Daily Islam

Daily Islam

Share

20/04/2025

সূরা আল-ফাতিহা ১:৪
مٰلِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ
মালিকি ইয়াওমিদ্দীন
“প্রতিফল দিবসের অধিপতি।”

مٰلِكِ (মালিক)
• মালিক মানে: মালিক, শাসক, কর্তৃত্বশীল।
• আল্লাহ সব কিছুর মালিক, তবে এই আয়াতে বিশেষভাবে কিয়ামতের দিনের মালিকানা বোঝানো হয়েছে।
يَوْمِ (ইয়াওম)
• অর্থ: দিন।
الدِّيْنِ (আদ-দীন)
• এখানে দীন অর্থ: প্রতিফল, বিচার, হিসাবের দিন।
• সেই দিন, যেদিন আল্লাহ ন্যায়ের বিচার করবেন এবং সকলকে তাদের কাজ অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।

আল্লাহ সেই দিনটির একচ্ছত্র মালিক, যেদিন কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারবে না, এবং শুধুমাত্র আল্লাহর আদেশেই বিচার চলবে।
কুরআন থেকে সমর্থন:
১. কারও সাহায্য চলবে না
يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِّنَفْسٍ شَيْئًا ۖ وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِّلَّهِ
“সেদিন কোনো ব্যক্তি অপরের জন্য কিছুই করতে পারবে না। সেদিন সব ক্ষমতা কেবল আল্লাহর।”
সূত্র: সূরা ইনফিতার 82:19
২. একমাত্র আল্লাহর বিচার চলবে
وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ ۗ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَقْضُونَ بِشَيْءٍ
“আল্লাহ সত্য বিচার করেন, আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ডাকে, তারা কিছুই করতে পারে না।”
সূত্র: সূরা গাফির 40:20
৩. বিচার দিবসের নাম "يوم الدين" কুরআনে বারবার এসেছে
সূরা মুতাফফিফীন, আয়াত 9:
وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ
“তুমি কীভাবে জানবে কী সেই প্রতিফল দিবস ?

১. নবী (সা.) বলেন: বিচার দিবসে আল্লাহ একাই শাসন করবেন
“আল্লাহ তাআলা বলবেন: আজ রাজত্ব কার? একমাত্র মহান, পরাক্রমশালী আল্লাহর।”
সূত্র:
• সহিহ বুখারী, হাদীস: 7383
• সহিহ মুসলিম, হাদীস: 2788
২. কারো সুপারিশ চলবে না, আল্লাহ অনুমতি না দিলে
مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ
“কে আছে যে সুপারিশ করতে পারবে তাঁর নিকট, যদি তিনি অনুমতি না দেন?”
সূত্র: সূরা আল-বাকারাহ 2:255 (আয়াতুল কুরসী)
৩. বিচার দিবসে বান্দার একা দাঁড়ানো
“প্রত্যেক ব্যক্তি কিয়ামতের দিন একা একা আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, কোনো মুখপাত্র বা সাহায্যকারী থাকবে না।
• সহিহ মুসলিম, হাদীস: 2968
• সুনান তিরমিযি, হাদীস: 2425

• আখিরাত ও বিচার দিবস সত্য।
• আমাদের প্রতিটি কাজের হিসাব হবে।
• সেদিন একমাত্র আল্লাহর কর্তৃত্ব থাকবে — সেই ধারণা আমাদের চরিত্র সংশোধন ও আত্মশুদ্ধিতে অনুপ্রাণিত করে।
• Hr

20/04/2025

সূরা আল-ফাতিহা ১:৩
الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
আর-রাহমানি আর-রাহিম
“পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।”
الرَّحْمٰنِ (আর-রাহমান)
• এই নামটি আল্লাহর এমন অসীম ও ব্যাপক দয়ার গুণ প্রকাশ করে যা সমস্ত সৃষ্টি জগতকে ঘিরে রাখে।
• শুধু আল্লাহরই এই নামটি প্রযোজ্য — কোনো মানুষ বা সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহার করা হয় না।
الرَّحِيمِ (আর-রাহিম)
• এটি আল্লাহর এমন দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর দয়ার নাম, যা বিশেষভাবে মুমিনদের জন্য।
• এটি আখিরাতে এবং আল্লাহর নৈকট্যে আরও গভীরভাবে প্রতিফলিত হবে।
এই দুটি গুণের পার্থক্য ও গভীরতা:
বৈশিষ্ট্যالرَّحْمٰنِ (আর-রাহমান)الرَّحِيمِ (আর-রাহিম)পরিধিসর্বজনীন (সব সৃষ্টির জন্য)নির্দিষ্ট (বিশ্বাসীদের জন্য)প্রভাবদুনিয়া ও আখিরাতে আখিরাতে দৃশ্যমান ধরন তাত্ক্ষণিক ও ব্যাপক স্থায়ী ও নিবিড়
কুরআন থেকে সমর্থন:
১. আল্লাহর রহমত সব কিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে
وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ
“আমার রহমত সমস্ত কিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে।”
সূত্র: সূরা আল-আ'রাফ 7:156
২. আল্লাহ নিজের রহমত নিজেই বাধ্যতামূলক করেছেন
كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَىٰ نَفْسِهِ ٱلرَّحْمَةَ
“তোমাদের রব নিজের ওপর দয়া বাধ্যতামূলক করেছেন।”
সূত্র: সূরা আনআম 6:54
হাদীস থেকে ব্যাখ্যা (নম্বরসহ):
১. আল্লাহর রহমত শতভাগের মধ্যে এক ভাগ দুনিয়ায়
“আল্লাহ তাঁর রহমতের ১০০ ভাগের মধ্যে ১ ভাগ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, যার দ্বারা মা তার সন্তানকে দয়া করে। বাকি ৯৯ অংশ সংরক্ষিত আছে কিয়ামতের দিনের জন্য।”
সূত্র:
• সহিহ মুসলিম, হাদীস: 2752
• সহিহ বুখারী, হাদীস: 6000
২. রাহমান ও রাহিম — আল্লাহর বিশিষ্ট নাম
নবী (সা.) বলেন:
“আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, যার মধ্যে ‘রাহমান’ ও ‘রাহিম’ অন্যতম।”
সূত্র:
• সহিহ বুখারী, হাদীস: 2736
• সহিহ মুসলিম, হাদীস: 2677
৩. আল্লাহ বান্দাদের প্রতি দয়ালু — বান্দার চেয়ে বেশি
“আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি মা যতটা দয়ালু হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি দয়ালু।”
সূত্র:
• সহিহ বুখারী, হাদীস: 5999
• সহিহ মুসলিম, হাদীস: 2754

• আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি জীবনে, প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর করুণা রয়েছে।
• আমাদের উচিত, এই দয়ার ওপর ভরসা করা, কিন্তু গাফেল না হওয়া।
• আমরা যখন "الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ" বলি, তখন যেন হৃদয়ে এ বিশ্বাস জন্মায় — “আমার রব দয়ালু, তিনিই পথ দেখা
আমিন...
Hr

20/04/2025

সূরা আল-ফাতিহা ১:১
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
“পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।”
আল্লাহর নাম ও গুণের ব্যাখ্যা:
১. "বিসমিল্লাহ" — আল্লাহর নামে শুরু করা:
• “বিসমিল্লাহ” দিয়ে কাজ শুরু করলে তাতে বরকত ও নিরাপত্তা আসে।
২. "আর-রাহমান" — (الرَّحْمٰنِ):
• সার্বজনীন রহমত—সব সৃষ্টির জন্য।
৩. "আর-রাহিম" — (الرَّحِيمِ):
• নির্দিষ্ট রহমত—বিশ্বাসীদের জন্য, আখিরাতে বিশেষভাবে।
হাদীস
১. কাজ শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' না বললে বরকতহীন হয়
হাদীস:
"كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر"
অর্থ: “যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নামে শুরু হয় না, তা বরকতহীন।”
সূত্র:
• সুনান ইবন হিব্বান, হাদীস নম্বর: 883
• মুসনাদে আহমদ, হাদীস: 17328
২. আল্লাহর ৯৯টি নামের হাদীস
“আল্লাহর নিরানব্বইটি (৯৯টি) নাম আছে, যে ব্যক্তি সেগুলো হিফজ করবে (বিশ্বাসসহ জানবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
সূত্র:
• সহীহ বুখারী, হাদীস: 2736
• সহীহ মুসলিম, হাদীস: 2677
৩. আল্লাহর রহমত রাগকে ছাড়িয়ে যায়
“নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গজবকে ছাড়িয়ে গেছে।”
সূত্র:
• সহীহ বুখারী, হাদীস: 7422
• সহীহ মুসলিম, হাদীস: 2751 (হাদীস কুদসী)
৪. রাসূল (সা.): “তোমরা দয়া করো, আল্লাহও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন”
“যারা দয়া করে, তাদের উপর দয়া করেন রহমান। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের উপর দয়া করবেন।”
সূত্র:
• সুনান আবু দাউদ, হাদীস: 4941
• তিরমিযি, হাদীস: 1924
৫. নবী (সা.) নিজে সব কাজেই 'বিসমিল্লাহ' বলতেন
আয়েশা (রাঃ) বলেন: “নবী (সা.) যখন খেতে বসতেন বা পান করতেন, তখন বলতেন: ‘বিসমিল্লাহ।’”
সূত্র:
• সহীহ মুসলিম, হাদীস: 2022

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” কেবল একটি বাক্য নয়, বরং একটি পূর্ণ জীবনব্যবস্থা—যেখানে আল্লাহর স্মরণ, করুণা, দয়া ও নির্ভরতা নিহিত। এটি দিয়ে শুরু করলে প্রতিটি কাজ বরকতময় হয় এবং আমাদের আল্লাহর কাছে আরও নিকটবর্তী করে।
[ ] Hr

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Culinary Team

Attire

Telephone

Address


Dhaka
7221