Affectionate Creation
20/06/2025
জুম্মার আমল
"আল্লাহু আকবার" বলার শক্তি।
উচ্চারনঃ- "আল্লাহু আকবার"।
লেখাঃ- শাহাব উদ্দিন তুহিম
সুজন একজন মাঝবয়সী মানুষ, গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। প্রতিদিনের মতোই সে তার ক্ষেতের কাজ করতো, বাড়িতে সময় কাটাতো, এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করতো। তবে একদিন তার জীবনে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, যা তাকে “আল্লাহু আকবার” বলার গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে।
একদিন দুপুরের দিকে, সুজন তার ক্ষেতের ফসল দেখতে যায়। হঠাৎ করে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, আর শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। সুজন নিজের ফসল বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে কাজ শুরু করে। সে জানতো, এই ঝড়ে ফসল ধ্বংস হয়ে গেলে তার পরিবারের জন্য খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
ঝড়ের সময়, হঠাৎ করে তার একমাত্র গরুটি খুঁটি থেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে যায় এবং দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। সুজন দৌড়ে গরুটিকে ধরার চেষ্টা করে, কিন্তু তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিলো না। গরুটি ছুটতে ছুটতে গ্রামের পাশের একটি জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। সুজন হতাশ হয়ে পড়ে, কারণ সেই গরুটি তার জীবিকার প্রধান মাধ্যম ছিলো।
ঝড় থেমে গেলে, সুজন মনমরা হয়ে জঙ্গলের দিকে হাঁটতে থাকে। তার মনে তখন একটাই চিন্তা, কীভাবে গরুটি খুঁজে বের করবে এবং কীভাবে তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলকে বাঁচাবে। সে যখন জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে, তখন তার মনে পড়ে তার ছোটবেলায় শিখানো একটি দোয়া, “আল্লাহু আকবার”—যা সবসময় আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বকে প্রকাশ করে।
সুজন তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর নামে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং বারবার বলতে থাকে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।” কিছুক্ষণ পরেই সে দেখে, তার হারিয়ে যাওয়া গরুটি একটি ঝোপের মধ্যে আটকে আছে এবং সেখান থেকে পালাতে পারছে না।
সুজন গরুটিকে ধীরে ধীরে উদ্ধার করে এবং তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে ফিরে এসে সে বুঝতে পারে যে, আল্লাহর নামে সাহায্য প্রার্থনা করার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে তার কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এরপর থেকে সুজন যেকোনো বিপদ বা সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রথমেই “আল্লাহু আকবার” বলতে শুরু করে।
তারপর একদিন, গ্রামের চারদিকে প্রচুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, গ্রামের পাশের নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে এবং যেকোনো সময় বন্যা হতে পারে। সুজন আবারও তার ফসল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। তবে, এবার সে আগের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে আল্লাহর উপর ভরসা করে। সে “আল্লাহু আকবার” বলে ফসল রক্ষার জন্য চেষ্টা করতে থাকে।
মিরাকলস্বরূপ, সেই রাতে যখন নদীর পানি বাড়তে থাকে, তখন গ্রামে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। পানি গ্রামের দিকে না এসে অন্যদিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। গ্রামের মানুষজন এই ঘটনার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তারা বুঝতে পারে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তিনি যেকোনো সময় তার বান্দাদের সাহায্য করতে সক্ষম।
ফজিলত ও আমলঃ- সুজনের জীবনের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, “আল্লাহু আকবার” বলা কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এটি আমাদের বিশ্বাসের শক্তি এবং আল্লাহর মহিমার প্রমাণ। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও ক্ষমতা স্মরণ করার মাধ্যমে আমরা যে কোনো বিপদ থেকে মুক্তি পেতে পারি।
নামের ব্যাখ্যাঃ- এই গল্পটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনে আল্লাহর নাম স্মরণ করার গুরুত্ব তুলে ধরে। “আল্লাহু আকবার” বলে আমরা সব সময় আল্লাহর প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও ভরসা প্রকাশ করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সব সময় সাহায্য করবেন, যদি আমরা তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি।
"আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, মহত্ত্ব বা বড়ত্বের কোনো কৃতিত্ব দেখলে আমরা বলি: আল্লাহু আকবার অর্থাৎ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।"
‘উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে বললাম, আপনি কি আপনার স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না। তখন আমি বললামঃ ‘আল্লাহু আকবার’। [সাহিহ বুখারি, হাদিস নং - ৬২১৮]
Affectionate Creation
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Goalundo