Complete Building Solutions
06/12/2020
নির্মাণের নান্দনিকতায় কাচের ব্যবহার: সুবিধা ও অসুবিধা
গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের গল্প। ইউরোপ জুড়ে শুরু হয়েছে শিল্প বিপ্লব। সকল শিল্পে আসছে নতুন ফর্মুলা। একই ফর্মুলাতে দ্রুত গতিতে যেকোনো কাজ সেরে ফেলার নেশায় বিভোর সারা বিশ্ব। প্রযুক্তির আশীর্বাদে তখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে বদলের গান।
নির্মাণ শিল্পে এই ফর্মুলাকে বাস্তবায়ন করতে একের পর এক যোগ হতে শুরু করল নতুন উপকরণ। প্রথমে শুরু হল রি-ইনফোর্সড কংক্রিটের ব্যবহার যেটি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। তারপর সামনে এলো ধাতুর ব্যবহার। সেটি একসময় রূপ নিল সংকর ধাতু স্টিলের জয়জয়কারে। আর স্টিলের হাত ধরে নির্মাণে নতুন করে ফিরে এল কাচ। স্টিলের কাঠামো ও কংক্রিটের মেঝের তৈরি ভবন দ্রুত মুড়ে দিতে কাচ হয়ে উঠল কমার্শিয়াল ভবনের পরিচায়ক। এই ঘরানার নির্মাণ এত দ্রুত ও এত সহজ যে, এখনও চলছে এর জয়জয়কার।
কাচ একটি শিল্পজাত পণ্য। প্রকৃতিতে সরাসরি কাচ পাওয়া যায় না। তবে অনেক আগে থেকেই বালি গলিয়ে কাচ তৈরি শুরু হয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বালি গলালে সরাসরি কাচ তৈরি করা যায়। তবে সময় যত গড়িয়েছে এই শিল্পকে সহজতর করেছে বিজ্ঞান। রোমান প্রক্রিয়া থেকে কাচ তৈরি সহজতর করতে ইসলামি কাচশিল্পীদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
বর্তমানে কাচ তৈরি করা হয় সিলিকা বা কাচবালির সাথে সোডা, ডলোমাইট, চুনাপাথর, ফেলস্ফার, সোডিয়াম নাইট্রেট ও কয়লার পাউডার মিশিয়ে। বাংলাদেশের বাজারে সাধারণত দুই ধরনের কাচ দেখা যায়। সাধারণ কাচ ও ক্রিস্টাল গ্লাস। সাধারণ গ্লাস কাটলে সবুজাভ রং দেখা যায়। ক্রিস্টাল গ্লাস সেই তুলনায় একদমই পরিষ্কার। গ্লাস উৎপাদনের সময় এর পুরুত্ব (Thickness) নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ৩ থেকে ১২ মিলিমিটার পুরুত্বের কাচ খোলা বাজারে দেখা যায়। ৫ ও ১০ মিলিমিটার কাচ ভবনের ভেতরে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। ভবনের বাইরে ২০ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরুত্বের গ্লাস প্যানেল ব্যবহার করা হয়।
Urban Scene Skyline Morning View Metropolis Concept
ভবনে কাচের ব্যবহার জনপ্রিয় হবার অন্যতম প্রধান কারণ এর স্বচ্ছতা। ভবনের ভেতরে ধুলা প্রবেশ বন্ধ করে একই সাথে আলোর প্রবেশ নিশ্চিত করতে প্রথমে জানালায় কাচ ব্যবহার শুরু হয়। কাচের জানালাতে খরচও কমে যায় শিল্পপণ্য হিসাবে কাচ সহজলভ্য হওয়াতেই। কাচের সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যই কাচকে এতটা জনপ্রিয় করেছে। এই সূলভ মূল্যের কারণেই কাচের জানালা ভবনের বাইরের অংশের মূল উপাদান হয়ে ওঠার শুরু।
ইট বা কংক্রিটের নির্মাণ একইসাথে যেমন একের বেশি উপাদান দাবি করে তেমনি এর পেছনে বিনিয়োগ করতে হয় প্রচুর সময়, অর্থ ও শ্রম। এছাড়া নির্মাণ শেষ হলে উপরে দিতে হয় ফিনিশিং ম্যাটেরিয়াল, যেমন- টাইলস বা মোজাইক। কাচ ব্যবহার এই তুলনায় রীতিমত ঝামেলামুক্ত। শুধুমাত্র স্থাপন ও পরিষ্কার করলেই নির্মাণ শেষ করে ফেলা সম্ভব বলে ব্যবসায়িক ভবনের ক্ষেত্রে এটি বেশি জনপ্রিয়।
তবে কাচের ব্যবহারকে তুমুল জনপ্রিয় করেছে মূলত দুটি ঘটনা।
১. কাঠামো নির্মাণ শিল্পে ধাতুর জয়যাত্রা
