Vedic Mission

Vedic Mission

Share

হে মনুষ্য! তোমরা এক সঙ্গে চল, এক সঙ্গে মিলিয়া আলোচনা কর। তোমাদের মন উত্তম সংস্কার যুক্ত হউক। পূর্বকালীন জ্ঞানী পুরুষেরা যেরূপ উত্তম কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করিয়াছে, তোমরাও সেইরূপ কর।

~ ঋগ্বেদ ১০/১৯১/২

27/05/2026

"সর্বভূত হিতেরতাঃ" [গীতা ১২।৪] কর্ম এমন করো যাতে সমস্ত প্রাণীদের হিত সিদ্ধ হয়।

24/05/2026

কর্মফল কে ভোগ করে দেহ নাকি আত্মা?

কেউ কেউ বলেন, পাপ-পুণ্য, সুখ-দুঃখ, শোক-আনন্দ এসব আসলে দেহ ও মনের ধর্ম; আত্মা বা জীবের নয়। কারণ জীব নাকি শুধু সাক্ষীমাত্র, সে কোনো কিছুতে লিপ্ত হয় না। যেমন গরম-ঠান্ডা শরীর অনুভব করে, আত্মা নয়—তেমনি সব ভোগও নাকি শরীর ও মনেরই।

কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। কারণ দেহ, ইন্দ্রিয়, প্রাণ ও মন—এসবই জড় পদার্থ। জড় বস্তু নিজেরা কিছু অনুভব করতে পারে না। যেমন একটি পাথর গরম বা ঠান্ডা অনুভব করে না, যদিও সেটি রোদে গরম হয় বা পানিতে ঠান্ডা হয়। কিন্তু কোনো চেতন প্রাণী যখন সেটিকে স্পর্শ করে, তখন সেই প্রাণীই গরম-ঠান্ডা অনুভব করে।
ঠিক তেমনি প্রাণও জড়; তার নিজের কোনো ক্ষুধা বা তৃষ্ণা নেই। কিন্তু জীব যখন প্রাণের সহায়তায় শরীরে অবস্থান করে, তখন সে ক্ষুধা-তৃষ্ণা অনুভব করে। একইভাবে মনও জড় পদার্থ। মনের নিজের আনন্দ বা দুঃখ নেই। জীবাত্মা মনের মাধ্যমে আনন্দ, শোক, সুখ ও দুঃখ অনুভব করে। আত্মা চেতন হওয়াতে শরীরের দ্বারা কর্ম করে। কঠোপনিষদ্‌ ১/৩/৪ নং শ্লোকে "আত্মেন্দ্রিয়মনোয়ুক্তং‌ ভোক্তেত্যাহুঃ " অর্থাৎ, শরীর‌, ইন্দ্রিয় এবং মনের‌ সংযোগে‌ই জীবাত্মা‌ সুখ‌-দুঃখের উপভোক্তা‌ হয়। “শ্রোত্রং চক্ষুঃ স্পর্শনঞ্চ রসনং ঘ্রাণমেব চ। অধিষ্ঠায় মনশ্চায়ং বিষয়ানুপসেবতে" [গীতা ১৫/৯] অর্থাৎ কর্ণ, নেত্র, ত্বক, জিহ্বা, নাসিকা এবং মনকে আশ্রয় করে এই জীবাত্মা বিষয় সমূহকে ভোগ করে।

জীব বাহ্যিক ইন্দ্রিয়—যেমন কান, চোখ ইত্যাদির মাধ্যমে শব্দ, রূপ প্রভৃতি গ্রহণ করে সুখ-দুঃখ ভোগ করে। আবার অন্তঃকরণ অর্থাৎ মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকারের মাধ্যমে চিন্তা, সিদ্ধান্ত, স্মরণ, অহংকার ইত্যাদি করে এবং তার ফলও ভোগ করে। যেমন একটি তরবারি দিয়ে কেউ হত্যা করলে শাস্তি তরবারিকে দেওয়া হয় না; শাস্তি পায় সেই ব্যক্তি, যে তরবারি ব্যবহার করেছে। কারণ তরবারি কেবল একটি যন্ত্র। ঠিক তেমনি দেহ, ইন্দ্রিয়, মন ও প্রাণ—এসব জীবের যন্ত্রমাত্র। এগুলোর মাধ্যমে কাজ করে জীব নিজেই। তাই ভাল-মন্দ কর্মের ফলও জীবকেই ভোগ করতে হয়।
সুতরাং জীব শুধু কর্মের সাক্ষী নয়; সে কর্মের কর্তা ও ভোক্তা। একমাত্র পরমাত্মাই প্রকৃত সাক্ষী, যিনি সব দেখেন কিন্তু কোনো কর্মে লিপ্ত হন না।

