Save CHT
07/07/2026
পার্বত্য চট্টগ্রামে থামছেনা রক্তপাত-পাহাড়ে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ও নিরাপত্তা সংকটে সাধারণ জনগন।
নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন জরুরি।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গল পাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা আবারও পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। সোমবার সংঘটিত এ গোলাগুলির ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গম এলাকায় সংঘর্ষের পর মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলো একে অপরকে দোষারোপ করছে।
এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো সহিংসতা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে চলা ধারাবাহিক সংঘর্ষ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ব্যবহার এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়েরই একটি নতুন অধ্যায়। গত কয়েক সপ্তাহে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সহিংস ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সশস্ত্র হামলায় এক বাঙালি শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে। একই সময়ে বান্দরবানের লামায় দীর্ঘদিনের একটি ভূমি বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হলেও এলাকায় দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে।
পর্যটন সম্ভাবনাময় লামাতেই দুই পর্যটককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় পাহাড়ে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কম থাকায় এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা সবসময় দৃশ্যমান হয় না।
আরো নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন জরুরি হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে এক ছাত্রনেতার ওপর হামলা এবং বিভিন্ন এলাকায় পারস্পরিক সংঘর্ষ পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের জটিলতাও তুলে ধরেছে। একই সময়ে খাগড়াছড়ির রামগড় ও দীঘিনালায় পৃথক ঘটনায় দুই আঞ্চলিক সংগঠনের দুই নেতা নিহত হন। এসব ঘটনার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার এবং কয়েকজন সন্দেহভাজন সশস্ত্র সদস্যকে আটকের ঘটনাও ঘটে।
মাটিরাঙ্গায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও বিভিন্ন নথিপত্রসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। গুইমারাতেও প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়। এসব অভিযান নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার ইঙ্গিত দিলেও সামগ্রিকভাবে সহিংসতার প্রবণতা কমেনি বলেই স্থানীয়দের ধারণা।
এদিকে রাঙামাটিতে মোটরসাইকেল আরোহী অপহরণ এবং বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সতর্কবার্তা জারির মতো ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, পাহাড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের অন্যতম কারণ আধিপত্য বিস্তার, প্রভাব ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিরোধ। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যারা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন এবং ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ জনগন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা না হলে আরো সংঘাত সংগঠিত হবে পাহাড়ে।
পানছড়িতে সর্বশেষ তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনাও সেই দীর্ঘ সহিংস ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর অভিযান, অপহরণ ও চাঁদাবাজি দমনে কঠোর ব্যবস্থা এবং সব ধরনের সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির জন্য পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম যেন সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপদ সহাবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে এমন প্রত্যাশাই এখন পাহাড়ের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Fulbaria