরিতে এসে দিয়ে বলেছিলেন, যত্ন করে রাইখো। আমি ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে পেলাম সবুজ মলাটের এক ডায়েরি। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শুধু কবিতা। হারামজাদা যে কবিতা লিখতো, সে কথা জানতামই না। শেষ পৃষ্ঠায় এক লাইনের ছোট একটা লেখা।
জীবন উপভোগ করা শেষ। কাল ফুলস্টপ।
কি দাম্ভিক!
অথচ জীবন উপভোগ করার জন্য আমি আজও নয়টা থেকে সাতটা অফিস করছি। মাঝে মাঝে যখন প্রচন্ড ক্লান্তিতে ঘুমও আসতে চায় না, কিন্তু পরদিন আবার কাজে যেতে হবে বলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় মনেহয় -
এসব কী করছি? কোনো করছি?
আমার তো কবি হওয়ার কথা ছিলো।
বহুবছর আগে আমি ফারশেদকে নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলাম।
ঝিনুকের বুকে জমা থাক সব শোক,
শহর ছড়িয়ে উড়ুক বিজন বাতাস
আসছে কুয়াশা ধোঁয়াটে মাতাল পথে
সর্বনাশের আতসী কাঁচে জমছে দীর্ঘশ্বাস
এই তল্লাট জেনে যাক -
আজ রাতে মরেছে কিশোর
স্বপ্নের খোঁজ করে।
জানো না কী কথা গোপনে বুনেছে সে
অধর ছুঁয়েছে কার প্রিয় ডাক নামে
আমি জানি না, মাদক করবী জানে
এখানে আছে প্রাচীন শবের গান
.. আর তাই প্রচন্ড অপ্রয়োজনীয় এ রাতে, এ শহরে, এ চিরন্তন এবং পরিচিত রাস্তায় বিষন্নতা ফুঁকছে একজন ব্যর্থ কবি।
- মাকস, একজন বিবাগী
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Bhaluka
Mymensingh
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 17:00 |