O F Rokon
20/02/2026
উত্তর
সিজদার পুরো সময় দুই পায়ের কোনো অংশ কিছু সময়ের জন্যও যদি যমিনে লেগে না থাকে তাহলে সিজদা হবে না। কিন্তু যদি সিজদার সময় কোনো এক পা অল্প সময়ের জন্য মাটিতে লাগানো থাকে তাহলে সিজদা সহীহ হয়ে যাবে এবং নামাযও হয়ে যাবে। তবে সিজদা অবস্থায় উভয় পা যমিনে লাগিয়ে রাখা সুন্নতে মুআক্কাদা। তাই খেয়াল রাখতে হবে যেন সিজদার সময় উভয় পা যমিনে লেগে থাকে এবং আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী থাকে।
-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২০; ফাতহুল কাদীর ১/২৬৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৮; রদ্দুল মুহতার ১/৪৪৭,৫০০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/২২৩
মাসিক আলকাউসার
01/02/2026
যারা মসজিদে চেয়ারে বসে নামায পড়েন
প্রশ্নঃ কোন কোন মসজিদে আমরা দেখতে পাই কিছু মুসল্লির জন্য চেয়ার রাখা আছে। এসব মুসল্লি চেয়ারে বসে ইমামের সাথে ফরয নামায কিংবা তারাবীর নামায আদায় করেন। ইনাদের নামাযের হুকুম কী?
উত্তরঃ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি।
পর সমাচারঃ
নামাযে ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো নামাযের একটি রুকন। শরিয়ত অনুমোদিত ওজর ছাড়া যে ব্যক্তি নামাযের তাকবীরে তাহরীমার শুরু থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত দাঁড়াবে না তার নামায বাতিল। আল্লাহ্তাআলা বলেনঃ "তোমরা আল্লাহ্র জন্য বিনয়াবনত হয়ে দাঁড়াও" [সূরা বাক্বারা; ২:২৩৮]
'দাঁড়ানোটা' নামাযের রুকন হওয়া ফরয নামাযের জন্য খাস। নফল নামাযে দাঁড়ানো ওয়াজিব নয়। বরং বসে নামায পড়া জায়েয। কেউ যদি বসে নামায পড়ে তাহলে সে ব্যক্তি অর্ধেক সওয়াব পাবে।
'দাঁড়ানোটা' ফরয নামাযের সাথে খাস হওয়ার দলিল হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসঃ "তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়"। [সহিহ বুখারী (১০৬৬)]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সওয়ারীর ওপর নফল নামায পড়তেন। যখন ফরয নামায পড়তে চাইতেন তখন তিনি সওয়ারী থেকে নেমে যেতেন। [সহিহ বুখারী (৯৫৫) ও সহিহ মুসলিম (৭০০)] তিনি এটি করতেন দাঁড়ানোর রুকন আদায় করা ও কিবলামুখী হওয়ার জন্য।
কারো দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকার পরেও সে যদি বসে নফল নামায আদায় করে তাহলে সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে। যেহেতু আব্দুল্লাহ্বিন আমর (রাঃ) এর হাদিসে এসেছেঃ "তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমাকে হাদিস বলা হয়েছে যে, আপনি বলেছেন বসে নামায আদায়কারী অর্ধেক সওয়াব পাবে। কিন্তু আপনি তো বসে নামায আদায় করেন। তিনি বললেনঃ ঠিকই। কিন্তু আমি তোমাদের কারো মত নই।" [ইমাম মুসলিম (৭৩৫) বর্ণিত হাদিসের অংশবিশেষ]
ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেনঃ "এ হাদিসকে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বসে বসে নফল নামায পড়ার অর্থে বুঝতে হবে। এমন নামাযী দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবেন। পক্ষান্তরে, যদি দাঁড়াতে অক্ষম হওয়ার কারণে বসে নামায পড়েন সেক্ষেত্রে তার সওয়াব কম হবে না। বরং সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবেন। আর দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তি বসে বসে ফরয নামায আদায় করলে তার নামায শুদ্ধ হবে না। সুতরাং সে কোন সওয়াব পাবে না। বরং তার গুনাহ হবে।" [শারহু মুসলিম (৬/২৫৮)]
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা চেয়ারে বসে নামায আদায়কারী সেসব মুসল্লিগণকে বলব যারা ফরয নামাযের জন্য দাঁড়ান নাঃ যদি আপনাদের দাঁড়ানোর মত সক্ষমতা থাকে তাহলে বসে বসে নামায আদায় করা আপনাদের জন্য জায়েয হবে না; যদি না আপনাদের এমন কষ্ট হয় যার ফলে ক্ষতি হতে পারে। সামান্য কষ্ট কোন ওজর নয়।
সূত্রঃ শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
31/01/2026
সাইয়্যিদুনা উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে ডাকতেন— “হে দুই সম্মানিতের কন্যা”।
তিনি তাঁকে সম্মান করতেন, তাঁর পরিবারকেও সম্মান করতেন।
এক রাতে সাইয়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) শহরের চারপাশে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি তাঁবু দেখলেন, যা আগে কখনো দেখেননি। কৌতূহলী হয়ে তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন— কী খবর, তা জানার জন্য।
তিনি তাঁবু থেকে কান্না ও কাতর আর্তনাদের শব্দ শুনতে পেলেন। এতে তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেল। তিনি ডাক দিলেন, তখন একটি লোক তাঁবু থেকে বেরিয়ে এল।
উমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন:
— তুমি কে?
