decoding.us
আমাদের সমাজের বিভিন্ন সামাজিক বিষয়গুলোকে একটা যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্যেই মূলত এই পেইজ কারণ আলোচনা নতুন প্রশ্ন তৈরি করে এবং প্রশ্ন চিন্তা করতে সাহায্য করে।
আওয়ামীলীগ আসলে কিভাবে স্বৈরাচার হয়ে উঠলো? যেকোনো দেশের সংস্কৃতির ন্যারেটিভ যদি কোন একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে চলে যায় এবং তারাই যদি ঠিক করে কি ধরনের সংস্কৃতি চর্চা হবে তাহলে সেই জনপদে স্বৈরাচার তৈরি হতে বাধ্য।
আওয়ামীলীগ, বিএনপি অথবা জামায়েত স্বাধীনতার পরে সেই কাজটাই করার চেষ্টা করেছে বিভিন্নভাবে। তবে সেইটা ছিলো সংস্কৃতিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা কিন্তু সেইটার ন্যারেটিভ তৈরিতে নিজেদের দখল নেয়ার চেষ্টায় সেইভাবে পেরে উঠেনি বা ভাবতেই পারে নাই।
আওয়ামীলীগ তার শাসনকালে গত ১৫ বছরে সেইটা ভালোভাবেই পেরেছে এবং এই পারার পিছনে বিএনপি ও জামায়েতেরও পরোক্ষভাবে হাত আছে। আওয়ামীলীগ সেই সুযোগটা খুব ভালোভাবেই নিয়েছে। উদাহরণ দিলে হয়ত বিষয়টা আরো পরিষ্কার করতে পারবো।
৯০ দশকে আওয়ামীলীগ, বিএনপি এবং জামায়েত ছাড়াও প্রায় প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল খুবই শক্তশালি ছিলো সংস্কৃতি চর্চায়। এইবার এই সংস্কৃতিতে নাচ, গান, কবিতা, কার্টুন যাই বলেন না কেন তারা সবকিছুতেই সরব ছিলো। সাংস্কৃতিক ডিপার্টমেন্ট ছাড়া কোন দলই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার চিন্তা করতে পারতো না।
যেমনঃ বিএনপি "নতুন কুড়ি" নামের অনুষ্ঠান পুরো বাংলাদেশে নতুনদের সংস্কৃতি চর্চায় একটা মাইলফলক তৈরি করেছিলো। বিটিভির এই অনুষ্ঠান সবাই কম বেশি সময় করে দেখতো এবং যারাই এইখানে ভালো স্থান নিয়েছে তারাই পরবর্তী সময়ে জাতীয় শিল্পী হিসাবে কাজ করেছে।
জামায়েতের মত কট্টর ধর্মভিত্তিক দলের ছিলো কিশোর কণ্ঠের মত চমৎকার পাবলিকেশন। সেখানে ড্রাকুলার মত গল্প থেকে শুরু করে ছবি আঁকা, ধর্মের গল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের বিষয়কেই প্রাধান্য দিতো। খালেদা, হাসিনার হিজাব নিয়ে ভোটের আগে পোস্টার ছাপালেও তাদের নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেল থেকে শুরু করে এলাকাভিত্তিক ছিলো খুবই শক্তিশালী সাংস্কৃতিক জোট। মূলত এইরকম সাংস্কৃতিক জোট করেই তারা লিবারেল শিক্ষিত একটা গ্রুপকে নিজেদের দলে নিয়ে আসতো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামীলীগ কিভাবে পুরো বাংলাদেশের সংস্কৃতির ন্যারেটিভ নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসলো? প্রথমত কাজ করেছে ইন্টারনেট প্রযুক্তির এই সময়। যেখানে মানুষ অন্যদেশে কি হয় তা খুব সহজেই জানা শুরু করেছে। এর ফলে কট্টর দলগুলো ইহুদি বিধর্মীদের সংস্কৃতির চর্চাকে দেখা শুরু করেছে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে। তারা ভুলেই গেছে সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মত প্রকাশের অন্যতম হাতিয়ার এইটা কারো বাপ, ধর্ম বা জাতির একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি না।
