Enlightened Knowledge
The main purpose of this page is to make people aware of every enlightening educational subject in life.
16/07/2023
মুসাফাহা করার পদ্ধতি কী? তা কি এক হাতে হবে না দু হাতে?
▬▬▬🔹♦🔹▬▬▬
উত্তর:
সালাম বিনিময় ও মুসাফাহা করা নি:সন্দেহে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। প্রখ্যাত সাহাবী বারা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمَينِ يَلْتَقِيَانِ فَيَتَصَافَحَانِ إِلاَّ غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَفْتَرِقَا
“দু’জন মুসলিম সাক্ষাৎ কালে মুসাফাহা করলেই একে অপর থেকে পৃথক হবার পূর্বেই তাদের (গুনাহ) মাফ করে দেওয়া হয়।’’
[আবু দাউদ ৫২১২, ৫২১১, তিরমিযি২৭২৭, ইবনে মাজাহ ৩৭০৩, সহীহ-সহীহ তারগীব]
💠 মুসাফাহা করার পদ্ধতি কি?
এ ব্যাপারে কথা হল, সুন্নত হল উভয় পক্ষ ডান হাত দ্বারা মুসাফাহা করবে। কারণ, এ শব্দটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এটি একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ হল, “এক হাতের তালুকে অপর ব্যক্তির হাতের তালুতে রাখা।” (মু’জামু মাকায়ীসিল লুগাহ ৩/২৩৯ ইত্যাদি।) এবং যে সব হাদিসে মুসাফাহা আলোচনা এসেছে সেগুলো থেকে বাহ্যিক অর্থ এটাই বুঝা যায়।
তাই উভয় পক্ষ থেকে দু হাত দ্বারা ব্যবহার করলেই মুসাফাহা হওয়ার জন্য যথেষ্ট। চার হাত ব্যবহার করার আদৌ প্রয়োজন নেই।
এছাড়াও শুধু ডান হাত দ্বারা মুসাফাহা করার ব্যাপারে কিছু হাদিস পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো সনদগতভাবে দুর্বল হওয়ায় সেগুলো উল্লেখ করা হল না।
কিন্তু দু হাতে মুসাফাহা করার কথা কোন সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
তবে কোন কোন হাদিসে পাওয়া যায় যে, রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ কোন কারণে দু হাত দিয়ে কোন সাহাবীর হাত ধরেছেন। যেমন, সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে সেভাবে তাশাহহুদ পড়ার নিয়ম শিখিয়েছেন যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের কোন সূরা শিখাতেন। তখন আমার হাত তাঁর দু হাতের মাঝে ছিল।” (সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ নামাযে তাশাহহুদ পাঠ করা।)
এখানে রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার জন্য এবং শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্য তার দু হাত ধরেছেন। এর মাধ্যমে আমাদের দেশে যেভাবে দু হাত দ্বারা মুসাফাহা করা হয় তা প্রমাণিত হয় না। বরং এখান থেকেও প্রতীয়মান হয় যে, রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাধারণ নিয়ম ছিল এক হাতে মুসাফাহা করা। কারণ, তা না হলে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ অত্র হাদিসে দু হাতে ধরার কথাটি আলাদাভাবে উল্লেখ করতেন না। দু হাত ধরার কথাটি এজন্য উল্লেখ করেছেন যে, তা ছিল সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ।
মোটকথা সুন্নত হল, একজন মুসলিম তার ডান হাতকে অপর মুসলমান ভাইয়ের ডান হাতে রেখে মুসাফাহা করবে। এটাই উত্তম নিয়ম।
সৌদী আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন:
“দু হাতে মুসাফাহা করার ব্যাপারে আমাদের কোন কিছু জানা নাই। কিন্তু তা উচিৎ নয় বরং উত্তম হল এক হাতে মুসাফাহা করা।”
আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
▬▬▬🔹♦🔹▬▬▬
উত্তর প্রদান:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
04/07/2023
প্রশ্ন: ইবাদত শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? ব্যবসা, চাকুরী, সাংসারিক কাজ-কারবার ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজে কি সওয়াব পাওয়া যায়?
