আমি মনে করি এই পৃথিবীটা সম্পুর্নভাবে স্বার্থপর মানুষের জন্য, যেখানে সমাজ অত্নীয়-স্বজন, বন্ধু -বান্ধবী সবাই নিজের স্বার্থকে প্রধান হিসেবে বিবেচনা করে। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না, মুল বিষয়টা হলো মানুষ নিজেকেই সব থেকে বেশি ভালোবাসে অন্যকে ভালোবাসতে ভুলেই গেছে প্রায়। একে অন্যের প্রতি আমাদের যদি কোনো দরদই না থাকে তাহলে পশু-পখী, গরু -ছাগল, বাঘ-সিংহ তাদের থেকে আমরা আলাদাই বা কিভাবে, ওরাও আমাদের মত ঘুমায়, ক্
ষুধা পেলে খাবার খায়, আত্মরক্ষার চেষ্টা করে, সন্তানও জন্ম দেয়।
ওরা সর্বদা নিজের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত থাকে, আমাদের সমাজের মতই হোক সে স্বার্থ ভালোর বা মন্দের।
আচ্ছা সমাজকে স্বার্থপর বানায় কে, আমরাই আমাদের ভালো বা মন্দ দিয়েই সমাজকে স্বার্থপর বানিয়ে রাখি। আমাদের লোভ, লালসা, অহংকার আমাদেরকে স্বার্থপর সাজিয়ে রাখে।
আমাদের সমাজে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছেই ঠিকাছে, কিন্তুু এত শিক্ষিত হয়েই বা কি লাভ? নিজের পেট চালাতে স্কুল-কলেজে যাওয়া লাগে না। গরু-ছাগল কখনও কি স্কুলে গিয়েছে শুনেছেন? না। আমরা শিক্ষিত তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেই শিক্ষার মান পশুদের মধ্যকার শিক্ষা থেকেও জঘন্য।
আমরা জানি, পশুর ভিতরে সবচেয়ে বেশি হিংস্র বাঘ/সিংহ। আচ্ছা, বাঘ বা সিংহকে কি কখনো দেখেছেন বা শুনেছেন তাদের মধ্যে ৪ বছরের কোনো বয়সের বাচ্চাকে ধর্ষন করেছে? অথচ আমরা মানুষ করি।
যদি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কারো ভ্যান/গাড়ী থেকে ২ বস্তা চাল পড়ে যায়, গরু ছাগল যদি দেখতে পায় ওর প্রয়োজন মত খেয়ে চলে যাবে। আর যদি কোনো মানুষ দেখে প্রথমে আগে কোথায় লুকানো যায়। এই হচ্ছে আমাদের মানুষিকতা "ধরো,মারো,খাও"
শিক্ষা কাকে বলে? "যা মানুষকে বিনয়ী করে" অথচ সেই শিক্ষার সংজ্ঞাটাকেই আমরা ভুলতে বসেছি। আমাদের স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার নামে কি শিক্ষাচ্ছে? কীভাবে বি.সি.এস. ক্যাডার হওয়া যায় আর কীভাবে ভালো চাকরী পাওয়া যায়? এই তো। ঘুরে ফিরে আবার একই কথা বলতে হয় আপনি আপনার স্বার্থে দৌড়াচ্ছেন আর সমাজ সমাজের স্বার্থে। আপনি সমাজকে কি দেখাচ্ছেন? অর্থ-সম্পদ, লোভ- লালসা আর সমাজের মানুষও এই অর্থ-সম্পদ ও লোভ-লালসার শীকার হচ্ছে।
আমি চাকরি করতে নিষেধ করছি না, আপনি নিজেও তো চাকরী দিতে পারেন। আর চাকরিজীবী হলেনই বা ক্ষতি নেই পাশাপাশি সমাজকে তো কিছু দিতে পারেন, সমাজ আপনাকে অবহেলা করতে পারে আপনি তো সমাজের পাশে গিয়ে একবার দাড়িয়ে দেখতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি কেউ কাউকে ১০০% ভালোবাসলে সে ৫০% আপনাকে ভালোবাসতে বাধ্য। তবে সেই ভালোবাসার যোগ্যতা আপনার থাকতে হবে।
আর সমাজের জন্য সেই যোগ্যতাসম্পুর্ন ব্যক্তি তৈরী করাই আমাদের মুল উদ্দেশ্য।
কিন্তু এই সমাজ প্রথমে আপনাকে চাইবে না, বারংবার অবহেলা করবে, কিন্তুু আপনাকে হেরে গেলে চলবে না এই সমাজকে আপনাকে ভালোবাসতে বাধ্য করতে হবে। "পাছে লোকে কিছু বলে" এইভেবে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। লক্ষ্য থাকবে একটাই সাফল্য।
"যে মরতে জানে সে বেচে থাকতেও জানে আর যে মৃত্যুকে ভয় পায় সে বেচে থাকবে কি করে?"
চিন্তা করুন আমাদের ছোট বেলার কথা একটু লজ্জা হলেও সত্তি স্কুল/কলেজ জীবনে কেউ না কেউ কাউকে না কাউকে ভালোবেসেছে আর ঐ ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কতই না কষ্ট করেছে স্কুল ফাকি দেওয়া, বাবার পকেটের থেকে টাকা চুরি ,বৃষ্টিতে ভিজা। রাস্তার পাশে, স্কুল গেটে, বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। যে কষ্টগুলো হাসিমুখে স্বীকার করতে পেরেছে সেইতো সফল হয়েছে। আর কষ্টকে যে শুধু কষ্টই ভেবেছে সে তো পরাজিত।
সেদিন আপনি একা ছিলেন তাওতো পেরেছেন আজ আপনার পাশে আপনি, আমি, আরো অনেকেই আছেন আজ কেনো পারবেন না?
চলুন আমরা সবাই হাতে হাত রেখে এই স্বার্থপর সমাজের মানুষগুলোর মধ্যে ভালোবাসার সেতুবন্ধন তৈরী করি।