Next Part Story

Next Part Story

Share

Photos from Next Part Story's post 10/04/2026

জলপরীর গল্প একটু চেঞ্জ হয়ে গেলো!😁

05/12/2025

বিয়ের পর পরই বাচ্চা নিতে চেয়েছিলাম।
বউ রাজি হয়নি।

“অল্প বয়সে মা হলে মৃত্যুঝুঁকি, শরীর নষ্ট হয়ে যাবে, ক্যারিয়ার শেষ” — হাজারটা যুক্তি দিয়েছে।

আমি হেসে বলেছিলাম, “ঠিক আছে রে, বাচ্চা লাগবে না। তুই যেভাবে সুস্থ-সবল থাকবি, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় সুখ।”

সকাল পাঁচটায় ঘুম ভাঙে।
ডাকি, “উঠ রে, নাস্তা করবি?”
বউ গভীর ঘুমে। চোখের পাতা একবারও কাঁপে না।

এদিকে সাতটায় অফিস। আশপাশে কোনো দোকান নেই।
ভাবলাম, আমি না হয় ক্যান্টিনে খেয়ে নেব, কিন্তু আমার বউ ঘুম ভেঙে কী খাবে?

এক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে তার জন্য পরোটা-তরকারি কিনে আনলাম। টেবিলে রেখে চুপচাপ অফিসে চলে গেলাম।
থাক, নাস্তা খাওয়া লাগবে না। বউ একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারলেই হল।

অফিসে এক মাসের ছুটি কাটিয়ে এসেছি।
সবাই জড়িয়ে ধরল, “কেমন আছিস ভাই? ভাবি কেমন?”
মুচকি হেসে বলি।

ডেস্কে বসতেই দেখি ফাইলের পাহাড়। মনে হলো আগামী কয়েক মাস মাথার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাবে।

সারাদিনের খাটুনি শেষে বাসায় ফিরলাম।

ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম। নতুন বউয়ের হাতের রান্না বলে কথা!
প্রথম গ্রাস মুখে দিতেই বুঝলাম, লবণ-মরিচ-হলুদ কিছুই ঠিক নেই।
বউ আমার মুখের দিকে চেয়ে আছে। চোখে আশায় ভরা।

আমি হাসিমুখে চুপচাপ খেয়ে গেলাম।
থাক, ভালো রান্না লাগবে না। বউ যদি আমাকে ভালোবাসে, এটাই যথেষ্ট।

বিকেলে অঝোরে বৃষ্টি।
জানালা খুলে দাঁড়ালাম। পাশের ফ্ল্যাটের বুড়ো-বুড়ি দুজনে হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজছে। অসাধারণ লাগছিল।
বউকে ডাকলাম, “চল না, দুজনে ভিজি!”

বউ ভ্রু কুঁচকে বলল, “পাগল! জ্বর-সর্দি হবে। জানালা দিয়ে দেখলেই তো হয়।”

আমি হাসলাম।
থাক, বৃষ্টিতে ভেজা লাগবে না। বউ সুস্থ থাকলেই চলবে।

রাতে বিশ্বকাপের ম্যাচ। বাংলাদেশ বনাম ভারত। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
বউ এসে আমার পাশে বসল। কিছুক্ষণ পর জড়িয়ে ধরে বলল, “তুমি পরে হাইলাইটস দেখো, আমি এখন নাটক দেখব।”

রিমোট তার হাতে তুলে দিলাম।
থাক, খেলা দেখা লাগবে না। বউ খুশি থাকলেই চলবে।

নাটক চলছে। মশা কামড়াচ্ছে। পা ফুলে গেল।
রাত এগারোটায় বললাম, “চল ঘুমাই।”
বউ বলল, “প্লিজ আরেকটু…”


অপেক্ষা করতে করতে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম।
রাত একটায় বউ ডাকছে, “ওঠো, চল ঘুমাতে যাই।”

মেজাজ খারাপ হলেও কিছু বললাম না। হাসিমুখে উঠে গেলাম।
থাক, রাত জাগা লাগবে না। বউয়ের বয়সই বা কত, এই বয়সে আমিও তো রাত জেগে নাটক-সিনেমা দেখতেই কাটিয়েছি।

সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি বউ উঠে আমার জন্য নাস্তা বানাচ্ছে।
রুটি আর আলুভাজি। রুটি আধা-পোড়া, আলুর তরকারিতে লবণ এমন যে চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে।

তবু হাসিমুখে খেয়ে নিলাম।
কার সাথে রাগ করব? বললেই ওর মনে আঘাত লাগবে। সেই যন্ত্রণা আমার চেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী।

অফিস থেকে ফিরে দেখি আমার সব কাপড় ধোয়া-মাজা।

তবে পছন্দের দুটো শার্ট আয়রন করতে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে।
বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম, “তোকে এত কষ্ট করতে কে বলেছে রে?”

অফিসের সবাই ভাবিকে দেখতে চায়। বসও পেছনে লেগেছে।

বউকে বলতেই ও ক্ষেপে গেল, “এতগুলো পুরুষের সামনে যাব না।”

তবু জোর করে নিয়ে গেলাম। সবাইকে খাইয়ে-দাইয়ে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বিদায় করলাম।

বিকেলে বউ হঠাৎ কাঁদতে কাঁদতে অঝোরে।

ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “কী হলো?”

“আব্বু-আম্মুর কথা মনে পড়ছে। অনেক দিন দেখি না।”

চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললাম, “সামনের মাসেই ছুটি নিয়ে প্রথমে আমাদের বাড়ি, তারপর তোদের বাড়ি যাব।”

হঠাৎ বউ বায়না ধরল, পাশের ফ্ল্যাটের ভাবিকে তার স্বামী শাড়ি কিনে দিয়েছে।

বের হলাম বসুন্ধরা সিটিতে। শত শত শাড়ি দেখল, একটাও পছন্দ হলো না। দোকানিরাও বিরক্ত।

অবশেষে একটা পছন্দ হলো। দাম শুনে মাথা ঘুরে গেল। হেঁটেই বাসায় ফিরলাম।

মনে মনে বললাম, থাক, টাকা-পয়সা লাগবে না। আমার একটামাত্র বউ, তার হাসিই আমার সব।

বাসায় এসে লম্বা ঘুম।
ঘুম ভাঙতেই দেখি বউ আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে।
নড়লাম না। শুধু চোখ বন্ধ করে আবার শুয়ে রইলাম।

যতদিন বউ আমার পাশে আছে,
ততদিন আমি কোনো পরিবর্তন চাই না।

(দ্বিতীয় পর্বে আসছে…)
গল্পঃ “ #থাক_বউ_যেমন_আছে_তেমনই_ভালো_আছে”
লেখকঃ রাকিব হাসান
পর্ব:০১

05/12/2025

"ভাই, আপনারা কি নামাজ পড়ে ফেলেছেন?"
এটি ইয়েমেনের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। শায়খ আবু ইমাদ ঘটনাটি বর্ণনা করছিলেন এভাবে:

আমার এক বন্ধু বলল, 'গতকাল আমার পাশের গলির একজন মারা গেছেন। নাম আবু নাসের, বেশ বয়স্ক মানুষ ছিলেন। আল্লাহ ওনাকে জান্নাত নসিব করুন। তো, জানাজা আর দাফন শেষে খাটিয়াটা (মৃতদেহ বহনের খাট) যখন ফেরত আনা হলো, তখন বেশ রাত। এশার নামাজ শেষ, মসজিদও বন্ধ। তাই লোকেরা খাটিয়াটা মসজিদের দরজার বাইরের উঠোনে রেখে দিল, যাতে সকালে মুয়াজ্জিন বা খাদেম এসে সেটা জায়গামতো রেখে দেয়।

রাত তখন প্রায় সাড়ে ৩টা। এক লোক মসজিদে আসল। দেখল উঠোন খোলা কিন্তু মসজিদের মেইন দরজা তালাবদ্ধ। সে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, কিন্তু কেউ খুলল না। ওদিকে হাড় কাঁপানো শীত। হঠাৎ তার নজর পড়ল ওই খাটিয়াটার দিকে। ওটার ওপর আবার একটা চাদর বিছানো ছিল। ব্যাস! সে আর দেরি না করে খাটিয়ার ঢাকনা সরাল, ভেতরে মোটা কাপড় পাতা ছিল, আরামসে ওটার ভেতরে ঢুকে শুয়ে পড়ল। আর সাথে সাথেই গভীর ঘুম!

