Project WE
Women can be trained in technical, self-empowerment,self-development via this project.
22/08/2024
ভারতের নির্মিত বাঁধগুলোর কারণে বাংলাদেশের উপর সৃষ্টি হওয়া সমস্যা: ধৈর্যের বাঁধ কি ভেঙে যাচ্ছে এবার?
বাঁধ সাধারণত উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের মতো সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে, যখন বাঁধগুলো নিচের দিকের অঞ্চলগুলোর ওপর প্রভাব বিবেচনা না করেই নির্মাণ করা হয়, তখন তা প্রতিবেশী অঞ্চলের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যাটি বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভারতের নির্মিত বাঁধগুলোর ক্ষেত্রে, যা বাংলাদেশের নদীগুলির প্রাকৃতিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে আসছে এবং প্রতিনিয়ত পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। সেরকমই এক বিশাল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বর্তমানে ভারতের টম্বরু বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনীর মতো জায়গায়।
বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগ করে নিয়েছে, যার মধ্যে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই নদীগুলি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কৃষি, পানীয় জল এবং দেশের বিশাল বদ্বীপীয় বাস্তুতন্ত্রকে সহায়তা করে। তবে, ভারতের উজানে বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণের ফলে এই নদীগুলির প্রাকৃতিক প্রবাহ পরিবর্তিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত কাঠামোগুলির মধ্যে একটি হলো ফারাক্কা ব্যারাজ, যা ১৯৭৫ সালে ভারতের গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত হয়েছিল, যেটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে। এই ব্যারেজটি গঙ্গার জলকে হুগলি নদীতে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কলকাতা বন্দরের প্রবাহ উন্নত হয়। তবে, এই পানি সরানোর কারণে বাংলাদেশের উপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে প্রত্যক্ষ প্রভাব হলো শুকনো মৌসুমে গঙ্গার প্রবাহের উল্লেখযোগ্য হ্রাস। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর থেকে শুকনো মৌসুমে গঙ্গার প্রবাহ ৬৫% হ্রাস পেয়েছে। এই প্রবাহ হ্রাসের ফলে কয়েকটি নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে, যেমন:
১. কৃষি পতন: বাংলাদেশের কৃষি, যা সেচের জন্য গঙ্গার উপর অতি নির্ভরশীল বলা চলে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানির প্রবাহ হ্রাসের ফলে ধানের মতো প্রধান ফসলের উৎপাদন কমে গেছে। খরার সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, যখন আগে থেকেই কমে যাওয়া প্রবাহ আরও হ্রাস পায়, যার ফলে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে।
২. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: মিঠা পানির প্রবাহ হ্রাসের কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি আরও দূরে প্রবেশ করতে পেরেছে, যার ফলে মাটি ও পানির লবণাক্ততা বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে কৃষিজমি অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং মিঠা পানির মাছের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে, যা স্থানীয় খাদ্য ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। BWDB-এর তথ্যমতে, দক্ষিণ বাংলাদেশের প্রায় ১৫ লাখ হেক্টর আবাদি জমি লবণাক্ততার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩. ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস: নদীর নিম্ন প্রবাহের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণও হ্রাস পেয়েছে, কারণ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পরিষ্কার পানির জন্য মানুষের কাছে সহজলভ্যতা কমে গেছে।
৪. বন্যা বৃদ্ধি: পানির প্রবাহ হ্রাসের পাশাপাশি বর্ষার সময়ে বন্যার পরিমাণ বেড়েছে। উজানে বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ নদীগুলির প্রাকৃতিক পলির প্রবাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এই পলি নদীর তলদেশ ঠিক রাখা এবং অতিরিক্ত ক্ষয় প্রতিরোধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পলি প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীর তলদেশে সিল্ট জমা হয়ে পানি স্তর বাড়ছে এবং বর্ষার সময় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালে, বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়, যখন দেশের ৬০% এরও বেশি অংশ নিমজ্জিত ছিল। যদিও ভারী বৃষ্টিপাত একটি কারণ ছিল, উজানের বাঁধের কারণে পরিবর্তিত প্রবাহ গতিবিধি পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। এই বন্যায় ১৯৯৮ সালে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো তিস্তা নদী নিয়ে চলমান বিরোধ, যেটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারত তিস্তার উপর বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে তিস্তা ব্যারাজ, যেটি সেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানি সরিয়ে দেয়। এর ফলে শুকনো মৌসুমে তিস্তার প্রবাহ বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