ও৩ম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।

19/05/2026

গীতা অনুযায়ী ঈশ্বরের উপাসনা কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: বর্তমান সময়ে এমন সনাতনী মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যার ঘরে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নেই। কিন্তু শুধু গীতা ঘরে রাখলেই কি তার পূর্ণ উপকার পাওয়া যায়? নিশ্চয়ই নয়। গীতার প্রকৃত ফল লাভ করতে হলে তা পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। আমরা প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে ঈশ্বরের উপাসনা করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সেই উপাসনা কী শাস্ত্রসম্মত? আমরা কী সত্যিই জানি, কীভাবে উপাসনা করলে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়া যায়?
“উপাসনা” শব্দের অর্থই হলো—ঈশ্বরের নিকটে বসা, অর্থাৎ তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছানো। যে ব্যক্তি উপাসনার মাধ্যমে নিজের অজ্ঞতা দূর করে এবং পরমেশ্বরের সান্নিধ্যে আসে, সে এমন এক অনির্বচনীয় আনন্দ অনুভব করে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না—শুধু হৃদয়ে উপলব্ধি করা যায়। এই উপাসনার সঠিক পদ্ধতি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন শ্রীকৃষ্ণ গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ে।

🌿কোন স্থানে বসে উপাসনা করতে হবে সেই সম্পর্কে বলা হচ্ছে,

যোগী যুঞ্জীত সততমাত্মানং রহসি স্থিতঃ। একাকী যতচিত্তাত্মা নিরাশীরপরিগ্রহঃ।। ১০

অনুবাদ: চিত্ত ও আত্মাকে বশীভূতকারী, কামনাশূন্য এবং পরিগ্রহরহিত যোগী একা নির্জন স্থানে স্থিত হয়ে নিরন্তর আত্মাকে যোগে নিযুক্ত করবে।

শুচৌ দেশে প্রতিষ্ঠাপ্য স্থিরমাসনমাত্মনঃ। নাত্যুচ্ছিতং নাতিনীচং চৈলাজিনকুশোত্তরম্ ॥ ১১

তত্রৈকাগ্রং মনঃ কৃত্বা যতচিত্তেন্দ্রিয়ক্রিয়ঃ।
উপবিশ্যাসনে যুঞ্জ্যাদ যোগমাত্মবিশুদ্ধয়ে ॥ ১২।[গীতা ৬/১১-১২]

অনুবাদ: খুব উঁচু নয় বা খুব নিচু নয়-এমন শুদ্ধ ভূমিতে ক্রমান্বয়ে কুশ, হরিণের চামড়া এবং বস্ত্র পেতে নিজের স্থির আসন স্থাপন করে সেই আসনে উপবিষ্ট হয়ে মনকে একাগ্র করে চিত্ত এবং ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়া সংযমপূর্বক আত্মার শুদ্ধির জন্য যোগ অভ্যাস করবে।

🌿 অনেকেই মনে করে মূর্তি ছাড়া মনকে একাগ্র করা কঠিন। মনকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে বা মনকে কোথায় স্থাপন করে একাগ্র করবো সেই সংশয় নিবারণ করছে,

সমং কায়শিরোগ্রীবং ধারয়ন্নচলং স্থিরঃ।
সংপ্রেক্ষ্য নাসিকাগ্রং স্বং দিশশ্চানবলোকয়ন্ ৷ ১৩ প্রশান্তাত্মা বিগতভীরব্রহ্মচারিব্রতে স্থিতঃ।
মনঃ সংযম্য মচ্চিত্তো যুক্ত আসীত মৎপরঃ ॥ ১৪
[গীতা ৬/১৩-১৪]

অনুবাদ: শরীর, মস্তক, গ্রীবা সমান ও অচলভাবে ধারণ করে স্থির হয়ে নিজের নাসিকার অগ্রভাগে দৃষ্টি রেখে অন্যদিকে না তাকিয়ে ব্রহ্মচর্য ব্রতে স্থিত, ভয়রহিত ও প্রশান্ত-চিত্ত যোগী মন সংযমপূর্বক মদ্‌গত চিত্ত, মৎপরায়ণ হয়ে যোগে যুক্ত হবে।

যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং যোগী নিয়তমানসঃ। শান্তিং নির্বাণপরমাং মৎসংস্থামধিগচ্ছতি ॥ [গীতা ৬/১৫]

অনুবাদ: সংযতচিত্ত যোগী এভাবে আত্মাকে নিরন্তর যোগযুক্ত করে আমাতে স্থিতিরূপ নির্বাণ পরম শান্তি প্রাপ্ত করেন।

🌿 উপাসনার সময় কী চিন্তা করা যাবে না সেই বিষয়ে বলা হচ্ছে,

সংকল্পপ্রভবান্ কামাংস্ত্যত্ত্বা সর্বানশেষতঃ। মনসৈবেন্দ্রিয়গ্রামং বিনিয়ম্য সমস্ততঃ ॥ ২৪
শনৈঃ শনৈরুপরমেদ্ বুদ্ধ্যা ধৃতিগৃহীতয়া। আত্মসংস্থং মনঃ কৃত্বা ন কিঞ্চিদপি চিন্তয়েৎ ॥ [গীতা ৬/২৪,২৫]

অনুবাদ: সংকল্প থেকে উৎপন্ন সকল কামনা নিঃশেষরূপে ত্যাগ করে, মনের দ্বারা ইন্দ্রিয়সমূহকে সকল বিষয় থেকেই উত্তমরূপে বশ করে, ধৈর্যযুক্ত বুদ্ধি দ্বারা মনকে পরমাত্মায় স্থিত করে ধীরে ধীরে নিবৃত্ত করতে হবে, অন্য কিছুই চিন্তা করবে না।

যতো যতো নিশ্চরতি' মনশ্চঞ্চলমস্থিরম্।
ততস্ততো নিয়ম্যৈতদাত্মন্যেব বশং নয়েৎ ॥ ২৬
প্রশান্তমনসং হোনং যোগিনং সুখমুত্তমম্।
উপৈতি শান্তরজসং ব্রহ্মভূতমকল্মষম্ ॥ গীতা / ২৬,২৭]

অনুবাদ: অস্থির চঞ্চল মন যে যে বিষয়ে বিচরণ করে, সেই সেই বিষয় থেকে এই মনকে রোধ করে পরমাত্মাতেই স্থির করবে। কেননা, যার মন প্রশান্ত, পাপরহিত, রজগুণ শান্ত ও ব্রহ্ম-গুণধারী-এই রকম যোগীর উত্তম সুখ প্রাপ্ত হয়।

🌿যোগী ব্যক্তি কীভাবে ব্রহ্মকে প্রাপ্ত করেন সেই বিষয়ে বলা হচ্ছে,

বুদ্ধ্যা বিশুদ্ধয়া যুক্তো ধৃত্যাত্মানং নিয়ম্য চ।
শব্দাদীন্ বিষয়াংস্ত্যত্ত্বা রাগদ্বেষৌ ব্যুদস্য চ ৷ ৫১

বিবিক্তসেবী লম্বাশী যতবাক্কায়মানসঃ।
ধ্যানযোগপরো নিত্যং বৈরাগ্যং সমুপাশ্রিতঃ ॥ ৫২

অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং পরিগ্রহম্।
বিমুচ্য নির্মমঃ শান্তো ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে ॥ ৫৩ [গীতা ১৮/৫১,৫২,৫৩]

অনুবাদ: বিশুদ্ধ বুদ্ধিযুক্ত হয়ে ও ধৃতি দ্বারা অন্তঃকরণকে বশ করে, শব্দাদি বিষয়সমূহ ত্যাগ করে এবং রাগদ্বেষ পরিত্যাগপূর্বক; নির্জনস্থান-নিবাসী, পরিমিত আহারকারী; বাক্য, শরীর ও মনকে সংযত করে সর্বদা ধ্যানযোগ-পরায়ণ এবং বৈরাগ্য আশ্রয়পূর্বক অহংকার, বল, দর্প, কাম, ক্রোধ ও পরিগ্রহ পরিত্যাগপূর্বক মমতাশূন্য ও শান্তিপরায়ণ ব্যক্তি ব্রহ্মের ভাবকে প্রাপ্ত হন।

