Foysal Rafi
পূর্বী ধূসর কাঠবিড়ালি (ইংরেজিতে একে Eastern Gray Squirrel বলা হয়, বৈজ্ঞানিক নাম: Sciurus carolinensis)।
১. শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য
* চেহারা: এদের গায়ের পশম মূলত ধূসর রঙের হয়, তবে মুখ ও লেজের দিকে হালকা বাদামি বা লালচে আভা থাকতে পারে। শরীরের নিচের অংশ অর্থাৎ পেট সাধারণত সাদাটে রঙের হয়।
* বিশাল লেজ: এদের ঝোপালো লেজটি কেবল সৌন্দর্য বাড়ায় না, এটি এদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। উঁচুতে গাছের ডালে লাফানোর সময় লেজটি ভারসাম্য বজায় রাখে, শীতকালে কম্বলের মতো শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং কোনো বিপদ দেখলে লেজ কাঁপিয়ে অন্য কাঠবিড়ালিদের সতর্ক করে।
২. বাসস্থান ও বিচরণ
* উৎপত্তি: এরা মূলত উত্তর আমেরিকার পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের প্রাণী।
* বিশ্বজুড়ে উপস্থিতি: পরবর্তীতে এদের যুক্তরাজ্য (UK), আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে এরা এতটাই মানিয়ে নিয়েছে যে সেখানকার স্থানীয় লাল কাঠবিড়ালিরা (Red Squirrels) এদের কারণে আজ বিলুপ্তির পথে।
* অভিযোজন ক্ষমতা: এরা বড় বড় গাছের বনে থাকতে পছন্দ করলেও শহরের পার্ক, বাগান এবং মানুষের বাড়ির আশেপাশে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।
৩. খাদ্য ও স্বভাব
* খাদ্যাভ্যাস: এরা মূলত বিভিন্ন গাছের ফল, বীজ, বাদাম, গাছের কুঁড়ি এবং বেরি জাতীয় ফল খায়। সুযোগ পেলে এরা পাখির ডিম, ছোট ছোট পোকামাকড় বা ছত্রাকও খেয়ে থাকে।
* বাদাম লুকিয়ে রাখা: এদের একটি চমৎকার স্বভাব আছে। এরা শীতকালের জন্য খাবার হিসেবে শত শত স্থানে একটি একটি করে বাদাম মাটির নিচে লুকিয়ে রাখে।
* প্রকৃতির মালী: মজার ব্যাপার হলো, এদের ঘ্রাণশক্তি খুব তীক্ষ্ণ হলেও লুকিয়ে রাখা সব বাদামের কথা এরা মনে রাখতে পারে না। এদের ভুলে যাওয়া সেই বাদাম থেকেই পরে নতুন নতুন গাছের জন্ম হয়, যা বনভূমি বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
৪. বুদ্ধিমত্তা ও যোগাযোগ
* সতর্ক সংকেত: কোনো বিপদ দেখলে বা মানুষ কাছে গেলে এরা অদ্ভুত কিচিরমিচির শব্দ করে এবং লেজ নাড়িয়ে অন্যদের সাবধান করে দেয়।
* সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা: এরা খুবই বুদ্ধিমান এবং এদের স্মৃতিশক্তি দারুণ। খাবার পাওয়ার জন্য এরা যেকোনো কঠিন বাধা বা জটিল খাঁচাও খুব দ্রুত পার হতে শিখে যায়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
Matuail