২. শিল্প বিপ্লবের পর নতুন নান্দনিকতার বিকাশ
প্রথমে বিশুদ্ধ ধাতু ও পরে সংকর অর্থাৎ স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের নির্মাণে বড় জায়গা করে নেওয়াতে তাদের সাথে মানানসই নির্মাণ উপকরণের চাহিদা বাড়ে। প্রথমে কংক্রিট ও ইট দিয়ে চেষ্টা করা হলেও কম ভর, নির্মাণের সহজ প্রক্রিয়া এবং বদলে ফেলার সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখেই কাচ হয়ে ওঠে ভবনের এক্সটেরিয়রের জন্য সবচেয়ে উপযোগী উপাদান।
বর্তমানে প্যানেল আকারে আলাদা কাচ নির্মাণের জন্যই তৈরি করা হয় এবং এগুলো জুড়ে দিয়ে তৈরি হয় বিশ্বের প্রায় ৮০% বাণিজ্যিক ভবন। এছাড়া অন্দরসজ্জাতেও বিশেষ করে অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সজ্জায় কাচ হয়ে উঠেছে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
আলোর সহজাত প্রবেশ যেমন কাচের আশীর্বাদ, তেমনি এক্ষেত্রে অভিশাপ হলো বাতাসের প্রবাহ রোধ। কাচ দিয়ে তৈরি ভবনের বহির্ভাগ সাধারণত নড়াচড়া করানো যায় না। তাই সরাসরি বাতাস এতে প্রবেশ করতে পারে না। আর সূর্যরশ্মি যে তরঙ্গদৈর্ঘ্য নিয়ে প্রতিসরিত হয়ে কাচের ভেতর প্রবেশ করে ভেতরে ঢুকে সেটি অনেক বেড়ে যায়। ফলে ভেতর থেকে খুব বেশি তাপ বাইরে আসতে পারে না। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রিনহাউজ প্রক্রিয়া।
এই সমস্যার সমাধান করতে ভবনে প্রচুর পরিমাণে যান্ত্রিক তাপনিয়ন্ত্রক যন্ত্র বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হয়। যেটি বাইরের বাতাসকে ঠাণ্ডা করে ভেতরে প্রেরণের পাশাপাশি ভেতরের গরম বাতাসকে সরাসরি বাইরে বের করে দেয়। এর ফলে ভবন ভেতরে ঠাণ্ডা হলেও বাইরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
কাচের আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে এর প্রতিফলন। আলো এবং তাপ প্রতিসরণের পাশাপাশি প্রতিফলিতও হয় কাচে। ফলে সূর্যরশ্মির তাপ ভবনের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া কাচের আলোকচ্ছটা বা গ্লেয়ারেও (Glare) অনেক ক্ষেত্রে আশেপাশের মানুষের বেশ সমস্যা হতে পারে। আলোর প্রতিসরণ কমাতে অনেক ক্ষেত্রে টিন্টেড আউট বা অস্বচ্ছ বা আধা-স্বচ্ছ কাচ ব্যবহার করা হয়। এতে ভেতরের তাপমাত্রা কমলেও প্রতিফলনের হার বাড়ে। এই ধরনের কাচগুলো সাধারণত নীল বা সবুজ হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভবনের চেহারাতেও বেশ খারাপ প্রভাব ফেলে এরকম অতিগ্রাসী রং।
তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি। কাচ সুলভ ও সাশ্রয়ী হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দাবি করে। বাংলাদেশে সূর্যের কৌণিক অবস্থান, বৃষ্টির আধিক্য, ঢাকা শহরের বাতাসে বিদ্যমান সাধারণের চেয়ে বেশি ধুলোবালি এবং বহুতল ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে প্রযুক্তির অভাব বাংলাদেশে ভবনে ব্যবহৃত কাচের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় খুব দ্রুত। ৫-১০ বছরের মধ্যেই কাচের রং নষ্ট হওয়া এবং ফাটলের অভিযোগও শোনা যায় বেশ। তবে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হলে এ সমস্যা কাটানো সম্ভব।
