Dr.mozahedul hoque repon

Dr.mozahedul hoque repon

Share

12/10/2025

আজকের টপিক হলো "বুক জ্বালা "বা হার্ট বার্ণ।

বুক জ্বালা এক ধরনের অস্বস্থিকর অনুভূতি যা অধিকাংশ সময় বুকে বা বুকের উপরের দিকে, গলায় বা গলার মাঝামাঝি খাদ্যনালীতে হয়ে থাকে। সাধারনত পাকস্থলী এর এসিড নিঃসরন এবং এসিড সমৃদ্ধ উপাদান গুলো পাকস্থলী থেকে অনবরত উপরের দিকে চলে আসার প্রবনতা থেকে বুকজ্বালার সৃষ্টি হয়।

বুক জ্বালার লক্ষণ ঃ
♥বুকের ঠিক মাঝখানে হাঁড়ের নিচে শিরশিরে ব্যথা অথবা জ্বালা জ্বালা অনুভূত হওয়া।
♥পাকস্থলী থেকে প্রতিনিয়ত খাবার উপরের দিকে চলে আসার প্রবনতা।
♥ খাবারের আগে বা পরে বমি বমি ভাব অনুভূত হওয়া।
♥খাবার মুখে ও গলায় আটকে যাওয়া অনুভূত হওয়া।
♥হঠাৎ হঠাৎ বা সব সময় মুখে বা গলায় তিতা ভাব বা স্বাদ লাগা।
♥অ্যাজমার মত শ্বাস কষ্ট হওয়া।
♥ঘুমানোর সময় সবচেয়ে বেশি বুক জ্বালার লক্ষন গুলো পরিলক্ষিত হয় এবং ঘুমের ব্যঘাত ঘটে।

বুক জ্বালার কারণ

♥প্রচুর পরিমানে গ্যাস তৈরী করে এমন খাবার বেশী খাওয়া যেমন ঃ ভাজা পোড়া, আলু, সফট ড্রিংকস।
♥বারে বারে বেশী পরিমানে খাওয়া যা পাকস্থলীর উপর চাপ তৈরী করে।
♥বেশী টাইট পোশাক পরিধান করা যা পেটের উপর চাপ তৈরী করে।
♥কিছু কিছু ব্যাথার ঔষধ সেবনের পর পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরন বেড়ে যায়।
♥গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালার লক্ষন দেখা দেয়।
♥পেটের অন্ত্রের অনুজীবের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া, যা অন্ত্রে মিথেন গ্যাস তৈরী করে এবং পাকস্থলীর খাবার কে উপরের দিকে চাপ দেয় এবং বুক জ্বালা সৃষ্টি হয়।
♥অতিরিক্ত ব্যয়াম করলে পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরন বেড়ে যায়, ফলে বুক জ্বালা সৃষ্টি হয়।
♥অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে ও বুক জ্বালা সৃষ্টি হয়।

বুক জ্বালা প্রতিরোধে সহায়ক খাবার ঃ

♥ফাইবার জাতীয় খাবার যা শরীর খুব সহজে গ্রহন করতে পারে সেগুলো বেশী পরিমানে খাওয়া যেমন ঃ সবুজ ফল ও শাক সবজি।
♥যে সকল খাবার হজমে সহায়তা করে সেগুলো বেশী খাওয়া যেমনঃপেঁপে, আনারস, অ্যালোভেরা।
♥শরীরকে সতেজ ও রোগমুক্ত রাখে এবং এসিড প্রতিরোধে সহায়ক খাবার খাওয়া যেমনঃরসুন, আদা,হলুদ।
♥ কিছু মাছ যা এসিড এবং বুকজ্বালা কমায় যেমনঃশিং, মাগুর,টুনা, স্যালমন।

বুক জ্বালা প্রতিরোধ খাওয়ার নিয়মঃ

♥খাবার ভাল করে চিবিয়ে খেতে হবে।

♥খাবার খাওয়ার সময় পানি পানের প্রয়োজন হলে সামান্য গরম পানি অল্প পরিমানে পান করতে হবে। গরম পানি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

♥খাবারের পরপরই পানি পান না করে ৫থেকে ১০ মিনিট পরে পানি পান করতে হবে।

♥রাতের খাবার কম পরিমানে গ্রহন করতে হবে।

♥চুইং গাম টাইপ এর গাম ব্যবহার করতে হবে যা খাদ্য রস বাড়ায় ও হজমে সহায়তা করে।

বুক জ্বালা প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রনে জীবন যাত্রার পরিবর্তন ঃ

