CSC PRESS
আমরা সত্য প্রকাশে আমরা ২৪/৭ দায়বদ্ধ। সবার আগে সব খবর - বিনোদন - রহস্য - অজানা সব ঘটনা আর মজাদার কিছু উপভোগ মানেই CSC PRESS। সত্যের জয় সবসময় তাই আমরা পরাজয়ের পক্ষে নই।
অসহায় মায়ের কান্না মুছে দিল দুই সংগঠন: ফুলবাড়িয়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন বৃদ্ধা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ: শীতের ভোরে কুয়াশার চাদর ভেদ করে যখন সূর্য উঁকি দেয়, তখনো কদমতলী গ্রামের বৃদ্ধা মাটির ঘরে বসে সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ জানাতেন—একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। জরাজীর্ণ ঘর, সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে ভিজে যেত সবকিছু, সেই অসহায় মায়ের আকুতি এবার পূরণ হলো। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ২ নং পুটিজান ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় এক হৃদয়স্পর্শী মানবিক উদ্যোগে মাথা গোঁজার নতুন ঠাঁই পেলেন এক বৃদ্ধা মা।
‘খেদমাহ ফাউন্ডেশন’ এবং ‘বাংলাদেশ তরুণ একতা সংগঠন’—এই দুটি মানবিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে ওই অসহায় মায়ের জন্য একটি নতুন, মজবুত ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল একটি ঘর নির্মাণ নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অসহায়ত্বের করুণ চিত্র
কদমতলী এলাকার এই বৃদ্ধা মায়ের জীবন ছিল চরম কষ্টের। তার পুরনো ঘরটি ছিল প্রায় বিধ্বস্ত। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার ভয় ছিল। শীতকালে কনকনে ঠাণ্ডা আর বর্ষায় জল ঢুকে তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। স্থানীয়রা জানান, তার অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরেই এগিয়ে আসে দুটি সংগঠন।
মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
খেদমাহ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ তরুণ একতা সংগঠনের সদস্যরা বৃদ্ধা মায়ের দুর্দশা দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তারা শুধু অর্থ সাহায্য করেই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজেদের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ ঘরটি নির্মাণ করে দেন। টিনের চাল ও মজবুত দেয়াল দিয়ে তৈরি এই নতুন ঘরটি এখন বৃদ্ধা মায়ের জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বৃদ্ধা মায়ের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে এমন একটি সুন্দর ঘরে থাকতে পারব। আল্লাহ যেন এই ছেলে-পেলেদের ভালো করেন। তাদের জন্য মন থেকে দোয়া করি।”
প্রবাসীর নিঃস্বার্থ উদ্যোগ
এই দুটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান একজন প্রবাসী। তিনি তার পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক। তার এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ সমাজের জন্য এক বড় বার্তা বহন করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সংগঠনের সদস্যরা জানান, “আমরা চাই আমাদের এই কাজ দেখে সমাজের বিত্তবানরা আরও বেশি করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াক। আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ পাক তাদের ভালো কাজগুলো কবুল করুক।”
এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এমন উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে স্বস্তি এনে দিতে পারে এবং এটি তরুণ সমাজকে সমাজসেবার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, মানবিকতা আজও বেঁচে আছে। দূর প্রবাসে থেকেও একজন মানুষ তার জন্মভূমির অসহায় মানুষের জন্য যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। এই নতুন ঘরে বৃদ্ধা মায়ের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হোক—এটাই এখন কদমতলী এলাকার সকলের প্রত্যাশা।
Celebrating my 3rd year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉
08/08/2025
এমন পরিবেশে থাকার অনুভূতিটাই অন্যরকম, কি বন্ধু রা তাই না,,,
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Bypass
Mymensingh
2200