লোকটি বলল:
— আমি মরুভূমির এক গ্রামের মানুষ। দারিদ্র্য আমাদের ওপর চেপে বসেছে। তাই আমি আমার পরিবার নিয়ে এসেছি উমরের সাহায্য চাইতে। আমরা শুনেছি উমর মানুষের খোঁজখবর রাখেন এবং প্রজাদের সাহায্য করেন।
উমর (রাঃ) বললেন:
— এই কান্নার শব্দ কিসের?
লোকটি বলল:
— আমার স্ত্রী সন্তান প্রসবের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
উমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন:
— তোমাদের কাছে কি কেউ আছে, যে তার দেখাশোনা ও প্রসব করাতে পারে?
লোকটি বলল:
— না, শুধু আমি আর সে— আর কেউ নেই।
উমর (রাঃ) আবার জিজ্ঞেস করলেন:
— তার খাবারের ব্যবস্থা করার মতো কোনো সামর্থ্য তোমার আছে?
লোকটি বলল:
— না।
উমর (রাঃ) বললেন:
— তুমি অপেক্ষা করো। আমি তোমাদের জন্য খাবার এবং এমন কাউকে নিয়ে আসব, যে তাকে প্রসব করাতে পারবে।
এরপর সাইয়্যিদুনা উমর (রাঃ) নিজের ঘরে গেলেন। তাঁর ঘরে ছিলেন তাঁর স্ত্রী— সাইয়্যিদা উম্মে কুলসুম (রাঃ), যিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-এর কন্যা।
উমর (রাঃ) ডাক দিলেন:
— হে দুই সম্মানিতের কন্যা! আল্লাহ তোমার জন্য যে কল্যাণ পাঠিয়েছেন, তাতে কি তুমি আগ্রহী?
তিনি বললেন:
— সেটা কী?
উমর (রাঃ) বললেন:
— শহরের এক প্রান্তে এক গরিব, অসহায় নারী সন্তান প্রসবের যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে।
তিনি বললেন:
— আপনি কি চান, আমি নিজেই তার দায়িত্ব নেই?
উমর (রাঃ) বললেন:
— উঠো, হে দুই সম্মানিতের কন্যা! নারীর প্রসবের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা প্রস্তুত করো।
এরপর উমর (রাঃ) খাবার ও রান্নার প্রয়োজনীয় জিনিস নিজ মাথায় বহন করলেন। দু’জনে একসাথে রওনা হলেন।
তাঁবুতে পৌঁছে উম্মে কুলসুম (রাঃ) ভেতরে প্রবেশ করলেন প্রসব করানোর জন্য। আর সাইয়্যিদুনা উমর (রাঃ) বাইরে সেই লোকটির সাথে বসে খাবার রান্না করতে লাগলেন।
হঠাৎ তাঁবুর ভেতর থেকে উম্মে কুলসুম (রাঃ) ডেকে বললেন:
— হে আমিরুল মু’মিনীন! লোকটিকে জানিয়ে দিন— আল্লাহ তাকে একটি সন্তান দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আর তার স্ত্রী ভালো আছে।
যখন লোকটি “হে আমিরুল মু’মিনীন” কথাটি শুনল, সে বিস্ময়ে পিছিয়ে গেল। সে জানতই না যে এ ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব।
উমর (রাঃ) হেসে বললেন:
— কাছে এসো, কাছে এসো। হ্যাঁ, আমিই উমর ইবনুল খাত্তাব। আর যিনি তোমার স্ত্রীর সন্তান প্রসব করিয়েছেন, তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-এর কন্যা উম্মে কুলসুম।
লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল:
— নবী পরিবারের লোকেরা আমার স্ত্রীর সন্তান প্রসব করালেন! আর আমিরুল মু’মিনীন নিজে আমার ও আমার স্ত্রীর জন্য রান্না করলেন!
উমর (রাঃ) বললেন:
— এগুলো নাও। আর যতদিন আমাদের কাছে থাকবে, আমি তোমাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে যাব।
এটাই সেই আদর্শ, যা তারা গ্রহণ করেছিলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর কাছ থেকে। উমরের মর্যাদা কেবল নামাজ, রোজা, কিয়াম বা পৃথিবীতে করা বিজয়ের কারণে ছিল না; বরং তাঁর ছিল এক বিনয়ী, ভীত, নম্র ও আল্লাহমুখী হৃদয়— যে হৃদয় ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করত এবং কিয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির আগে নিজেকেই জবাবদিহি করত।
আপনি যদি গল্প ও পড়াশোনা ভালোবাসেন, তাহলে আমাদের পেজটি ফলো করুন— যেন আমাদের নতুন সবকিছু আপনার কাছে পৌঁছে যায়।
“ভাই ও বোনেরা, আমরা উপকারী জ্ঞান পৌঁছাতে চেষ্টা করছি। দয়া করে আমাদের প্রতি কৃপণতা করবেন না— পোস্টে লাইক দিন, মন্তব্য করুন এবং শেয়ার করুন। গাছ কীভাবে ফল দেবে, যদি আপনি তাকে পানি না দেন?”
যদি পড়া শেষ করে থাকেন, একটি ভালো আমল রেখে যান— তাসবিহ পড়ুন, ইস্তিগফার করুন, নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠান।
বিশ্বাস করুন, আপনি কিছুই হারাবেন না যদি একটি লাইক দেন বা একটি অক্ষর হলেও মন্তব্য করেন। এতে আমি আনন্দ পাই, কারণ আপনি দ্বীনি ও কল্যাণকর কনটেন্ট ছড়াতে সহযোগিতা করেন।
আমার সেই সব প্রিয় ও বিশ্বস্ত অনুসারীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যারা সবসময় আন্তরিকভাবে সাড়া দেন।
#সংগৃহীত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Culinary Team
Attire
Website
Address
Fulbaria