GoWild
নিত্যদিনের যান্ত্রিক জীবনকে পাশ কাটিয়ে একটুখানি নিজেকে সময় দেয়ার জন্য প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর বিকল্প কিছু হতে পারেনা।
এই শহুরে দালানকোঠা,যন্ত্রের বিরক্তিকর শব্দগুল ছেড়ে সবুজের মাঝে হেটে চলা, কখনও বা সমুদ্রের ঢেউ এ ঝাঁপিয়ে পরা বাতাসে চুল উড়িয়ে ছুটে ফেরা, কখনও আবার নিস্তব্ধ ঝিরিপথ মাড়িয়ে ঝর্নার নিচে নিজেকে সঁপে দেয়া কখনও আবার শীতল পানিতে শরীর ডুবিয়ে দেয়া....
জীবনের ব্যাস্ততাকে দু'দন্ড ছুটি দিয়ে প
30/10/2023
তারে আমি খুজিইইই!🙃
19/10/2023
" বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা "
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্হান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য্য উপভোগের সুযোগ মিলে। তুষারের পাঁচটি ঐশ্বর্য্য কাঞ্চনজঙ্ঘা। মাউন্ট এভারেস্টের পরে যা হিমালয়ের দ্বিতীয় এবং পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ।
বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে মাত্র ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা হিমালয় পর্বতমালার কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ আপনাকে মোহিত করতে বাধ্য। এর রূপ দিনের একেক সময় একেক রকমের হয়। আবার একেক স্থান থেকে এর রূপ একেক রকমের হয়। ভারতের দার্জিলিং, গেংটক, সিকিম অথবা এর আশেপাশের অঞ্চলের পাহাড় থেকে এর সৌন্দর্য্য আর বাংলাদেশের সমতল ভূমি থেকে ফসলের ক্ষেত, নদী-নালা, গ্রামীণ জীবনযাত্রার সাথে এর সৌন্দর্য্য অবশ্যই অন্যরকম যা অপার্থিব এক অনুভূতির জন্ম দেয়। মনে হয় স্বাভাবিক এক জীবনের ওপারে রূপকথার এক জগৎ।
সকালে সূর্যোদয়ের সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অনুভূতি স্বর্গীয়। এরকম একটা সূর্যোদয় দেখলে মনে হবে জীবন স্বার্থক। সূর্যের প্রথম আলো যখন চূড়া স্পর্শ করে তখন এর বর্ণ হয় টুকটুকে লাল। দেখতে দেখতেই সেই আলো অন্যান্য পর্বত চূড়া স্পর্শ করে। সময় বাড়ার সাথে সাথে এর রঙ এবং রূপ পরিবর্তন হতে থাকে । সূর্যাস্তের সময়েও এর রূপ খুব উপভোগ্য হয়ে থাকে।
উত্তরের জেলাগুলোর বিভিন্ন জায়গা থেকে এর রূপ ভিন্ন হয়। তেঁতুলিয়া থেকে এর রূপ একরকম আবার বাংলাবান্ধায় গেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর দেখাই যায় না কারণ সামনের পাহাড় দিয়ে ঢেকে যায় ; ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলে মনে হবে যে এর সামনে কোনো পাহাড় পর্বত নাই আবার যতই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার দিকে যাবেন ততই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পস্ট হতে থাকবে এবং সামনের পাহাড় দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা অনেকাংশে ঢাকাও পরবে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা মাউন্টেন রেঞ্জ দেখতে অনেকটা গৌতম বুদ্ধ শুয়ে থাকার আকৃতির মতন দেখায় বলে একে " ঘুমন্ত বুদ্ধ" বা "The Sleeping Buddha" বলা হয়। আমার মনে হয় বাংলাদেশে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তরদিকের যে কোনো সীমান্ত এলাকা থেকে দিনের মাঝামাঝি সময়ে দেখলে " The Sleeping Buddha " খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। তাছাড়া স্থানভেদে ল্যান্ডস্কেপভেদে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপের পরিবর্তন হয়।
সাধারণত বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেখা যায়। কারণ এ সময়ে আকাশ একদম পরিষ্কার থাকে এবং সূর্য দক্ষিণ দিকে হেলে পরে। দক্ষিণ দিক থেকে সূর্যের আলো উত্তরের হিমালয়ের গায়ে প্রতিফলিত হলে আমাদের উত্তরাঞ্চল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পস্ট দেখা যায়। তবে গত বছর ২০২০ সালে আকাশ তুলনামূলক অনেক বেশী পরিষ্কার থাকার কারণে আমরা মাসব্যাপি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখেছি। আশা করা যাচ্ছে এবছরও গতবছরের মত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাবে। আমার তোলা কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবিগুলো ২০২০ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বিভিন্ন সময়ে এবং পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন স্হান থেকে তোলা। এই চার জেলার বিভিন্ন স্হানের নদী, ফসলের মাঠ, চা বাগান, খোলা মাঠ, গ্রাম্য জীবনযাত্রার সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় দৃশ্য দেখার অনুভূতির কথা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কিছু কিছু অনুভূতি থাকে বুক চিনচিনে; নিজ মাতৃভূমি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার যে অনুভূতি তা আমার কাছে বুক চিনচিনে অনুভূতির মতন।
#কাঞ্চনজঙ্ঘা
© Nowshad Alam Nowaj - All rights reserved
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Address
House 16, Road 10, Gulshan 1
Dhaka
1212