ভবনের ভেতরে বর্তমানে ফুল হাইট কাচের পার্টিশনের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম প্যানেল দিয়ে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে। এগুলো দামে সাশ্রয়ী ও সহজ ব্যবহার্য হলেও ঘরের বাতাস প্রবাহ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশ চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবুও পরিবর্তনের সুবিধা এবং নিয়ন্ত্রণের সারল্য একে ইন্টেরিয়র শিল্পে একই অবস্থানে রাখবে অনেকদিন।
ভবনের বাইরের ও ভেতরের পরিবেশের কথা বিবেচনা করলে কাচ দীর্ঘ সময়ের জন্য খুব উপকারী উপাদান নয়। কিন্তু নির্মাণ নান্দনিকতা, খরচের সাশ্রয় ও একই রকম স্বচ্ছ উপকরণ হিসেবে বিকল্প না থাকায় কাচের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে আরও অনেকদিন। নির্মাণে কাচের ব্যবহারে তাই হতে হবে হিসেবি, হতে হবে পরিবেশ সচেতন এবং রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী।
কাচের সাথে সোলার প্যানেল যুক্ত করে দেয়া কিংবা অপারেবল ডিজাইনের মতো কৌশল ব্যবহার করে কাচের প্রভাবকে যেমন পরিবেশবান্ধব করা যায়, তেমনি ভবনের সৌন্দর্যকে বাড়ানো যায় বহুগুণে। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হলে ভবনের চেহারার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী হয় ব্যবহার উপযোগিতাও। তাই উপকরণ হিসেবে কাচের কিছু সমস্যা থাকলেও প্রশিক্ষিত স্থপতির চিন্তাশীল নকশা, দক্ষ প্রকৌশলীর নির্মাণ এবং নির্মাতার সদিচ্ছা কাচকে করে তুলতে পারে ভবনের জন্য আশীর্বাদ।
05/10/2020
শব্দদূষণ থেকে মুক্তি: ভবন নির্মাণে সাউন্ড ইনসুলেশন
ঘটনা-১: জাহিদুর রহমানের বাসার পাশেই রেললাইন। সারাদিন ট্রেনের যাওয়া-আসার শব্দে সমস্যা হয়। রাতের আন্তঃনগর ট্রেনের শব্দে তার দুই শিশু ঘুম ভেঙে জেগে বসে থাকে। এসএসসি পরীক্ষার্থী কন্যার পড়াশোনায় বেশ অসুবিধা হচ্ছে এই শব্দে।
ঘটনা-২: মাইকে ওয়াজ মাহফিল চলছে। এদিকে নীলুফার সুলতানার বাবা প্রচণ্ড অসুস্থ। প্রচণ্ড শব্দে অসুস্থ বাবার কষ্ট অসহায় হয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই নীলুফারের।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এরকম শব্দ নিয়ে অসুবিধা হতেই থাকে। আর দশটা সমস্যার মতোই এর সাথেও আমরা মানিয়ে নিই, ভাড়া বাসা হলে বাসা পাল্টানোর চিন্তা করি। অথচ, বাড়ি করার সময় সাউন্ড ইনসুলেশন ব্যবস্থার দিকে সামান্য মনোযোগ দিলে এধরনের অসুবিধা এড়ানো যায় খুব সহজেই।
সাউন্ড ইনসুলেশন
যে তরঙ্গ বায়ু বা অন্য কোনো মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর কানে শ্রবণের অনুভূতি জাগায় তাকে সাউন্ড বা শব্দ বলে। কোনো রুম বা জায়গাকে সাউন্ডপ্রুফ বা শব্দহীন করার পদ্ধতিকে সাউন্ড ইনসুলেশন বলে।
বাসার সাউন্ড ইনসুলেশন
হোম ইনসুলেশন বলতে বোঝায়, যেকোনো অন্তরক বা ইনসুলেটর ব্যবহার করে ঘরকে শব্দ এবং তাপ থেকে আলাদা রাখা। হোম ইনসুলেশনের একটি অংশ হচ্ছে সাউন্ড ইনসুলেশন।
আপনার বাসার অবস্থান কোন এলাকায় তার ওপর শব্দদূষণের মাত্রা নির্ভরশীল। আবাসিক এলাকায় যতটা না শব্দদূষণ হয়, তার তুলনায় বাসা যদি বাস স্ট্যান্ড, রেললাইন, এয়ারপোর্ট, হাইওয়ে, মেইন রোড, সিনেমা হল বা বাজারের পাশে হয়ে থাকে তবে শব্দদূষণের মাত্রা অত্যধিক হয়ে থাকে। এসকল এলাকায় বাসা হলে সাউন্ড ইনসুলেশনের প্রয়োজনও তাই অত্যধিক।