আধঘণ্টা পর মসজিদের খাদেম এলেন দরজা খুলতে। তিনি খাটিয়াটা দেখে ভাবলেন, হয়তো ফজরের পর জানাজা হবে, তাই লাশসহ কেউ রেখে গেছে। মুসল্লিরা আসতে শুরু করল, কেউ অজু করতে গেল, কেউ সালাম বিনিময় করল। খাদেম আর কয়েকজন মিলে খাটিয়াটা ধরাধরি করে একেবারে মেহরাবের পাশে নিয়ে রেখে দিল। সবাই ভাবছে ভেতরে লাশ আছে, তাই কেউ আর ওটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেনি। তাছাড়া ভোরের বেলা সবার চোখে তখনও ঘুমের রেশ।

ফজরের আজান হয়ে গেল। মসজিদে প্রায় ৫০ জনের মতো লোক। আমরা কাতার সোজা করে নামাজে দাঁড়ালাম। আমি ছিলাম একদম প্রথম কাতারে। দ্বিতীয় রাকাতেও সব ঠিক ছিল, হঠাৎ দেখলাম খাটিয়াটা নড়ছে! ভাবলাম, এ কী! চোখের ভুল নাকি? চোখ কচলে আবার তাকালাম। না! স্বপ্ন না! ইমাম সাহেবের ঠিক পেছনে রাখা খাটিয়াটা সবার চোখের সামনে সত্যিই নড়ছে! আমার তো ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেল, পুরো কাতারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।

ঠিক তখনই খাটিয়ার ভেতর থেকে লোকটা ঘুম ভেঙে ঢাকনাটা সরাল। মাথা বের করে সোজা জিজ্ঞেস করল, 'ভাই, আপনারা কি নামাজ পড়ে ফেলেছেন?'

ওরে ভাই! এরপরের দৃশ্য আর কী বলব! আল্লাহর কসম, সেই দৃশ্য দেখার মতো ছিল। আমি জুতো ফুতোর কথা ভুলে জান নিয়ে দে দৌড়! এক দৌড়ে মনে হয় এক কিলোমিটার পার হয়ে গেছি, তাও খালি পায়ে! ওদিকে ইমাম সাহেব তো বেহুঁশ হয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলেন। ভয়ে কেউ কেউ দেয়ালে গিয়ে মাথা ঠুকল। কেউ কেউ আমার মতো খালি পায়েই ভোঁ দৌড়। একজন তো ভয়ে অজুখানার হাউজেই পড়ে গেল। সোজা কথায়, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো মসজিদ ফাঁকা!

কিন্তু হাসির ব্যাপার হলো, ওই খাটিয়ার লোকটাও আমাদের সাথে সাথে দৌড়াতে শুরু করল! সে দৌড়াচ্ছে আর সবার পিছু পিছু চিৎকার করছে:

'ও ভাই! কী হয়েছে? কেয়ামত হয়ে গেল নাকি? আপনারা দৌড়াচ্ছেন কেন?'

আর পেছনের লোকজন যতবার দেখছে যে 'লাশ' তাদের পেছনে দৌড়াচ্ছে, তাদের দৌড়ানোর গতি তত বাড়ছে! বেচারা লোকটা তখনও চিল্লাচ্ছে, 'আমাকে ফজরের জন্য ডাক দিলেন না কেন? আল্লাহ আপনাদের বিচার করবেন!' আসলে সে বুঝতেই পারছিল না যে এই লঙ্কাকাণ্ডের মূল হোতা আসলে সে নিজেই!

-আন নাহিয়ান

(Copied)

01/12/2025

মেয়েটাকে ধ*র্ষ*ণ করেসিস ভালো কথা, কিন্তুু হ*ত্যা করলি কেন ?

মায়ের কথা শুনে মনে হলো, নিজকে একজন ধ*র্ষ*ণকা*রীর মা হিসেবে পরিচয় দিতে পারলে ও খু*নির মা হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে না। আমি কঠিন গলায় বললাম, আজকে তিন দিন হলো ঠিকভাবে খাবার খেতে পারছি না। বাসা থেকে কিছু রান্না করে নিয়ে এসেছ ?

মিতু হাতে একটি টিফিন বক্স নিয়ে দাড়িয়ে আছে। মিতু আমার খুব কাছে আসতে চেয়ে ও কি মনে করে যেনো থমকে গেলো। মিতু হয়তো একজন ভ*য়ঙ্কর খু*নির কাছে আসতে চায় না। সে জেলখানার দরজার কাছেই দাড়িয়ে রইলো।

বাবা আসেনি কেন ?

তর বাবা ঘুমাচ্ছে। দু'দিন ধরে রাতে ঘুম আসে না। সারারাতই সজাগ থাকে, তাই আজকে ডাক্তারের কাছ থেকে ঘুমের ঔষধ নিয়ে এসেছে।

মিতু কি মনে করে যেনো কাছে এসে বললো, ভাইয়া, শুনলাম তোমার নাকি ফাঁ*সি হবে ?

আমি অবাক দৃষ্টিতে মিতুর দিকে তাকিয়ে আছি, মিতু কথাটি খুব সহজ গলায় বলে ফেলছে ! অথচ যেদিন নিলা খু*ন হলো সেদিন মিতু এতোটা সহজভাবে কোন কথাই বলতে পারেনি। মিতু কেন, মা নিজেই আজকের মতো স্বাভাবিক ছিল না। এই তিনদিনে পরিচিত মানুষগুলো এতোটা পাল্টে যাবে ভাবতে ও পারিনি।

জেলখানায় এই তিন দিনে মৃ*ত্যু নিয়ে নতুনভাবে অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে। কিন্তুু আশ্চার্যের ব্যাপার, আদালতে যখন আমাকে বিচারক প্রশ্ন করলো, তুমি নিলাকে খু*ন করেছ কেন ?

আমি বললাম, একজন ধ*র্ষি*তা মেয়ে সমাজের মধ্যে অপবিত্র হয়ে বেঁ*চে থাকলে হয়তো আবার ধ*র্ষি*ত হতে হবে ! তাই মে*রে ফেলেছি।
পূর্ণ গল্পটি আমার আইডিতে ও দেওয়া হয়েছে, আমার সাথে এড হয়ে অথবা আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে পড়ে নিতে পারবেন কেমন, নিয়মিত গল্প পেতে চাইলে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে রাখতে অথবা আমার আইডি ফলো দিয়ে রাখতে পারেন । গল্পটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে Dh ome
আমার কথা শুনে বিচারক সাথে সাথেই ফাঁ*সির রায় দিয়ে দিলো। ফাঁ*সির রায় শুনে ও তখন মনের ভেতর সামান্য মৃ*ত্যুভয় আসলো না ! কারন বিচারকের কাছে আমার অপরাধের সবচেয়ে বড় প্রমান হলো, নিলার বাবার ক্ষমতা ও নিলার মোবাইলের সর্বশেষ ডায়ালকৃত নাম্বার।

বিচারকের কথা মি'থ্যা নয়, কারন নিলার ফোনের সর্বশেষ ডায়ালের নাম্বারটি আমারই। সেদিন রাতে নিলাকে নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে দু'জনে বিয়ে করবো বলে রাত দশটায় রেলষ্টেশনে অপেক্ষা করছিলাম। নিলার বাসা থেকে বের হতে হতে রাত এগারোটা বেজে গিয়েছিল।

রাত বারোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরে ও যখন নিলা ষ্টেশনে আসলো না। আমি বাসায় ফিরে গেলাম। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতেই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে জেলখানায় নিয়ে আসলো।

যখন শুনলাম নিলাকে ধ*র্ষ*ণ করার পর খু*ন করা হয়েছে। তখন বুঝতে পারলাম, ওইদিন রাতে কিছু হিং*স্র মানুষ নিলাকে বাঁ*চতে দেয় নি। তবে বেঁ*চে গেছে সেই হিং*স্র মানুষগুলো। কারন, নিলার হ*ত্যা*র জন্য নিলার বাবা সকল অভিযোগ চাপিয়ে দেয় আমার নামে।

আদালতের দেওয়া রায়ের পর আমার এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে নিরপরাধী মনে হয়নি। কারন, এই হিং*স্র হৃদয়হীনা মানুষ নামের ন*রপ*শুর দেশে নিলাকে রাতে বের হতে বলার সিন্ধান্তটা ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। সেই ভুলের শা*স্তি হিসেবে আমার ফাঁ*সি হওয়াটা ও হয়তো বড় কোন ভুল নয় !

