Kazi Rafi
ভালোবাসা মানেই অধিকার,
একটু জেদ, একটু অপেক্ষা।
সে আমার হোক, এটাই চাওয়া,
এই চাওয়াটাই তো ভালোবাসা।
- কাজী রাফি
গল্প: “রক্তমাখা বাঁশির সুর”
সন্ধ্যা নামছে ধীরে ধীরে। মেঠো পথ বেয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তের তালগাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আছে রওশন। তার গায়ে জীর্ণ পাঞ্জাবি, চোখের নিচে ঘুমহীনতার কালি। দু’চোখে অদ্ভুত রকমের শূন্যতা, আর কণ্ঠে একফোঁটা জোর নেই।
সে প্রতিদিন এই তালগাছটার নিচে এসে দাঁড়ায়। আজও এসেছে। কিন্তু আজ রওশনের মুখে কোনো বাঁশির সুর নেই।
আজ তার হাতে বাঁশিটাও নেই—সেই বাঁশি, যেটা সে বানিয়েছিল ছোট ভাই রাকিবের জন্য।
রাকিব।
রওশনের দশ বছরের ছোট ভাই। হাসিখুশি, দুষ্টু, আর অদ্ভুত মায়াবি চোখ ছিল তার। মা-বাবা না থাকলেও ওরা দু'ভাই যেন একে অপরের পৃথিবী। রওশন দিনভর খেটে রোজগার করত আর সন্ধ্যায় রাকিবের হাতে এনে দিত শুকনো পাউরুটি, কোনোদিন একটুকরো গুড়।
রাকিবের সবচেয়ে প্রিয় ছিল রওশনের বাঁশির সুর।
কিন্তু একদিন...
গ্রামের হাটে গিয়েছিল রাকিব—একটা মাটির খেলনা কিনবে বলে। কিন্তু তখনই এল পুলিশ ভ্যানে বোঝাই করে কিছু বন্দুকধারী। তারা বলল, “এই গ্রামে জঙ্গি আছে!”
তল্লাশি শুরু হলো।
ভয়ে লোকজন পালাতে লাগল। রাকিব ভয়ে কান্না করে বলছিল, “আমি কিছু করিনি ভাইজান… আমি শুধু খেলনা কিনতে এসেছি…”
তাদের কান ছিল না।
তাদের চোখে রাকিব ছিল সন্দেহভাজন।
তারা টেনে নিয়ে গেল রাকিবকে।
রওশন ছুটে গেল থানায়।
দু’হাত জোড় করে বলল, “ছেলেটা কিছু জানে না—ও তো আমার ভাই! দয়া করুন…”
কিন্তু রাকিব আর ফিরে এল না।
সাতদিন পর খাল থেকে এক অর্ধপচা দেহ উঠল। তার গলায় ছিল রওশনের বানানো বাঁশিটা।
আজ রওশন ফের দাঁড়িয়ে আছে তালগাছটার নিচে। চোখে জল নেই—তবু বুকের ভেতর এক নদী শুকিয়ে মরছে প্রতিমুহূর্তে।
সে চিৎকার করে বাঁশির মতো করে হুহু শব্দ করতে চায়, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বেরোয় না।
আজ পুরো গ্রাম চুপ।
আকাশে শোকের মেঘ।
রওশনের হাতে রক্তমাখা বাঁশিটা নেই—কিন্তু তার বুকের ভেতর এখনো বাজে সেই সুর, যেটা শুনলে কান্না আসতে বাধ্য।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Dhaka
1203