Bdlisteners

Bdlisteners

Share

04/08/2024

সংকটকালীন মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নঃ যারা বাসায় আছেন কিংবা যাদের বাসায় বাবা-মা, সন্তান কিংবা অন্যান্য নিরীহ মানুষ আছেন তাদের জন্য।

চারিদিকে থমথমে অবস্থা। ভয়াবহ সংঘাতের এড়ানোর কোন উপায় দেখছি না! এমনকি এই সংঘাতময় পরিস্থিতি কতদিন থাকবে সেটাও এই মুহুর্তে বলতে পারছি কেউ। অন্তত এই সপ্তাহটা আমাদের কাটবে উৎকণ্ঠায় সেই সাথে যেকোন সময় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ডাউন হয়ে যেতে পারে যা আমাদেরকে ফেলে দিবে আরো বেশি অনিশ্চিয়তায়। আর সংঘাত মানেই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি।

আমরা যে সমাজে বা রাষ্ট্রে বসবাস করি সেখানে কোন প্রকার ক্রাইসিস দেখা গেলে সেটা সরাসরি হোক কিংবা পরোক্ষভাবে হোক, আমাদের মনের অবস্থা ও সার্বিক জীবনযাত্রার উপর প্রভাব ফেলে। করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের অভিজ্ঞতা আমাদের খুব বেশি দিন আগের নয়।
তবে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন, সংকটের স্থায়ীত্ব অনুযায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষের আচার আচরণ থেকে শুরু করে ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। পলিটিকাল ও সোশ্যাল সাইকোলজির পারস্পেক্টিভ থেকে এই আলাপ অন্যকোন সময় করবো। যেহেতু এখন একটি ক্রাইসিস সময়ে আছি আমরা তাই এখন কি করবেন সেটা নিয়ে আলোচনা করছি।

*** সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতি আমাদের মাঝে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, প্যানিক, অস্থিরতা তৈরী করে।
*** চলমান ঘটনাপ্রবাহ আমাদের মাঝে ট্রমা বা মানসিক আঘাত দিতে পারে। সেই সাথে পুরাতন কোন ট্রমা জাগিয়ে তুলতে বা ট্রিগার করতে পারে যাকে পিটিএসডি বলি।
*** যারা আন্দোলনে কোন পক্ষের সাথেই সরাসরি যুক্ত না তাঁরা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারেন, প্রচন্ড হতাশা ও খারাপ লাগা কাজ করতে পারে।
*** এমনকি যারা সরাসরি যুক্ত তাদের কাছের মানুষ ও প্রিয়জনেরা মানসিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকেন যা তাদের মাঝে বিষণ্ণতা, প্যানিক, এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরী করতে পারে।

পলিটিকাল সাইকোলজি অনুযায়ী জাতীয় এই সংকটের মাঝে নিজেকে স্থির রাখা যে কারো জন্য বেশ কঠিন। কারণ এইখানে আপনি কোন পক্ষকেই শান্ত হওয়ার আহবান করতে পারবেন না আবার কাউকেই আপনি উস্কেও দিতে পারবেন না। যারা আন্দোলনের পক্ষে বিপক্ষে আছেন তাঁরা সেটা ব্যক্তিগত ভাবে প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু যখন আপনি কাউকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দিবেন তখন প্রফেশনাল হিসেবে আমাদের এমন একটি অবস্থান থাকবে যেখানে মানুষকে সাহায্য করাটা হলো মূখ্য।

তাহলে কিভাবে এই সাহায্য করতে পারি? রাজনৈতিক ও জাতীয় এই সংকটের সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার প্রচলিত কিছু চর্চা আসলে সবার জন্যেই প্রযোজ্য। সেগুলো চর্চা করতে পারেন, সাময়িক সময়ের জন্য নিজেকে স্থির রাখতে এই চর্চা আপনাকে হেল্প করবে। তবে প্রফেশনাল হেল্পের বিকল্প নেই।