চলবে....

গল্পের_নামঃ #ভুল_সিন্ধান্ত

পাট : ১

গল্প লেখকের আইডি Dh Ome , যারা প্রতিদিন এমন অসাধারণ সব গল্প পড়তে চান,,তারা আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে রাখতে পারেন অথবা আমার আউডি ফলো করতে পারেন । আমি কথা দিলাম আমার গল্পগুলা আপনাদের মন ছুঁয়ে যাবে❤️গল্পটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে

06/11/2025

সকাল ভোরে ফ্লাইট !
রাতে চলে এসেছে, এয়ারপোর্ট এর ভিতরেই গাছ তলায় একজন ঘুমিয়ে আছে আর একজন জেগে পাহারা দিতেছে, জেগে থাকা লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, হোটেলে থাকতে পারতেন। প্রশ্নের উত্তরে বলল হোটেলে থাকতে অনেক টাকা লাগে 🥲 কোনরকম এখানে থেকে রাতটা পার করে দেবো, অভ্যাস আছে সমস্যা নাই।

06/11/2025

এক ডাক্তার তার ক্লিনিকের সামনে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিল: মাত্র দুইশো টাকায় চিকিৎসা করান, রোগ না সারলে পাঁচশো টাকা ক্যাশ ব্যাক!

বিজ্ঞাপন দেখে একজন ভাবল, পাঁচশো টাকা কামানোর এই এক সুবর্ণ সুযোগ!

সে সটান ডাক্তারের সামনে হাজির হয়ে বলল— "আমি কোনো জিনিসের স্বাদ পাই না।"

ডাক্তার সাহেব লোকটিকে পরীক্ষা করে নার্সের উদ্দেশ্যে বললেন— "বাক্স থেকে ২২ নম্বর ওষুধ বের করো আর ৩ ফোঁটা খাইয়ে দাও।"

নার্স তাই করলো।

গালে দিয়েই লোকটি চেঁচিয়ে উঠল— "কি ওষুধ দিলেন আপনি, এটা তো কেরোসিন!"

সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বললেন— "আপনি স্বাদ অনুভব করছেন! তার মানে আপনি সুস্থ হয়ে গেছেন! বের করুন দুইশো টাকা।"

লোকটির রাগ হলো। পরদিন সে আবার গেল ওই চেম্বারে আগের টাকা উশুল করতে।

এবার সে ডাক্তারকে বলল— "আমার স্মৃতিশক্তি কমজোরি হয়ে গেছে।"

ডাক্তার আগের মতোই নার্সকে নির্দেশ দিলেন— "বাক্স থেকে ২২ নম্বর ওষুধ বের করো আর ৩ ফোঁটা খাইয়ে দাও।"

লোকটি বলে উঠল— "কিন্তু ওই ওষুধ তো জিহ্বার স্বাদ ফেরাবার জন্য!"

ডাক্তার আনন্দে হাততালি দিয়ে বলে উঠলেন— "এই দেখুন আপনার স্মৃতিশক্তি ফিরে এসেছে! বের করুন দুইশো টাকা।"

পরপর দুইবার অপদস্থ হয়ে লোকটি ফন্দি আঁটলো, যে করেই হোক ডাক্তারের থেকে পাঁচশো টাকা আদায় করতেই হবে। সে ক্লিনিকে উপস্থিত হয়ে বলল— "আমার দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে।"

ডাক্তার মুখ গোমড়া করে বললেন— "এর ওষুধ আমার কাছে নেই। এই নিন পাঁচশো টাকা।"

লোকটি ভ্রু কুঁচকালো— "কিন্তু এখানে তো একশো টাকা আছে।"

ডাক্তার সাথে সাথে বলে উঠলেন— "এই তো আপনার দৃষ্টিশক্তি আবার ফিরে এসেছে। বের করুন দুইশো টাকা!"
🥹

29/10/2025

#মেঘের_ওপারে_আলো
#পর্ব_১৫_এবং_১৬


অফ–হোয়াইট শেরোয়ানী আর পাগড়ি পরনে মেঘালয়কে দেখে মাহরীন থমকে গেলেন। মনে হচ্ছে এই তো সেদিন মেঘালয় তার কোল জুড়ে এসেছিল। আর আজ সেই মেঘালয়ের বিয়ে। মাহরীন আজ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল মেঘালয়ের মুখপানে।

শেরোয়ানীর সোনালি কারুকাজে রাজকীয় আভা, পাগড়ির পাশে ঝুলছে মুক্তার গুচ্ছ। গমরঙা ত্বক, ঘন ভ্রু যুগল আর অভ্র নয়ন জোড়া, চকলেট রঙা অধরের কোনে যখন হাসির রেখা ফুটে উঠে তখন মনে হয় আশপাশের সময় থমকে যায়।

মেঘালয়কে আপাদমস্তক বর সাজিয়ে মাহরীনের সামনে এনে দাঁড় করালো কাব্য। মাহরীন মেঘালয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। হুট করে মাহরীনের চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরতে শুরু করে। মেঘালয় আর কাব্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে মাহরীনের হাত ধরে জিজ্ঞেস করে,

--- কি হয়েছে,মা ? শরীর খারাপ লাগছে?

--- আমার মেঘালয়কে আজ রুপকথার দেশের রাজপুত্রের মত দেখাচ্ছে। রাজপুত্রের মায়ের চোখ থেকে আজ আনন্দ অশ্রু ঝরছে।

কথাটি বলতে বলতেই মাহরীন চোখের পানি মুছে খাটের ওপর থেকে ফিরনির বাটি হাতে নিয়ে এক চামচ ফিরনি তুলে মেঘালয়ের মুখের সামনে ধরল। মেঘালয় ফিরনি খেলো সামান্য।

--- মা, আমার বিয়ে হয়ে গেছে তাতে কি? আমাকে খাইয়ে দাও না ফিরনি?

কাব্যের কথা শুনে মাহরীন মুচকি হেসে কাব্যকে খাইয়ে দেয়।

এবার বরযাত্রীরা রওনা হবে। মাশফি-তানিয়া, কাব্য-ইতি, মাহরীন এবং মেঘালয় বাড়ি থেকে বের হয়ে এলো। তাদের বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

গেটের সামনে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে রাজকীয় সাজে ফুলের আবরনে তৈরি ঘোড়ার গাড়ি৷ লাল-গোলাপের সমারোহ। মাশফি মেঘালয়ের কাঁধে হাত রেখে বলল,

--- আমাদের পুরো চৌদ্দগুষ্টিতে কেউ ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে যায়নি। তুই রেকর্ড ভেঙে দিলি, মেঘালয়। তোর বিয়ে পুরো রাজকীয় স্টাইলে করিয়ে ফেলল আমাদের মা।

মেঘালয় মাহরীনের দিকে তাকিয়ে বলল,

--- অবশেষে তোমার স্বপ্ন, তোমার শখ পূরণ হতে যাচ্ছে মা। তোমার মেঘালয় ঘোড়ায় চড়ে বউ আনতে যাচ্ছে আজ।

অবশেষে, বরযাত্রী রওনা হলো।
একটা ঘোড়ার গাড়ি, দশটা বাইক এবং চারটা কার নিয়ে রওনা হলো সবাই। আশেপাশের সবাই এমন রাজকীয়ভাবে বরযাত্রীদের কনে আনতে যেতে দেখে অবাক হলো বেশ।

