lekhapora24.com
07/01/2017
ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর ৭ উপায়
আনিকা আলম
শুদ্ধভাবে বাংলা বলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও চাই তুখোড় জ্ঞান। কারণ বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক এ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইংরেজি বলা ও লিখতে পারা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে আত্নবিশ্বাসী করে তুলবে আপনাকে।
প্রচুর পরিমাণে ইংরেজি বই পড়ার কোনও বিকল্প নেই
ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে চাইলে নিজের ইচ্ছা ও চেষ্টাই সবচেয়ে জরুরি। জেনে নিন প্রয়োজনীয় কয়েকটি টিপস-
ইংরেজি সিনেমা দেখুন নিয়মিত। সাব-টাইটেলসহ দেখতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।
প্রচুর পরিমাণে ইংরেজি বই পড়ার কোনও বিকল্প নেই। শুরুতে অস্বস্তি বোধ হতে পারে। ডিকশনারি অথবা স্মার্ট ফোনের ট্রান্সলেটর অ্যাপস হাতের কাছে নিয়ে বসুন বই পড়ার সময়। প্রথম দিকে ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করুন। একসময় অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। বাড়বে শব্দ ভাণ্ডারও।
এখন সবার কাছেই স্মার্ট ফোন অথবা ট্যাব থাকে। এগুলো ব্যবহার করেও বাড়াতে পারেন ইংরেজি জ্ঞান। বিভিন্ন ইংরেজি ব্লগ ও আর্টিকেল পড়ুন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের পরামর্শও পেয়ে যাবেন ইন্টারনেটে।
হাতের কাছে থাকা বাংলা পত্রিকার বদলে বেছে নিন ইংরেজি পত্রিকা। মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। ছবির ক্যাপশনগুলো খেয়াল করুন ভালোমতো।
ইংরেজিতে দক্ষ হতে চাইলে শব্দ ভাণ্ডার বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েকটি নতুন শব্দ শেখার চেষ্টা করুন। নোটবুকে লিখে রাখতে পারেন নতুন শেখা শব্দগুলো।
ইংরেজি সংবাদপত্র পড়ুন ও রেডিও এবং টেলিভিশনে ইংরেজি সংবাদ শোনার অভ্যাস করুন।
লাইব্রেরিতে বসে বন্ধুরা মিলে ইংরেজি বই নিয়ে আলাপ করতে পারেন। বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারেন ইংরেজিতে। এতে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে স্বতঃস্ফূর্ততা আসবে।
14/06/2015
জাহাজে চড়ে আসা প্রথম কম্পিউটারের অপারেটরকে মরণোত্তর সম্মাননা
শর্মিলা সিনড্রেলা
১৯৬৪ সালের কথা। জাহাজে চড়ে বিশাল এক কম্পিউটার আসলো তৎকালীন পাকিস্তানে। আইবিএম মেইন ফ্রেম ১৬২০ কম্পিউটার। কিন্তু কে কিভাবে এই কম্পিউটার ব্যবহার করবেন? কেই বা জানেন তার ব্যবহার?