আমাদের দেশে বাড়ি তৈরিতে হোম ইনসুলেশনের বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত শব্দদূষণযুক্ত এলাকায় দীর্ঘদিন থাকার ফলে বাড়ির সকলের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যে স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। ঘরে বয়স্ক, হার্টের রোগী বা হাই প্রেশারের কোনো রোগী থাকলে তাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে হোম ইনসুলেশনের প্রয়োজন রয়েছে।
বাড়ি তৈরির সময়ই এলাকার উপর নির্ভর করে হোম ইনসুলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পড়ার ঘর, বেড রুমগুলো সাউন্ডপ্রুফ হওয়া জরুরি। রুম সাউন্ডপ্রুফ করার জন্য ঘরের যে স্থানগুলোতে বাইরের শব্দ প্রবেশ করে সে স্থানগুলোতে ফোমের প্যাডিং ব্যবহার করা যেতে পারে, এছাড়া ফাইবার গ্লাসের উল দিয়েও আটকে দেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া বাড়ি তৈরির সময়ই দেয়ালে ইনসুলেটর ব্যবহার করা যেতে পারে। সাউন্ড রিফ্লেকটিভ সারফেস বাড়ির বাইরের সারফেসে সংযুক্ত করা যেতে পারে। সাউন্ডপ্রুফ করতে গিয়ে ঘর যেন আবার বেশি বদ্ধ না হয়ে যায় সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে।
বাইরের আওয়াজ, গাড়ির হর্ন, ট্রাফিকের শব্দ, দরজা খোলার আওয়াজ, বৃষ্টি এবং আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট শব্দ, করিডরে থাকা মানুষের আওয়াজ, কথাবার্তা এগুলো সবকিছু থেকে আলাদা করার জন্য সাউন্ড ইনসুলেশনের প্রয়োজন।
সাউন্ড ইনসুলেশন কীভাবে কাজ করে?
শব্দ এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে কম্পনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। শব্দের কম্পনকে রোধ করার মাধ্যমেই সাউন্ড ইনসুলেশন নিশ্চিত করা হয়।
শব্দ দুই ধরনের।
১। বাতাসে কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে যে শব্দ উৎপন্ন হয়-
বাইরের যেকোনো আওয়াজ, হর্নের শব্দ, ট্রাফিকের শব্দ, কথা বলার শব্দ, টেলিভিশন, রেডিও থেকে উৎপন্ন শব্দ ইত্যাদি।
২। যেকোনো কিছুর প্রভাবে সৃষ্ট কম্পন থেকে যে শব্দ উৎপন্ন হয়-
হাঁটাচলার আওয়াজ, ওয়াশিং মেশিন, ব্লেন্ডারের কম্পনের ফলে সৃষ্ট আওয়াজ, ড্রিল মেশিনের আওয়াজ ইত্যাদি।
সাউন্ড ইনসুলেশন এই দুই ধরনের শব্দের প্রভাব কমিয়ে যেকোনো স্পেসকে অপ্রয়োজনীয় আওয়াজমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে শব্দের স্থানান্তর রোধ করতে অন্তরক পদার্থ শব্দের উৎস যে জায়গাতে থাকে সেই জায়গার একটা বাধা হিসেবে কাজ করে এবং শব্দের কম্পন শোষণ করে সাউন্ড ইনসুলেশন নিশ্চিত করে।
ইনসুলেটর বা অন্তরক নির্ধারণে বিবেচ্য বিষয়
– শব্দ শোষণ বা অ্যাবজর্ভ করার ক্ষমতা
– ওজন হালকা হতে হবে
– বায়ু নিরোধক
– দেয়াল, ছাদ এবং ফ্লোরে সহজে ব্যবহার করা যায় (ইনস্টলেশন যেন সহজে করা যায়)
– আবহাওয়া
– স্থায়িত্ব
– সহজে প্রতিস্থাপন করা যায়
– খরচ
– সহজলভ্যতা
– ক্ষতিকর প্রভাব
– আগুন নিরোধক
– পরিবেশের উপর প্রভাব
সাউন্ড ইন্সুলেশনের জন্য ব্যবহৃত উপাদান
– গ্লাস উল বা ফাইবার গ্লাস
– রক উল
– গ্লাস ইনসুলেশন
– ভিনাইল বোর্ড
– ফোম প্যানেল
– জিপসাম বা পিওপি বোর্ড
– থার্মোকল
এসকল উপাদান দেয়াল, ফ্লোর ও সিলিংয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং যেকোনো অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে সাউন্ড ইনসুলেশন নিশ্চিত করে। সচেতন হয়ে বাড়ি নির্মাণ করুন, নিরাপদ থাকুন শব্দদূষণ থেকে।
04/10/2020
ভূমিকম্প থেকে বাড়ির সুরক্ষা: কী কী করতে হবে?