ঘোড়ার গাড়ি Hall 24 Convention Center–এর দিকে এগোতে লাগলো। গাড়ির সাথে একে একে দশটা বাইক, এবং চারটা চকচকে কার ধীরে ধীরে এসে দাঁড়ালো হলের প্রবেশদ্বারের পাশে।

কনে পক্ষের কিছু বাচ্চা ছেলে-মেয়ে মিলে "বর এসেছে" "বর এসেছে" বলে আনন্দে চিৎকার করতে শুরু করল। হলের ভেতরে থেকে প্রায় দশ বারোজন ছেলে মেয়ে বের হয়ে আসে ফুলের পাপড়ির থালা নিয়ে।

বরযাত্রীদের এবার ফুলের পাপড়ির বর্ষণে বরণ করা হলো।

সিতারা বেগম এগিয়ে এসে মাহরীনের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিলেন।

মেঘালয়ের মা সহ বাকি সবাই একে একে চলে যায় হলের ভেতরে। বাকি রয়ে যায় মাশফি-তানিয়া,কাব্য-ইতি, মেঘালয় এবং তার নিকট বন্ধু এবং কাজিনরা।

পাঁচ হাজার টাকা নগদ দিয়ে তারপর গেটের ফিতা কেটে ভেতরে যাবার অনুমতি পেলো মেঘালয় এবং বাকিরা। বেশ আনন্দ করছে সবাই। কিন্তু মাশফির সঙ্গে তানিয়ার নীরব ঝগড়া বেঁধে গেছে। মাশফি নাকি কোন মেয়েকে "সুন্দরী বেয়াইন " বলে সম্বোধন করেছে। তানিয়া রেগেমেগে মাশফিকে বলল,

--- থাকো তোমার সুন্দরী বেয়াইন নিয়ে।

--- আরে আমি তো এমনি বলেছি, যাতে তার একটুখানি প্রশংসা শুনে আমাদের তাড়াতাড়ি ভেতরে যেতে দেয়৷

মাশফি পরল বিপদে, বউ রেগে গেছে। এবার রাগ ভঙাবে কেমনে? বাড়িতে পৌঁছে বউয়ের রাগ ভাঙানো যাবে। এখন এদিকটা সামলে নিক আগে।

মেঘালয়কে নিয়ে কাব্য এবং মাশফি স্টেজে বসল। আলো এখন আসেনি শুনে মেঘালয় মোবাইল ফোন বের করে কল করল স্মিতার নাম্বারে।

স্মিতা তখন তার পার্লারে। আলোর চুলের সঙ্গে ওড়নায় ক্লিপ লাগিয়ে দিচ্ছিল। এমনসময় মেঘালয়ের কল এসেছে দেখে স্মিতার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চেপে বসে। আলোর মুখের ওপর ওড়না টেনে দিয়ে মুখ ঢেকে দিলো। আলো কিছু বলতে চাইলে স্মিতা হাতের ইশারায় বলল,

--- আরে দেখো না, ভাবি। কি হয়?

স্মিতা কল রিসিভ করে ব্যাক ক্যামেরা অন করে আলোর সামনে ধরল। মেঘালয় দেখল তার কিনে দেয়া লাল বেনারসি জড়িয়ে আছে আলোর সরিয়ে ৷ কিন্তু মুখের ওপর এভাবে শাড়ির আঁচল টেনে রেখেছে কেন?

--- ঘোমটার আড়ালে কাকে দেখা যায় গো, মেঘালয় ভাইয়া?

স্মিতার ঢংয়ের সুরে বলা কথা শুনে মুচকি হেসে বলল,

--- ঘোমটার আড়ালে মিসেস.মেঘালয়কে দেখা যায়।

মেঘালয়ের কন্ঠস্বর শুনে আলো অবাক হয়ে ঘোমটা সরিয়ে দেখতে চাইলে। স্মিতা হাত দিয়ে আলোকে বাঁধা দিয়ে ঠোঁট চেপে হাসি আঁটকে রেখে বলল,

--- আরে এখনই দেখা দিও না। তোমাকে এত কষ্ট করে সাজালাম, সেই টাকাটা মেঘালয় ভাই থেকে নিয়ে নেই আগে। তারপর, তোমার যত ইচ্ছা দেখা দিও, সমস্যা নেই।

মোবাইলের ওপাশে থাকা মেঘালয় স্মিতার কথা শুনে বলল,

-- তুই আগে তাড়াতাড়ি আলোকে নিয়ে আয়। এতক্ষণ লাগে সাজাতে? কি সাজিয়েছিস এতক্ষণ সময় ধরে?

--আর যেই সাজ সাজিয়েছি না, তুমি তোমার বউকে দেখলে মাথা ঘুরে পড়ে যাবা, ডাক্তার সাহেব।

স্মিতা হাসতে হাসতে কথাগুলো বলে কল কেটে দিল। তারপর আলোর মুখ থেকে ওড়নাটা সরিয়ে ঠিকঠাক করে আটকে দিলো চুলের সঙ্গে। এবার আলোর পুরো কনের সাজ কমপ্লিট। স্মিতা আলোর হাত ধরে টেনে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড় করালো।

--- ভাবি দেখো?

আলো মাথা উঁচু করে তাকালো। আয়নায় ফুটে ওঠা নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে রইল পলকহীন চোখে।

লাল বেনারসি, লাল ওড়না, মাথায় টিকলি, নাকফুল, কানের দুল। হাতভর্তি চুড়ি, গলার হার। খোঁপায় বেঁধে রাখা চুলে বেলিফুলে তাকে নববধূর রুপ দান করেছে।

--- তোমাকে একদম ন্যাচারল লুক দিয়েছি তাও আবার তোমার স্বামীর এডভাইস অনুযায়ী। আমার ভাইটা এত রুচিশীল কেন?

স্মিতার শেষের কথাটি শুনে আলোর মনে হলো স্মিতা তাকে খোঁচা মেরে কথাটি বলেছে। আলোর মলিন মুখখানা দেখে স্মিতা আলোর হাত ধরে টেনে তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বলল,

--- আমি তোমাকে প্রথম যেদিন দেখলাম সেদিন সত্যি সত্যি তোমার গায়ের নিয়ে একটু কনসার্ন ছিলাম। কারণ, মেঘালয় ভাইয়ের সঙ্গে তোমার গায়ের রঙ ম্যাচ করেনি। কিন্তু, তোমাকে আমার নিজ হাতে হলুদের সাজ দেয়ার পর বিশ্বাস করো, আমি চোখ ফেরাতে পারিনি তোমার মুখ থেকে। তুমি কালো কিংবা শ্যামা হতেই পারো। কিন্তু, তোমার চেহারায় এত মায়া আর এত নিখুঁত তোমার চেহারায় গঠন! ও মাই গড! আমার ভাইয়ের সত্যি রুচি আছে, মানতে হবে।

আলো তাকিয়ে রইল স্মিতা নামের অতি সুন্দরী মেয়েটার দিকে। মেয়েটা আলোর প্রশংসা করছে! ভাবতেই অবাক লাগছে। আসলেই কি আলোকে সুন্দর দেখাচ্ছে? নাকি তার জন্য স্মিতার মনে ভালোবাসা জন্মেছে?

কারণ একমাত্র ভালোবাসা নামক অনুভূতির কারণে মানুষ হিংস্র, কুৎসিত পশুকে মায়া করতে পারে। সেখানে কালো মানুষকে ভালোবাসতে পারবে না কেন?