অবশ্যই ওয়েস্ট এবং উন্নত সমাজের ১০০ টাকা আয়ের প্রায় ১৫ টাকা যায় সংস্কৃতি চর্চায়। ফলে তাদের ইনভেস্ট দেখে মনে হতেই পারে এইটা তাদের বাপ দাদার সম্পত্তি। যেহেতু আওয়ামীলীগ খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে সংস্কৃতি চর্চার পাওয়ার। তাই তারা মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা দিয়ে একটা পকেট তৈরি করেছে এবং তারা জানতো শুধুমাত্র এইটা দিয়ে পুরো জাতিকে কভার করা সম্ভব নয়। তাই আরো অনেক অনেক ছোট ছোট পকেট খুলে দিয়েছিলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে যাতে শিক্ষিত সচেতন অন্যদেশের সংস্কৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। যেমনঃ তামিল হিন্দি সিনেমা, বিটিএস, নেটফ্লিক্স থেকে শুরু করে আরো সব উইন্ডো কিন্তু মূল লক্ষ্য ছিলো জামায়েত বিএনপির মতো অঙ্গসংগঠন যাতে নিজেদের ন্যারেটিভ সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করতে না পারে।
জামায়েত বিএনপি যেহেতু বাঙালির এবং বাঙালি ক্ষমতাবান মানেই ঘাড় তেড়া। কাজেই তারা আওয়ামীলীগকে সংস্কৃতির সাথে মিশিয়ে আওয়ামীলীগকে বর্জন না করে সংস্কৃতি চর্চাকে বর্জন করেছে।
লেখা বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই শেষ একটা উদাহরণ দিয়ে শেষ করবো। সংস্কৃতির চর্চার একটা বড় উদাহরণ হচ্ছে জুলাইয়ের গণ আন্দোলন যা পুরোটাই ছিলো স্লোগানের ছন্দ, কবিতা, লেখা, ভিডিও, গান আর ছবি আঁকা। পার্থক্যটা ছিলো আওয়ামীলীগের সংস্কৃতির চর্চার ন্যারেটিভ থেকে বেড় হয়ে মানুষ নিজেদের মত প্রকাশ শুরু করে।
এতসব বলার একটাই কারন সংস্কৃতি চর্চা যদি ঠিকভাবে করতে দেয়া না হয় তাহলে আবারো স্বৈরাচার যেমন আসবে এবং মানুষও শ্রমিক চামচা হিসাবে জীবন ধারণ করবে। সৌদি সরকার সেইটা বুঝতে পেরেছে বলেই আস্তে আস্তে দুবাইকে ফলো করার চেষ্টা করছে। অন্যতম শিক্ষিত এবং চিন্তাশীল ইরানী সমাজের আজকের অবস্থার জন্যে দায়ী নিজ দেশের সংস্কৃতি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে কব্জা করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো সেইটা বোঝার ধারণা সার্বিকভাবে অর্জন করে নাই।
বাংলাদেশের সব থেকে বড় দুর্নীতি হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় মাওলানা হয়েও কাজ করতে পারে সিনেমা বা বিটিভিতে আর নর্তকী বা অভিনেতা হয়ে কাজ করতে পারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে। কারো কোন চিন্তার শিক্ষার প্রয়োজন হয় না বরং যার যে পদ ইচ্ছা সেইটাই বগল দাবা করতে পারে মুখস্থ বিদ্যার মাধ্যমে।
এইরকম চাকরি ব্যবস্থা থাকলে সেই দেশে ফেরেশতা ক্ষমতায় বসে সরকার হলেও স্বৈরাচার হতে বাধ্য কারণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যারা উপর মহলে কাজ করছে তাদের কোন ধারনাই নাই তারা কি করছে? ফলে তাদের কোন কন্ট্রিবিউশন ছাড়া বেতন নেয়া সরকারকে মনের অজান্তেই প্রভু মনে হবে।
দ্বিতীয়ত, যেহেতু তাদের কাজের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা এবং চিন্তা নাই, কাজেই তারা জনগণকে সবসময় অন্ধকারে রাখবে কারণ তাদের সবসময়ই ভয় থাকে এই মনে হয় জনগণ বুঝে গেলো তারা ভুয়া। এইজন্যেই তাদের এতো কোট টাই গাড়ি হাঁকিয়ে চকোর বকর।
আমাদের দেশে এইজন্যেই কোন দলই চায় না যোগ্য শিক্ষার লোক যোগ্য স্থানে বসুক কারণ তখন তারা জ্ঞানের কাছে হেরে গিয়ে স্বজনপ্রীতি আবোল তাবোল সিদ্ধান্ত আর নিতে পারবে না। এই দেশের জনগণের প্রথম আবদার হওয়া উচিত ছিলো শিক্ষা অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করা কিন্তু সবই আছে এর ওরটা মেরে খাওয়ার তালে।
মাঝখান দিয়ে ধরা খাচ্ছে সাধারণ জনগণ। তাদের অর্থ খরচ করে একদল যুবক শিখছে কিন্তু তারা যা শিখে নাই সেইখানে কাজের নামে দ্বিতীয়বার বেতনের নামে জনগণের অর্থ পকেটে ঢোকাচ্ছে। যার খেসারত জনগণকে ঘুষ দিয়ে দিতে হচ্ছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
ঢাকা, বাংলাদেশ
Dhaka
1205