▬▬▬◄✪✪► ▬▬▬
উত্তর:
ইবাদত العبادة শব্দের অর্থ: গোলামী বা দাসত্ব করা, আনুগত্য করা, বিনয় প্রকাশ করা ইত্যাদি।
আর পারিভাষিক ব্যাপক অর্থে ইবাদত হল, সকল প্রকার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ঐ সকল কথা ও কাজ যেগুলো মহান আল্লাহ ভালবাসেন এবং সন্তুষ্ট হন। [শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.]
তাহলে দেখা যাচ্ছে, ইবাদত তিনটি ক্ষেত্রে বিভক্ত। যথা: অন্তর, মুখের ভাষা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
🌀 উদাহরণ:
▪অন্তর দ্বারা ইবাদত: যেমন, আল্লাহর প্রতি ভয়, ভরসা, ভালবাসা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ, সৎ নিয়ত, আল্লাহকে মনে মনে স্মরণ করা, সৃষ্টি জীব নিয়ে ভাবা ইত্যাদি।
▪ মুখের ভাষা ও অন্তর দ্বারা ইবাদত: যেমন, তাসবিহ, (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) ইত্যাদি দুআ ও জিকির পাঠ করা, আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা ইত্যাদি।
▪ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তর দ্বারা ইবাদত: যেমন, সালাত, সিয়াম, যাকাত, হজ্জ, জিহাদ ইত্যাদি ।
এছাড়া আরও অনেক ধরণের ইবাদত রয়েছে যেগুলো আদায়ের মাধ্যম হল, অন্তর, ভাষা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
🌀 ইবাদত এমন একটি বিষয়, যাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা’আলা সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِي، مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِي، إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
“একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই আমি জিন ও মানব জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাইনা এবং এটাও চাইনা যে, তারা আমার আহার্য যোগাবে। আল্লাহ্ তা’আলাই তো জীবিকা দাতা, মহাশক্তির আধার ও পরাক্রান্ত।” [সূরা যারিয়াত: ৫৬-৫৮]
🌀 দুনিয়াবি কাজকর্মে কি নেকি পাওয়া যায়?
মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগি করে যেমন সওয়াব অর্জন করে তেমনি দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন- ঘুমানো, পানাহার, বেচাকেনা, জীবিকার অনুসন্ধান, বিবাহ-শাদি ইত্যাদি- এগুলোর মাধ্যমেও সওয়াব অর্জন করবে যদি তার উদ্দেশ্য হয় যে, এ সকল বৈধ কাজ-কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের কাজে শক্তি অর্জন করবে অর্থাৎ এগুলোর মাধ্যমে সুস্থ ও ভালো থেকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করবে।
এই সৎ নিয়তের কারণে মানুষ দুনিয়াবি কাজকর্মের মাধ্যমেও সওয়াব অর্জন করবে ইনশাআল্লাহ।
▪ এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদিসটি প্রণিধানযোগ্য:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرٌ؟ فَكَذَلِكَ إذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلَالِ، كَانَ لَهُ أَجْرٌ”
"আর তোমাদের নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও সদকা। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কেউ যখন যৌন আকাঙ্ক্ষা সহকারে স্ত্রীর সাথে সম্ভোগ করে, তাতেও কি সওয়াব হবে?
তিনি বলেন, "তোমরা জানো না যে, যখন কেউ হারাম পদ্ধতিতে যৌন সম্ভোগ করে তখন সে গুনাহগার হয়!?
সুতরাং অনুরূপভাবে যখন সে ঐ কাজটি হালাল পন্থায় সম্পন্ন করে তখন সে তার সওয়াব পায়।” [মুসলিম: ১০০৬]
সুতরাং প্রতিটি মুমিনের উচিত হবে, দুনিয়াবি সব ধরণের কাজ-কারবার-যেমন, খাওয়া-দাওয়াহ,বিবাহ-শাদি, লেখাপড়া, কৃষিকাজ, চাকুরী, ব্যবসা ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজকর্মে সৎ নিয়ত পোষণ করা। তাহলে এ সব দুনিয়াবি কাজ করেও সে অর্জন করবে অবারিত সওয়াব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহু আলাম।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬◄✪✪► ▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Website
Address
Gazipur