২০২০ সালকে বলা হচ্ছে দুর্যোগের বছর। করোনার প্রকোপের খবরে যখন চারদিক সরগরম, তখন আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, বিগত কয়েক বছর ধরেই উপমহাদেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে। এর অংশ হিসাবে ঢাকায় ক্রমাগতভাবে অনুভূত হতে থাকা ভূমিকম্পের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। এছাড়া ২০১৮ সালে নেপালে অনুভূত তীব্র ভূমিকম্প আভাস দেয় যে, যেকোনো সময় ঢাকাও হয়ে উঠতে পারে প্রলয়ঙ্করী এই দুর্যোগের কেন্দ্রস্থল।
অনেক সময়ই আমাদের আড্ডা-আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে একটি প্রশ্ন, ঢাকায় যদি আসলেই বেশি মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, আমাদের কত শতাংশ ভবন সেখানে রক্ষা পাবে? খুবই শঙ্কাজনক প্রশ্ন হলেও এর সঠিক উত্তর দেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। আগে নির্মিত হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর সিংহভাগেরই এ ব্যাপারে যথেষ্ট পুনঃপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এর সাথে সাথে নতুন নির্মিতব্য ভবনগুলোকে হতে হবে অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও ভূমিকম্প সহনীয়। একটি ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় করতে তিনটি আলাদা পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
১. নকশা প্রণয়ন
বাংলাদেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, স্থপতির ভূমিকা শুধু লেআউট বা প্ল্যান করে দেওয়া। এই ধারণাকে সামনে রেখে অনেকেরই ডিপ্লোমা বা স্থাপত্যের ছাত্রদের কাছ থেকে কোনোরকমে একটি প্ল্যান এঁকে নেয়ার প্রবণতা থাকে। একজন স্থপতিকে ভবনের নকশা প্রণয়ন করতে অবশ্যই ডিগ্রি (ডিপ্লোমা নয়) এবং লাইসেন্সধারী হতে হবে। থাকতে হবে পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এবং হতে হবে Institute of Architects Bangladesh (IAB) এর সক্রিয় সদস্য। তিনি ভবনের নকশা প্রণয়নের সময় নিশ্চিত করবেন-
● ভবনের জন্য দরকারি কলাম-বীম-শিয়ার ওয়াল বা সব ধরনের স্ট্রাকচারাল উপাদানের জন্য প্রাথমিক নকশা থেকেই যেন অবস্থান নির্ধারণ করা থাকে। প্রয়োজনে সেগুলোর আকার বাড়ানোর জন্যও যেন যথেষ্ট জায়গা থাকে।
● ভবনের বাসিন্দার সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ লিফট ও সিঁড়ির ব্যবস্থা যাতে থাকে এবং উলম্ব চলাচল বা Vertical Connection যেন কোনোভাবেই অতিরিক্ত লিফট-নির্ভর না হয়।
● দুর্যোগের সময় ভবন থেকে সবাই বের হয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারি বিধিমালা মোতাবেক আলাদা সিঁড়ি (Emergency Stairs) যেন অবশ্যই থাকে। ভবনের আকার অনুসারে এই আলাদা সিঁড়ি যেন প্রতি ১৫০ ফুট অতিক্রম করার মধ্যে কমপক্ষে দুইবার পাওয়া যায়।
● ভবনের সামনে বিল্ডিং কোড ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে যেন জায়গা ফাঁকা রাখা হয় এবং ভবনের মাঝে মাঝেও যাতে জরুরি প্রয়োজনে জমায়েত হবার ও সুরক্ষা পাবার উপকরণ পাওয়া যায়।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ভবন সংক্রান্ত পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে স্থপতির কাজ। এই কাজে অন্য কোনো পেশার মানুষ নিয়োগ কখনোই একটি পরিকল্পিত ভবন তৈরি করতে পারে না, যে পরিকল্পনা দুর্যোগ মোকাবেলায় খুবই দরকারি।
২. কাঠামোগত নকশা