১. আপনি যদি সরাসরি যুক্ত না হোন তবে ক্রাইসিস সংক্রান্ত সকল আপডেট পাওয়া হতে নিজেকে বিরত রাখুন। পরিবারের যেসকল সদস্য অল্পতেই ভেঙ্গে পড়েন বা প্যানিক করেন তাদেরকে ভয়াবহ আপডেটগুলো দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হোন। যেমন বাবা মা, বয়স্ক মানুষ বা সাধারণ ও বিশেষ শিশু।

২। নিজেকে স্থির রাখার জন্য গ্রাউন্ডিং টেকনিক (মন্তব্যের ঘরে দিয়ে রাখছি) চর্চা করুন। মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস করলেও আপনি নিজেকে স্থির রাখতে পারবেন। সহজ স্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করার মাধ্যমেও নিজেকে রিলাক্স করতে পারি আমরা।

৩। যাদের মাঝে এংজাইটি আছে বা প্যানিক আছে তাঁরা প্রগ্রেসিভ মাসল রিলাক্সেশন টেকনিক প্র্যাকটিস করুন। আমি একটি স্ক্রিপ্ট বা নির্দেশনা কমেন্টে দিয়ে রাখবো। যদি ইন্টারনেট কানেকশন থাকে তবে বডি বেজড রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ করতে পারেন, আমি কিছু লিংক শেয়ার করে রাখবো যদি ইন্টারনেট থাকে।

৪। বাসায় থাকলে সহজ শরীর চর্চার টেকনিক ফলো করে অন্তত ১০-১৫ মিনিট এক্সারসাইজ করুন। হতে পারে ঘরের কোন কাজ বা সিড়ি দিয়ে উঠানামা করা, কিংবা ইন্টারনেটে কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ মুভ শিখে নিয়ে করতে পারেন। শরীর চর্চা আপনাকে ভালো ফিল করাবে।

৫। ডিজিটাল বা একচুয়াল ডায়রি মেইন্টেইন করেন। প্রতিদিন আপনার চিন্তা, আচরণ এবং অনুভূতিগুলো রিফ্লেক্ট করবে আপনার ডায়রিতে। থেরাপিউটিক জার্নালিং আমাদেরকে হেল্প করে আমাদের চিন্তাগুলো গুছিয়ে আনতে, অনুভূতিগুলো প্রসেস করতে এবং আচরণে পরিবর্তন আনতে। লিখুন প্রতিদিন।

//***বাসায় শিশু-কিশোর থাকলে ওদের সাথে বেশি সময় কাটান, ওদের সাথে গল্প করুন। ওদেরকে বেশি সময় ডিভাইস দিয়ে রাখবেন না, বরং খেলাধুলা করুন এবং ওদেরকে গল্প শোনান বেশি বেশি করে। এতে ওরা যেমন ভালো থাকবে তেমনি আপনিও বাচ্চাদের সঙ্গ পেয়ে ভালো বোধ করবেন।**//

৬। নিজের শখের কোন কাজ করা বা শেখার চেষ্টা করুন, পরিস্থিতির সাথে মানান সই এমন কোন একটিভিটি তে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন, হোক সেটা বই পড়া, রান্না করা, ছবি আঁকা, গাছ বা পোষা প্রাণী থাকলে তাদের যত্ন নেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ।

৭। খুব কাছের ও প্রিয় কিছু মানুষসহ কিছু জরুরী নাম্বার মোবাইলে সেভ করে রাখুন, যাতে প্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলতে পারেন। শেয়ার করতে পারেন আপনার মনের উৎকণ্ঠা ও খারাপ লাগা। কারণ শেয়ার করলে আপনার মনের অবস্থা কিছুটাও ভালো হবে। (মোবাইলে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখুন, কখন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে বা খোলা থাকবে আমরা নিশ্চিত নই।)

৮। কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাবার নাম্বার বা ইমেইল আইডি নিজের কাছে সেভ করে রাখুন। কল কিংবা মেসেজের মাধ্যমে এপোয়েন্টমেন্ট নিন, তারপর কথা বলুন। কারণ জরুরী এই সময়ে কথা বলার এবং ইমোশনাল সাপোর্ট নেওয়া যে কারও জন্যেই হেল্পফুল হবে। এমনকি আমাদের মেন্টাল হেলথ প্রফেশনালদেরও সাপোর্ট দরকার হচ্ছে। তাই আপনিও আপনার নিজের জন্য বা কাছের কারো জন্য সাপোর্ট নিতে দ্বিধা করবেন না।