--------------------

অবশেষে আলোকে স্মিতা কনভেনশন সেন্টারে চলে এলো। বাচ্চারা হৈ হুল্লোড় শুরু করল আলো এসেছে। সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু এখন আলো। আলো যখন গেট দিয়ে ঢুকছিল, হলের ভিতরে। তখন আফসার সাহেব এগিয়ে এসে আলোর হাত ধরল। আলো, তার বাবার দিকে মুখ তুলে একবার তাকায়। আলো দেখল তার বাবার চোখের কোল ভেজা। হুট করে আলোর চোখ ভিজে আসতে শুরু করে। স্মিতা এই দৃশ্য দেখে আলোকে বারণ করল কান্না করতে ।

স্টেজের সামনে গিয়ে আফসার সাহেব আলোর হাত ছেড়ে দিলেন। আলো তার বাবার দিকে তাকালো অসহায়ের মত। যেন এই বিচ্ছেদ সে সহ্য করতে পারছে না। আফসার সাহেব সামনের দিকে তাকাতে ইশারা করল আলোকে ।

আলো সামনে তাকাতেই দেখতে পেল সাদা শেরওয়ানি, পাগড়ি পরনে মেঘালয়কে। আলো চোখ নামিয়ে ফেলল। মানুষটাকে দেখে হুট করে আলোর বুক ধুকপুক শুরু করতে শুরু করল। এই মানুষ যে তার ব্যক্তিগত মানুষ এবং এই মানুষটা যে আজ থেকে তার অধার্ঙ্গ। ব্যাপারটা মানতেই পারছে না আলো। মনে হচ্ছে সব মিথ্যা। স্বপ্ন জগতে তার বিচরণ শেষ হলে বাস্তবে এসে দেখবে মেঘালয় নামের কোনো মানুষ তার জীবনে কোনোদিন ছিলও না থাকবেও না।

অন্যমনস্ক হয়ে মেঘালয়ের হাতের উপর হাত রাখল আলো। মেঘালয় শক্ত করে আলোর হাত আঁকড়ে ধরে। তারপর, ধীরে ধীরে আলোকে টেনে তোলে স্টেজে।

একে একে দুই পক্ষের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই এসে মেঘালয় এবং আলোর সঙ্গে ছবি তুলতে শুরু করেছে।

এত ভিড়ভাট্টার মাঝেও মেঘালয় আলোকে দেখতে ভুলল না। তার নামে বউ সেজে থাকা মেয়েটাকে দেখতেই কেন জানি আজ নিজের মানুষ বলে মনে হচ্ছে মেঘালয়ের !

--- এহেম?এহেম?

গলা ঝেড়ে দুটো কাশি দিলো মেঘালয়। আলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা মাত্র। অবশ্য দ্বিতীয়বার আলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে মেঘালয়।

আলো মেঘালয়ের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। মেঘালয় হুট করে তার বুকের বা পাশে হাত রেখে বলল,

---বহুদিন পর তোমার চোখে আমার জন্য বিরক্তি দেখতে পেলাম, মিসেস মিথ্যাবতী।একটা প্রশ্ন মনে কুটকুট করে আমার! আমার দিকেই কেন এত বিরক্তি নিয়ে তাকাও, তুমি ?

মেঘালয় এহেন প্রশ্নের কোনে উত্তর নেই আলোর কাছে। মেঘালয়কে দেখে সে কখন বিরক্তির চোখে তাকায়?

--- ভাবি, ওয়ান্স মোর। আরেকবার ভাইয়ার দিকে ওভাবে ভ্রু কুঁচকে তাকান । কি যে সুন্দর লাগছিল আপনাদের! এমন একটা মোমেন্ট ক্যাপচার করলে মন্দ হয় না।

ফটোগ্রাফারের কথা শুনে মেঘালয় এবং আলো দুজনেই চমকে তাকালো। আশেপাশের কাজিন মহলের অনেকেই ফটোগ্রাফারের কথা শুনে হাসিতে ফেটে পড়লো।

ফটোসেশানের পরে মেঘালয় এবং আলোকে চোখ বন্ধ রাখতে বলল তানিয়া এবং ইতি সহ আরও আরও কয়েকজন। মেঘালয় এবং আলোকে পাশাপাশি বসিয়ে একটা বড় ওড়না দিয়ে তাদের দুজনকে ঢেকে দিলো ইতি।

ওড়নার ভেতরে বড় একটা আয়না রেখে মাশফির বউ তানিয়া বলল,

--- মেঘালয় আয়নায় কাকে দেখা যায়?

মেঘালয় চোখ খুলে আয়নায় তাকালো। আয়নায় আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

--- মেঘের পাশে আলোকে দেখা যায়।

মেঘালয়ের উত্তর শুনে তানিয়া এবং ইতিসহ সবাই একযোগে হেসে উঠল। মেঘালয় আয়নায় তাকিয়ে অপেক্ষা করছিল এই বুঝি আলো চোখ মেলে তাকাবে তার দিকে। আলো চোখ বন্ধ করে রাখল। মেঘালয় আশাহত হলো না। অপেক্ষা করছিল কখন আলো চোখ খুলে তাকাবে তার দিকে।

ইতি এবার আলোকে জিজ্ঞেস করল,

--- আয়নায় কাকে দেখা যায়, আলো?

--- আলোকে আড়াল করে ফেলা মেঘকে দেখা যায়।

আলো কথাটি বলে চোখ খুলে তাকালো। আয়নায় চোখ রাখতেই দেখতে পেলো মেঘালয় তার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। আলো এবার মুখ ফিরিয়ে অন্য দিকে তাকালো। কারণ, একই ওড়নার তলে এই মানুষটার উপস্থিতি তাকে স্বাভাবিক থাকতে দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন, কেউ হৃদয় থেকে বারবার উসকানি দিচ্ছে, মেঘালয়ের প্রেমে পরতে। কিন্তু, এই মানুষটার প্রেমে পরা যে বারণ।

এদিকে ওদের দুজনের জবাব শুনে সবাই হাসতে হাসতে বলাবলি করছে,

"এমন কাব্যিক জবাব প্রথমবার শুনলাম বর-কনের মুখ থেকে!"

#মেঘের_ওপারে_আলো
#পর্ব_১৬


কনে বিদায়ের সময় হয়ে গেছে। বেশিরভাগ বরযাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আগেই রওনা হয়ে গেছে। মেঘালয়ের হাত ধরে আফসার সাহেব ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেললেন। আলো তার বাবার চোখের পানি দেখে কেঁদে ফেলল নীরবে। মেঘালয় আলোর কান্না দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মেঘালয় আফসার সাহেবের হাত ওপর হাত রেখে আস্বস্ত করে বলল,

-- আলোকে সর্বোচ্চ ভালো রাখার চেষ্টা করব। কারণ, সে এখন আমার স্ত্রী।

আলো ওর বাবার সামনে এগিয়ে এসে বলতে পারল না, "বাবা আমি চলে যাচ্ছি।
আজ আমাকে যেভাবে বিদায় দিলে। ঠিক সেভাবে আর কখনোই আমি তোমার বাড়ির চৌকাঠে পা রাখতে পারব না । জন্মসুত্রে পাওয়া ঠিকানা আজ আমার নাই হয়ে গেছে জীবন থেকে।"

সিতারা বেগমসহ সবার কাছ থেকে বিদায় নিলো আলো। আলোর কান্নার শব্দ নেই অথচ অনবরত গড়িয়ে পরা চোখের পানি দেখে মেঘালয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

মেঘালয়ের দীর্ঘশ্বাস ফেলার দৃশ্যটুকু দেখে কাব্য মেঘালয়ের কানের কাছে মুখ বাড়িয়ে বলল,

--- মেঘালয় তোর বউটা বেশি কান্নাকাটি করছে দেখে মায়া লাগছে তোর ? আহারে, কি দরকার মেয়েটাকে নিয়ে যাওয়ার? রেখে যাবি?

--- লক্ষ টাকা খরচ করে বিয়ে করেছি বউক রেখে যাওয়ার জন্য।

মেঘালয় বিরক্তিকর সুরে কথাটি বলতেই কাব্য তার কনুই দিয়ে মেঘালয়ের পেটে গুঁতো দিয়ে বলল,

--- তাহলে ওমন ফোসফাস করে শ্বাস ফেললি কেন? মেয়েরা বিদায় সময় একটুআধটু কাঁদবে। তুই এমন সেন্টি খাচ্ছিস কেন?

--- কারণ, আমার বউ কাঁদছে। আমার অর্ধাঙ্গিনী কাঁদছে আর আমি দাঁত বের করে হাসব! তুমি কি এমন কিছু আমার কাছ থেকে এক্সপেক্ট করছো, ভাই!