খোঁজ মিললো একজনের। তার নাম মো. হানিফউদ্দিন মিয়া। তিনি এই কম্পিউটারের ব্যবহার জানেন। কেননা অ্যানালগ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়ে ট্রেনিং করেছেন তিনি।
অগত্যা, ডাক পড়লো তার। পাকিস্তানের লাহোরে গিয়ে এই কম্পিউটারের ব্যবহারের আহবান জানানো হলো তাকে। বলা হলো, সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।
কিন্তু বেঁকে বসলেন হানিফউদ্দিন। নিজের দেশ ছেড়ে কোথাও যাবেন না তিনি। কি আর করা! অবশেষে ঢাঁউস সাইজের কম্পিউটারটি গেলো ঢাকার আণবিক শক্তি কমিশনে। হানিফউদ্দিনের হাতেই শুরু হলো সেটার ব্যবহার।
এই হলো দেশের প্রথম কম্পিউটার ও কম্পিউটার অপারেটরের পেছনের গল্প।
হানিফউদ্দিনের জন্যই বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার এসেছিলো। দেশের প্রথম এই কম্পিউটার চালককে জাতীয়ভাবে সম্মাননা জানাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি এবং সরকারের আইসিটি বিভাগ।
এবারের আইসিটি এক্সপোতে ১৭ জুন হানিফউদ্দিনের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে সম্মাননা স্মারকসহ বিশেষ পুরস্কার।
হানিফউদ্দিনের বাড়ি নাটোরের শিংড়ার হুলহুলিয়া গ্রামে। ১৯২৯ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা মানুষটি মারা যান ২০০৭ সালের ১১ মার্চ।
কথা হয় হানিফউদ্দিন মিয়ার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মো. শরীফ হাসানের সঙ্গে। বলেন, বাবাকে আমরা সেসময় যেমন দেখেছি, তার চেয়ে অনেক বেশি আবিস্কার করেছি তিনি মারা যাওয়ার পর। গ্রামে তাকে দাফন করার পর দেখেছি মানুষ তাকে কতোটা সম্মান করতেন।
স্মৃতিচারণ করছিলেন তিনি, যখন প্রথম কম্পিউটার এদেশে এসেছে তখন আমরা অনেক ছোট। আমরা নিজেরাও সেই কম্পিউটারে অনেক সময় কাটাকাটি খেলতাম।
বাবা সম্পর্কে শরীফ হাসানের বক্তব্য: বাবা গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি গণিতে গোল্ড মেডেলও পেয়েছেন। বাবাকে সবসময় আমরা পড়াশোনা নিয়েই থাকতে দেখেছি। তাকে সম্মান জানানো হচ্ছে দেখে আমাদেরও অনেক ভালো লাগছে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে টেলিভিশনের ৫০ বছর যেভাবে আয়োজন করা হয়েছে, বাংলাদেশে কম্পিউটারের আগমনের ৫০ বছর কিন্তু সেভাবে পালন করা হয়নি। অনেকে জানতেনই না।
তিনি জানান, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে কম্পিউটারের ৫০ বছর পূর্ণ হলো। এবার তারা চাইছেন দেশের প্রথম কম্পিউটার অপারেটরকে খানিকটা সম্মান জানাতে। এর মাধ্যমে অনেকে হানিফউদ্দিন মিয়াকেও জানতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
'বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার চালককে জানা মানেই একটা ইতিহাস চোখের সামনে চলে আসা,' এভাবেই সম্মাননা উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন বাংলাদেশে আইসিটির এক পথিকৃৎ মোস্তফা জব্বার।
তিনি বলেন: আমরা আর কিছু করতে না পারি সেই প্রথম বাংলাদেশি মানুষটি যিনি কম্পিউটারে হাত রেখেছেন তাকে সম্মান তো জানাতে পারি, তার কথা লিখতে পারি, বলতে পারি। তিনি দেশ ছেড়ে গেলেন না বলেই তো আমরা এখন গর্ব করতে পারছি।
'তাকে সম্মানিত করলে দেশের তরুণ সমাজ আরো বেশি কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবে,' এমনটাই বলছিলেন মোস্তফা জব্বার।
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন
02/06/2015
বলুন আমরা আর কি ভাবে ভালো রেজাল্ট করতে পারি
[আরাফাত শাওন। এবার বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। গত ৩০ প্রকাশিত ফলাফলে সে জিপিএ ৪.৮৩ পেয়েছিল। কিন্তু জিপিএ ৫ বা এ প্লাস না পাওয়ায় বাবা-মায়ের বকুনির শিকার হন। সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন এই কিশোর। মৃত্যুর আগে লিখে গেছেন একটি সুইসাইডাল নোট। যা পড়ে মনে হবে আমি বা আপনি আত্মহত্যা করি, আর বেঁচে থাকুক আরাফাত শাওনরা।]
আমি জানি না আজ আমি ঠিক কি ভুল কাজ করছি তবে এখন এটা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। আসলে ছেলে হয়ে এ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করাটাই আমার দূরভাগ্য। তা না হলে ছোট থেকে এ পর্যন্ত মেয়ের মতো সব সময় পরিবারের কাজ করতেই হয়েছে। আর কখনো পরিবার থেকে আমাকে খেলাধুলার সময় বা খেলতে দেওয়া হয়নি। আর আমিও মেয়ের মতো সব সময় মায়ের আঁচলের নিচেই ছিলাম।
আর আমি আদো জানি না যে আমি কি? এই পরিবারের বা আমার মা-বাবার সন্তান, তা না হলে সব সময় এ রকম শাসন আর কড়া শাসনের উপর আমাকে রাখা হয়েছে। কোন বাবা-মা তার সন্তানকে পড়া লিখার খরচে খোটা দেয় না। কিন্তু আমার মা বাবা সব সময় আমাকে বলে তোর জন্য মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করছি। এভাবেই প্রতি নয়ত বকাঝযকা করা হয়। সব সময় বাবার থেকে শুধু খারাপ ভাষার গালি আর গালি শুনতে হয়। যা আমার একটু বালো লাগতো না। কিন্তু আমি এতো দিন সহ্য করে ছিলাম। কারণ কোন কিছু করার কথা ভাবলে মনে হতো এ দুনিয়ায় তো বাবা-মায়ের আদর ভালোবাসা পেলাম না। পেলাম না শুখ শান্তি। আসলে মানুষ বলে যে ঠিক টাকা পয়সা ও ধন সম্পদ মানুষকে সুখী করতে পারে না। আর যদি আমি নিজের হাতে আত্মহত্যা করি তা হলে মরর পরও শান্তি পাবো না। আর মরার পর আমাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হতো। তাই এখন আমার আর এসব কিছু সহ্য হচ্ছে না। …
আমাদের ছাত্রদের কি দোষ বলুন আমরা তো আমাদের মতো শ্রেষ্টা (চেষ্টা) করে যাই। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গুলো কারণে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন হাল। এর আগের বছর সরকার তার নিজের স্বার্থের জন্য শিক্ষার হার বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এবার হরতাল-অবরোধ দেয়ার ফলে বর্তমান সরকার বিরোধী দলিয় সরকারকে গালি দেওয়ার জন্য পাশের হার কমিয়ে দিয়েছে, যাতে দেশে ফেল এর হার বেড়েছে। বলুন আমরা আর কি ভাবে ভালো রেজাল্ট করতে পারি!!!???
আমাদের মা-বাবা চায় আমরা ভালো রেজাল্ট করি। কিন্তু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ও তো দেখতে হবে। আমার বাবা ও আমার আত্ত্বীয়-স্বজন আমার এ রেজাল্ট (৪.৮৩) এর উপর খুশিনা। সবাই আমাকে বকাবকি করছে। কিন্তু আমার স্কুলের মধ্যে ২য় স্থান পাওয়ার পরও কিন্তু তারা অন্যদের রেজাল্ট এর কথা দেখে না, ভাবে না। তাদের কথা আমাকে A+ পেতেই হবে। A+ কি গাছে ধরে যে আমি পেড়ে আনবো। আরো অনেক কথা যা মনের ভিতর জমা করে রেখেছি। কিন্তু বললে শেষ হবে না। থাক। যদিও আমি মারা যাই … তা হলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যদিও বেঁচে যাই….!!!
আমার কিছু ঋণ রয়েছে
DJ Flower Tuch= সূর্য ৯০০
আমার বন্ধু শুভ= ১০০ (টাকা)
ইসমাইল= ২০০/পূবালী ইলেকট্রনিক শহীদ মার্কেট
[লেখকের বানান রীতি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে]
30/05/2015
পিএইচডি ফান্ডের জন্য আবেদন বিষয়ক তথ্য
রউফুল আলম, স্টকহোম (সুইডেন) থেকে
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীতবিজ্ঞানী গাট্রুড বি এলিয়ন (Elion) পিএইচডির জন্য ১৫টি আবেদন করেছিলেন। তাঁর দুর্ভাগ্য যে, একটি আবেদনেরও সাড়া পাননি। আত্মপ্রত্যয়ী এই মানুষটিই ১৯৮৮ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন। এমন উদাহরণ আরও দেওয়া যাবে। অর্জনের পথটাই কণ্টকাকীর্ণ। সেখানে চেষ্টাই সম্বল। সুতরাং আপনি যদি পিএইচডি ফান্ডের জন্য আবেদন করে ক্লান্ত হয়ে যান, গা ঝারা দিয়ে এখনই আবার শুরু করুন।
অধ্যাপকদের মেইল করছেন কিন্তু তারা উত্তর দিচ্ছেন না, তাই তো? অথবা, উত্তর দিলেও বলছেন, কোনো ফান্ড নেই, পজিশন নেই। এটা খুবই সাধারণ চিত্র! এমনটি আপনার, আমার, সবার ক্ষেত্রেই হচ্ছে। হয়তো দু-একজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন। তাহলে কী করা যায়? আবেদনের সময় কিছুটা কৌশলী হয়ে দেখা যেতে পারে। যা অনেকের ক্ষেত্রেই কাজে দিয়েছে। হয়তো আপনার জন্যও সহায়ক হবে।
ক) গণহারে সকল অধ্যাপকদের একই মেইল পাঠানো বন্ধ করুন। অভিজ্ঞ অধ্যাপক এগুলো সহজেই বুঝতে পারেন। ফলে এসব মেইল পড়েন না।
খ) আপনার প্রফেশনাল-প্রাতিষ্ঠানিক মেইল আইডি থাকলে সেটা ব্যবহার করুন (gmail, yahoo ইত্যাদি নয়। এসব আইডির মেইল তাঁরা খুব গুরুত্ব দেন না। কখনো কখনো এসব মেইল ওপেনও করেন না)।
গ) যে অধ্যাপকের গ্রুপে আবেদন করবেন, সে গ্রুপের গবেষণার বিষয়বস্তু (Research Focus/Field) সময় দিয়ে পড়ুন। খুব ভালো হয় সাম্প্রতিক প্রকাশিত আর্টিকেল পড়লে।
ঘ) অনেক সময় তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত আর্টিকেল পড়ে তাকে ধন্যবাদ দিতে পারেন। আর ধন্যবাদ দেওয়ার মাধ্যমেই গবেষণা কাজটির প্রশংসা করে দু-একটি প্রশ্ন (যৌক্তিক ও আকর্ষণীয়) করতে পারেন। উল্লেখ করতে পারেন যে, আপনি এই বিষয়টি ভালো বোঝেন ও এ বিষয়ে কাজের আগ্রহ অনেক। যোগাযোগের সূচনা এভাবেও করা যেতে পারে।
ঙ) রিসার্চ প্রপোজাল লিখতে হলে, একটি গবেষণা গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রকাশিত আর্টিকেল পড়ে সেই আলোকে কিছু করতে চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়াই উত্তম। প্রতিটি মানুষ তার সৃষ্টিকর্মে মোহিত (Obsessed)। যে যে বিষয়ে কাজ করে সেটার ওপর প্রপোজাল লিখুন। প্রপোজাল ১-২ পৃষ্ঠার বেশি না করাই উত্তম। গুরুত্বপূর্ণ ডায়াগ্রাম, ফিগার ব্যবহার করতে হবে বেশি করে। সেখান থেকেই যেন এক-নজরে বোঝা যায় কী বুঝাতে চাচ্ছেন।
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীতচ) মেইল আকারে বড় লিখবেন না। মেইলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি এটাচ করে দেওয়াই উত্তম। ফাইলের জন্য পিডিএফ ফর্ম ব্যবহার করা ভালো।
ছ) আপনার পাবলিকেশন থাকলে সিভিতে সেগুলোই আগে উল্লেখ করুন। পাবলিকেশনের সঙ্গে DOI (Digital Object Identifier) নাম্বার দিন। সেটা থাকলে আর্টিকেল খুঁজে পাওয়া খুব সহজ (https://dx. doi. org/)। (যদি আপনার আর্টিকেলের DOI নাম্বার না থাকে, তাহলে সেটা আন্তর্জাতিক মানের আর্টিকেল নয়।জ) একজন অধ্যাপক আপনার সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে চাইবেন। ফলে সে পরিচিতদের কাছ থেকে আপনার ব্যাপারে শুনতে চায়। সে জন্য রেফারেন্স লেটার গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে রেফারেন্স লেটার হয় গোপনীয় (Confidential)। আমাদের দেশে সবাইকে একটি করে হাতে দিয়ে দেওয়া হয় (আমাদের দেশে সব ছাত্রই অত্যন্ত মেধাবী ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ থেকে বিরত)। চেষ্টা করুন তুলনামূলক পরিচিত গবেষকের কাছ থেকে রেফারেন্স লেটার নিতে।
ঝ) আপনার থিসিস থাকলে সেই থিসিস থেকে একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট তৈরি করুন (এক-দুই পৃষ্ঠা)। বাংলাদেশের এমএস থিসিসের ভলিউম (অন্তত বিজ্ঞানে), পৃথিবীর বহু দেশের পিএইচডি থিসিসের দ্বিগুণ বা ত্রিগুণ। একজন অধ্যাপকের এই থিসিস পড়ার সময় নেই। অধ্যাপক যদি চান, তাহলে পুরো থিসিস পাঠান।
ঞ) মাতৃভাষা ইংরেজি, এমন দেশের অধ্যাপকদের কাছে মেইল লিখতে গেলে ইংরেজির ভাষাগত বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।
ওপরের বিষয়গুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য হয়তো সহায়ক হবে কিন্তু প্রস্তুতিটা আপনাকেই নিতে হবে। শুভ কামনা!
(লেখক ডক্টরাল গবেষক, স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডেন। ই-মেইল: [email protected])
সূত্র: প্রথম আলো
20/05/2015
বিদায় আনিছ স্যার, ক্ষমা চাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
গ্রামের সহজ-সরল ছেলে। এসএসসি ও এইচএসিতে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিলেন। উচ্চশিক্ষা নিতে এলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানেও অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হলেন। তারপর?
তারপর রচিত হল বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ঘৃণ্যতম ইতিহাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তরে লুকিয়ে থাকা শ্রেণী ঘৃণা, বিদ্বেষ আর জিঘাংসার শিকার হয়ে মেধাবী শিক্ষককে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে যেতে হল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপেট খাওয়া শিক্ষক হিসেবে ধুকে ধুকে মরতে হল।
হ্যা, আমরা অধ্যাপক আনিছুর রহমান স্যারের কথা বলছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই সাবেক শিক্ষক আর নেই। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রবিবার দিনগত রাত ৩টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের তৈয়াসার গ্রামের নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মুন্নী আক্তার ও ছোট দুই বোনসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহীকে রেখে গেছেন।
সোমরার বিকাল সাড়ে ৫টায় নামাজের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
আনিসুর রহমান ১৯৬০ সালে চৌদ্দগ্রামের তৈয়াসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন,মা মাহমুদা খাতুন গৃহিণী। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
আনিছুর রহমান চিওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পনের বছর বয়সে ১৯৭৫ সালে চিওড়া বেগম ফয়জুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান এবং ১৯৭৭ সালে একই বোর্ডের একই বিভাগ থেকে এইচএসসিতে পুনরায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
পরবর্তীতে আনিছুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করে স্নাতক সম্মান (অনার্স) ও স্নাতোকত্তর (মাস্টার) ডিগ্রী অর্জন করেন।
মাত্র ২২ বছর বয়সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন আনিছুর রহমান। দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মাত্র সাত বছর শিক্ষকতা করার সুযোগ পান এই শিক্ষক। এরপর ১৯৮৯ সালে তাকে বিশ্ববিদ্যিালয়ের চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে হয়। তখন তার বয়স ২৯ বছর।
কী ছিল আনিছুর রহমানের অপরাধ? গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকরা বরাবরই আনিছুর রহমানের প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারপরেও বিভাগের সবচেয়ে বড় কলঙ্কের ঘটনাটি কোনো না কোনো ভাবে শিক্ষার্থীরা জেনে যান।
আনিছুর রহমানের অপরাধ ছিল প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা একজন সহজ সরল মানুষ ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার দম্ভ, মেকি পার্সোনালিটি আর সামন্ত আচরণে তিনি অভ্যস্ত হতে পারছিলেন না। বরং সাহেবি প্রথা ভেঙে তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুদের মতো মিশে যেতেন।
গেয়ো, অসংস্কৃত ও আনস্মার্ট আচরণ থেকে বেরিয়ে আসতে আনিছুর রহমানকে অনেক বার শাসানোও হয়। কিন্তু সারল্য আর সহজ জীবনে অভ্যস্ত আনিছুর পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুতেই সিরিয়াস হতে পারেননি। যাদের জীবনের কোনো পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষাই তার সমান নয় তাদের থেকে আলাদা করতেই যে তিনি স্মার্টনেস দেখাতেন না তা অবশ্য কখনোই মুখে বলেননি তিনি।
এক পর্যায়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে আনিছুর রহমানকে এক ঘরে করে ফেলা হয়। তার সাথে উচ্চকোটির শ্রেণীদম্ভে বিশ্বাসী শিক্ষকরা কেউ কথা বলতেন না। গোপনে শিক্ষার্থীদেরও লেলিয়ে দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয় তাকে। আঘাত করা হয় তার মানিবক মর্যাদায়।
একদিন সব ছেড়েছুঁড়ে তৈয়াসা গ্রামে ফিরে গেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ মেধাবী শিক্ষক আনিছুর রহমান। গ্রামের মানুষ প্রথমে অবাক হলেও সারল্য আর মিশুক স্বভাব দেখে সবাই তাকে বুকে টেনে নেন।
পাগলাটে অপবাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাড়িয়ে দেওয়া আনিছুর রহমান কিন্তু শিক্ষকতা পেশা ছাড়েননি। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসিবে যোগ দেন তিনি। দরদ দিয়ে পড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে অসামান্য জনপ্রিয়তাও অর্জন করেন তিনি।
আনিছুর শেষ পর্যন্ত সংসারিও হয়েছিলেন। তিনি মুন্নী আক্তার নামে এক তরুণিকে বিয়ে করেন। অবশ্য আনিছ-মুন্নী দম্পতি ছিলেন নিঃসন্তান।
মেধাবী আনিছুর রহমান উচ্চ শিক্ষিত সমাজের কূটিলতায় শিকার হয়ে কষ্টকর জীবন যাপন করতে গিয়ে এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। খুব কম বয়সেই তার শরীর ভেঙে পড়ে, দ্রুত তিনি বুড়িয়ে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।
সর্বশেষ বারডেম হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ধারাবাহিক চিকিৎসার মধ্যেই রবিবার রাতে আনিছুর রহমান মারা যান।
আনিছুর রহমানের সরাসরি ছাত্র ছিলেন এমন অনেকেই এখন বাংলাদেশের সংবামাধ্যমের উচ্চপদগুলোতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কেউ কেউ সম্পাদক পদেও আসীন আছেন। তার ছাত্র ও ছাত্রীরা সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও নিজেদের শিক্ষকের দুঃখ আর বেদনাবোধ ঘুচাতে পারেননি তারা। প্রতিকার তো দূর কল্পনা। অবশ্য তাদের অনেকে এই শিক্ষকের খোঁজখবরও রাখেননি। স্বীকার্য কেউ কেউ শেষ বেলায় শাপমোচনের উদ্যোগ নেন, দীপ নেভার কিছুক্ষণ আগে তার অসুখে শরীরটা সারানোর চেষ্টা করেন তারা।
মৃত্যুর পর আনিছুর রহমানের জন্য একটি শোকবাণী ইস্যু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘আনিসুর রহমান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষক। সাংবাদিকতা শিক্ষার ক্ষেত্রে তার কর্মকান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে’।
ভিসি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সম্ভবত আনিছুর রহমানের মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি শোকবাণীর চেয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করাই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কর্তব্য, বিশেষ করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের।
দুঃসহ জীবন থেকে বিদায় আনিছুর রহমান স্যার, ক্ষমা প্রার্থনায় নত হও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Dhaka