৯। আমি এইখানে আমার নিজের নাম্বার, অফিসের নাম্বার শেয়ার করে রাখছি যাতে আপনি হোয়াটসঅ্যাপ বা ডিরেক্ট মেসেজের মাধ্যমে নক করতে পারেন, যদি রেস্পন্স পেতে দেরি হয় তবে একটু ধৈর্য্য ধরবেন। (Faysal Rafi Office 01325167451, Personal 01515625217)
আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমি নিজে ও আমার টিম যেটুকু পারি হেল্প করার, এছাড়াও আমি আমার পরিচিত সাইকোলজিস্ট ও মেন্টাল হেলথ প্রফেশনালদের সাথে যুক্ত করে দিবো আপনাকে। এমনকি যারা যারা এখন সাপোর্ট দিচ্ছেন তারাও নিজেদের ডিটেইলসও যুক্ত করে দিতে পারেন কমেন্ট সেকশনে।

১০। নিজেকে সুস্থ রাখুন, নিজের ও প্রিয়জনের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। আশা করি এই ক্রাইসিস দ্রুত কাটিয়ে উঠবো আমরা এবং একটি সুন্দর ও নিরাপদ নতুন বাংলাদেশে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবো।

ইন্টারনেট কানেকশন থাকা সাপেক্ষে আমি আরো কিছু টুলস এন্ড টেকনিক শেয়ার করবো, পাশাপাশি মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে পারবেন।

এছাড়াও এই ক্রাইসিসের সময় যার উপকারে লাগতে পারে তার সাথে শেয়ার করতে পারেন এই পোষ্ট।

ধন্যবাদ। যেখানে থাকেন, নিরাপদে থাকবেন।

আগস্ট ৪, ২০২৪

04/07/2021

ঘটনা এক
সামনে বসে আছেন শাহেদ ও তনিমা (ছদ্মনাম), তাদের ৫বছরের সংসার জীবন। দুজন এক সাথে এসেছেন কাপল কাউন্সেলিং এর জন্য। পরস্পরের প্রতি অভিযোগ যে দুজনেই #পরকীয়ায় জড়িত (সন্দেহ), তাছাড়া প্রায় প্রতিদিন ঝগড়া ও মারামারি ঘটনাও ঘটছে। দুজনেই অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং সে কি কারণে এমন কাজ করেছে সেটা সে ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু কেউ কারো ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়, তাই #ডিভোর্স দিতে চাচ্ছেন একজন আরেকজনকে। ডিভোর্স দেওয়ার আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে #কাপল_কাউন্সেলিং এর জন্য আমার কাছে আসছেন। উল্লেখ্য এই দম্পতির একটি ছেলে সন্তান রয়েছে যার বয়স ৩বছর।

ঘটনা দুই
আফিফা (ছদ্মনাম) একটানা কান্না করে গেলো আমার সামনে। প্রায় ১৫মিনিট ধরে একটি কথাও বলে নি সে। শুধু কেঁদে গেছে, কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। সে সংসার করছে দু বছর হলো, কিন্তু স্বামীর শারীরিক ও #মানসিক_নির্যাতন সে আর সহ্য করতে পারছে না, অন্যদিকে সে কোনমতেই ডিভোর্স নিতে রাজি না। সে চায় একটি সুন্দর গোছানো সংসার, যেখানে স্বামী তাকে ভালোবাসবে আর সে মনোযোগ দিয়ে সংসার করবে। কিন্তু গত দু বছর ধরে ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে, কিন্তু কিভাবে বিয়ে টা টিকিয়ে রাখবে তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কারণ তার ভয় হলো একবার ডিভোর্স হলে সে জীবনেও সমাজ ও পরিবারের কাছে মুখ দেখাতে পারবে না, কেউ তাকে মেনে নিতে পারবে না।

ঘটনা তিন
মারিয়া (ছদ্মনাম) ক্লাস সেভেনে পড়ে, যদিও তার ক্লাস করতে ইচ্ছা করে না। পড়াশুনা তার ভালো লাগে না। ওর বাবা মায়ের অভিযোগ এক মুহুর্ত পড়াশুনা করে না, ক্লাস করে না, সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ঘরে শুয়ে থাকে। অন্যদিকে মারিয়ার ভাষ্য সারাদিন বাসায় চিৎকার চেঁচামেচি চলে, কখনো মারিয়া কে উদ্দেশ্য করে তার #বাবা_মা চিৎকার করেন, কখনো বাবা মায়ের মধ্যে তীব্র ঝগড়া, এবং চিৎকার চেচামেচি এক পর্যায়ে মারামারি তে পৌঁছায়। ফলাফল সবাই অশান্তি তে থাকছে এবং মারিয়ার চাওয়া সে এই পরিবেশ থেকে পালিয়ে যেতে চায়।

উপরের তিনটা ঘটনায় আমরা চাইলেই খুব াধান দিয়ে দিতে পারি, প্রথম দুইটায় ঘটনায় ডিভোর্স দিয়ে দেওয়ার কথা অথবা মানিয়ে চলার কথা বলতে পারি, তৃতীয় ঘটনায় মারিয়া কে বলতে পারি হোস্টেলে চলে যেতে! যেহেতু আমি #সাইকোলজিস্ট তাই এই সহজ সমাধান দিতে পারি নি। শুধু অনুরোধ করেছি, আমরা আগামী দেড় দুই মাস এক সাথে কাজ করি। দুই বা তিন মাস পরে আপনারা যেকোন সিদ্ধান্ত নিবেন তাতে আমার সাপোর্ট পাবেন। উল্লেখ্য প্রফেশনাল হিসেবে সাইকোলজিস্টদের আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হয় সেটি হলো ক্লায়েন্ট এর জীবনঘাতী কোন ঝুঁকি আছে কিনা, থাকলে সেটি প্রথমেই নিষ্ক্রিয় করা হয়। যাইহোক, এই দেড় দুই মাস আসলে কি করেছি?

যেকোন মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার প্রধান কারণ আমরা কেউ কারো কথা শুনতে চাই না, শুনলেও অনুভূতি ও চিন্তা বুঝতে চেষ্টা করি না, আর সে অনুযায়ী নিজেদের আচরণ পরিবর্তন আনতে চাই না, আর আমাদের #জাজমেন্টাল #মানসিকতা তো আছেই। তাই আমার প্রথম কাজ ছিল দফায় দফায় এদের সকলের বক্তব্য শোনা, তাদের চিন্তা, অনুভূতি, বিশ্বাস, অতীত অভিজ্ঞতা, শৈশব, কৈশোর সহ জীবনের বিভিন্ন ধাপে হওয়া তাদের নানাবিধ অভিজ্ঞতা বিস্তারিত শোনার ফলে তাদের বর্তমান সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা গেছে, অর্থাৎ তাদের নীডস গুলো কি কি, তাদের নিজেদের #অবচেতন মনে জমা হওয়া দুঃখ, কষ্ট, ট্রমা ও অযৌক্তিক বিশ্বাস ও ধারণাগুলো তুলে আনা হয়েছে। তারপর শুরু হয়েছে পরিবর্তনের কাজ, এইভাবে ধীরে ধীরে প্রতিটা মানুষকে করা হয়েছে ইমোশনালি ইনডিপেনডেন্ট, তাদের চাওয়া পাওয়া গুলো সম্পর্কে করা হয়েছে সচেতন, এবং সর্বশেষ তাদের প্রায়োরিটি ঠিক করতে সাহায্য করা হয়েছে।

তাহলে ফলাফল কি হলো?!

