QMS
29/03/2022
বাংলাদেশের ভার্সিটিগুলাতে এমনিতেও মোটাদাগে পড়াশোনা বলতে কিছু হয় না। পোলাপান মূলত ৪টা কাজ করে - টিউশনি / পার্ট টাইম জব, নেশা, প্রেম এবং রাজনীতি। সমস্যা হচ্ছে, এই টিউশনি / পার্ট টাইম জব ও সবাই পায় না। কেউ কেউ পায়। কারা পায় - যারা তথাকথিত ভালো ভার্সিটিতে পড়ে। সেসব ভালো ভার্সিটির বড় ভাই-আপুরা রেকমেন্ড করে, ব্র্যান্ড ভ্যালু থাকে - ফলে ভার্সিটি লাইফেই টাকা পয়সা ইনকামের স্কোপ প্রশস্ত হয়।
ভালো ভার্সিটি মানে আমি একটা সিম্পল জিনিস বুঝি - কমিউনিটি। তুমি এতদিন গেইটের বাইরে ছিলা, কিন্তু আজকে গেইটের ভিতরে আসছো এডমিশন টেস্ট এ টিকে - তোমাকে আমরা বিলিভ করি। কিন্তু আমার দেশের হাইয়েস্ট ১০ টা ভার্সিটির বাইরে এই কমিউনিটি ব্যাপারটা এতো স্ট্রং না। তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে জেলায় জেলায় ভার্সিটি, ঢাকার বিল্ডিং এ বিল্ডিং এ ভার্সিটি, আমার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, ভোকেশনাল - এই এত এত ছেলেমেয়ের তাহলে হবে টা কী? এদের কত শতাংশ এর ফ্যামিলি সাপোর্ট আছে?
ইন্টার পাস থেকে শুরু করে ভার্সিটি শেষ হওয়ার ৩-৪ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭ থেকে ২৭ - এই ছেলেমেয়েরা "বেকার" থাকে। যেহেতু ক্লাসে যা পড়ায়, তার সাথে চাকরির কোন মিল নাই, তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠী কোন স্কিল ডেভেলপ ও করতেসে না। করতে গেলে টাকা লাগবে কিছু, তাই করা হয় না। ইউটিউব দেখে শিখতেও ডেটা লাগে, কম্পিউটার লাগে - সেটাও অনেকের নাই। ফলে একটা জেনারেশন তৈরি হচ্ছে, যারা সবাই পাশ করেছে, রেজাল্ট ও আছে ভালোই, কিন্তু কেউ স্পেসিফিক কিছু পারে না।
এইখানে অনেকে এই ছেলেমেয়েদের উপরে দোষ চাপিয়ে দিয়ে খুব হামবড়া ভাব নেন। কিন্তু মফস্বলের একটা ছেলে-মেয়ের ফ্যামিলি, সোশিও-পলিটিক্যাল ডিনামিক্স না বুঝে এইসব দোষ চাপানো একধরনের ভিকটিম ব্লেমিং এর পর্যায়ে পড়ে।
বাংলাদেশ এ কোডিং, ফ্রিল্যান্সিং এসব নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। এইগুলাতে আমার আগ্রহ কম। কারণ সবাই এইসব টেক কাজ পারবে না, বেশিরভাগই পারবে না আসলে। কিন্তু বেশিরভাগ চাইলে ট্রেড মার্কেটিং পারবে, ডেটা কালেকশন পারবে, ব্র্যান্ড প্রমোটিং পারবে। অর্থাৎ যার পকেট এ ১০ টাকাও নাই, তাকে ১,০০০ টাকার কোর্স করতে বলার চেয়ে; ১০০ টাকার একটা কাজ দেয়া ভালো - যেখানে সে কাজ করতে করতে শিখবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্ররাজনীতি এবং এগ্রিকালচারাল সাপ্লাইচেইনের খেলাটা খেলতে গিয়ে - এই বিশাল কমিউনিটির সাথে আমার পরিচয় হয়। আমি এই ছেলেমেয়েদের সাথে ডিল করতে গিয়ে একটা জিনিস রিয়েলাইজ করেছি - এদের সাথে কাজ করতে পারলে একটা ম্যাসিভ ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপ করা পসিবল। তাই আমি যেভাবে বিজনেসকে দেখি, সবই ডিস্ট্রিবিউশন ফোকাসড, ম্যান ম্যানেজমেন্ট ফোকাসড। আমি যদি হেলথ টেক বানাইতাম, তাহলে ফার্মেসির নেটওয়ার্ক বানাইতাম। আমি যদি এডটেক বানাইতাম, তাহলে কোচিং এর নেটওয়ার্ক বানাইতাম।
এই অফলাইন প্রেজেন্স-ওয়ালা অনলাইন বিজনেসের রোডম্যাপ-ই বাংলাদেশের স্টার্ট আপ ইকোনমির blueprint. যার প্রমাণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুই স্টার্ট আপ - বিকাশ আর শপ-আপ। দুইটাই ম্যাসিভ সেলস নেটওয়ার্ক ড্রিভেন বিজনেস। দেখা যাক, সামনের ৫ বছরে কী হয়।
#জোসহইসে-দিপ্ত ভাই
01/01/2022
Happy new year 2022
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Konabari
Gazipur
GAZIPURSADAR-1700