Life Lens

Life Lens

Share

09/07/2026

বুবি মারা গেছেন। তাঁকে ঘুম থেকে উঠিয়ে পিটিয়ে মেরেছে ‘দুর্বৃত্তরা’। কাছে ৪০ হাজার টাকা ছিল। ২৫ বছর ধরে বুবি ওই টাকা জমিয়েছিলেন ভিক্ষা করে, প্লাটফর্ম পরিষ্কার করে। টাকাগুলো আর নেই। ওরা নিয়ে গেছে। মৃত্যুর আগে ক্ষতবিক্ষত মুখ নিয়ে বুবি স্টেশনের একটা চেয়ারে বসেছিল নীরবে, নিরুত্তাপ দৃষ্টিতে।

এমনিতেও সত্তুর বছর বয়সী বেশিরভাগ নারীর এই পৃথিবীর উদ্দেশ্যে নতুন করে কিছু বলার থাকে না। জীবন তাঁদের এতোটাই ক্লান্ত করে রাখে যে, নতুন কোনো কথার ভার বয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা তাঁদের থাকে না।

কিন্তু বুবির গল্পটা আলাদা। কারণ সত্তুর বছর জীবনে সে কখনওই কিছু বলেনি। একটি অর্থপূর্ণ সম্পূর্ণ বাক্যও না। কিন্তু কথা বলতে পারলে তিনি কী বলতেন?
টাকার জন্য যখন তাকে মারা হচ্ছিল, তখন তিনি চিৎকার করে কাকে ডাকতেন?
মাকে? বাবাকে? আল্লাহ্‌কে?
আচ্ছা, বুবির ধর্ম কী ছিল?

২৫ বছর আগে ট্রেনে চড়ে মেথিকান্দা স্টেশনে এসেছিলেন বাক্‌প্রতিবন্ধী বুবি। তিনি কোত্থেকে এসেছিলেন? কেন? কারো প্রতি অভিমান করে?

মেথিকান্দা স্টেশন থেকে কেন বুবি আর ফিরে গেলেন না? কার কাছে আর গেলেন না? নাকি এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশন, আবারও এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশন করে তিনি পালিয়ে বেড়িয়েছেন জীবন থেকেই?

তাহলে মেথিকান্দা থেকে কেন পালালেন না? কিসের আর কার অপেক্ষায়? কোনো প্রিয়জনের অপেক্ষায়? আবারও পালানোর সুযোগের অপেক্ষায়? মৃত্যুর অপেক্ষায়?

২৫ বছর ধরে বুবি এক এক করে ৪০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন। গড়ে প্রতিদিন ৪ টাকা ৩৮ পয়সা। এই টাকা দিয়ে বুবি কী করতেন? কাউকে দিতেন? কোনো একদিন দূরে কোথাও পৃথিবীর মানচিত্র থেকে খসে পড়া একখণ্ড জমি কিনতেন? নিজের জন্য বাড়ি বানাতেন? অন্য কারো জন্য বানাতেন? কবরের জায়গা বায়না করে রাখতেন?

বুবি এসব কিছুরই উত্তর দিয়ে জাননি। বুবি মেথিকান্দা স্টেশনে নীরবে এসেছিলেন। অনেকদিন পর্যন্ত হয়তো কেউ টেরই পায়নি যে- নতুন দুইটি পাও তাঁদের সাথে একই প্লাটফর্মে রোজ হাঁটছে। বুবি একইরকম নীরবে চলে গেছেন। অনেকদিন পর্যন্ত হয়তো কেউই টেরই পাবে না যে- পুরনো দুইটি পা তাঁদের সাথে ওই প্লাটফর্মে রোজ আর হাঁটছে না।

বুবির জন্য কোনো শোকসভা হবে না, বুবি হত্যার বিচার চেয়ে মিছিল হবে না, বুবির কবরে তাঁর নামও লেখা হবে না।

বুবির না বলা কথার চেয়েও বেশি নীরবে আমরা ভুলে যাবো, এই দেশের স্টেশনগুলোতে বাস করা মানুষদের চাইলেই মেরে ফেলা যায়। কিন্তু যারা স্টেশনে থাকে- তাঁরা মরবে, মরুক। আমাদের কীসের দায়?

- সৈকত আমিন।

06/07/2026

সিরিয়াসলি? চিটিং করার পর এই লেভেলের কনফিডেন্সকে এখন স্ট্রেটফরোয়ার্ডনেস বলে তালি দেওয়া হচ্ছে??🙂

অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিমকে এক পডকাস্টে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, আপনি কি কখনো আপনার স্ত্রীকে চিট করেছেন?

