Shaikh Alamin Rume
হাফেজ সাহেবদের কুরআন ভুলে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত বেদনার, তবে এটি একটি বাস্তব সমস্যা। কর্মব্যস্ততা, নিয়মিত তিলাওয়াতের অভাব এবং শোনানোর কোনো নির্দিষ্ট রুটিন না থাকার কারণেই মূলত এমনটি হয়।
তবে আশার কথা হলো, যিনি একবার কুরআন বুকে ধারণ করেছেন, তিনি একটু নিয়মতান্ত্রিক মেহনত করলেই তা আবার খুব দ্রুত ফিরিয়ে আনতে পারেন। ইয়াদ ফিরিয়ে আনা এবং তা মজবুত রাখার জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা বা পড়ানো সবচেয়ে বেশি কার্যকর:
১. দুর্বলতা চিহ্নিত করে ভাগ করা
পুরো ৩০ পারা একবারে ঠিক করার চিন্তা করলে চাপ মনে হবে। প্রথমে যাচাই করতে হবে কোন পারার অবস্থা কেমন। পারাগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করতে হবে:
* ভালো ইয়াদ আছে: যেগুলো অনায়াসে পড়া যায়।
* মধ্যম: একটু আটকে যায় বা মাঝে মাঝে লোকমা দিতে হয়।
* পুরোপুরি ভুলে যাওয়া: যেগুলো পড়তে গেলে মনে হয় জীবনেও মুখস্থ করা হয়নি।
২. ভুলে যাওয়া অংশকে 'নতুন সবক' মনে করা
যেসব পারা পুরোপুরি ভুলে গেছেন, সেগুলো রিডিং পড়ে ঠিক করা যাবে না। ওই পারাগুলোকে সম্পূর্ণ 'নতুন সবক' (নতুন মুখস্থ) হিসেবে ধরতে হবে। প্রতিদিন আধা পৃষ্ঠা বা এক পৃষ্ঠা করে নতুনভাবে মুখস্থ করতে হবে এবং পেছনের পড়া (সাতসবক,আমখতা) মেলাতে হবে।
৩. নির্দিষ্ট 'সাথী' (শোনানোর সাথী) নির্ধারণ
ইয়াদ না থাকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাউকে না শোনানো। নিজের ভুল নিজে ধরা যায় না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে আধা পারা বা এক পারা কাউকে শোনানোর রুটিন করতে হবে। যিনি শুনবেন (সাথী), তাঁকে অবশ্যই ভুল ধরার মতো যোগ্য হতে হবে।
৪. একই ছাপার মুসহাফ (কুরআন) ব্যবহার করা
অনেকে একেক সময় একেক ছাপার কুরআন শোনেন বা পড়েন। এটি ইয়াদ নষ্ট হওয়ার একটি বড় কারণ। হাফেজি কুরআনের (যেমন— ১৫ লাইনের ছাপা) একটি নির্দিষ্ট কপিই সব সময় ব্যবহার করতে হবে। এতে আয়াতের অবস্থান চোখের সামনে ছবির মতো ভেসে ওঠে।
৫. নামাজে তিলাওয়াত করা (সবচেয়ে বড় পরীক্ষা)
ইয়াদ পাকা করার চূড়ান্ত মাধ্যম হলো নামাজ। প্রতিদিন মুখস্থ করা বা রিভিশন দেওয়া অংশটুকু সুন্নত ও নফল নামাজে (বিশেষ করে তাহাজ্জুদে) তিলাওয়াত করতে হবে। নামাজে না আটকালে বুঝতে হবে ইয়াদ মজবুত হয়েছে।
৬. পিছনের পড়া রিভিশন চালু রাখা ।
যাঁরা কর্মজীবনে ব্যস্ত, তাঁদের জন্য একা একা এই রুটিন ধরে রাখা কঠিন। প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এমন হাফেজ শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ 'মুরাজাআহ ব্যাচ' বা 'হিফজ রিভিশন ব্যাচ' চালু করা যেতে পারে। প্রতিদিন ফজর বা এশার পর তারা আধা ঘণ্টা সময় দিয়ে একজন শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে পড়া শোনাবে। এতে একটি জবাবদিহিতা ও ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। ( এই নিয়ম সবসময় চালু থাকলে শিক্ষকদের ইয়াদ মজবুত থাকবে)
৭. চোখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
গুনাহের কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। বিশেষভাবে মোবাইল বা ইন্টারনেটে চোখের গুনাহ থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিদিন ইস্তেগফার বা তওবা করতে হবে।
যাঁরা ভুলে গেছেন, তাঁদের হতাশ না হয়ে অল্প অল্প করে শুরু করা উচিত।
বিঃদ্রঃ
ছাত্র বা উস্তাদ ( অর্থাৎ হাফেজ কর্মজীবী ) সবার ক্ষেত্রে এই পোষ্টি এক সাথে লেখা হয়েছে। কেউ কোন বিষয় না বুঝলে হাফেজ মাওঃ মেহেদী হাসান ভাইকে ইনবক্সে প্রশ্ন করতে পারেন।
Maqam Saba عبد الرازق الشهاوي
পাইকগাছার সৌন্দর্য ❤️
মীরজাফরের ধোকা – পলাশীর অজানা গল্প:
১৮শ শতকের মাঝামাঝি বাংলা ছিল ভারতের বর্ষের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ। মুর্শিদাবাদ অর্থনৈতিক রাজধানী; কৃষি, বস্ত্রশিল্প ও বাণিজ্য বাংলাকে ইউরোপীয় শক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৭৩৩–১৭৫৭) কোম্পানির প্রভাব রুখতে চেষ্টারত ছিলেন, কিন্তু তাঁরই কাছের মানুষরা হয়েছিলো পতনের কারণ।
নবাবের সেনাপতি মীরজাফর দীর্ঘদিনের সামরিক নেতা হয়েও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ ও ক্ষমতার লোভ তাঁকে ইংরেজদের সহযোগী করে তোলে। প্রভাবশালী মহাজন জগৎশেঠ, ব্যবসায়ী উমিচাঁদ এবং অসন্তুষ্ট অভিজাতদের সহায়তায় মীরজাফর গোপন চুক্তি করেন—সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করলে তিনি নবাব হবেন, আর ইংরেজরা ব্যবসা ও কর নিয়ন্ত্রণ করবে।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর ময়দানে সিরাজুদ্দৌলার সেনাবাহিনী ইংরেজদের থেকে সংখ্যায় বড় হলেও মীরজাফর ও তাঁর অনুগত বাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকায় যুদ্ধ প্রায় রক্তপাতহীনভাবে ইংরেজদের হাতে চলে যায়। গুলাম হোসেন সালিম লিখেছেন:
“বাংলার ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছিল বীরত্বে নয়, বিশ্বাসঘাতকতায়।”
যুদ্ধ শেষে মীরজাফর নবাব হয়, কিন্তু ক্ষমতা ছিল নামমাত্র। রবার্ট ক্লাইভ ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রকৃত শাসক হয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় ২২ কোটি টাকার সমমূল্যের ধন ইংরেজদের হাতে চলে যায়।
মীরজাফরের উত্থান বাংলার স্বাধীনতার পতনের প্রতীক। যে ক্ষমতার স্বপ্নে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন, তা পরিণত হয়েছিল বাংলার দাসত্বে। পলাশীর যুদ্ধ শুধু যুদ্ধ নয়; এটি ইংরেজ শাসনের সূচনা এবং বাংলার ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
Khulna