পানির প্রবাহ হ্রাস ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির পরিবেশগত প্রভাব অত্যন্ত গভীর। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এই সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের উপর চাপ পড়েছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল প্রাণী যেমন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এখন হুমকির মুখে পড়েছে।সামাজিকভাবে, এসব বাঁধের প্রভাব ধ্বংসাত্মক। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সীমান্তবর্তী নদীগুলোর উপর ভারতের নির্মিত বাঁধগুলো বাংলাদেশের উপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার মধ্যে বর্তমান কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনীর বিপর্যয় সর্বশেষ চাক্ষুষ প্রমাণ। এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় একটি সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যেখানে উভয় দেশ একসাথে কাজ করে বাঁধ নির্মাণের সুবিধাগুলি এবং নিচের দিকে থাকা সম্প্রদায়গুলির চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। কিন্তু বহু বছর ধরে বাংলাদেশিরা ভারতের পানে চেয়ে থেকেও আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান পেয়ে ওঠেনি। আস্তে আস্তে মানুষের ধৈর্যের বাঁধও ভেঙে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সবার প্রত্যাশা, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ না ভাঙুক, শীঘ্রই দৃষ্টিগোচর একটি সমাধান আসুক।
09/08/2024
রাষ্ট্রের প্রতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, তাদের সংগ্রাম ও অবদান অনস্বীকার্য। এই আদিবাসী দিবসে, দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, যারা স্বীকৃতি ও ন্যায়ের জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লড়াই করে আসছে। রাষ্ট্র সংস্কারের এই সময়ে, আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আদিবাসী কণ্ঠস্বর আর কখনোই উপেক্ষিত হতে দেওয়া যাবে না।
আমরা ২০২৪ এর আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে আন্তরিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার দৃঢ় আহ্বান জানাই, যাতে সমস্ত পরিচয় জাতি, ধর্ম, বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সম্মানিত হয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করে, বৈচিত্র্যের পক্ষের মানুষদের আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আনা উচিত। আসুন, আদিবাসীদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে এমন একটি দেশ গড়ে তুলি যা প্রতিটি সম্প্রদায়ের সঠিক ও সুষম মূল্যায়ন করে।
আজকের এই আদিবাসী দিবসে এর পক্ষ থেকে দেশের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
12/06/2024
আজকের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পৃথিবীতে প্রতি দশ শিশুর একজন শ্রমিক (তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ)।
‘শিশুশ্রম’ (Child Labour) দাস প্রথারই একটি বর্তমান সংস্করণ। শিশুদের কম পয়সা দিয়ে বেশি পরিশ্রম করানো যায়। তাছাড়া শিশু শ্রম অবৈধ; তাই সরকার নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা যেমন নিরাপদ কাজের পরিবেশ, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ইত্যাদির কিছুই শিশু শ্রমিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। ফলে, এতে মালিকের লাভ ও সুবিধা দুটোই বেশি।
মালিকপক্ষ শুধু শিশুদের শ্রম শোষণ করেই ক্ষান্ত থাকে এমনটি নয়। অল্প বয়সে কাজে যোগ দিয়ে একটি শিশু তার শৈশবকে হারিয়ে ফেলে; অথচ নিরাপদ ও সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের যথাযথ পরিবেশ পাওয়াটা একটি শিশুর জন্মগত অধিকার। মানবাধিকারের অস্বীকৃতি ছাড়াও শিশুর অন্যতম মৌলিক অধিকার, ’প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা’ থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই অশিক্ষিত থাকার অভিশাপ সারাজীবন বয়ে বেড়ায় একটি শিশু। এমনকি দারিদ্রের কারণে ভবিষ্যতে নিজের সন্তানদেরকেও স্কুলে না পাঠিয়ে ইট-ভাটা কিংবা মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজে পাঠাতে বাধ্য হয় সে।
অর্থাৎ, একটি শিশু শ্রমিক মূলত দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকা পড়ে যায়, যে ফাঁদ কেটে বের হওয়াটা এক জীবনে তার পক্ষে সম্ভব হয় না। এমনকি তার ছেলেপুলেও একই গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেতে থাকে। তাই আমরা বলতে চাইছি, ‘শিশুশ্রম’ নেহাৎ মামুলি ব্যাপার নয়। এই সংকটের শিকড় পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার গভীরে গিয়ে পৌঁছেছে; সমাধানও তাই সেখান থেকেই খুঁজতে হবে। সম্পদের অসম বন্টন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রম শোষণ, আইন বাস্তবায়নে অনীহা ও দুর্নীতি, সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামোর নিচের স্তরের মানুষের জীবনমানের বহুমুখী উন্নয়ন, শিশুর সুষ্ঠু শৈশব ও শিক্ষার নিশ্চয়তা ইত্যাদির মাধ্যমেই কেবল এই সংকট মোকাবিলা করা যেতে পারে। সব কথার শেষ কথা, আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আর এই ভবিষ্যতের নির্মাতা আমরা সবাই।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the organization
Website
Address
Khulna
9100