প্রথম ঘটনায় যে দম্পতির কথা বলা হয়েছে উনারা ডিভোর্স নেন নি, বরং উনাদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন সন্তান সহ স্বাভাবিক (সুখী) জীবনযাপন করছেন। কিছুদিন আগে #ধন্যবাদ দিয়ে বিশাল এক মেসেজ দিয়েছেন।

দ্বিতীয় ঘটনায় যিনি আসছিলেন উনি চেষ্টা করেছিলেন উনার হাজবেন্ড কেও নিয়ে আসার, কিন্তু উনার হাজবেন্ড আসতে চান নি। অফিসিয়ালি সেশন শেষ হওয়ার মাস খানেক পরে উনি জানালেন যে উনি ডিভোর্স নিয়েছেন, আগের তুলনায় এখন উনি #আত্মবিশ্বাসী, উনি জানেন উনার জীবন নিয়ে কোন দিকে আগাতে চান, এবং সম্প্রতি উনার নিজের একটি ইনিশিয়েটিভ শুরু করেছেন। পরিবার সহ নিজের একটি #সাপোর্ট_সিস্টেম তৈরি করেছেন, ফলে উনি একটি স্বাভাবিক জীবনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং এতে উনি খুবই খুশি।

তৃতীয় ঘটনায় যে কিশোরীর কথা বলা হয়েছে সে কিছুদিন আগে মেসেজ করেছে, ভাইয়া আমি এখন অনেক ভালো আছি, আব্বু আম্মুর সম্পর্ক অনেক উন্নতি করেছে, আমার সাথে আম্মুর সম্পর্ক অনেক ভালো হয়েছে। এখন আমার #পড়াশুনা করতেও ভালো লাগে, বাসায় আম্মুর সাথে সময় কাটাতে ও ভালো লাগে। আর এইটা সম্ভব হয়েছে আপনার জন্য, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। (মারিয়া এবং ওর বাবা মা তিনজনই আমাকে ভাইয়া বলে ডাকে :3)

উপরের ঘটনা ও ফলাফলগুলো কেন শেয়ার করছি? কারণ আমাদের মধ্যে একটি প্রবণতা হচ্ছে সহজেই জাজ করে ফেলা, এবং সে অনুযায়ী একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া কিংবা পরামর্শ দেওয়ার নামে নিজের #ব্যক্তিগত জাজমেন্ট দিয়ে দেওয়া যা আদতে ঠিক নয়। কাউকে পরামর্শ দেওয়ার আগে তাদের কথা শুনুন, প্রয়োজনে আলাদা সময় দিন, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরামর্শ যে দিচ্ছেন তার #দায়িত্ব কি আপনি নিচ্ছেন? যদি না নিতে চান তাহলে সমাধান মূলক কোন পরামর্শ না দিয়ে ব্যক্তিকে সাহায্য করুন সিদ্ধান্ত নিতে। যাতে সে নিজে সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে এবং সেই সিদ্ধান্তের #কনসিকয়েন্স যেন মেনে নিয়ে উপভোগ করতে পারে নিজের জীবনটাকে। তাই সাইকোলজিস্টগণ কখনো ডিরেক্ট পরামর্শ বা সমাধান দেন না, আমরা ব্যক্তিকে এমনভাবে তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করি যাতে সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে, নিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে সে জানে এবং ভবিষ্যতেও যাতে সে ভালো থাকতে পারে।

বি: দ্রঃ ১। #সাইকোথেরাপির প্রসেস একটু সময় সাপেক্ষ, তাই চটজলদি আমাদের কাছে কোন সমাধান নেই। অনেকেই খুব দ্রুত ভালো হতে চান কিংবা রিকোভার করতে চান, কিন্তু কোন সাইকোথেরাপি দ্রুত কোন সমাধান দিতে পারে না। #সাইকিয়াট্রিস্ট দের মধ্যে যারা সাইকোথেরাপির উপর বিশদ ট্রেনিং ও পড়াশোনা করেছেন তারাও এইটা মেনে নিতে বাধ্য, তবে যারা করেন নি তারা নিজেদের ব্যক্তিগত মতামত রোগীকে দিয়ে থাকেন যা কোন মতেই সাইকোথেরাপির অংশ না।

বি: দ্রঃ ২। উপরের কেসগুলো সফল ভাবে শেষ হয়েছে বলে ভাবার কোন কারণ নাই আমি সব কেস সফল ভাবে ডিল করতে পেরেছি, আমার বেশ কিছু কেস রয়েছে , সেগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লেখার ইচ্ছা আছে। তবে অধিকাংশ unsolved case এর মূল কারণ হচ্ছে ক্লায়েন্ট দ্রুত সমাধান চান বা রিকভারি করতে চান যা আদতে অসম্ভব, তাই দু তিনটা সেশনের পরে কন্টিনিউ করেন না।