কাঠামোগত নকশা বা Structural Design হলো ভবনের নকশা ও আর্কিটেকচারাল ডিজাইন শেষ হবার পরবর্তী ধাপ। এই ধাপে কাজ করবেন একজন প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তাকে হতে হবে ডিগ্রিধারী, Institute of Engineers Bangladesh (IEB) এর সদস্য এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কাঠামোগত কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। এই ধাপে তিনি যা যা করবেন তা হলো-
● সয়েল টেস্ট করে ভবনের ফাউন্ডেশনের প্রকৃতি নির্ধারণ করবেন যেন দুর্যোগের সময় ভবন সঠিকভাবে এর ভার মাটিতে বহন করে নিতে পারে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে ভবন যেন কোনোভাবেই হেলে না যায়।
● অত্যন্ত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে ভবনে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাদান (রড, সিমেন্ট, স্টিল ও কাঠামো ধরে রাখতে যা যা কাজ করবে) সেগুলোর বিস্তারিত হিসাব ও ড্রয়িং করবেন এবং নিশ্চিত করবেন ভবনের সর্বোপরি কাঠামো যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত সহনীয় হয়। ভবনের ডিজাইন করার সময় তিনি এই বিষয়টি চিন্তা করে ও সেফটি ফ্যাক্টর হাতে রেখে কাঠামোর ডিজাইন করবেন।
● ভূমিকম্প সহনীয় ডিজাইন নিশ্চিত করতে কম্পিউটার সিমুলেশন তৈরি করে প্রকৌশলী আপনাকে আগেই নিশ্চিত করবেন ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ভবনের ব্যবহার কেমন হবে। এর সাহায্যেই ভবন তৈরির আগেই ভূমিকম্পের সময় ভবনের সহ্যক্ষমতা সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারণা থাকবে।
৩. অনুমোদন ও নির্মাণ
অনুমোদন ও নির্মাণের ভার আপনার ও আপনার কনট্রাক্টরের ওপর। এই ধাপগুলোতে যা যা মনে রাখবেন তা হলো-
● প্রকৌশলী এবং স্থপতির নকশার আইনগত দায়ভার তাদের। কিন্তু সেই নকশা অপরিবর্তিত রেখে ও সকল বিধি মেনে পাশ করাবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে আপনাকেই। কোনো ধরনের অবৈধ পরিবর্তন করে স্কয়ার ফিট বাড়ানো বা ফাঁকা জায়গা কমানোর ধারণা পরিহার করতে হবে। আপনার নিরাপত্তার জন্যেই এগুলো প্রয়োজনীয়।
● পাশ করা নকশা যেন কনট্রাক্টর হুবহু মেনে চলেন সে ব্যাপারে আপনাকে হতে হবে সচেতন। নকশার পরই আপনাকে স্থপতি তার কাজের অংশ হিসাবে Bill of Quantities (BoQ) দেবেন। প্রকৌশলীর ডিজাইন শেষ হয়ে গেলে পাবেন Specification (স্থপতির অফিস থেকেই)। এই দুটি আপনাকে সকল উপাদানের দাম ও উপকরণের খুঁটিনাটি সম্পর্কে একদম পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দেবে। এগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন।
অপেশাদার কারও পরামর্শে বাড়ি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। মনে রাখবেন, একজনের ১০টি বাড়ি থাকলেও তার পরামর্শ আপনার বাড়িটিকে ভূমিকম্পরোধী করার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং আপনার নিজের বিনিয়োগ ও পরিবারের নিরাপত্তা নির্ভর করে আপনার সিদ্ধান্তের উপরেই। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে পেশাদারী সাহায্য ও কাজের গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই কেবল ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ি তৈরি করা সম্ভব।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
563/1 Monipur, Mirpur-2, Dhaka
Mirpur
1216
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 18:00 |
| Tuesday | 09:00 - 18:00 |
| Wednesday | 09:00 - 18:00 |
| Thursday | 09:00 - 06:00 |
| Saturday | 09:00 - 18:00 |
| Sunday | 09:00 - 18:00 |