মেঘালয়ের উত্তর শুনে কাব্য নিজের কপালে চাপড় দিয়ে বলল,

--- না ভাই। তুই বউ পাগলা। তোর বউ কাঁদতেছে তুইও তোর বউকে কোম্পানি দে। একসঙ্গে গলা ধরে কান্না কর দুজনে মিলে।

কাব্যের কথা শুনে মেঘালয় ইতির দিকে তাকিয়ে বলল,

--- ভাবি, একটা সিক্রেট বলি?

ব্যস, কাব্যের হাসি ফুস হয়ে গেল। কারণ মেঘালয় এবার মৌচাকে ঢিল ছুঁড়েছে। ইতি বেশ আগ্রহ নিয়ে মেঘালয়কে বলল,

--- হ্যা ভাই, বলুন?

--- আপনাদের যখন বিয়ে হলো না, আপনি যখন বিদায়ের সময় কাঁদছিলেন। তখন কাব্য ভাই আপনাকে ব্যঙ্গ করে কাঁদছিল। আমার কথা আপনার বিশ্বাস না হলেও অসুবিধা নেই। আমার কাছে প্রমাণ হিসেবে ছবি আছে। দেখবেন আপনি?

ব্যস, এতটুকু যথেষ্ট ছিল। ইতি চোখ বড় বড় করে তাকালো কাব্যের দিকে। কাব্য এবার মেঘালয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

--- তুই না আমার ভাই! তুই এটা কি করলি?

--- যা সত্য তাই বলেছি। ভাবি আমি বাসায় ফিরে আপনাকে ছবিগুলো দেখাব৷

কাব্য এগিয়ে যায় ইতির কাছে। কিন্তু ইতি কাব্যর কাছ থেকে সরে গিয়ে মাহরীনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কাব্য রাগে দুঃখে পারছে না নিজের চুল ছিঁড়ে কাঁদতে।

_______________

ওয়েডিং হল থেকে বের হতেই চোখে পরল ফুলে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়ির ওপর। আফসার সাহেব, সিতারা বেগম এবং আলো অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। আশপাশে সব কিছু আজ রুপকথার মত মনে হচ্ছে। মাহরীন এগিয়ে এসে আলোকে একপাশে জড়িয়ে ধরে বলল,

--- আমার শখ ছিল মেঘালয় ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করে বউ আনবে আমার জন্য। আজ আমার শখ পূরন হলো আলো। দেখো মেঘালয় তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

মাহরীনের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালো আলো। দেখল মেঘালয় সত্যি সত্যি দাঁড়িয়ে আছে ঘোড়ার গাড়ির ওপর। আলো মেঘালয়ের দিকে তাকাতেই মেঘালয় হাত বাড়িয়ে দিলো। আলো এক হাতে শাড়ি উঁচু করে অন্য হাত বাড়িয়ে দিলো।

ব্যস মূহুর্তের মধ্যে পুরো আকাশ জুড়ে আতশবাজি ফোটানোর শব্দ ছড়িয়ে গেল। মাহরীন হাসতে হাসতে দেখল তার ছোট ছেলের স্বপ্নের বিয়ের আয়োজন। কাব্য এগিয়ে এসে মাহরীনের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

--- এবার আমাদের ফিরতে হবে, মা।

______________

আলোকে বরণ করে ঘরে তোলা হলো। কাব্যের বিয়ের সময় এই বাড়িটা যেভাবে সাজানো হয়েছিল তারচেয়ে দ্বিগুণ সাজে সজ্জিত হয়েছে আজ। পুরো বাড়ি ঝাড়বাতির আলোতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

আলোকে ড্রইংরুমে বসানো হয়েছে। আশেপাশের ফ্ল্যাটের অনেকেই নতুন বউকে দেখতে এসেছে। বউ দেখে মোটামুটি অনেকেই অসন্তুষ্ট। কিন্তু, অনেকেই আবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

তানিয়া, ইতি সহ মেঘালয়ের কাজিনগ্রুপ হাসিঠাট্টায় মাতোয়ারা। আলো মাথা নীচু করে তাদের কথা শুনছিল। তারপর, ধীরে ধীরে প্রতিবেশীদের ভিড় কমতে শুরু করল। মাহরীন তানিয়া এবং ইতিকে আদেশ করল আলোকে মেঘালয়ের ঘরে রেখে আসতে। শ্বাশুড়ির আদেশ শুনে দুই জা মিলে আলোকে মেঘালয়ের ঘরের দিকে নিয়ে চলল।

যেতে যেতেই তানিয়া আর ইতি আলোকে অনেক কিছু সম্পর্কে বোঝালো। আলো সবটা শোনার পর ইতিকে বলল,

--- বিয়ে অনেক কঠিন একটা ব্যাপার, ভাবি৷ আমি এতদিন ভাবতাম অনেক সহজ একটা ব্যাপার।

আলোর কথা শুনে তানিয়া এবং ইতি দুজনেই হেসে ফেলল। দু'জনের তাদের বিয়ের প্রথম দিনগুলোর কথা মনে পরে গেল।

মেঘালয়ের রুমের সামনে এসে তানিয়া এবং ইতি দাঁড়িয়ে গেল। ইতি আলোর হাত ধরে বলল,

---সঠিক জীবনসঙ্গী পেলে এসব ভয় আর মনে থাকবে না আলো। আমিও আগে বিয়ে নামক শব্দটা শুনলে ভয় পেতাম। কাব্যর সঙ্গে যখন আমার বিয়ে হলো। মানুষটার যত্ন, ভালোবাসা। আমার শ্বাশুড়ির কাছ থেকে আদর পেয়ে আমার মনের সকল ভয় কেটে গেল। বিয়ের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারকে গেইমের মত করে ভাবলে তুমি জিততে পারবে। কারণ, জীবনের প্রতিটা ধাপ রোমাঞ্চকর, প্রতিটা মূহুর্ত অনিশ্চয়তার। তবুও, মানুষ কদম ফেলে এগিয়ে যায়। ভয়কে জয় করতে পারলে তুমি বিজয়ী হবে।

ইতির আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

--- তোমাকে কখনো শাসন করব। কখনো ছোটবোনের মত স্নেহ করব। মন খারাপ করবে না, কিন্তু?

মেঘালয়ের ফুলে সজ্জিত ঘরটায় আজ আলোর পর্দাপন হলো। লাল গোলাপ আর রজনীগন্ধা দিয়ে সাজানো খাটের ওপর আলোকে বসিয়ে রেখে বের হয়ে গেল তানিয়া আর ইতি।

চলবে....

28/10/2025

#মেঘের_ওপারে_আলো
#পর্ব_১৪


"বউ তো কালো! এত সুন্দর ছেলের জন্য কালো মেয়ে?"

"নিশ্চয়ই প্রেমে-ট্রেম ছিল! নয়ত এমন কালো মেয়েকে কোন ছেলে বিয়ে করবে?"

"আরে মাহরীনের বড় ছেলের বউ তানিয়া যেমন বাপের বাড়ি থেকে শহরে ফ্ল্যাট পেয়েছে। ঠিক তেমনি মনে হয় মেঘালয়ের বউটা শহরে ফ্ল্যাট পাবে মনে হয়।"

" মেয়ের বাবা সরকারি চাকরি করে । তার কাছে এত টাকা আছে নাকি যে মেয়েকে ফ্ল্যাট কিনে দেবে!"

উপরোক্ত বাক্যগুলো মেঘালয়ের মামা-দাদাদের পক্ষ থেকে আসা কিছু মানুষের কথা।

আর আলোর পরিবারের মানুষজন তো আর কাঠি ওপরে। তাদের ভাষ্যমতে,

"মেঘালয়ের হয়ত এটা দ্বিতীয় বিয়ে। নয়ত দেখতে কালো, খুঁত আছে এমন মেয়েকে কেউ বিয়ে করে?"

পরিবারের কিছু মানুষের কথা শুনে আফসার সাহেব রেগে যাচ্ছেন। কিন্তু... তাদের বলেও লাভ নেই। এক কথার একশ রকমের বানাতে তাদের জুড়ি নেই।

খুবই আনন্দঘন মূহুর্তে পাড় হচ্ছে মেঘালয় এবং আলোর হলুদ সন্ধ্যা। মাঝখান দিয়ে মেঘালয়কে টিজ করছে কাব্য। কারণ, কাব্যর বিয়ের সময়ে মেঘালয় কম করেনি তার সাথে। মেঘালয় একটা টিস্যু পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করে আলোর সামনে দিয়ে বলল,

--- কেক মুখে নিয়ে টিস্যুতে ফেলে দিবেন। বাপ রে চার পাউন্ডের কেক খেলে নির্ঘাত হসপিটালে যেতে হবে!

মেঘালয় কথাগুলো বলতে বলতে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে ফেলল। আলো টিস্যু হাতে নিয়ে বসে রইল। কাব্য এবং ইতি এলো স্টেইজে। মেঘালয়ের পাশে কাব্য আর আলোর পাশে ইতি৷ কাব্য কেক নিয়ে মেঘালয়ের মুখের সামনে বাড়িয়ে ধরল। মেঘালয় কেকের দিকে তাকিয়ে বলল,

--- আচ্ছা, ভাই আমার তো মাত্র তিনবার কেক মুখে দিয়ে বমি পাচ্ছে। তুমি অত বড় কেক তোমার গায়ে হলুদের দিন একা সাবাড় করেছিলে কিভাবে?

মেঘালয়ের ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলা কথাগুলো শুনে কাব্য, ইতি ফিক করে হেসে ফেলল। আলো নিজের স্যার সম্পর্কে এমন কথা শুনে না হেঁসে পারছে না। কাব্য বড় এক টুকরো কেক হাতে নিয়ে মেঘালয়ের মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল,

--- এভাবে খাবি? ফেলে দিচ্ছিস কেন? আরে খা। কিছুই হবে না। ব্যাচেলার জীবনের শেষ রাতটাকে ইনজয় করছিস ভেবে কেক খেয়ে সেলিব্রেট কর।

কাব্য হাসতে হাসতে কথাগুলো বলল। কাব্যের কথা শুনে ইতি এবং আলো মুচকি হেসে ফেলল। মেঘালয় ফের থুওও করে টিস্যুর ওপর কেক ফেলল।

____________

গায়ে হলুদের প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর একে একে মেহমানরা বিদায় নিতে শুরু করল। আলোর বাবা-মা এবং আলো বাদে কেউই নেই। এদিকে মাহরীনকে নিয়ে মাশফি এবং তানিয়া চলে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে।

রাত প্রায় একটা বাজছে৷ কাব্য আর ইতি মেঘালয়কে গিয়ে বলল,ড্রাইভারকে বলার জন্য, আলোর পরিবারকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসতে। মেঘালয়,কাব্য এবং ইতি এগিয়ে যায় আলো এবং পরিবারের সামনে। মেঘালয়কে দেখে আলো মাথা নীচু করে সিতারা বেগমের পাশে দাড়িয়ে রইল৷ মেঘালয় সরু চোখে তাকালে একবার আলোর দিকে। তারপর আফসার সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,

--- আঙ্কেল, আমাদের গাড়ি করে আপনারা চলে যান। এত রাতে অন্য গাড়িতে করে যাওয়া, রিস্ক হয়ে যাবে।

--- অসুবিধা নেই, বাবা৷ তোমরা চলে যাও। আমরা যেতে পারব।

কাব্য এগিয়ে এসে আফসার সাহেবকে নরম সুরে বলল,

--- আপনারা আমাদের গাড়িতে করে না গেলে বরং অসুবিধা হবে আঙ্কেল। প্লিজ মানা করবেন না৷ গাড়ির ড্রাইভার যাবে না বরং, আমি আপনাদের নামিয়ে দিয়ে আসব৷

কাব্যর কথা ফেলতে পারল না আফসার সাহেব। কাব্য, ইতি, সিতারা বেগম, আলো, মেঘালয় এবং আফসার সাহেব একসঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার থেকে বের হলো। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির সামনে ড্রাইভারের কাছ থেকে চাবি নিয়ে কাব্য উঠে বসল। তারপর, ইতি, সিতারা এবং আফসার সাহেব। বাদ রইল মেঘালয় এবং আলো।

আলো মেঘালয়ের দিকে আড়চোখে তাকালো। মানুষটার সঙ্গে কি এবার একা একা ফিরতে হবে? মেঘালয় হুট করে আলোর চোখে চোখ রেখে তাকালো এবং আলোকে অপ্রস্তত অবস্থায় ফেলল। আলো তড়িঘড়ি দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল।

কাব্য সবাইকে নিয়ে রওনা হয়ে গেছে। মেঘালয় এবার আলোর দিকে ফিরে তার ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

--- চলুন এবার আপনি আর আমি রওনা হই।

আলো মেঘালয়ের বাড়িয়ে দেয়া হাতের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর, মেঘালয়ের হাতের ওপর হাত রাখল। মেঘালয় মুচকি হেসে আলোর হাত শক্ত করে ধরল। গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। আলোকে গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট বেঁধে দিলো।

সিট বেল্ট বাঁধার সময় আলো মেঘালয়ের দিকে চোখ রাখতে পারল না। দৃষ্টি সরিয়ে রাখল অন্যদিকে। মেঘালয়ের গা থেকে ভেসে আসা মিষ্টি সুভাসিত সুঘ্রাণে আলোর নাকে এসে ধাক্কা দিচ্ছিল। আলোর সিট বেল্ট বাঁধা হলে মেঘালয়ে গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট করল।

ড্রাইভিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে মেঘালয় আলোর দিকে আঁড়চোখে তাকাচ্ছে। আলোর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে। হুট করে মেঘালয় শিস বাজাতে বাজাতে থেমে গেল। গাড়িটা রাস্তার একপাশে দাঁড় করিয়ে ফেলল। আলো অবাক হয়ে যায়। তারপর মেঘালয়কে জিজ্ঞেস করল,

--এখানে কেন গাড়ি দাঁড় করিয়েছেন?

মেঘালয় আলোর ভয় পাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে বেশ মজা পেলো। ইচ্ছে করল আরও আলোর ভয় আরেকটু বাড়িয়ে দিতে। কিন্তু, আজ নয়।

--- সন্ধ্যা থেকে শ'খানেক ছবি তোলা হয়েছে। কিন্তু আপনার সঙ্গে আমার একান্ত কোনো ছবি তোলা হয়নি। তাই এখন ছবি তুলব। এবার নামুন গাড়ি থেকে।

--- আরে তাই বলে এত রাতে! রাস্তার পাশে?

আলোর কথা শুনে মেঘালয় জবাব দিলো না। গাড়ি থেকে নেমে পরল। আলোর সাইডের দরজা খুলে আলোকে বের হবার জন্য ইশারা করল। অগত্যা আলো বের হলো।

মেঘালয় আলোর হাত ধরল। তারপর, নিজের পাশে দাঁড় করিয়ে মোবাইলে সেলফি ক্যামেরা অন করে আলোকে বলল,

--- আপনার ঠোঁটের কোনে সামান্য হাসির রেখা দেখতে চাই মিসেস মেঘালয়৷

"মিসেস মেঘালয়" শব্দটা শুনে আলো মেঘালয়ের চোখের দিকে তাকালো। ব্যস এই মূহুর্তটাকে ক্যামেরা বন্দি করে ফেলল মেঘালয়। ছবি তোলা শেষ। মেঘালয় মোবাইল ফোন পকেটে রেখে আলোকে বলল,"গাড়িতে গিয়ে বসতে"।
আলো চুপচাপ মাথা নীচু করে হেঁটে গাড়িতে গিয়ে বসল।

এরপরের সময়টুকুতে আলোর নীরবতা বেশ চোখে পরার মত। মেঘালয় ড্রাইভিং করার সময় আলোকে বেশ কয়েকবার দেখল। কিন্তু কিছুই জিজ্ঞেস করল না।

আলোদের বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থেমে গেল। আলো গাড়ি থেকে নেম যায়। আলো মেঘালয়ের কাছ থেকে বিদায় না নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল দেখে মেঘালয় আলোকে দিলো।

--- আলো?

