Muhammad Mahdi
২৭-৩৫ বছরের সময়টাকে গুরুত্ব দাও। এই সময়টা শক্তি, দক্ষতা, সুযোগকে কাজে লাগানোর সেরা সময়। যদি সময়গুলোকে কাজে না লাগাও তাহলে তোমার ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে!
অনেক দিন পেজে কিছু দেওয়া হয় না 🥺
08/01/2025
#সবাই স্ক্রিন আসক্তি অন্তরকে মেরে ফেলে। জীবনের সমস্যা ও আনন্দের অনুভূতি নষ্ট করে দেয়। মাঝে মাঝে অনুভূতিগুলো এতই নষ্ট করে দেয় যে আমাদের অজান্তেই অমানুষের পর্যায়ে নিয়ে যায়।
ভার্সিটির কোচিং করার সময় আমার এক রুমমেটের বাবা মারা যায়। বাবা মারা যাওয়ার পরের দিন রুমমেট হোস্টেলে চলে আসে পরীক্ষার জন্য। আসার পর আমি তার মুখে তেমন কোনো দুঃখের চিহ্ন দেখিনি। সে মুটামুটি পর্দা করত। কিন্তু তেমন নামাজ পড়ত না। কিন্তু হোস্টেলে আসার পর সে মাত্র এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েছিল। আর ওই এক ওয়াক্ত নামাজে তাকে মুনাজাত ধরতে দেখেছি। বাকি সময় সে ফেইসবুকে পড়ে থাকত। চ্যাটিং করত। প্রসঙ্গক্রমে বাবার কথা উঠলে একটু মুখ কালো করত। অথচ সে তার বাবার দুই কন্যা সন্তানের ভেতর বড় ছিল। খুব আদুরে মেয়ে ছিল। আমরা যদি আমাদের বাস্তব জীবনের দিকে তাকাই, তবে দেখব স্ক্রিন আসক্তি আমাদের ইবাদতের থেকে গাফেল করে দেয়৷ আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে। আমরা আমাদের জীবনের সত্যিকার সমস্যাগুলোকে সমস্যা হিসেবে বুঝতে পারি না, অথবা গুরুত্ব দেই না। এরপর সময় চলে গেলে হা-হুতাশ করি।
আবার স্ক্রিন আসক্তি অন্তরকে শক্ত করে দেয়৷ কান্না করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মানুষের প্রকৃত অনুভূতি নষ্ট হলে কান্না করার ক্ষমতা কমে যায়। ছোট ছোট ফেইসবুকিয় বিষয়ে হাসি ঠাট্টার পরিমাণ বেড় যায়। যার কারণে কোনো সমস্যায় পড়লে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার থেকে ফেইসবুকে দুঃখমাখা পোস্ট করে বেশি প্রশান্তি লাগে। জায়নামাজে কান্না আসে না। মাঝে মাঝে অনেকের আসক্তি এতই বেড়ে যায় যে ফরজ নামাজের পর যিকরগুলো করার সময়ও নেট ব্যবহার করে। অনেকে নামাজের শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে নামাজ আদায় করে। আর এটা একশ পার্সেন্ট সত্য কথা। আপনি আপনার চারপাশে লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন।
সামনে রমাদান আসছে। আমরা আমাদের জীবনে বরকত আনতে চাইলে অবশ্যই কান্না করার ক্ষমতা তৈরী করতে হবে। কোনো এক ইমাম বলেছিলেন, ‘নামাজে কান্না না আসলেও আমাদের কান্নার ভাব করা উচিত'। কিন্তু এই ভাবটুকু করতেও আমাদের কান্নার উপলব্ধি প্রয়োজন। এই উপলব্ধি আনার জন্য হলেও আমাদের স্ক্রিন আসক্তি কমাতে হবে। আমরা যেন আমাদের রমাদানকে বিফলে যেতে না দেই। সবার সামনে আপনি মানতে রাজি না হলেও এটা একদম সত্য যে স্ক্রিন আসক্তি কমালে জীবনের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমি যখন খুব লিমিটের ভেতর নেট ব্যবহার করি, তখন আমার দিনগুলো খুব প্রোডাক্টিভ যায়। আমি আমার সব কাজ তৃপ্তি ও ইখলাস নিয়ে করতে পারি।
এখন শা'বান মাস। আমাদের এই মাস থেকেই নিজেদের রমাদানের জন্য প্রস্তুত করা উচিত। সালাফরা রমাদান আসার ছয় মাস আগে থেকে নিজেদের প্রস্তুত করতেন। আর আমরা রমাদান শুরু হয়ে যাওয়ার পর তোড়জোড় করি। এখানেই আল্লাহর বিশেষ বান্দা আর আমাদের পার্থক্য। রমাদানকে সুন্দর করার জন্য আমাদের এখন থেকেই স্ক্রিন আসক্তি কমানো উচিত। যে তার রমাদানকে ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে না পারে, তার থেকে হতভাগা আর কেউ নেই। আমরা নিশ্চয় হতভাগার কাতারে সামিল হতে চাই না।
– রমাদান বনাম স্ক্রিন আসক্তি
~ সংগৃহীত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Address
Dhaka
Gazipur
1700