♥ঘুমানোর সময় শরীরের উপরের অংশ বিছানা থেকে একটু উপরে রেখে ঘুমাতে হবে।

♥ ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ঘন্টা আগে খেতে হবে।

♥ হতাশা ও দুশ্চিন্তা কম করতে হবে।

♥ধুমপান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

♥রাতে ঘুমাবার আগে ঢিলে ঢালা জামা পরিধান করতে হবে।

♥খাবার পর সামান্য একটু হাঁটতে হবে।

♥প্রত্যহ হালকা ব্যায়াম করতে হবে।

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করুন ও নিয়ম মেনে চলুন।

ডা. মোজাহিদুল হক
মেডিসিনও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

03/10/2022

এনজাইনা সম্পর্কে জানুন

এনজাইনা কি?
আপনার হার্ট যদি সঠিক পরিমানে রক্ত বা অক্সিজেন না পায় তবে বুক এবং বুকের আশে পাশের অংশে (হাত, ঘাড়, পিঠ গলা বা চোয়াল) এক প্রকারের চাপা ব্যাথা অনুভূত হয় যাকে এনজাইনা বলে। এটি কোন রোগ নয় তবে করোনারী হৃদরোগ (coronary heart disease) এর একটি উপসর্গ।

করোনারী ধমনী কি?
যে রক্তনালীর মাধ্যমে হৃদপিন্ডের মাংসপেশী সমূহ রক্ত এবং অক্সিজেন গ্রহন করে তাদের করোনারী ধমনী বলে।

করোনারী হৃদরোগ কি?

একজন সুস্থ মানুষের করোনারী ধমনী বাধাহীন ভাবে খুব সহজে হৃদপিন্ডের পেশী সমূহে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। করোনারী হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধমনীসমূহের দেয়ালে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় পদার্থ (এথেরোমা) জমা হবার কারনে ধমনীসমূহ শক্ত এবং সরু হয়ে যায় ফলে এর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত রক্তের পরিমান সীমিত হয়ে যায় এবং হৃদপিন্ডের মাংসপেশী সমূহ পর্যাপ্ত রক্ত এবং অক্সিজেন গ্রহন করতে পারে না।

এনজাইনা কখন হয়?

সাধারণত ব্যায়াম, আবেগীয় মানসিক চাপ, বিরুপ আবহাওয়া (অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম), অতিরিক্ত খাওয়া -এই সকল ক্ষেত্রে দেহে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। সীমিত রক্তপ্রবাহের কারনে করোনারী হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর হার্ট এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরন করতে পারেনা এবং তখনই এনজাইনার ব্যাথা সৃষ্টি হয়।

এনজাইনার লক্ষন সমূহ কি কি?

এনজাইনার লক্ষন সমূহ নারী এবং পুরুষের ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে। তবে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে যে লক্ষন সমূহ দেখা যায় সেগুলো হলো -
*বুক, হাত, ঘাড়, পিঠ, গলা অথবা চোয়াল এ ব্যাথা বা চাপা অস্বস্থি ভাব
*শ্বাসকষ্ট
*ক্লান্তি
*মাথা হালকা অথবা ফাঁকা লাগা
*বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া
*অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
*দূর্বল ভাব

এনজাইনা কত প্রকারের হয়ে থাকে?

এনজাইনা মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে। স্টেবল এনজাইনা, আনস্টেবল এনজাইনা এবং ভ্যারিয়েন্ট এনজাইনা।

★যে এনজাইনা শারীরিক বা মানসিক কোন চাপের কারনে সৃষ্টি হয় এবং নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে বা বিশ্রাম নেবার পর কমে যায় সেটি স্টেবল এনজাইনা।
★যে এনজাইনা কোন প্রকারের চাপ ছাড়া এমনিই বিশ্রামরত অবস্থায় আরম্ভ হয় এবং ৫মিনিট পরও সর্ব্বোচ্চ তিনবার নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে প্রয়োগ করার পরও ব্যথা কমে না তাকে আনস্টেবল এনজাইনা বলে। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
★করোনারী ধমনীর কোন অংশ কোন কারনে সংকুচিত হলে যে এনজাইনা সৃষ্টি হয় তাকে বলে ভ্যারিয়েন্ট এনজাইনা। ধূমপায়ীদের মধ্যে এ প্রকারের এনজাইনা বেশী দেখা যায়।

কোন কোন ক্ষেত্রে এনজাইনা হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়?

*ডায়বেটিস
*ধূমপান
*উচ্চরক্তচাপ
*রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল
*শারীরিক পরিশ্রম না করা
*অতিরিক্ত ওজন।

এনজাইনা এবং হার্ট এটাকের মধ্যে পার্থক্য কি?

এনজাইনা আক্রান্ত হবার অর্থ হার্ট এটাকে আক্রান্ত হওয়া নয়। হার্টএটাকে ব্যাথা অনেকক্ষন দীর্ঘস্থায়ী হয়। নাইট্রোগ্লিসারিন ও বিশ্রামেও কমেনা। এবং এটি হার্টের দীর্ঘস্হায়ী ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতা রাখে।আনস্টেবল এনজাইনা পরবর্তীতে হার্ট এটাকের দিকে ধাবিত হয় যখন হার্টের কোন অংশের করোনারী ধমনী সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে যায়।

হার্ট এটাকের লক্ষন সমূহ কি কি?

বুকে কেন্দ্রীভূত ব্যাথা, ব্যাথা বামহাতে ছড়াতে পারে, ব্যাথা ঘাড় বা চোয়ালে ও ছড়িয়ে পড়তে পারে,খুব অসুস্হ বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করা।

এনজাইনা কিভাবে নির্ণয় করা হয়?

বুক ব্যাথা অর্থই এনজাইনা ব্যাথা নয়। এনজাইনা সনাক্ত করার জন্য চিকিৎসক গন আপনাকে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইকেজি),ইটিটি,এক্সরে, রক্তপরীক্ষা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনারী ধমনীর ছবি পর্যবেক্ষন (এনজিওগ্রাম) করতে দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী এনজাইনার চিকিৎসা কিভাবে করা হয়?
বিভিন্ন পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদী এনজাইনার চিকিৎসা করা যেতে পারে -
★এন্টি-এনজাইনা ঔষধ সেবন।
★জীবন পদ্ধতির পরিবর্তন।
★এনজিওপ্লাস্টি /পিসিআই(পারকিউটেনিয়াস করোনারী ইন্টারভেনশন) (বন্ধ হয়ে যাওয়া ধমনীকে একটি ছোট টিউব বা স্টেন্ট স্থাপনের মাধ্যমে খোলা রাখা)।
★বাইপাস সার্জারী।

দীর্ঘমেয়াদী এনজাইনা চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হল এনজাইনার লক্ষনসমূহ দূর করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়া।

কি ধরনের এন্টি-এনজাইনা ঔষধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে?

বিটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, রক্তনালীর দেয়াল প্রসারনকারী ঔষধ যেমন নাইট্রোগ্লিসারিন, এনজাইনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষায়িত ঔষধ যেমন -ট্রাইমেটাজিডিন, রেনোলাজিন, ইভাব্রাডিন ইত্যাদি।

এনজাইনা কি এড়ানো সম্ভব?

পরিমিত পরিমানে খাবার গ্রহন করতে হবে কারন ভারী খাবার অতিরিক্ত পরিমানে খেলে এনজাইনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

নিজেকে চাপ মুক্ত রাখা।

প্রতিদিনেরখাদ্য তালিকায় চর্বিযুক্ত এবং মিষ্টি খাবারের পরিমান নিয়ন্ত্রন করা।

ধূমপান না করা।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা।

ব্যায়াম করা।

নিয়মিত ঔষধ সেবন করা।

বুকে ব্যাথা উঠলে করনীয় কি?

★যে কাজ কররছিলেন সেটি বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে বসে বিশ্রাম নিবেন।

★জিহ্বার নীচে নাইট্রোগ্লিসারিনের একটি স্প্রে দিবেন।

★৫মিনিট পরে ব্যথা না গেলে আবার ১টি স্প্রে একই পদ্ধতিতে নিবেন।
★পুনরায় ৫মিনিটের মধ্যে ব্যথা না গেলে আবারও ১টি স্প্রে একই পদ্ধতিতে নিবেন।
★এর ৫মিনিট পর ও যদি ব্যাথা না কমে তাহলে সঙ্গেসঙ্গে কারো সাহায্যে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যাবার ব্যবস্থা করুন।
★সম্ভব হলে একটি এসপিরিন ৩০০মি.গ্রা.ট্যাবলেট অথবা এসপিরিন ৭৫ মি.গ্রা ৪টি ট্যাবলেট একসাথে খেয়ে নিন।

ডা.মোজাহিদুল হক
মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

Want your practice to be the top-listed Clinic in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Begum Rokeya Sarani
Dhaka
1216