নিজের নামটা মেঘালয়ের মুখ থেকে শুনে আলো থমকে যায়। এই প্রথমবার মানুষটা তার নাম ধরে সম্বোধন করল। "মিস মিথ্যাবতী" নামটাকে হুট করে আলো ভীষণ মিস করতে লাগল। আলো পেছনে ফিরে তাকাতে দেখতে পেলো, সাদা পাঞ্জাবি পরা মেঘালয় তার দিকে এগিয়ে আসছে। মেঘালয় আলোর সামনে এসে দাঁড়ালো। পূর্ণ চাঁদের আলোয়ে শ্যামাকন্যার মুখের দিকে তাকিয়ে মেঘালয় প্রশ্ন করল।

--- মন খারাপ? আমার কোনো কাজে বা কথায় কষ্ট পেয়েছেন?

আলো মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়।

--- তাহলে?

--- আপনি কি সত্যি আমার সঙ্গে সহজ হবার চেষ্টা করছেন?

আলোর প্রশ্ন শুনে মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

--- এমন কেন মনে হলো আপনার?

--- গত দুদিন ধরে দেখলাম, আপনি খুবই সহজভাবে আমার সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। কিন্তু, আপনার আর আমার সম্পর্ক এত সহজ নয়।

আলোর কথাগুলো শুনে মেঘালয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

--- সহজ করতে চাইলে সবই সহজ। এখন আপনি কি চাইছেন? আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে নামক চুক্তিনামা হোক?

--- আমি সেটা কখন বললাম?

--- তাহলে আপনি কি বোঝাতে চাইছেন? আপনার সঙ্গে আমার যেভাবেই হোক অথবা কোনো কারণেই হোক বিয়ে তো হচ্ছে । আট দশটা দম্পতি যেভাবে থাকে। আমাদেরও উচিত সেভাবে থাকা।

--- অভিনয় করতে বলছেন?

--- আপনি যদি মনে করেন আমাদের সম্পর্কে আপনার অভিনয় করা জরুরি। তাহলে আপনি অভিনয় করতে পারেন। বাট আমার পক্ষ থেকে কোনো অভিনয় নেই। আমি সম্মান করি আমাদের সম্পর্ককে। আপনাকে আমি সেদিনও বলেছি আজও বলছি। আমার জন্য আপনার দায়িত্ব পালন করার প্রয়োজন নেই। যেদিন আপনার মনে হবে আমার দায়িত্বটুকু আপনি নিতে পারবেন ঠিক সেদিন আপনি আমার দায়িত্ব নেবেন। আমি আপনাকে কোন প্রকার জোর করব না । বাট আমি এই সম্পর্ককে মেনে নিয়েছি। কারণ, আমার মা আপনাকে চেয়েছেন।

কথাগুলো বলে অপেক্ষা করল না মেঘালয়। চলে গেল। আর একা দাঁড়িয়ে রইল আলো৷ মানুষটার এভাবে রেগে যাওয়া কিংবা সম্পর্কটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়া, আলো মানতে পারছে না। মনে হচ্ছে মেঘালয় অভিনয় করছে। তার মা'কে আস্বস্ত করতে সে আলোর সঙ্গে ভালো থাকার অভিনয় করছে। তাদের সম্পর্কেটাকে মেনে নেয়ার চেষ্টা করছে।

__________________

"পিতা : ফরহাদ রেজা আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র মেঘালয় ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে আফসার উদ্দিনের একমাত্র কন্যা তামান্না ইসলাম আলোর বিবাহের মোহরানা দশ লক্ষ এক টাকা ধার্য করা হয়েছে। আপনি যদি এই বিয়েতে সম্মতি প্রদান করেন তাহলে বলুন, "কবুল"।

আলোর ছোট ঘরটায় আজ মানুষ পরিপূর্ণ। কারণ, হুট করে মাহরীন আজ সকালে আফসার সাহেবের সঙ্গে কথাবার্তা বলে ঠিক করলো যে, সকালে আকদটা সেড়ে ফেললে বরং ভালো হবে।
বাদবাকি যা হবে সব কনভেনশন সেন্টারে হবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। মেঘালয়ের পরিবার থেকে কিছু মানুষজন রওনা হয়েছে। এদিকে আলো ঘুম থেকে উঠার পর তার এক মামাতো বোন তাকে মেহেদী পরিয়ে দিয়েছে। সে মেহেদীরাঙা হাত নিয়ে তার ঘরে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে খবরটা জানার পর থেকে। পরনে এখনো হলুদের শাড়িটা।

মাশফি, কাব্য, মেঘালয়ের বড় মামা, বড় চাচা, আলোর বাবা এবং কাজি এসেছে আলোর ঘরে। আলোর (কবুল) সম্মতি নিতে। আলোর পাশে বসে আছে আলোর নানী। আলো তার নানীর হাত শক্ত করে চেপে ধরে বসে আছে। আলোর নানী নাতনির কানের কাছে মুখ বাড়িয়ে বলল,

--- কবুল বলে দে। লোকে মন্দ বলব। আর কান্দিস কেন?

কাজি সাহেব আবারও আলোকে কবুল বলার জন্য আহ্বান করল। আলো মাথা উঁচু করে দেখল তার বাবাকে। বহুবছরের মধ্যে আজই তার বাবার চেহারায় সুখী সুখীভাব বিরাজ করছে। এতদিন যে ছিল কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা। কন্যায় দায়গ্রস্থ পিতা ভারি শব্দটার থেকে আজ তার মুক্তি হবে।

--- আলহামদুলিল্লাহ, কবুল।

অবশেষে আলোর কাছ থেকে সম্মতি পেয়ে সবাই আনন্দিত। কাব্য এবং আলোর নানী বাদে সবাই আলোর ঘর ছেড়ে বের হয়ে গেল। কারণ, মসজিদে সবাই অপেক্ষা করছে। এবার মেঘলায়ের পালা।

আলো হটাৎ করে আলোর নানীর গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। কাব্য আলোর কান্না দেখে চুপ করে বসে রইল। আলোর নানী নাতনির পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

--- কান্না করার কি আছে পাগল? আজ তো তোর খুশীর দিন!

--- আমার মা কেন নেই, নানী? আমার মা কেন নেই৷

আলোর কান্নার সুর কি যে করুন শোনালো। কাব্য স্তব্ধ হয়ে যায়। এতদিন তারা জানত সিতারা বেগম আলোর মা। কিন্তু আজ জানতে পারল...

আলোর জন্য এবার সত্যি সত্যি মন খারাপ হলো কাব্যের।

ধীরে ধীরে মসজিদ থেকে সবাই আলোদের বাড়িতে ফিরে আসে৷ কাব্য চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ায়। আলো মাথা নীচু করে বসে ছিল। কান্না করতে করতে তার চোখের পাতা ফুলে গেছে।

-- তোমার স্বামী তোমাকে দেখতে চাইছে, আলো। তার সঙ্গে কথা বলো, আলো।

কাব্যর কথা শুনে আলোর কান্না বন্ধ হয়ে যায়। আলো মাথা উচু করে তার ঘরের চারপাশে তাকালো৷ কিন্তু মেঘালয় তো কোথাও নেই!

কাব্য মুচকি হেসে আলোকে বলল,

--- সে এখানে?

কথাটি বলেই কাব্য আলোর দিকে তার মোবাইল বাড়িয়ে ধরল। আলো মোবাইল হাতে নিলো। মেঘালয় আলোর কান্নারত মুখ দেখে বলল,

--- শাদি মোবারক, মিস মিথ্যাবতী। অবশেষে আপনি আমার হলেন। আজ যত কান্না করতে পারেন করুন। বাঁধা দেব না। কারণ, আজ আপনার দিন। আমার বাড়িতে, আমার জীবন, আমার ছোট ঘরটায় যেদিন আপনার আগমন হবে সেদিন আপনার কান্নারা ছুটি নেবে। আই প্রমিস।

মেঘালয়ের আদুরে সুরে বলা কথাগুলো শুনে ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলল আলো। অথচ এই মানুষটাকে সে তার চোখের পানি দেখাতে চায় না। বেহায়া হৃদয় বুঝি মেঘালয়কে আজ আপন মানুষ ভেবে বসে আছে। তাই হয়ত চোখের পানির বাঁধ ভেঙেছে তার সামনে।

চলবে....

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka