Evergreenbd.com
চুপ থাকা ভালো গুণ এবং চুপ থাকার বিষয়ে মহৎ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে । তবে চুপ থাকা বা নীরব থাকা সব সময়ই প্রশংসনীয় নয়,।
1. অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ
اللَّهُ تعالى বলেনঃ
> قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ
— “নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে। যারা তাদের নামাযে বিনয়াবনত এবং যারা নিরর্থক কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
(সূরা আল-মু’মিনূন, 23:1-3)
এখানে বোঝা যাচ্ছে, মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লাগ্বু (অপ্রয়োজনীয় কথা) থেকে বিরত থাকা।
1. ভালো কথা অথবা নীরব থাকা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
> مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
— “যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।”
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
2. নীরবতা নিরাপত্তার উপায়
হাদীসে এসেছে,
> إِنَّ الصَّمْتَ حِكْمَةٌ قَلِيلٌ فَاعِلُهُ
— “নিশ্চয়ই নীরবতা প্রজ্ঞা, কিন্তু তা অনুসরণকারী অল্প।”
(সুনান দারিমী, হাদিস: 619)
3. অতিরিক্ত কথার ক্ষতি
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
> لاَ تَكْثِرُوا الْكلاَمَ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ فَإِنَّ كَثْرَةَ الْكلاَمِ بِغَيْر ذِكْرِ اللَّهِ قَسْوَةٌ لِلْقَلْبِ
— “আল্লাহর স্মরণ ছাড়া অতিরিক্ত কথা বলো না। কারণ আল্লাহর স্মরণ ছাড়া বেশি কথা বললে তা হৃদয়কে কঠিন করে তোলে।”
(সুনান তিরমিজি,
১. খারাপ কথা বলা থেকে বাঁচা
> وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ
— “আর তাদেরকে উত্তম কথার দিকে পরিচালিত করা হয়েছে এবং প্রশংসিতের পথে পরিচালিত করা হয়েছে।”
(সূরা আল-হাজ্জ, 22:24)
এখানে আল্লাহ ভালো/উপকারী কথা বলাকে প্রশংসা করেছেন। অর্থাৎ ভালো কথা না হলে চুপ থাকাই উত্তম।
২. অনর্থক কথা এড়িয়ে যাওয়া
> وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا
— “আর যখন তারা অনর্থক ও নিরর্থক কথার পাশ দিয়ে যায়, তখন তারা সম্মানজনক ভঙ্গিতে অতিক্রম করে যায়।”
(সূরা আল-ফুরকান, 25:72)
আল্লাহ এখানে বান্দার এক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন—লাগ্বু (অযথা কথা) এড়িয়ে যাওয়া।
৩. জিহ্বাকে সংযত রাখা
> مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
— “মানুষ কোনো কথা উচ্চারণ করে না, তার পাশে এক পর্যবেক্ষক (ফেরেশতা) সদা উপস্থিত থাকে।”
(সূরা কাফ, 50:18)
প্রতিটি কথা লিখে রাখা হয়, তাই অযথা কথা বলার চেয়ে চুপ থাকা উত্তম।
১. জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক সাহাবীকে বললেনঃ
> كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا
(নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো।)
সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের কথার জন্যও ধরা পড়ব?”
রাসূল ﷺ বললেনঃ
ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ؟
— “হে মুআয! তোমার মা তোমাকে হারাক। মানুষকে তাদের মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার প্রধান কারণ হলো তাদের জিহ্বার ফসল (অর্থাৎ কথাবার্তা)।”
(সুনান তিরমিজি, হাদিস: 2616)
২. জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজত করলে জান্নাত
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
> مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ
— “যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মাঝের (লজ্জাস্থান) সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিব।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস: 6474)
৩. বেশি কথা থেকে বাঁচা
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
> إِنَّ أَحَبَّكُمْ إِلَيَّ أَحْسَنُكُمْ أَخْلَاقًا، وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَيَّ الثَّرْثَارُونَ وَالْمُتَشَدِّقُونَ وَالْمُتَفَيْهِقُونَ
— “তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো যারা উত্তম চরিত্রের অধিকারী। আর আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো যারা বাচাল, জোর করে কথা বলে ও বাড়াবাড়ি করে কথা বলে।”
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
৪. নিরাপদ জীবন নীরবতায়
হাদীসে এসেছে,
> مَنْ صَمَتَ نَجَا
— “যে চুপ থাকে সে নিরাপদে থাকে।”
(সুনান তিরমিজি, হাদিস: 2501; সুনান দারিমী,
অযথা/অশ্লীল/লাগ্বু কথা এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ভালো কথা না বললে নীরব থাকা, জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, অযথা বাচালতা থেকে বাঁচা এবং নীরবতাকে প্রজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুপ থাকা মানেই সব সময় ভালো নয়—কিন্তু অন্যায়ের সময় চুপ থাকা নিষিদ্ধ, আর অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর কথার ক্ষেত্রে চুপ থাকা হলো ঈমানের নিদর্শন।
05/04/2025
With Abdul Hi Muhammad Saifullah – I'm on a streak! I've been a top fan for 6 months in a row. 🎉
29/03/2025
With Mizanur Rahman Azhari – I'm on a streak! I've been a top fan for 5 months in a row. 🎉
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhanmondi
Dhaka
1209