বি: দ্রঃ ৩। আমি সাধারণত বাচ্চা, কিশোর কিশোরীদের নিয়ে কাজ করতে চাই না। কারণ সমস্যা কিশোর কিশোরীদের না, ওদের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় দ্রুত, কিন্তু সমস্যা হলো প্যারেন্টদের। তারা দ্রুত রেজাল্ট চান, কিন্তু নিজেরা কোন প্রকার সহযোগিতা করতে চান না। ফলে আমি খুব বিরক্ত হই, যদিও এখন অনেক #প্যারেন্ট খুব সচেতন এবং নিজেদের কে নিয়ে কাজ করেন।

এই লেখার মাধ্যম জানান দিতে চাই যে আমাদের #জাজমেন্টাল_মানসিকতা নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা আসছে, পাশাপশি #রোমান্টিক_সম্পর্কের #আদি_থেকে_অন্ত নিয়ে আরেকটি লেখা প্রক্রিয়াধীন আছে।

#যাপিতপ্রফেশন #অভিজ্ঞতা #পরীক্ষামূলক_লেখা #রাফিরকলম

ফয়সাল আহমেদ রাফি, সাইকোলজিস্ট, বিডিলিসেনার্স।

30/06/2021

মনে করুন, আপনার সামনে আপনার সবচেয়ে পছন্দের খাবারটা রাখা হয়েছে, আপনি ছাড়া সেই ঘরে আর কেউ নেই। কিন্তু কথা হলো, আপনাকে বলা হয়েছে আপনি খাবারটা খেতে পারবেন না। কতক্ষণ এভাবে থাকতে পারবেন?
১৯৬০ সালের শেষের দিকে এবং ১৯৭০ সালের শুরুর দিকে ঠিক এরকমই একটি পরীক্ষণ করেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ওয়াল্টার মিশেল এবং তার সহযোগীরা। এই পরীক্ষণটিতে ৪ বছর বয়সী প্রি-স্কুলে পড়ুয়া কতগুলো শিশুকে একটি রুমে বসিয়ে তাদেরকে একটি প্লেটে একটি মারশমেলো (চিনির তৈরি খাবার) দেয়া হয়। তাদেরকে বলা হয় তারা যদি অপেক্ষা করে, এবং মারশমেলোটি না খায়, তবে তাকে ১৫ মিনিট পর তাদেরকে আরো একটি মারশমেলোটি দেয়া হবে। এ পরীক্ষণটি মূলত শিশুদের আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বোঝার জন্য করা হয়েছিলো।এতে কিছু শিশু আগেই মারশমেলোটি খেয়ে ফেলে আর কিছু শিশু অপেক্ষা করেছিলো এবং ২ টি মারশমেলো একসাথে খেয়েছিলো। পরর্বতীতে এই শিশুদের যখন তাদের কৈশোরকালে যোগাযোগ করা হয়, তখন দেখা যায় যে, যেসব শিশুরা অপেক্ষা করেনি তাদের তুলনায় অপেক্ষা করা শিশুরা পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ও জীবনে সফল হয়।
এই পরীক্ষণের মাধ্যমে ওয়াল্টার মিশেল ব্যাখ্যা করেন যে, কিভাবে আত্মনিয়ন্ত্রণ অর্জন করে তা বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো সম্ভব। এটি আমাদের ওজন কমানো থেকে শুরু করে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে, বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে এবং মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। প্যারেন্টিং, শিক্ষা থেকে শুরু করে নিজের যত্নে আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োগ আমাদের সত্ত্বা এবং আমরা কি হতে পারি- তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে।
ভিডিও কৃতজ্ঞতাঃ Igniter Media

Want your practice to be the top-listed Clinic in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


House: 519/a, Road: 1, Dhanmondi
Dhaka
1205

Opening Hours

Monday 09:00 - 18:00
Tuesday 09:00 - 18:00
Wednesday 09:00 - 18:00
Thursday 09:00 - 18:00
Friday 09:00 - 18:00
Sunday 09:00 - 18:00