RIYA
23/02/2026
ভালবাসা হলো বেহায়া বানিয়ে দেওয়ার কাঁচামাল,
যা আত্মার কাপড় খুলে নেয়!
যেখানে শালীনতার সব বোতাম খুলে যায়
একটা নাম ডাকলেই।
ভালবাসা শেখায় কিভাবে চোখ নামিয়ে তাকাতে তাকাতেও সোজা বুকের ভেতর ঢুকে পড়তে হয়,
কিভাবে চুপ থাকাটাও একটা জোরে বলা স্বীকারোক্তি হয়ে ওঠে।
ভালবাসা মানুষকে নিজেরই কাছে অপরাধী বানায়,
রাতে ফোনের স্ক্রিনে আলো জ্বলে উঠলে সব নীতিকথা ঘুমিয়ে পড়ে।
এখানে লজ্জা থাকে না,থাকে শুধু অপেক্ষা,
একটা আছো?শব্দের জন্য নিজের সম্মানকে চায়ের কাপের মতো ঠান্ডা হতে দেওয়া।
এটা মানুষকে পাপী করে না,এটা মানুষকে উলঙ্গ করে দেয় নিজেরই সামনে।
ভালবাসা মানে নিজেকে ছোট করতে করতে
কারো ভেতর বড় হয়ে ওঠা,
নিজের নাম ভুলে গিয়ে কারো ডাকনামে বেঁচে থাকা।
তবুও,এই বেহায়াপনা ছাড়া মানুষ আর কিছুই হয়ে উঠতে পারে না,
কারণ ভালবাসা না থাকলে আমরা সবাই ভীষণ ভদ্র,
ভীষণ একা।
17/10/2025
এই যে রকিব হাসান মরে গেলেন- আমি কাঁদছি- কেন কাঁদছি এত, এই মধ্যবয়সে মৃত্যু কি এত কাঁদায়? তবু তো চোখ ভিজে যাচ্ছে।
বন্ধুদের একজনের দেওয়া পোস্ট দেখে কান্নাটা আরো তীব্র হলো। সেই যে তিন গোয়েন্দার মলাটের পেছনে এক টুকরো লেখাটা সে পোস্টে সেঁটে দিয়েছে-
"হ্যালো, কিশোর বন্ধুরা আমি কিশোর পাশা বলছি, আমেরিকার রকি বীচ থেকে। জায়গাটা লস অ্যাঞ্জেলেসে, প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে, হলিউড থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে। যারা এখনও আমাদের পরিচয় জান না, তাদের বলছি, আমরা তিন বন্ধু একটা গোয়েন্দা সংস্থা খুলেছি, নাম তিন গোয়েন্দা। আমি বাঙালী। থাকি চাচা-চাচীর কাছে। দুই বন্ধুর একজনের নাম মুসা আমান, ব্যায়ামবীর, আমেরিকান নি**গ্রো; অন্যজন আইরিশ আমেরিকান, রবিন মিলফোর্ড, বইয়ের পোকা। একই ক্লাসে পড়ি আমরা। পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ডে লোহা-লক্কড়ের জঞ্জালের নিচে পুরানো এক মোবাইল হোম-এ আমাদের হেডকোয়ার্টার। তিনটি রহস্যের সমাধান করতে চলেছি এসো না, চলে এসো আমাদের দলে।"
যতবার তিন গোয়েন্দার নতুন বই হাতে নিতাম, বহুবারপঠিত এই লেখাটা আবার পড়তামই। মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। তবু পড়তাম। কল্পনায় কিশোর পাশার চেহারাটা মনে হতো খুব শার্প, চিন্তা করার সময় নিচের ঠোঁটটা বারবার চিমটি কেটে ধরতো বলে মনে হতো, ওর নিচের ঠোঁটটা একটু বড় হয়ে গেছে। মুসা আমানকে মনে হতো মোটুসোটু কিন্তু শক্তপোক্ত কিশোর। ব্ল্যাক আমেরিকান। চুল কোঁকড়া। আর রবিন? রবিন মিলফোর্ড সাদা একটা আইরিশ কিশোর, যার চুল সোনালি, চোখ নীল, সেই চোখে গোল সোনালি রিমের চশমা। এমনকি স্যালভেজ ইয়ার্ডের লোহা লক্করের জঞ্জালে ঢাকা হেডকোয়ার্টারটা অব্দি আমি দেখতে পেতাম চোখ বুঁজলে!
এই যে চোখ দিয়ে জল ঝরছে, কেন ঝরছে? কিশোরের জন্য? মুসা আর রবিনের জন্য? নাকি আমার হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলার জন্য? যে ছোটবেলাটা মুঠো ফসকে কই যে গেছে, এত ছুটি তাকে ধরবো বলে, একটা ছোট্ট নরম অংশও কেন নাগালে পাই না? যে শিশুকালটা, যে কিশোরবেলাটা রোদে রোদে, বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে, ধুলোবালিতে, ঘাসে, জোৎস্নায় মিশে থাকতো! যে ছেলেবেলাটা ৯০ দশকের সাদামাটা ঘরদোরে, সহজ জীবনে মিশে ছিল? যে ছেলেবেলায় আমরা দলবেঁধে হেঁটে হেঁটে ইশকুলে যেতাম! রিকশা চেপে পড়তে যেতাম স্যারের বাসায়, ব্যাচে। অংক খাতার ভিতরে প্রেমপত্র - আর ফেরার পথে রিকশার পেছনে কেউ বাইসাইকেলে ফলো করত! সেই হঠাৎ প্রেমিকের যন্ত্রণা কেন সুখের মতো লাগতো?
যে ছেলেবেলায় আমরা শীত নামলেই নানুবাড়ি যেতাম। যে শিশুকালে আমরা বড় ভাইবোনদের ছোট হয়ে যাওয়া জামা ভাগ করে নিতাম। ঈদের শপিংয়ে যেতাম গুষ্টি ধরে সবাই মিলে।
কোথায় হারিয়ে গেল দোতলার বারান্দাটা? আমার পুতুলের সংসার? আমার মিনি পুষি? বাসার নিচে গোল্লাছুট আর কুতকুত খেলার টানা দাগ?
কোথায় হারালো বইয়ের দোকান? ২৫ টাকা দিয়ে কিনে আনা তিন গোয়েন্দা, কিশোর ক্লাসিক, ওয়েস্টার্ন! কোথায় হারালেন রকিব হাসান? কেন হারালেন? কেন হারান?
Perfect 👌
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Mohammadpur
Dhaka