🌿যোগী কোন অবস্থায় পৌছালে এবং কী রূপে পরমেশ্বর দর্শন দেন সেই বিষয়ে বলা হচ্ছে,

যত্রোপরমতে চিত্তং নিরুদ্ধং যোগসেবয়া। যত্র চৈবাত্মনাত্মানং পশ্যন্নাত্মনি তুষ্যতি ॥ ২০
সুখমাত্যন্তিকং যত্তদ্বুদ্ধিগ্রাহ্যমতীন্দ্রিয়ম্।
বেত্তি যত্র ন চৈবায়ং স্থিতশ্চলতি তত্ত্বতঃ ৷ [গীতা ৬/২০,২১]

অনুবাদ: যে অবস্থায় যোগের অভ্যাস দ্বারা নিরুদ্ধ-চিত্ত নিবৃত্ত হয় এবং যে অবস্থায় মনের দ্বারা পরমাত্মার সাক্ষাৎ করে পরমাত্মাতেই সন্তুষ্ট হয়। যে অবস্থাতে এই যোগী শুভবুদ্ধি দ্বারা গ্রহণযোগ্য ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি থেকেও ঊর্ধ্বে স্থিত অনন্ত যে সুখ আছে তাকে অনুভব করেন এবং যে অবস্থাতে স্থিত হয়ে যথার্থ তত্ত্ব পরমাত্মা থেকে বিচলিত হন না।

জ্ঞানেন তু তদজ্ঞানং যেষাং নাশিতমাত্মনঃ। তেষামাদিত্যবজ্ঞানং প্রকাশয়তি তৎপরম্ ॥
[গীতা ৫/১৬]

অনুবাদ: যাঁদের আত্মজ্ঞান দ্বারা সেই অজ্ঞানতা নষ্ট হয়েছে, তাঁদের সেই জ্ঞান সূর্যের ন্যায় পরমাত্মাকে প্রকাশ করায়।

🌿উপাসনার ফল

যং লব্ধা চাপরং লাভং মন্যতে নাধিকং ততঃ। যস্মিন্ স্থিতো ন দুঃখেন গুরুণাপি বিচাল্যতে ॥ ২২ তং বিদ্যাদ্দুঃখসংযোগবিয়োগং যোগসংজ্ঞিতম্। স নিশ্চয়েন যোক্তব্যো যোগোহনির্বিঘ্নচেতসা ॥ [গীতা ৬/২২,২৩]

অনুবাদ: যে অবস্থা প্রাপ্ত করলে অন্য কোনো প্রাপ্তিকে তার চেয়ে অধিক মনে হয় না ও যে অবস্থায় স্থিত হলে গুরুতর দুঃখেও বিচলিত হয় না এবং দুঃখের সাথে সংযোগ হওয়ার সাথে সাথে বিয়োগ হয়, তাকে যোগ বলে জানবে। অধ্যবসায় সহকারে তৎপরায়ণ চিত্তে সেই যোগ অভ্যাস করা কর্তব্য।

যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং যোগী বিগতকল্মষঃ।
সুখেন ব্রহ্মসংস্পর্শমত্যন্তং সুখমম্মুতে ॥ ২৮
[গীতা ৬/২৮]

অনুবাদ: পাপরহিত যোগী এইপ্রকার নিরন্তর নিজেকে যোগযুক্ত করে আনন্দপূর্বক ব্রহ্মের সংস্পর্শজনিত অনন্ত সুখ অনুভব করে।

উপাসনা কোনো কেবলমাত্র বাহ্য আচরণ নয়—এটি আত্মার অন্তর্গত এক নীরব যাত্রা, যেখানে জীব আত্মা ধীরে ধীরে পরমাত্মার সান্নিধ্যে লাভ করে । যখন মন সংসারের অসংখ্য সংকল্প-বিকল্প ত্যাগ করে একমাত্র পরমেশ্বরের মধ্যে স্থিত হয়, তখন অন্তরের গভীরে জাগ্রত হয় এক দিব্য আলো যা অজ্ঞতার সমস্ত অন্ধকারকে অপসারিত করে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা আমাদের শিক্ষা দেয়—সংযম, একাগ্রতা ও ভক্তির মাধ্যমে যে সাধক অন্তরে ঈশ্বরকে ধারণ করে, তার হৃদয়েই পরমেশ্বরের আবির্ভাব ঘটে। তখন বাহিরে আর কিছু খুঁজে বেড়াতে হয় না; নিজের আত্মার মধ্যেই অনুভূত হয় সেই অনন্ত, অখণ্ড, শাশ্বত সত্তা।

ও৩ম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।

Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship in Gazipur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Gazipur