তিনি অকপটে উত্তর দিলেন, জি, আমি চিট করেছি।

এরপর যোগ করলেন, আমি বলতে চাই, এখানে লুকানোর কিছু নেই। এটাই আমি। আমাকে এটা নিয়েই ভালোবাসতে হবে।

পাবলিক তো রীতিমতো গদগদ! আহা, কত সততা! বুকে কত পাটা! লুকিয়ে না রেখে একদম সত্যিটা বলে দিছে!

​আচ্ছা, একবার ভেবে দেখেছেন, এই একটা লাইন আমাদের সমাজ আর পারিবারিক মূল্যবোধের কতটা ধস নামিয়ে দিচ্ছে?

"এটাই আমি, আমাকে এভাবেই ভালোবাসতে হবে", এর চেয়ে সস্তা এবং অহংকারী ডায়লগ একটি সম্পর্কের জন্য আর কী হতে পারে?

ব্যাপারটা তো অনেকটা এমন হয়ে গেলো, কাল থেকে পকেটমার ধরা পড়লে বলবে, হ্যাঁ, আমি পকেট মেরেছি। এটাই আমি, আমাকে এই চোর রূপেই সমাজকে ভালোবাসতে হবে।
বাহ, কী চমৎকার সততা!🤷‍♀️

রিলেশনশিপে লয়্যালটি কোনো অপশনাল বিষয় না, এটা কোর ফাউন্ডেশন। মানুষ ভুলবশত কোনো ভুল করতে পারে, কিন্তু চিটিং করা কোনো ভুল না, এটা একটা চয়েস। ঠান্ডা মাথায়, জেনেবুঝে নেওয়া একটা সিদ্ধান্ত।

​আর সেই সিদ্ধান্তকে যখন কেউ "এটাই আমি" বলে জাস্টিফাই করে, সেটা লয়্যালটি না সেটা চরম নির্লজ্জতা আর পার্টনারের আত্মসম্মানকে ছোটো করা।
ভালোবাসা মানে এই না যে, সামনের মানুষটা অন্যায় করবে আর আপনাকে মহৎ সেজে সেটা গিলতে হবে।

​সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, আমাদের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আর এই পডকাস্ট কালচার এগুলোকে খুব কুল আর স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলছে।
​মানেহ এরা সমাজকে কী মেসেজ দিচ্ছে??
​স্বামীরা চিট করতেই পারে, তারা এসে বলবে আমি এমনই। আর স্ত্রীদের কাজ হলো মাথা নিচু করে, আত্মসম্মান ধুয়ে পানি খেয়ে সংসার টিকিয়ে রাখা!!!!!

​আমরা কি আমাদের ছেলে-মেয়েদের এই জঘন্য মেন্টালিটি শিখিয়ে বড় করছি? তারা কি দেখবে যে বাবা-মায়ের সম্পর্কে কোনো বিশ্বাস নেই, শুধু লোকদেখানো একটা ছাদের নিচে ম* লা*র মতো বেঁচে থাকাটাই জীবনের সার্থকতা?

​যে সংসারে সন্তানরা প্রতিদিন দেখে তাদের বাবা একজন চিটার আর মা নিজের সেলফ-রেস্পেক্ট বিসর্জন দিয়ে পড়ে আছে, সেই সন্তানরা কোনোদিন মেন্টালি সুস্থ হয়ে বড় হতে পারে না।

​লয়্যালটি ছাড়া শুধু একটা সামাজিক ট্যাগ আর ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটির জন্য বছরের পর বছর পার করে দেওয়াকে আর যাই হোক, সংসার বা ভালোবাসা বলা যায় না।
ওটা তো একটা একঘেয়ে আপোসের চুক্তিপত্র। নিজের ভুলের বোঝা বাচ্চার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে যারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার নাটক করে, তারা আর যাই হোক ভালো অভিভাবক না।🙅‍♀️

​দয়া করে এই সস্তা বীরত্বে হাততালি দেওয়া বন্ধ করুন!
​কোনো পুরুষ বা নারীরই এতটুকু সস্তা হওয়া উচিত না যে পার্টনারের চিটিং জানার পরও ভাববে, মানিয়ে তো নিতেই হবে।

​আত্মসম্মান কোনো বিক্রির জিনিস না যে সমাজের ভয়ে বা বাচ্চার দোহাই দিয়ে ওটাকে বিসর্জন দিতে হবে।
এই যে, অকপট সততা'র মুখোশ পরে যারা নিজেদের ক্যারেক্টারলেস আচরণকে জাস্টিফাই করতে চায়, তাদের আইডল বানানো বন্ধ হোক।
​চিটিং করা কোনো আর্ট না, আর সেটাকে প্রাউডলি স্বীকার করা কোনো বীরত্ব না। এটা একটা বেহায়াপনা। 🤷‍♀️

Collected.

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka